বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ঈদের জাদুঘর

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোঃ আল-মামুন আলম আরজু (০ পয়েন্ট)

X এবার ঈদে বাচ্চাদের বই উপহার দিবে কবির সাহেব,তাই সেই প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছেন আজই। ঢাকার জনবহুল জনমানবের ভীড়ের মাঝে বইয়ের দোকানে চলে আসলেন,অবশ্যই গল্পের বই নিবেন,দেখেশুনে সবার জন্য নিয়ে নিলেন এক গাদা বই,শত চিন্তার পরই বই জিনিসটা বখশিশ হিসাবে দেওয়ার ইচ্ছাটা জাগ্রত হয় তার মনে।বিদেশে থাকা বড় ভাইকে কথাটা বলতেই প্রশংসা পেলেন অনেক,বইয়ের গুচ্ছটা রেখে,সন্ধ্যায় ইফতারী শেষ করতেই কবিরের ছেলে ডুবু বলল:বাবা এবার কি বখশিশ পাবো না?ডুবু এইটে পড়ছে,তার ইচ্ছা বখশিশের টাকায় মোবাইল নিবে।কবির জানে ডুবুর ইচ্ছাটা; তবে তার এখনো মোবাইল ব্যবহারের সময় হয় নি। কবির বলল:পাবি না কেন?ঐ যে তুদের বখশিশ। ডুবুর মন খারাপ,বাবা তার সাথেই কেন এমনটা করে?গত ক্লাসে বলেছিল কম্পিউটার নিয়ে দিবে পাশ করলে।ভালো রেজাল্ট করলো সে, তাও দেয়নি।রুমের মাঝেই তার সব রাগ দুঃখ সীমাবদ্ধ।ডুবু বই বলতে পাঠ্য বইটাই পড়ে এর বাইরে টিবি আর বাবা অথবা মায়ের মোবাইলে গেমস খেলা।খাওয়া দাওয়াতেও তেমন ভালো না,মোটা বললেও বলা যায়। কবির ঘুমায় নি,ছাদে উঠে চেয়ার দোলাতে দোলাতে আকাশ পানে চেয়ে আছে,কত্ত তারা। তার চিন্তা বই বখশিশ নিয়ে,বাড়ির বড়রাও একটু খিটখিট করেছে এই নিয়ে,বাচ্চাদের নাকি বই কোনো কাজে আসবে না,বাচ্চারা নাকি বখশিশ বলতে টাকা পছন্দ করে। কবির তাতে কান দেয় নি,কালকের দিনটা তার জন্য অনেকটাই গুরুত্বপূ্র্ন। পরদিন, নামাজ শেষে অতিথির আগমনে ঘরটায় বেশ চাঞ্চল্য শুরু হল,অবশ্য প্রথম দিকে কেউ আসে না,একটা বিশ্রাম করেই সবার বেড়ানোটা শুরু হয়,বাচ্চাদের দৌড়াদৌড়ি দেখে কবিরের মুখে এক জলকের হাসি ফুটে।মনে হয় অনেক বছর পর সবাই জীবন পেয়েছে,কবির একটু নিরাশ। কবিরের নিরাশ হওয়ার কারণ ডুবু বই নেয় নি,ডুবুর জন্যই সব থেকে দারুন রহস্য গল্পের বইটি বাচাই করে এনেছিল কবির,ডুবুর জন্যই দোকান থেকে দোকানে ঘুরে এই বই এনেছিল। বাকিরা?তাদের নিয়ে আর কি হতাশ হবে?কবির দেখলো কেউ নাস্তা করতে করতে মোবাইলের মাঝে ডুকে গেছে,বই উপহার পেয়েও হতাশ মুুখ হয়েছে। পরে কবিরের স্ত্রী বলল:তোমরা বই নিবে না? অনেকেই বলল নিবে না,কবির তখনো হতাশ,বইয়ের বদলে কবিরের স্ত্রী জিনুর ঈদের প্রচলিত বখশিশটাই দিল।কবির ঘুমাতে গেল,কেউ নিল না,কেউ ভূলে ফেলে গেল মোবাইলের জগতে হারিয়ে,কেউ এমনিই চলে গেল।কবিরের ঘুম ভাঙ্গল।