বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
প্রথম পর্বের পর-----
লোকটা খেক খেক করে হেসে বললো -
জি,ঠিক
বলেছেন, আমাকে আবার ভয় কিসের ?
জগলু ব্যাগ
দু’টো নিয়ে হাঁটতে শুরু করতেই
লোকটাও
হাঁটতে ওর
পাশে পাশে হাঁটতে লাগলো ।
ব্যাগে ভেতর মনে হয় মাছ আছে,
না জনাব ?
জগলু অনেকটা চমকে উঠে লোকটার
দিকে তাকালো । অন্য কেউ
হলো অবাক
বিস্ময়ে পাল্টা প্রশ্ন করতো -
আপনি কিভাবে জানলেন ? কিন্তু জগলু
পাল্টা কোন প্রশ্ন না করে শুধু ছোট্র শব্দ
করলো হু
। এবং মনে মনে ভাবলো ব্যাগের ভেতর
যে মাছ
আছে সেটা বুঝতে আইনএস্টেন হতে হয়
না । একটু
জ্ঞান থাকলেই বোঝা যায় । ব্যাগ
থেকে যে চুইয়ে চুইয়ে পানি পরছে সেট
বোঝা যায় যে ব্যাগের ভেতর পাছ
আছে । আর
ঘ্রাণ শক্তি যদি একটু প্রখর হয় তবে কোন
কথাই
নাই । গন্ধ শুকেই বলে দেওয়া যায় যে,
ব্যাগের
ভেতর কি আছে । কেননা জগলুর
ইতি মধ্যে মনে হয়েছে ব্যাগের ভেতর
থাকা মাছগুলো গন্ধ ছড়াচ্ছে ।
সুতারাং লোকটার ঘ্রাণ শক্তি প্রখর ।
- বাঘা পাপদা আর টেংরা মাছ তাই
না জনাব ?
লোকটা একবার ব্যাগের
দিকে তাকিয়ে তারপর
সামনের দিকে তাকায় ।
মুখে বিশ্রী রকমের
একটা হাসি । এবার কিন্তু জগলু
চমকে উঠে । বুকের
ভেতটা কেমন যেন ধক করে উঠলো । শুধু
জগলু কেন ?
যে কোন মানুষেরই কথাটা শুনার পর
চমকে উঠার
কথা ।
কেননা, দাউদকান্দি বাজারে বড় বড়
পাপদা মাছগুলো দেখে জগলু বেশ বেশ
অবাক
হয়েছিল । মাছওয়ালা বলেছিল , স্যার
নিয়া যান, এগুলি বাঘা পাপদা । সবসময়
পাওয়া যায় না । একবার
খাইলে সারা জীবন
মুখে সোয়াদ লেগে থাকবো । জগলু
নিজে পাপদা মাছ খায় না ।
পাবদা কেন, এক
ইলিশ ছাড়া কোন মাছই ও খায়না । তবুও
মাছগুলো কিনেছে ওর বাবা জন্য । ওর
বাবা বরিশালের মানুষ । কথায় কথায়
মাছের গল্প
শুনায় । তার গল্পের মধ্যে এ
বাঘা পাবদা মাছের
গল্প ও আছে । তাই বাঘা পাবদা নাম
শুনেই জগলু
বাবার জন্য
মাছগুলো কিনে ফেলেছে । আর
মায়ের জন্য কিনেছে তার প্রিয়
ছোটছোট
টেংরা মাছ ।
তিন
জগলুর বাবা বেশ কিছু দিন যাবত অসুস্থ ।
ডাক্তার
রোগ ধরতে পারছেন না ।
আগামী মাসে তার
জগলুর বড় বোন টুম্বার
কাছে আমেরিকায় যাবার
কথা আছে । ভিসাও হয়ে গেছে ।
সেখানে চিকিৎসা হবে ।
জগলু লোকটার প্রশ্নের কোন উত্তর
না দিয়ে হাঁটতে থাকে ।
মুখে কথা না বললেও ওর
মধ্যে একধরনের ভয় কাজ করছে । ও
আসলে ভয়টাকে পোশ্রয়
দিতে চাচ্ছে না । ভয়
হলো চুইংগামের মতো । টানলে বড়
হতেই থাকে,
বড় হতেই থাকে ।
তা কত দিয়ে কিনলেন জনাব ?
