বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ঈশ্বরের গণিত - অধ্যায় পাঁচ

"সাইন্স ফিকশন" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোঃ আনিছুর রহমান লিখন (০ পয়েন্ট)

X লেখকঃ মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। অলংকরণঃ সৌরভ দে। পঞ্চম বর্ষ প্রথম সংখ্যা। *********************★******************** ২৩ নভেম্বর, ২০৬৫ আফ্রিকার কঙ্গোর জঙ্গল অস্থায়ী ক্যাম্পে কম্পিউটারের সামনে বসে রীতিমতো ঘামছে ড্যানিয়েল মুর। দশ মাস আগে বন্ধু মাইকের সঙ্গে এসে এই পদার্থবিদ্যার অন্যতম বিস্ময় এই গর্তটাকে প্রথম দেখেছিল সে। তখনই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ওরা এই আবিষ্কারের কথা আর কাউকে জানতে দেবে না। যতদিন না ক্ষেত্রটার সঠিক রূপ বুঝতে পারছে। স্থানীয় আদিবাসীদের সাহায্যে এখানে ক্যাম্প সাজিয়ে বসেছে ড্যানিয়েল। মাইকের ব্যবস্থাপনায় নিয়ে এসেছে ল্যাবরেটরি স্থাপনের সূক্ষাতিসূক্ষ্ম যন্ত্রপাতি। অবশ্য বিশাল সাইজের বা অতি উচ্চ রেডিয়েশনের কোনও যন্ত্রের প্রয়োজন এখানে বিশেষ নেই। তা হলে ড্যানিয়েলকে আর লুকিয়ে লুকিয়ে গবেষণাগার পাততে হত না, অনেক আগেই সরকার কিংবা গোয়েন্দা দপ্তর খবর পেয়ে যেত এইসবের। আর পুরো কৃতিত্ব লুটে নিত বিশ্ববিজ্ঞান সংস্থা। মোটামুটি ক্ষমতা সম্পন্ন একটা কম্পিউটার আর সামান্য কিছু যন্ত্রপাতিতেই ড্যানিয়েলের কাজ মিটে গেছে। অবশ্য ড্যানিয়েল প্রথমেই ধারণা করছিল শূন্যস্থানের জটিলতাটা আসলে গাণিতিক এবং অনেকাংশেই থিয়োরেটিক্যাল। দিন রাত অমানুষিক খাটুনির ফলাফল আজ পেয়েছে। চোখ বড় বড় করে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে আছে সে। কাঁপা কাঁপা হাতে কমিউনিকেশন ডিভাইসটি তুলে নেয় ড্যানিয়েল। দীর্ঘক্ষণ রিং হওয়ার পর ওপাশ থেকে ঘুম জড়ানো বিরক্তিপূর্ণ কণ্ঠস্বর ভেসে আসে। “হ্যালো!” “মাইক। ড্যানিয়েল বলছি।” অনেক কষ্টে গলার কাঁপুনি থামিয়ে বলল ড্যানিয়েল। “ড্যানিয়েল! কী খবর তোর? এত রাতে কী মনে করে?” ঘুমঘুম চোখে জিজ্ঞেস করে মাইক। “তুই কি আসতে পারবি? ব্যাপারটা খুবই জরুরি। আর শোন, সঙ্গে করে বাজির এক হাজার ডলার নিয়ে আসতে ভুলিস না কিন্তু!” গম্ভীর কণ্ঠে বলে ড্যানিয়েল। ঘুম ছুটে গেছে মাইকের। উত্তেজিত মাইক প্রায় চিৎকার করে উঠে, “ওহ! গড! তুই