দুজন মেহমান এসেছে, ডুবুর বন্ধু। পিচ্ছি দুটু সালাম করতে এসেছে কবিরকে,সালাম শেষ হতেই কবির পাশে রাখা বই থেকে দুটু ধরিয়ে দিল,পিচ্ছি দুটি হাসি মুখ নিয়ে বলল:আঙ্কেল আমাদের এই বই পড়া হয়েছে,আর কোনো বই কি হবে আঙ্কেল? কবির চোখ ছানাবড়া,একবার তাকালো তাদের দিকে তারপর ডুবুর জন্য রাখা রহস্যের বই গুলো দিল।সালাম দিয়ে দৌড়ে চলে গেল। ঈদের ২য় দিন, কবির সোফায় বসে টিবি দেখছে,ডুবু নানু বাসায়।কলিং বাজছিল, কবির গিয়ে দরজা খোলে দিল।ডুবুর বন্ধু দুুটু আবার এসেছে,হাতে দুজনের কি জানি রয়েছে।কবির বুঝলো তারা তার কাছেই এসেছে,কবিরের জন্য বিরিয়ানী আর হালিম এনেছে। আমতা আমতা করে বলল:আঙ্কেল বই সব কি দিয়ে দিয়েছেন? কবির বলল:কেনো?সব কি পড়ে ফেলেছিস নাকি? দুজনেই বলল:হ্যাঁ আঙ্কেল। কবির অবাক হয়েছিল। কবির বলল:বই কেন পড়িস? তাদের মধ্যে বাটি করে ছেলেটা বলল:বই কেন পড়ি কারণ জানি না, তবে ছোট বেলায় মামা বই দিয়েছিল দুইটি রহস্য আর ভূতের। অনেক মজা পেলাম পড়ে,তখনত সময় কাটতো না আর এখনত সময় দেওয়াই যায় না;তবুও গল্পের বই পড়ি, অনেক কিছু শিখার আছে। লম্বা ছেলেটির দিকে তাকিয়ে বলল:,তোমার গল্পটাও কি এক? ছেলেটি বলল:না আঙ্কেল,আমিত হিনুর(বাটি ছেলেটা) আশে পাশে থাকি,একদিন আমার সময় কাটছিল না, তাই খেলাধূলা করবো সে ইচ্ছায় ওর বাসায় যায়,গিয়ে দেখি হিনুর মনোযোগ সম্পূর্ণ বইতে,তার চোখের পলকটাও পড়তে দেখলাম না,আমিত অবাক আঙ্কেল;তাকে ডাক দিতেই ভয় পেল প্রচন্ড।তারপর আর কি, বইয়ের গুনগান প্রশংসা শুনে নিজে একদিন পড়ে দেখলাম। কবির যা বুঝলো তা হল;বইমুখি কিশোর সমাজের সংগঠক একমাত্র কিশোররা নিজরা,কবির পিচ্ছি দুটুকে সব বই দিয়ে দিল তবে একটি কাজ তাদের করে দিতে হবে। দুজনকেই বই বিতরন করে বিভিন্ন ভাবে বই পড়ার জন্য সবাইকে আগ্রহী করে দিতে হবে। এই বইচুক্তি গড়ে কবিরের বাসায় ঈদের দ্বিতীয় দিন;তাই কবিরের ডায়রির মতে ঈদের দ্বিতীয় দিনটা তার জন্য ঈদের প্রথম দিন ছিল। পিচ্ছি দুটুর সফলতা শেষ পর্যায়ে আকাশ ছোয়া হয়ে পড়ে,তাদের মিশন তাদের লক্ষ্যের সাথে সঙ্গ দেয় কবির। কবিরের ছেলেও এখন বইয়ের পিছনে পাগল,তার প্রমান কবির পেয়েছে। একরাতে খুব ভয়ে ভয়ে ডুবু ঘরে আসলো,কবির কাজ করছে কম্পিউটারে। ডুবুকে ডুকতে দেখে কবির স্নেহের কন্ঠে বলল:কিরে ডুবু?কিছু লাগবে? ডুবু একটু আমতা আমতা করে বলেই ফেলল:বাবা,ঐ যে ঈদের সময়,যে বই দিয়েছিলে তা কোথায়? কবির বলল:ওটাত দিয়ে দিয়েছি,তুর কি বই লাগবে? ডুবু বলল:হ্যাঁ,লাগবে।কবির বলল:আচ্ছা কাল এনে দিব, তবে একটা কাজ করতে হবে। ডুবু বলল:কি কাজ বাবা? কবির বলল:ঐ তুর বন্ধু আছে না?