বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

♦ইমিউনিটি♦

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মফিজুল (০ পয়েন্ট)

X সকাল সকাল আম্মুর চিল্লাচিল্লিতে ঘুম ভাঙলো।যদিও ইচ্ছে ছিল আজ একটু বেশি ঘুমাবো কিন্তুু এই আম্মুটা চিল্লাচিল্লি করে বাড়িটাকে পুরো ট্রাফিকজ্যাম বানাই ফেলছে।যেখানে শুধু গাড়ির শব্দ আর গাড়ির শব্দ কিন্তুু এখানে শুধু আম্মুর বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর।এক মিনিট পরপর শুধু ইমিউনিটি শব্দটা ভেসে আসছে।আমি বিছানা ছেড়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখলাম আব্বু সোফায় এক কোনে জড়সড় হয়ে বসে আছে আর আম্মু দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আব্বুকে কিছু একটা বোঝাচ্ছে।আমাদের পরিবার প্রধান হচ্ছে আম্মু কিন্তুু হওয়ার কথাছিল আব্বুর। আব্বু আম্মুর সাথে কণ্ঠে জিততে পারেন না তাই বিজয়ী নিজের ক্ষমতা ফলান। -"আম্মু এতো চিল্লাছ কেন?" আমার দিকে তেড়ে এসে বললো -"তো কি করব হা?তোর আব্বুকে বলছি বাজারে যেতে সে এখন যাচ্ছে না।" -"কালকেই তো ব্যাগ ভর্তি বাজার আনলো।সেগুলো দিয়েই চালাও আবার কাল বাজারে যাবে।" -" সবজি তো ফুরিয়ে গেছে। দেখছিস না টিভিতে সবসময় বলছে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে হবে।বেশি বেশি শাকসবজি খেতে হবে। রান্নাঘর অনুষ্ঠান দেখে ইমিউনিটি বাড়ানোর রেসিপি তৈরি করেছি সেটাতো রান্না করতে হবে।কতো বেলা হয়ে গেল। তোর আব্বু তো বুঝছেই না।" -"আবার রান্নাঘরের রেসিপি। গতবারের কথা মনে আছে?মাংস, টক দই দিয়ে কি সব উল্টাপাল্টা রান্না করেছিলে। খাওয়ার পরেই ডাইরিয়া শুরু হয়েছিল।" (ওয়াক থু) -" সে কথা বাদ দে।ইমিউনিটি তো বাড়াতেই হবে না হলে ভাইরাসে আক্রমণ করবে।তোর বাবাকে একটু বোঝা সারাজীবন তো আনস্মার্টই থেকে গেল।পাশের বাসার রহিম ভাই প্রতিদিনই শাকসবজি বাজার করে আনছে।ভাবি নতুন নতুন সব রান্না করছে সবজি দিয়ে। আমাকে তো আর বসে থাকলে চলবে না আমাকেও দেখিয়ে দিতে হবে।আমিও কম সচেতন না।" -"ওরে মেরি মা। তুমি কি প্রতিযোগীতায় নেমেছো?কে কি করলো তাতে তোমার কি?" -"তুই চুপ কর। আমার একটা প্রেস্টিজ আছে। আমি সবাইক বলে এসেছি আজ নতুন রেসিপি রান্না করবো দাওয়াত ও দিয়েফেলেছি কয়েক জনকে।আমার টেনশন বেড়ে যাচ্ছে। তাড়াতাড়ি তোর আব্বুকে বাজারে যেতে বল।" অতপর আব্বু রেগে আগুন হয়ে বেরিয়ে গেল।আম্মু আমাকে ইমিউনিটি বাড়ানোর জন্য করল্লার চিনি ছাড়া শরবত খেতে দিয়ে রান্না ঘরে ব্যস্ত হয়ে পড়লো। আমি গ্লাস টা সামনে নিয়ে খুব সুন্ধর ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।আম্মু নাকি সকালে দুগ্লাস খেয়েছে। কিভাবে সম্ভব।(ওয়াক থু) আমার গন্ধটাই কেমন গা গুলিয়ে যাচ্ছে। পাশের বাসার আন্টি এসে বললো -"মেঘা,কি করছ?" ইয়াহু মাথায় বুদ্ধি এসেছে।