সমাধান করে ফেলেছিস?” এত রাতে ঘুম থেকে জাগিয়ে বাজির টাকা ফেরত চাওয়ার মতো অপরাধ মুহূর্তেই ভুলে যায় সে। আর কিছু না বলে লাইন কেটে দেয় ড্যানিয়েল। কারুর ওপরেই তার বিশ্বাস নেই। কেউ যদি মাইকের ফোনে আড়ি পাতে! তীরে এসে তরী ডুববে। মাইক যে সবকিছু ফেলে এখানে ছুটে আসবে, এ ব্যাপারে এখন পুরোপরি নিশ্চিত সে। প্রচণ্ড ভয় ঝেঁকে ধরে আচমকা! ড্যানিয়েল সারাজীবন ল্যাবে কাটিয়েছে, দুনিয়ার জটিলতা অনেক কিছুই তার ধরাছোঁয়ার বাইরে। বিপরীতে মাইকের অনেক বিষয়ে চাক্ষুষ অভিজ্ঞতা আছে; সারা জীবন সে বিপদজনক সব অভিযানের পেছনে দৌড়িয়ে বেড়িয়েছে। যেখানেই অ্যাডভেঞ্চারের গন্ধ পেয়েছে সেখানেই আগুপিছু না ভেবে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। মাইককে ভীষণ দরকার এই মুহূর্তে। যদি ড্যানিয়েলের সমাধান সত্যি হয় তবে সামনে মহাবিপদ ঘনিয়ে আসছে। সে জানে না কীভাবে ঠেকাবে এই বিপর্যয়? পরের দিনই সরাসরি ফ্লাইট ধরে কঙ্গোতে এসে পৌঁছায় মাইক। হন্তদন্ত হয়ে আফ্রিকার গভীর জঙ্গলের ভেতর সেই গর্তের এলাকায় পৌঁছতে পৌঁছতে সন্ধ্যা হয়ে আসে প্রায়। অনেকদিন পর দুই বন্ধুর দেখা নির্জন এই পরিবেশে। ঝাঁপিয়ে পড়ে ড্যানিয়েলকে বুকে জড়িয়ে ধরে মাইক। সাময়িক আবেগের তরঙ্গ ড্যানিয়েলকেও ছুঁয়ে ছুঁয়ে যায়, কিন্তু অনাগত আশঙ্কা তার উচ্ছ্বসিত আবেগকে স্থিমিত করেছে। “তাহলে সমাধান করেই ফেললি? অবশ্য আমি ঠিক জানতাম, কেউ যদি এ সমাধান করতে পারে সে কেবল তুই।” বলে ড্যানিয়েলের পিঠ চাপড়ে দেয় মাইক। “তো বলে ফেল কীভাবে করলি? কী কী পেলি! জলদি বল। আর তর সইছে না।” “আরে থাম থাম। ঠান্ডা হ। হাত মুখ পরিষ্কার করে নে। কফি বানাচ্ছি, খেতে খেতে কথা হবে।” ড্যানিয়েল বলে। ড্যানিয়েলের গলার স্বরে কী যেন ছিল, মাইকের উচ্ছ্বাস থমকে যায়। বেশ ঠান্ডা পড়েছে আজকে, ক্যাম্পের ভেতর আগুন জ্বালিয়ে পাশাপাশি বসে কফিতে চুমুক দিতে দিতে ড্যানিয়েল বলে, “এই পরম শূন্যস্থানের উৎপত্তি কবে হয়েছে? কীভাবে হয়েছে? এই ছিল আমার মনের প্রথম প্রশ্ন।” কৌতুহলের দৃষ্টিতে ড্যানিয়েলের দিকে তাকায় মাইক। “প্রথমে আমি বোকার মতো আশেপাশের গ্রামের অনেক বয়স্ক লোকের সঙ্গে কথা বলি। কেউই আমাকে প্রকৃত সময় বলতে পারেনি। এটা বলে শুধু যে গর্তটা পুরোনো। প্রায় বছর চল্লিশের পুরোনো তো