বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আকাশের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে এই বুঝি বৃষ্টির পশলা পড়লো মাথায়। আমার হাতে ছিল সির্টিফিকেট ভাইভা পরীক্ষা দিয়ে আসছি মনে হয় চাকরি হবে না কারণ প্রশ্নের একটাও উত্তর দিতে পারি নাই এই মাঝ পথেই মেঘের আভাস পাচ্ছি মনে হচ্ছে বাসায় যেতে পারবো না ।তাই এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখার চেষ্টা করলাম কোথায় আশ্রয় পাওয়া যায় কি না সামনেই দেখলাম একটা টিনের চালা বিশিষ্ট সাধারণ নিম্ন মানের খাবারের দোকান ওমনি গিয়ে দোকানের ভিতরে ঢোকার সাহস হলো না পকেটে মাত্র পঞ্চাশ টাকা আছে বাসাতে যেতে এখনো অনেকটা পথ পঞ্চাশ টাকায় হবে না কি করি কি করি এই ভেবে চারিপাশটা দেখতে লাগলাম কোনো পরিচিত মানুষ পাওয়া যায় নাকি তবে পেলাম একজনকে তবে সে আধা পরিচিত রুম্পা।আমার বোনের বান্ধবী।দেখি ও খুব তড়িঘড়ি করে পরোটা খাচ্ছে বেচারির মনে হয় খুব ক্ষুধা লাগছে আমি গেলাম সামনের চেয়ারে বসলাম আর বললাম
আমিকিছুটা হাসি মুখে)আরে তুমি এখানে ???
(রুম্পা খাবার পরিবেশন ওয়ালাকে ডেকে বলল যে আরো দুই প্লেট পরোটা দিতে খাবার পরিবেশন ওয়ালাও খুব তাড়াতাড়ি করে নিয়ে আসলো আমাকে ইশারা করে বললো আগে খাইতে তারপর সব কিছু)
(আমার আবার ক্ষুধা লাগছে সেই সকালে চারটি খানি ভাত খেয়ে বাসা থেকে বের হয়েছি কেউ খেতেও বলে নাই তাই আমি আর দেরি করতে পারলাম না আমিও খেলাম )একটা পর্যায়ে আমাদের দুজনেরই খাওয়া দাওয়া শেষ তখন রুম্পা বলল
রম্পাএকটু আত্মবিশ্বাসের সাথে)জানেন আমি আবার ক্ষুধার্ত মানুষদের দেখতে পারি না নাই আমি তাদের খেতে দেই নাই তাদের থেকে দুরে সরে যাই।
আমিঅবাক হয়ে)আমি যে ক্ষুধার্ত মানুষ তুমি বুঝলে কেমন করে??
রুম্পাআমার পা দেখিয়ে) আপনার পা দেখে?
আমিগালে হাত দিয়ে) মানুষের মুখ দেখে জৌতিষীরা ভবিষ্যতে কি কি ঘটবে তা বলে দিত আজ আমি এই প্রথম তোমার কাছে শুনেছি মানুষের পা দেখে বলা যায় যে সে মানুষটি ক্ষুধার্ত?
রুম্পাহেসে)আসলে আমি দেখলাম আপনি একটু বাঁকা হয়ে হাঁটছেন..
আমি: (হাতের ইশারায় থামিয়ে দিয়ে) দাঁড়াও দাঁড়াও আমি যে হাঁটছিলাম তুমি কেমন করে দেখলে আর তুমি তো খাচ্ছিলে তাই না??
রুম্পাআয়নার দিকে দেখিয়ে)।
আমিনা বুঝে ) আয়নাতে কি??
রুম্পা: (আয়নার দিকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে)আরে অবুঝ বালক, এখান থেকে আয়নাতে আপনার হাঁটার ডং দেখলাম।
আমি: (চেয়ার ছেড়ে উঠলাম)ওওওও,,, আচ্ছা ধন্যবাদ তাইলে আমারটাসহ খাবারের টাকাটা দিয়ে দিয়েন আমি যাই ।
রুম্পা: (আমার হাত ধরে)এই আমি টাকা দিবো মানে আমার কাছে তো টাকা নেই আপনি দিন।
আমিহাত ছাড়িয়ে,রেগে গিয়ে উচ্চ স্বরে)আমি যদি না আসতাম তাহলে কেমন করে টাকা পরিশোধ করতে?
রুম্পাভয় পেয়ে, মাথা নিচু করে রইলো কিছুই বলল না)
আমি: (আমি আবার কারো মন খারাপ দেখতে পারি না ,নিচু স্বরে) আচ্ছা দিচ্ছি।
কাছে পঞ্চাশ টাকাটা দিয়ে দিলাম দোকানিকে। দোকানের বাইরে দুজন দাঁড়িয়ে।
এখন ভাবছি কেমন করে বাসায় যাবো ঠিক তক্ষুনই রুম্পা বলল
রুম্পাহেসে)কি কেমন করে বাসায় যাবেন টাকাতো নাই আপনার তাই না??
আমি: (অবাক হয়ে)হমম কিন্তু তুমি কেমন করে জানলে?
রুম্পা: (হেঁসে)যখন আপনি দোকানদারকে টাকা দিচ্ছিলেন তখন আমি আপনার টাকার ব্যাগটাতে খেয়াল করেছিলাম একদম ফাঁকা তাই।
আমি: (আশপাশে তাকিয়ে)ওওও।
রুম্পাদুষ্ট হেসে,বাসায় যাবার ভাড়ার টাকা হাতে ধরিয়ে দিয়ে)এই নিন!
আমি: (টাকাটা আমার প্রয়োজন তাই নিলাম) তুমি তো বলেছিলে তোমার কাছে টাকা নেই তাহলে?
রুম্পা: (দুষ্ট হেসে) দেখুন দোকানের ভিতরে যদি একটা মেয়ে মানুষ একটা ছেলে মানুষের টাকা পরিশোধ করতো তাহলে ব্যাপারটা কেমন দেখাতো তাই ঐ খানে আমি আমার টাকা সহ আপনার টাকা আপনাকে দিয়ে দিয়েছিলাম যেন আপনার কোনো সম্মান অক্ষুন্ন না হয় তাতে আমি দুঃখিত আর আমি ঋণী হয়ে গেছিলাম আপনার কাছে বাহিরে এসে সেই ঋণ শোধ বোধ করে দিলাম ।
আমি: (হেঁসে)হমম বুঝলাম।
তারপর আমি রুম্পার থেকে বিদায় নিয়ে বাসায় চলে আসলাম।( সমাপ্ত)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now