বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
-আফনান.....দাঁড়াও ।
(আফরা)
-কি ?কিছু বলবে ?
(আফনান)
-কি হয়েছে তোমার
বলোতো ?
-কি আর হবে ?কিছুই
হয়নি ।
-তাহলে ইদানীং
আমাকে এমন ইগনোর
করছো কেন ?
-কই নাতো ।
-ফোন দিলে ফোন
ধরছো না কেন ?
-আমার ফোনে সমস্যা ।
-ফেসবুকেও তোমাকে
পাচ্ছি না ।ব্লক করে
রেখেছো আমায় ।
-আমার ফেসবুক ডি-
এক্টিভেট ।
-চলোনা আজকে
কোথাও একটু বসি !
-সর্রি আমার টিউশনি
আছে ।বসতে পারব না ।
-আচ্ছা তোমার হয়েছে
টা কি বলবে তো ?
-বললাম তো আমি
ঠিক আছি ।
-তুমি কি আমাদের
রিলেশনটাতে আর
ইন্টারেস্টেড না ।
-হয়তো সেটাই ।
-আফনান এভাবে বলো
না ।
-তুমিতো ভালো করেই
জানো আমি কেমন
পরিবারের সন্তান ।
আর আমার মতো
পরিবারের ছেলেদের
এসব প্রেম-ভালোবাসা
বে-মানান ।
-তুমি কি বলতে
চাইছো ?
-আমার মনে হয়
আমাদের ব্রেক নেওয়া
উচিত ।
-প্লীজ আফনান
তোমাকে ছাড়া আমি
থাকতে পারব না ।চলো
আমরা আরেকটু সময়
নিই ।
-সর্রি আফরা ।এই
রিলেশনটা চালিয়ে
যাওয়া আমার পক্ষে
আর সম্ভব না ।তোমার
কি মনে হয়েছে
এতদিন আমি তোমাকে
ভালোবেসেছি ? না ।
এতদিন যা হয়েছে
সবটাই টাইমপাস ।আর
আমার রিলেশন অন্য
একজনের সাথে আছে ।
যেটা তুমি নও । ভালো
থেকো ।
.
অতঃপর হাজারো
কষ্টগুলো বুকে চাপা
দিয়ে আফরার সামনে
থেকে চলে আসে
আফনান । আফনান
আফরাকে খুব
ভালোবাসে ।কিন্তু
এমনটা করার কারন
আপনাদের হয়তো
নিশ্চয় জানতে ইচ্ছা
করছে ।ফ্ল্যাশব্যাক,
.
-কি ব্যাপার দোস্ত
আমাকে এখানে ডাকলি
যে ? (আফনান)
-দোস্ত তোকে একটা
কথা বলা উচিত কিন্তু
কিভাবে বলব বুঝতে
পারছি না । (সম্রাট)
-আরে বল ?
-না মানে কিভাবে যে
বলি !
-দোস্ত প্রেমে
পড়েছিস !
-হুম ।
-আমাকে তো বলিস
নাই ।
-আসলে আমি যে ওকে
কখন নিজের অজান্তে
ভালোবেসে ফেলেছি
আমি নিজেও জানি না
।
-মেয়েটা কে ?
-আফরা ।
-কোন আফরা !
-ঐ যে ফার্স্ট ইয়ারের
ঐ মেয়েটা ।ঐদিন একটা
মেয়ের অপারেশনের
জন্য চাঁদা তুলতে
এসেছিল ।
.
কথাটি শুনেই
আফনানের মুখটা
মলিন হয়ে গেল ।তবুও
শত কষ্ট চেঁপে বন্ধুকে
বললো,
.
-ট্রিট দিচ্ছিস কবে ?
-ট্রিট দিব ।কিন্তু
তার আগে ওর সাথে
আমার রিলেশনটা
করিয়ে দে ।
-তুই ট্রিটের ব্যবস্থা
কর বাকিটা আমি
দেখছি ।
.
এটাই ছিল আফনানের
ব্রেকআপের কারন ।
আফনান জানতো তার
অভাবের পরিবারে
আফরা কখনোই সুখী
থাকতে পারবে না ।
সেজন্য সেদিন
বন্ধুকে কথা দিয়েছিল
আর আজ বন্ধুত্ব
রক্ষার্থে নিজের
ভালোবাসা বিসর্জন
দিতেও দ্বিধা করলো
না ।আফরা হয়তো
কিছুদিন আফনানকে
মনে রাখবে ।কিন্তু এক
পর্যায়ে গিয়ে ঠিকই
আফনান নামক সেই
ছেলেটিকে ভুলে যাবে ।
হয়তো তার প্রতি
ঘৃনাও জাগতে পারে ।
কিন্তু যেটা সত্য
সেটাতো আফরার
অজানাই থাকবে !