হবেই। তখন আমার মাথায় আসে তোর কথা।” “হ্যাঁ হ্যাঁ মনে আছে।” ব্যস্তভাবে ড্যানিয়েলকে থামিয়ে দেয় মাইক। “তুই আমাকে বলেছিলিস স্যাটেলাইট আর্কাইভে ঢোকার ব্যবস্থা করে দিতে। উফ্‌ যা কেলেঙ্কারি হয়েছিল। আরেকটু হলেই চাকরিটা যেত। কোনওমতে সামলেছিলাম।” ড্যানিয়েল মাথা দোলায়। মৃদু হেসে কফিতে চুমুক দেয়, বলে, “স্যাটেলাইট ম্যাপিং হিস্ট্রোরিতে সব রেকর্ড করা থাকে। অতীতের আর্কাইভ ঘাঁটতে ঘাঁটতে, হঠাৎ দেখি ২০২৩ সালের ৫ ডিসেম্বর এই গর্তটির কোনও অস্তিত্ব নেই। তার মানে ২০২৩ সালের ৬ ডিসেম্বরে কোনও এক সময় এটির সৃষ্টি হয়েছে। সেই ৬ তারিখের প্রতি ঘণ্টার ছবি আর্কাইভ থেকে বের করি…” “কী পেলি?” কথার মাঝখানেই উদ্বিগ্ন সুরে প্রশ্ন করে মাইক। “যা আন্দাজ করেছিলাম, ৬ তারিখ ঠিক বিকাল তিনটার সময় আচমকা এটার উদ্ভব ঘটে। আশপাশে কোনও প্রতিক্রিয়া বা কোনও ধরনের পরিবর্তন না ঘটিয়ে, কোনও রেডিয়েশন নির্গত না করে; একেবারে শূন্য থেকেই যেন এটার জন্ম হয়েছে। অতি শান্তভাবে। এ যেন কোনও এক জাদুমন্ত্রের খেলা! তারপর থেকে প্রতি ঘণ্টার ছবি বের করে পরীক্ষানিরীক্ষা করেছি। তেমন উল্লেখযোগ্য কিছুই চোখে পড়েনি। শুধু মাঝে মাঝে দেখ আশেপাশের গ্রামের লোকজন জ্যান্ত গরু ছাগল হরিণ এনে এই গর্তে ফেলছে।” “তাহলে?” মাইক বেশ বিমর্ষই হয়। “তখনও টের পাইনি কী চমক অপেক্ষা করছে সামনে! সেটা ধরা পরে আরও দুইদিন পর।” বলেই চুপ করে যায় ড্যানিয়েল। মাইক খেঁকিয়ে ওঠে, “তাড়াতাড়ি বল, কী হয়েছিল দুইদিন পর?” “দুইদিন পরে কি মনে করে আবার স্যাটেলাইটের আর্কাইভ ঘাঁটতে গিয়ে পিলে চমকে ওঠে। গর্তটা এখন দেখাচ্ছে ৫ ডিসেম্বরের ছবিতে। “মানে?” “মানে যে গর্তটা আগের দিন দেখেছিলাম তৈরি হয়েছে ৬ ডিসেম্বের, সেটি এখন দেখাচ্ছে ৫ ডিসেম্বর! বুঝতে পারছিস কি ভয়ানক ব্যাপার?” “এটা কি করে সম্ভব? এই শূন্যস্থানটা সময়ের বিপরীত দিকে প্রবাহিত হচ্ছে নাকি!” বিস্ময়ে চোখ বড়বড় হয়ে গেছে মাইকের। “ঠিক ধরেছিস। এটা সময়ের বিপরীত দিকে প্রবাহিত হচ্ছে। আমাদের এখানে দু’দিন সামনের দিকে সময় অতিবাহিত হলে ওই পরম শূন্যস্থানটি সৃষ্টির তারিখ একদিন বিপরীত দিকে চলে যাচ্ছে!” “ওহ! গড! কী বলছিস তুই!” মাইকের চোখে সন্দেহ। দীর্ঘদিন এই বনেবাদাড়ে একলা পরে থেকে থেকে ড্যানিয়েলের মস্তিষ্ক বিকৃতি দেখা দেয়নি তো? মাইক শুনেছে এইসব বনেজঙ্গলে এমন পোকামাকড় থাকে যেগুলোর কামড়ে মানুষ উন্মাদ হয়ে যায়। “আমি জানতাম তুই বিশ্বাস করবি না। নিজের চোখেই দেখ। এই যে দেখ, স্যাটেলাইটের এই ছবিটি তোলা হয়েছে ৩ জুলাই ২০২৩ সালের বিকাল চারটার সময়।”