লোকটা জগলুর
প্রায় কানের
কাছে মুখটা এনে ফিসফিস
করে জিজ্ঞেস করে । আবারও
পঁচা গন্ধে জগলুর
পেট গুলিয়ে উঠে । জগলু চট
করে সড়ে যায় । তারপর
মনে মনে বলে, সেটাও আপনি জানেন
নিশ্চই ।
একটু রাগত
ভাবে কথা বলতে ইচ্ছে হলেও জগলু
নিজেকে সামলে নিয়ে লোকটার
দিকে ঠান্ডা চোখে তাকায়, তারপর
বলে -
আপনি আসলে কে ?
কথাটা বলার সঙ্গে সঙ্গে জগলু টের
পায় ওর
মাথাটা আবারও ঝিমঝমি করছে ।
ঘা’ড়ের
লোমগুলো একটা একটা করে দাঁড়িয়ে য
এর
মানে হচ্ছে ও এখন ভয় পাচ্ছে ।
আমি কে ? জগলুর প্রশ্নটা রিপিট
করে লোকটা খেক খেক
করে হেসে উঠে ।
শেয়ালের মতো সে হাসির শব্দ । ঠিক
সে সময়
হঠাৎ রাস্তার দু’পাশের সোডিয়াম
বাতিগুলো নিবে যায় । জগলু
দাঁড়িয়ে পরে ।
একবার ঝেরে দৌড়
মারতে ইচ্ছে করে ওর ।
কিন্তু চিন্তাটা দ্রুত
মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে জোড়ে জ
মনে মনে ভাবে এভাবে মাছ
আনাটা ঠিক হয়নি ।
নিশ্চিত খারাপ কোন জিনিষের
পাল্লায়
পরেছে ও । এ ধরনের জিনিষের
কথা বাবার
কাছে ও অনেক শুনেছে ।
যদি জিনিষটা একবার
বুঝতে পারে যে, ও ভয় পেয়েছে,
তা হলে আজ খবর
আছে । জগলুর ডান পাশ দিয়ে কোন শব্দ
না করেই
লোকটা হাঁটছে ।
পাঁচশো বিশ টাকা তাই না ?
উত্তরটা দিয়ে লোকটা আবারও
হেঁসে উঠে ।
জগলু এবার
দাঁড়িয়ে পরে সোজা লোকটার
চোখের
দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করে -
আপনি কে ?
কি চান ? কেন আমাকে ভয়
দেখাতে চাচ্ছেন ?
জগলুর চোখ মুখ শক্ত হয়ে গেছে ।
মনে মনে ও
আল্লাহকে ডাকছে । আর বলছে আমি ভয়
পাবো না । আমি কিছুতেই ভয়
পাবোনা ।
হাঁটতে থাকো, থেমো না । আমার
পরিচয় আসলেই
জানতে চাও ?
লোকটা চটকরে আপনে থেকে তুমিতে ন
জি, আপনি কে ? কি চান ?
তোমার সঙ্গ চাই । আবারও সেই খেক
খেক
করে হেসি । আমি ইসলিস ।
লোকটা হাসতে হাসতেই বলে ।
হাসি যেন আর
থামেই না । চেনো আমাকে ?
আমাকে চেনা যায় ? নাম
শুনেছো নিশ্চয় ।
জগলুর হঠাৎ মনে হয় এটা কি কোন
মাস্তান
টাস্তানের নাম ? কিন্তু পরক্ষনেই ওর চট
করে মনে পরে যায় ইবলিস শয়তান
না তো ? জগলু
কোন রকম
তোতলাতে তোতলাতে বলে - দেখুন
মজা করবেন না ? এখন মজা করার সময়
না ।
ইবলিস তো মজা করে না ।
যা করে বুঝে শুনেই
করে । মজা করে মানুষ জাতি । আশরাফুল
মাখলুকাত । সৃষ্টির সেরা জীব ।
কথাটা বলে,
লোকটা দু’টো ঠোট দিয়ে ফু ফু ফু ফু ফু শব্দ
করে।
তারপর হাসতে থাকে । জগলু কি করব
বুঝতে পারে না । ফেল ফেল
করে লোকটার
দিকে তাকিয়ে থাকে । এই মুহুর্তে ওর
মাথা কোন
কাজ করছে না । যেন হঠাৎ করেই
চিন্তা শক্তি লোপ পেয়েছে । জগলু
মনে মনে দোয়া দুরুত
পড়তে চেষ্টা করে । কিন্তু
কোন কিছু মনে আসে না । অথচ ও
কোরআন শরীফ
বেশ শুদ্ধভাবে পড়তে পারে ।
পারবা না । কোন দোয়া বা আয়াতই
এখন তোমার
মনে করে পড়তে পারবানা । তোমার সব
আমি ভুলিয়ে দিয়েছি ।
(সমাপ্ত)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now