.
আজ ৪ বছর পর,
আফনান যাচ্ছে তার
বন্ধু সম্রাটের
বিয়েতে ।অবশ্য
বিয়েতে যাবার কোনো
ইচ্ছাই ছিল না তবুও
বন্ধুর অনুরোধে তাকে
আসতেই হলো ।
.
-কিরে তোর আসতে
এত সময় লাগলো ?
(সম্রাট)
-রাস্তায় প্রচুর
ট্রাফিক জ্যাম ।তার
ভিতর দিয়েও এত
তাড়াতাড়ি আসতে
পেরেছি এটাই সৌভাগ্য
। (আফনান)
-আচ্ছা আগে খেয়ে নে ।
অনেক দূর থেকে
এসেছিস নিশ্চয়
ক্ষিদে পেয়েছে ।
-সে খাওয়া যাবে ।আগে
ভাবির সাথে দেখা করে
আসি ।
-যা ।আমি আসছি ।
.
অতঃপর আফনান গিয়ে
দেখতে পেল তার ভাবি
অর্থাত্ বন্ধুর নতুন
স্ত্রী আর কেউ না ।এ
যে তার আফরা ।দুজন
দুজনকে চিনতে
বিন্দুমাত্র ভুল হয়নি ।
আফরার কথায় রুমের
সবাই বাইরে চলে গেল ।
.
-একি !তুমি এখানে ?
(আফরা)
-আমি এই অনুষ্ঠানে
নিমন্ত্রিত ।
(আফনান)
-ও ।তা এখান থেকে
যাবে কখন ?
-এই তো চলে যাব ।
তোমাদের জন্য এই
গিফটটা এনেছি ।
-তোমার গিফট
আমাদের প্রয়োজন
নেই ।আর তোমাকে
ধন্যবাদ ।
-ধন্যবাদ দিচ্ছো যে !
-যদি সেদিন তুমি
আমাকে ইগনোর না
করতে তাহলে আমি
আজকের দিনটা
পেতাম না ।আজকে
আমি অনেক খুশি ।
তোমার চলে যাবার পরে
সম্রাট আমায়
শিখিয়েছে
ভালোবাসার মানে ।
যেটা তুমি পারতে না ।
-হয়তো এটা আমার
দুর্বলতা ছিল ।
-তুমি আমার সামনে
থেকে চলে যাও ।আর
জীবনেও তোমাকে
দেখতে চাই না ।
.
অতঃপর আফনান
বেরিয়ে যেতে লাগে ।
তখনি,
.
-কিরে দোস্ত চলে
যাচ্ছিস কেন ?চল
তোর ভাবির সাথে তোর
পরিচয় করিয়ে দিই ।
(সম্রাট)
-দেখা করেছি ।
(আফনান)
-তবুও আরেকবার চল ।
.
অতঃপর ভিতরে গিয়ে ।
.
-আফরা তোমাকে
বলেছিলাম না আমার
বন্ধু আফনানের কথা ।
(সম্রাট)
-হ্যাঁ ।কোথায় উনি ?
(আফরা)
-এই তো আমার বন্ধু
আফনান ।(আফনানকে
দেখিয়ে)
-উনি আফনান !
-হ্যাঁ ।আফনান যদি না
থাকতো তবে কখনোই
আমি আমার কথা
তোমাকে বলতে
পারতাম না ।আর
তোমাকে কখনোই
পেতাম না ।
-তার মানে !
-তারমানে এতদিন
তোমার ভালোবাসা
পেতে যা যা করেছি
সবই আফনানের
সাহায্যে ।সত্যিই ওর
মতো বন্ধু হয় না ।
.
সত্যিই আফনানের
মতো বন্ধু হয় না । যে
বন্ধুর জন্য নিজের
ভালোবাসাকে ছাড়তে
পারে সেইতো প্রকৃত
বন্ধু ।এখন হয়তো
আফরা সেদিনের
আফনানের ইগনোরের
কারন বুঝতে পেরেছে ।
কিন্তু এতক্ষনে সে
অন্য একজনের স্ত্রী
।অন্য একটি
পরিবারের সদস্য ।যে
পরিবারকে নিয়েই তার
বাঁকি জীবনটা
কাটাতে হবে ।যেখানে
আফনানের কোনো
জায়গা নেই ।
.
লেখাঃ #অভ্র_অমৃত
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now