, কোলের উপর রাখা স্ক্রিনটা মাইকের দিকে ঠেলে দিয়ে বলে ড্যানিয়েল। “ঠিক তিনটের সময় যে ছবিটা তোলা হয়েছে, সেখানে দেখ এই গর্তটার কোনও অস্তিত্ব নেই। এখন দু’ঘণ্টা অপেক্ষা কর। দেখবি স্যাটেইলাইটের হিস্ট্রোরির বিকেল তিনটের ছবিটা পরিবর্তিত হয়ে সেখানে এই গর্তটা ফুটে উঠবে।” ঘণ্টাদুয়েক অপেক্ষা করার পর মাইক তাঁবুর বাইরে বেরিয়ে এল। বাক রুদ্ধ হয়ে গেছে তার। মাথাটা ফাঁকা ফাঁকা লাগছে ভীষণ। বিষণ্ন বদনে গাঢ় নীল আকাশের দিকে সে তাকিয়ে থাকে কিছুক্ষণ। মেঘমুক্ত অন্ধকার আকাশ, হাজার হাজার তারা ফুটে আছে আকাশজুড়ে, যেন হলুদ রঙা সর্ষের ক্ষেত। গোটা একটা রাত লেগেছে মাইকের নিজেকে সামলে নিতে। বিশ্বের এই অলৌকিক বিস্ময় তাকে মানসিকভাবে অস্থির করে দিয়েছিল। সকালে ঘুম থেকে উঠে আবার খানিক স্বাভাবিক বোধ করে মাইক। ব্রেকফাস্টের থালা হাতে নিয়ে প্রশ্ন করে ড্যানিয়েলকে, “উৎপত্তির ব্যাপারে তো খানিক ধারণা পাওয়া গেল। আর কিছু জানতে পেরেছিস? কে তৈরি করেছে? কেন তৈরি করেছে?” “ধৈর্য্য ধর বন্ধু, এখনও তো আসলে রহস্যের কিছুই তোমাকে বলিনি। এই পরম শূন্যস্থানটা যেটাকে আমরা একটা গর্ত হিসাবে দেখছি, এটা দেখছি কীভাবে?” “বুঝলাম না। কীভাবে দেখছি মানে?” অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে মাইক। “প্রাথমিকভাবে আমরা ধরে নিয়েছি এটা পরম শূন্যস্থান। তাই এর ভেতর যে কোনও কিছুর প্রবেশ করালে মুহূর্তেই সেটা হারিয়ে যাচ্ছে। তাহলে আলোক তরঙ্গ হারাচ্ছে না কেন? যদি আলোক তরঙ্গও এর ভেতর হারিয়ে যেত তবে এটাকে আমরা দেখতেই পেতাম না। যেহেতু আলোকরশ্মি এর ভেতর দিয়ে প্রবেশ করে অপর দিকে দিয়ে বের হয়ে যাচ্ছে, তাই এটাকে আমরা পরম স্বচ্ছ হিসাবে দেখতে পাচ্ছি। যদি আলোকরশ্মিও অদৃশ্য হয়ে যেত, তবে এটা পরম কালো আকারে দেখতে পেতাম। “হুম। তার মানে অন্য কিছুই এটাকে ভেদ করতে পারে না। শুধু আলো ছাড়া।” খানিকটা খাবার মুখ পুরতে পুরতে বলল মাইক। “একদম। অন্য সমস্ত কিছু এই পরম শূন্যস্থানে এসে অস্তিত্বহীন হয়ে যায়। আমি অবশ্য সেগুলো খানিক