আমি বললাম -" এই তো আন্টি আপনাদের বাসাই যাচ্ছিলাম।আম্মু করল্লার শরবত বানিয়েছে।ভাবছিলাম আপনাকে দিতে যাবো।ইদানীং দেখছি আপনি খুব দুর্বল হয়ে যাচ্ছেন। আপনার ইমিউনিটি বাড়ানো প্রয়োজন।এই নিন খেয়ে নিন।" (হু হা হা) -" ওমা তাইনাকি। কি লক্ষী মেয়ে।সত্যি গো আমার ইমিউনিটি বাড়ানো দরকার " খুব কষ্ট করে আন্টি চার দমে শরবতটা শেষ করল। আব্বু বাজার থেকে এসে ফ্রেশ হতে চলে গেল।আন্টি বললো -"তোমার আম্মু নাকি ফাইভ ভেজ রেসিপি রান্না করছে!" -"সেটা আবার কী?" আম্মুও আমাদের সাথে যোগ দিয়ে বললো -"পাঁচ রকমের তরিতরকারি দিয়ে তৈরি আমার স্পেশাল রেসিপি ফাইভ ভেজ রেসিপি। " -"পাঁচ রকমের কেন?" -"গাধা তুই জানিস না বড় বড় হটেলের নাম ফাইভ স্টার হয়।" আন্টি বললো -"মেঘার মনে হয় রান্নাবান্নায় বেশি ইনট্রেসট নেই তাই এই বিষয়ে এতো ধারনা নেই। আমার ঐশ্বর্য কিন্তুু খুব ভালো রান্না পারে।" -"জী আন্টি আমিও সেটাই বলছিলাম।সেদিন দেখলাম ঐশ্বর্য আপু খিচুরি,ডিম ভাজি রান্নাকরে কোন বন্ধুর জন্য নিয়ে গেল।কি যেন নাম ছেলেটার।" -"মেঘ, তুই থাম।ভাবি আপনি কিন্তুু দুপুরে আসবেন। " প্রায় ১৫ মিনিট ধরে খাবার টেবিলে বসে আছি।আম্মু তার স্পেশাল খাদ্য পরিবেশন করছেন।অতিথিরাও এসে গেছেন জাজমেন্ট করতে।মনে হচ্ছে এটা বিটিভিতে সম্প্রচার করা হবে।আম্মু বলছেন -" আমাদের সবাইকে প্রাণঘাতী ভাইরাসের হাত থেকে রক্ষা পেতে হবে।তাই জন্য ইমিউনিটি বাড়ানো প্রয়োজন। তাই শাকসবজি সমৃদ্ধ আমার স্পেশাল ফাইভ ভেজ রেসিপি। যেটা আপনাদের ইমিউনিটি বাড়াতে সাহায্য করবে।সবাই এটা ট্রাই করতে পারেন।" আমিও বলতে আম্মু কে বললাম -"আম্মু ইমিউনিটি হচ্ছে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা।ইমিউনিটি বাড়ানোর জন্য শুধু গরু ছাগলের মতো হরেক রকমের শাকসবজি খেলে হবে না।সুষম ও পুষ্টিকর খাবার পরিমিত খেতে হবে।পর্যাপ্ত ঘুমাতে হবে।ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।শরীরচর্চা করতে হবে।দুশ্চিন্তা মুক্ত থাকতে হবে এবং পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশ্রাম মিতে হবে।তবেই ইমিউনিটি বাড়বে।" সবাই একসাথে হাততালি দিল।আহ্ নিজেকে কেমন বঙ্গবন্ধু মনে হচ্ছে। আম্মু আমাকেই আগে খেতে দিল।আমার মহুর্তের মধ্যেই আনন্দটুকু মাটির তলে ঢুকে গেল।আমি খাবার মুখে দিলাম সবাই উৎসুক দৃষ্টতে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আম্মু বার বার জানতে চাইছে কেমন হয়েছে।আমি তবুও চুপ করে আছি।আমার চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করছে "মারো মুঝে মারো" ………সমাপ্ত…………(ছোটগল্প) #ইমিউনিটি #সাদিয়া আনজুম


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ♦ইমিউনিটি♦

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now