ওদের বলবি একটা রুম দেখার জন্য,গ্রন্থাগার খুলবো। ডুবু বলল:গ্রন্থাগারত আমরা খুলেছি। কবির অবাক হয়ে গেল,জিজ্ঞাস করল:কোথায়? ডুবু বলল:কাল যাবে? পরদিন, পিচ্ছি দুটু সহ কবির ডুবুকে নিয়ে গ্রন্থাগার দেখার জন্য চলল।পিচ্ছি দুটুরই কেরামতি সব,চাদা তুলে সবার জন্য বড় একটা গ্রন্থাগার তৈরী করে ফেলেছ।কবির মুগ্ধ। এসিস্টেন্ট কে দেখে আরো বিস্মিত কবির।এত জিয়াওল বাজারের ভিক্ষুক নিয়া মিয়া,কবিরকে দেখে সালাম দিল,পা ছাড়া মানুষটির কাজ শুধু কে কি বই নিল তা টুকে রাখে,অক্ষর জ্ঞানও দিয়ে দিচ্ছে এই পিচ্ছি গুলা। আচ্ছা এই ঘরটা কার থেকে ভাড়া নিয়েছিস?পিচ্ছি গুলা বলল,ভাড়া নিতে চেয়ে ছিলাম কিন্তু বৃদ্ধা দাদু টাকা নেয় না,ছোট বলে।অতচ বৃদ্ধা দাদুটির কত যে সমস্যা,ওনার চলার জন্য শুধু নিজের বাড়িটা আর এই ঘরটা,আমরা বলতেই দিয়ে দিয়েছেন এই ঘর,দাদুনির ছেলে ওনাকে ছেড়ো চলে গিয়েছেন।বৃদ্ধার সাথে দেখা করল কবির আর একটা নির্দিস্ট টাকা বাড়ি ভাড়া নির্ধারন করে নিলেন। তার কিছুদিন পর পিচ্ছি বাহিনীর আগমন কবিরের ঘরে,সামনে চাদার বাক্স।লিখা ছিল,কুরবানির অর্থ ত্যাগ। আর কিছু লিখা নেই একটা গরুর চিত্র ছিল।চাদা তুলা হচ্ছে গরীবদের জন্য,পিচ্ছি গুলা নাকি গরু কুরবানি করবে। বাকি টাকা যাবে না খেতে পাওয়া মানুষদের জন্য।কবির তখন বুঝেছিল পথ সহজ সরল এবং ঠিক দিকেই যাচ্ছে। তাদের সাথে যোগ দিল কবির সাহেব সহ আরো অনেকে।সবার মিছিলের লম্বা লাইনটি দেখার মত ছিল,শত চোখে কান্নার পানি এসেছিল,কবিরও কেদেছিল তরুন সমাজের পরিবর্তনে। তার পর দিনগুলো যেতে লাগলো, ফিরে আসলো ঈদের সময় আবারো,কবির সাহেবকে দাওয়াত দিল পিচ্ছি সংগ, ঈদের জাদুঘরে। একটা রুম অনেক বড়,সেই রুমটির সামনেটায় লিখা ছিল, ঈদের জাদুঘর,সাল-২০১৯ প্রতিষ্টাতা-বইবখশিশের উদ্ভাবক কবির। কবির কিছুটা হাসি দিয়ে ফেলল নামটা দেখে।ভিতরটা দেখে চোখ জুড়িয়ে গেল,বাংলার ঈদ ঐতিহ্য নিয়ে তৈরী ছোটদের ছোট্ট এই পৃথিবী।এই ছোট্ট পৃথিবীতে আছে দুটু মূর্তি একটি বড় জনের আরেকটা ছোট জনের, বড় জন বই দিচ্ছে তা দেখানো হয়েছে আর ছোটটার মুখে একখানা হাসি।দেখানো হয়েছে মসজিদে নামাজ পড়তে যাওয়া,দেখানো হয়েছে সবার মাঝে ঈদের মজা ভাগ করে নেওয়ার পন্থা,মাটি ঘরের কয়েকটা শিল্প কর্ম,মাটির শিল্প কর্ম দেখলাম,ঈদে মায়েদের কাজের পরিমান নিয়ে একটা লম্বা লিস্ট ও পেলাম, রয়েছে আরো অনেক কিছু। পিচ্ছিদের এই সংগ কর্ম কবির না সবারই মনে থাকবে চিরকাল,তাদের কাজের প্রমাণ স্বরূপ তাদের তৈরী ঈদের জাদুঘর।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ঈদের জাদুঘর

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now