পরীক্ষা করেই দেখেছি। তাই তখন ঠিক করলাম যে, এর ভেতর দিয়ে ভিন্ন ভিন্ন ফ্রিকোয়েন্সির আলোক তরঙ্গ পাঠাবো। তাকে থামিয়ে দিয়ে মাইক বলে, “তোর কী মনে হচ্ছে? মহাজাগতিক কোনও প্রাণী আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাচ্ছে?” “কেউ না কেউ তো অবশ্যই আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইছে, তবে এরা আমাদের মহাবিশ্বের মহাজাগতিক কোনও প্রাণী নয়। তারা ভিন্ন একটা মহাবিশ্বের ভিন্ন মাত্রায় অস্তিত্বশীল কোনও স্বত্তা।” আচমকা মাথা ঝাঁকিয়ে কিছুটা ভারমুক্ত হওয়ার ভঙ্গি করে মাইক। খাবারের প্লেটটা কোলে রেখে দুই হাত তুলে ড্যানিয়েলকে থামিয়ে বলে, “দাঁড়া! দাঁড়া; কি বলছিস কি! মহাজাগতিক প্রাণী! তাও আবার ভিন্ন মহাবিশ্বের ভিন্ন মাত্রার? ওহ গড! আমার মাথায় সব জট পাকিয়ে যাচ্ছে, তবে আর কোনও কথা নেই এবার আমরা এই আবিষ্কারের কথা সারা পৃথিবীকে জানাব। তুই তো বিখ্যাত হচ্ছিসই সঙ্গে আমিও!” “আগে পুরোটা শোন! তারপর লাফাবি। কিছু না শুনেই এত উত্তেজিত হয়ে উৎপাত করিস না। আর বাজির টাকাটা কিন্তু ফেরত দিতে হবে! সঙ্গে করে এনেছিস তো?”, মুচকি হেসে বলে ড্যানিয়েল। “উফ্‌, পাগল নাকি তুই? এই খবর বেচে কত লক্ষ লক্ষ ডলার কামাব, আর তুই সেই হাজার ডলারের বাজি নিয়ে বসে আছিস! ঠিক আছে, আগে রহস্যের সমাধান বোঝা, তারপর বাজির টাকা ফেরত পাবি।” ড্যানিয়েল বলতে শুরু করে, “সম্পূর্ণ ভিন্ন একটা মাত্রা থেকে আমাদের বিশ্বে একটা বার্তা আসছে। সেই জগতটা আমাদের ঠিক বিপরীত মাত্রায় অবস্থিত। আমার ধারণা বিগব্যাং এর ফলে দুটো মহাবিশ্বের সৃষ্টি হয়েছে, এদের একটা আরেকটার বিপরীত। এখন আমরা যে পরম শূন্য স্থানটা গোলক আকারে দেখতে পাচ্ছি এটা আসলে আমাদের বিপরীত পৃষ্ঠে অবস্থিত বিশ্ব থেকে খোলা একটা পোর্টাল।” “পোর্টাল! এই যে বললি শূন্যস্থান!” “আহা শূন্যস্থান আমাদের দিক থেকে। উল্টোদিক থেকে ওটা একটা পোর্টাল হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।” “ব্যবহার করা হচ্ছে! মানে? কে ব্যবহার করছে? এলিয়েন?” প্রায় চিৎকার করে উঠে মাইক। “কী বলছে তারা? কী সংকেত পাঠাচ্ছে? ” “আবার অস্থির হ! শান্ত হয়ে বস তো। বলছি এক এক করে।” “বসছি। আগে বল, কীভাবে এই রহস্যের সমাধান করলি?” “কীভাবে এই রহস্যের সমাধান পেয়েছি সেটা পরে ব্যাখ্যা করছি। সে এক জটিল শ্বাসরুদ্ধকর ব্যাপার। তার আগে তোকে বুঝতে হবে এখানে কী হচ্ছে আর তারা কী বার্তা পাঠাচ্ছে। আগেই বলেছি বিপরীত মাত্রা থেকে তারা বার্তা পাঠাচ্ছে। এটার গুরুত্ব বুঝতে পারছিস?” মাইক বোকা বোকা হাসি হেসে বলে, ‘দিব্যি বুঝতে পারছি। কোটি কোটি ডলার।’ ড্যানিয়েল রাগত স্বরে বলে, ‘যা ভাগ! তোকে আর কিছু বলব না।’ ‘আরে না না! ইয়ার্কি মারছিলাম। একটু একটু বুঝতে পারছি। এলিয়েনরা বিপরীত মাত্রা থেকে বার্তা পাঠাচ্ছে।’ মাইক বলে। “কিন্তু, দুটো বিপরীত মাত্রা যখন একত্রে মেশে তখন কি হয় ভেবেছিস?” “ওরেবাবা সে তো বিস্ফোরণ।” “আরে ধুর ছাই! সেটা পদার্থ, প্রতি-পদার্থ। এখানে আমরা মাত্রা নিয়ে কথা বলছি। দুই বিপরীত মাত্রা মিলিত হবে তখন কী হবে? তখন একটি পরম শূন্য স্থানের সৃষ্টি হবে। এখানে ঠিক এটাই হয়েছে।” “তার মানে বিপরীত মাত্রার বিশ্ব থেকে পাঠানো এই সিগন্যাল থেকেই এই পরম শূন্য স্থানের জন্ম; এই কারণেই কি এটার জন্মক্ষণ প্রতি মুহূর্তে অতীতের দিকে ধাবিত হচ্ছে?” নিজের কণ্ঠস্বর নিজের কানেই অপরিচিত ঠেকছে মাইকের। “উঁহু। অতীতে যাওয়ার ব্যাপারটা আলাদা। পরে বলছি ওটার কথা। তবে তোর অনুমান কিছুটা সঠিক। যদিও এখানে মাত্রার বিষয়টা সাধারণ বিপরীতার্থক নয়। আরও বেশি জটিল ও দুর্বোদ্ধ”, উৎফুল্ল কণ্ঠে বলে উঠে ড্যানিয়েল। “কিন্তু তুই যে আমাকে অবাক করে দিলি; দেখে যেমন মনে হয়, বাস্তবে অতটা বোকাও তুমি নও।” খোঁচাটা গায়ে না মেখে মাইক বলে, “আরও জটিল? ঠিক আছে আমার অতশত বুঝে কাজ নেই। তারা কি বার্তা পাঠাচ্ছে সেই বল।” দ্রুত আশেপাশে নজর বুলিয়ে নেয় ড্যানিয়েল। সামনের দিকে ঝুকে আসে কিছুটা, মাইকের কানের কাছে মুখ এনে নিচুস্বরে বলে, “যে বার্তাটি আমরা পাচ্ছি তা হল, ‘হে প্রতিবিশ্বের স্বত্তা, তোমাদের বিশ্ব থেকে কোনও ত্রি-মাত্রিক বস্তু আমাদের বিশ্বে পাঠাবে না। যদি পাঠাও তবে আমাদের মহাবিশ্ব ধ্বংস হয়ে যাবে। 46Q321456.86mE2473067.04mN5997715200’ এক মুহূর্তে ঠান্ডা হয়ে গেল মাইকের হাত পা। শিড়দাড়া বেয়ে কুলকুলিয়ে নেমে যাচ্ছে তীব্র ভয়ের স্রোত। *********************★****************** তথ্যসূত্রঃ কল্পবিশ্ব।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ঈশ্বরের গণিত - অধ্যায় পাঁচ

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now