বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ইনবক্সের ফাঁদ

"ক্রাইম" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোহাম্মদ শাহজামান শুভ (০ পয়েন্ট)

X লেখকঃ মোহাম্মদ শাহজামান শুভ। রিমি সবসময়ই চেয়েছিল ঘরে বসে কিছু আয় করতে। পরিবারের খরচ মেটানো আর নিজের ছোট্ট স্বপ্নগুলো পূরণ করার জন্য, সে প্রায়ই ইন্টারনেটে কাজ খোঁজ করত। একদিন দুপুরে, রান্নাঘরে চা বানানোর সময় মোবাইলের স্ক্রিনে হঠাৎ একটি নোটিফিকেশন ভেসে উঠল। মেসেজটিতে লেখা— “পরদিন থেকে দৈনিক ২০০০ টাকা আয় করতে চান? মাত্র ১০–৩০ মিনিট কাজ, মোবাইল থেকেই!” প্রথমে রিমি ভেবেছিল, হয়তো এটা কোনো বিজ্ঞাপন। কিন্তু নিচে একটি ওয়েবসাইটের লিঙ্ক দেখে কৌতূহলী হয়ে গেল। ভাবল, হয়তো ফ্রিল্যান্সিং বা অনলাইন সেলসের কোনো সুযোগ হতে পারে। হাতে চায়ের কাপ নিয়ে, এক ক্লিকে খুলে ফেলল লিঙ্কটি। ওয়েবসাইটটি দেখতে ঝকঝকে, সবুজ-নীল রঙের ব্যানারে লেখা “Join Our Global Online Work Team”। সাথে কিছু মানুষের হাস্যোজ্জ্বল ছবি, যেখানে তারা ল্যাপটপে বসে কাজ করছে। পৃষ্ঠার নিচে লেখা ছিল—“কাজ শুরু করতে আপনার নাম, মোবাইল নম্বর, ইমেইল ও বিকাশ/নগদ নাম্বার দিন।” রিমি ভেবেছিল, এখানে হয়তো পেমেন্টের জন্যই নাম্বার লাগছে। এক মুহূর্ত দ্বিধা করল, কিন্তু প্রতিদিন ২০০০ টাকার লোভে নিজের সব তথ্য দিয়ে দিল। তথ্য পাঠানোর কয়েক মিনিটের মধ্যে তার হোয়াটসঅ্যাপে একটি নতুন নম্বর থেকে মেসেজ এল— “Welcome to our team! You will get your first task today. To activate your account, please deposit Tk500 registration fee via bKash.” রিমি কিছুটা চমকে গেল। “কাজ শুরু করার আগে টাকা দিতে হবে কেন?”—মনে মনে প্রশ্ন জাগল। কিন্তু মেসেজে এমনভাবে লেখা ছিল যেন এটি খুবই স্বাভাবিক বিষয়। সাথে লেখা ছিল, “এটি এককালীন রেজিস্ট্রেশন, যা পরে ফেরত দেওয়া হবে।” পরদিন ভোরে রিমি টাকা পাঠাল। সাথে সাথেই তারা তাকে একটি ছোট কাজ দিল—অনলাইনে একটি রিভিউ লেখা। কাজ শেষ করার পর তারা জানাল, “চমৎকার! কিন্তু আপনার পেমেন্ট আনলক করতে হলে আপনাকে Tk2000 ডিপোজিট করতে হবে, যা আপনার ইনকামের সাথে ফেরত আসবে।” রিমি একটু থমকালো। সন্দেহ হচ্ছিল, কিন্তু ইতিমধ্যে তার ৫০০ টাকা চলে গেছে। ভাবল, “যদি এবার না দিই, তাহলে আগের টাকাও গেল।” এই ভেবে ২০০০ টাকা পাঠিয়ে দিল। এরপর থেকে শুরু হল এক অদ্ভুত খেলা। প্রতিদিনই নতুন টাস্ক দিচ্ছিল, কিন্তু পেমেন্ট আনলক করার শর্তে আরো টাকা চাইছিল—৫০০০, ১০,০০০, এমনকি ২০,০০০ টাকা পর্যন্ত। রিমি একসময় বুঝতে পারল, এ এক অন্তহীন ফাঁদ। টাকা দিলেই নতুন শর্ত আসছে, কিন্তু টাকা ফেরত আসছে না। কয়েকদিনের মধ্যে রিমি প্রায় ৩৫,০০০ টাকা হারাল। তখনই এক বন্ধুকে বলল বিষয়টা। বন্ধু গুগলে সার্চ করে দেখাল—এই ওয়েবসাইটটি আসলে বিদেশি স্ক্যাম গ্রুপের। বাংলাদেশ পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট ইতিমধ্যে এই নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে। বন্ধুর পরামর্শে রিমি পুলিশের কাছে অভিযোগ করল। তদন্তে বেরিয়ে এল, এই চক্রটি ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামের মাধ্যমে বাংলাদেশে শত শত মানুষকে একইভাবে প্রতারণা করেছে। তারা ভুয়া কোম্পানির ওয়েবসাইট বানায়, মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে, তারপর লোভ দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেয়। অনেক সময় তারা ওই তথ্য ব্যবহার করে বিকাশ বা নগদ একাউন্টও হ্যাক করে ফেলে। রিমির অভিযোগের পর, পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করল। কিন্তু ক্ষতি হয়ে গিয়েছিল আগেই—হারানো টাকা ফেরত পাওয়া গেল না। এই ঘটনার পর রিমি সিদ্ধান্ত নিল, আর কখনো অনলাইনে অচেনা প্রস্তাবে বিশ্বাস করবে না। সে এখন নিজের অভিজ্ঞতা অন্যদের সাথে শেয়ার করে, যাতে আর কেউ এই ধরনের ফাঁদে না পড়ে। মাঝে মাঝে রিমি ভাবে, “যদি প্রথম দিনেই একটু খোঁজ নিতাম, তাহলে হয়তো সব বেঁচে যেতাম।”


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৪৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ইনবক্সের ফাঁদ

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now