বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
ইবলিসের কান্ড
"ইসলামিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান আরিফ (০ পয়েন্ট)
X
ইবলিশের কান্ড
(ইকবাল কবীর মোহন) : অনেক অনেক আগেকার কথা। যুল কিফল (আ) নামে আল্লাহর এক নবী ছিলেন। তিনি বনী ইসরাইলীদের কাছে প্রেরিত হন। যুল কিফল তাঁর আগের নবী হযরত আলইয়াসা (আ)-এর খলিফা মনোনীত হন। তিনি দিনরাত কেবলই আল্লাহর ইবাদাতে মশগুল থাকতেন। যুল কিফল (আ) শুধুমাত্র দুপুরবেলায় নিদ্রা যেতেন।
একদিন ঘটলো এক কান্ড। দুপুরবেলা। আল্লাহর নবী বিশ্রামে যাওয়ার প্রস্তুতি নিলেন। এমন সময় ইবলিশ শয়তান বৃদ্ধারবেশে যুল কিফল (আ)-এর দরবারে গিয়ে হাজির হলো। বৃদ্ধ ইবলিশের চেহারা বেশ মলিন। তার শরীর বেশ আলুথালু। এসেই সে নবীর দৃষ্টি কাড়ল এবং কিছু বলতে চাইল। যুল কিফল (আ)-কে লক্ষ্য করে ইবলিশ বলল,
‘হুজুর! আমি জুলুমের শিকার। আমার জাতির লোকেরা আমার প্রতি অনেক অবিচার করেছে। আপনি দয়া করে এ জুলুমের বিচার করে দিন।'
বৃদ্ধ তার ওপর অবিচারের বর্ণনা এতটাই লম্বা করল যে, আল্লাহর নবী সেদিন আর বিশ্রাম নেয়ার সুযোগ পেলেন না। যুল কিফল (আ) বৃদ্ধ লোকটিকে বললেন, ‘এখন তুমি চলে যাও, বিকালে এসো, আমি এর বিচার করে দেবো।'
কিন্তু অবাক ব্যাপার। খলিফা অপেক্ষা করলেন। কিন্তু বৃদ্ধ লোকটি বিকেলে আর আসলো না নবীর দরবারে।
পরদিন দুপুরবেলা। নবী যুল কিফল (আ)-এর তখন বিশ্রাম নেয়ার সময় হয়েছে। এমন সময় দরজায় এসে কষাঘাত করল বৃদ্ধ লোকটি। দ্বাররক্ষী দরজা খুলে দিলো। আর অমনি বৃদ্ধ প্রবেশ করল দরবারে।
হযরত যুল কিফল (আ) লোকটিকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘ওহে, ব্যাপার কী! গতকাল বিকেলে আসলে না যে?'
বৃদ্ধ বলল, মহারাজ! আমার জাতির লোকেরা বড়ই চালাক। আমি দরবারে যাবো জেনে তারা বিকেলে আমার দাবি স্বীকার করে নিয়েছিল। সময় শেষ হলেই তারা আবার আমার দাবি অস্বীকার করে বসে। তখন দরবারে আসার মতো আমার হাতে আর সময় ছিল না।
এদিনও কথা বলতে বলতে আর বিশ্রামের সময় পেলেন না হযরত যুল কিফল (আ)। আজও তিনি বৃদ্ধকে বিকেলের দরবারে আসার কথা বলে বিদায় দিলেন। বিকেলে যথারীতি দরবার বসলো। এদিনও বৃদ্ধার কোনো খবর নেই।
তৃতীয় দিন। পরপর দুইদিন হযরত যুল কিফল (আ) বিশ্রাম নিতে পারেননি। তাই রক্ষীদের আজ এক ফরমান জানালেন। তিনি বিশ্রামের সময় কাউকে ভেতরে না আসার নির্দেশ দিলেন। যুল কিফল (আ) আজ নিভৃত কক্ষে বিশ্রাম করছেন। এমন সময় বৃদ্ধ লোকটি এসে হাজির। সে দরজায় কড়া নাড়ল। দ্বারের রক্ষীরা খলিফার নির্দেশ তো জানেই। তাই তারা লোকটিকে ভেতরে যেতে দিতে অস্বীকার করল। তারা খলিফার আদেশের কথাও বৃদ্ধকে জানিয়ে দিলো। কিন্তু একি অবাক কান্ড! রক্ষীরা বৃদ্ধকে বাইরে রেখে দরজা বন্ধ করেছে, অথচ সে ঘরের ভেতরেই ঢুকে পড়েছে। না, ঢুকেই ক্ষান্ত হলো না সে। বৃদ্ধলোকটি ক্রমেই নবীর কক্ষে গিয়ে উপস্থিত হলো।
এই কান্ড দেখে খলিফার আর বুঝতে বাকি রইলো না। তিনি নিশ্চিত হলেন, এই বৃদ্ধ আসলে মানুষ নয়। সে নিশ্চিতভাবে মানুষের দুশমন ইবলিশ। তাই হযরত যুল কিফল (আ) তাকে লক্ষ্য করে বললেন,
‘তুই ইবলিশ না?'
ইবলিশ এবার ধরা পড়ে গেল। সে স্বীকার করে বলল,
‘হাঁ খলিফা, তুমি ঠিকই ধরেছ। এতদিন আমার অনুচরেরা তোমাকে ক্ষ্যাপাতে চেষ্টা করেছে। তারা সবাই ব্যর্থ হয়েছে। তাই আমি নিজেই এসেছি। তবে আফসোস। তুমি আমাকে ধরে ফেলেছ। আমি তোমার কাছে হেরে গেলাম।'
ইবলিশ আমাদের দুশমন। ভালো মানুষের চারদিক থেকে সে ক্ষতি করার চেষ্টা চালায়। এ জন্য ইবলিশ নানা চাতুরি অবলম্বন করে। ইবলিশের এসব কান্ড থেকে রেহাই পাওয়ার উপায় হলো আল্লহর রহমত।
, ঢাকা-১২১৭ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now