বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ইবলিস (পর্ব-১)

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান জাহিদুল ইসলাম (০ পয়েন্ট)

X দাউদকান্দি থেকে ঢাকায় আসতে কোন অবস্থাতেই দু;আড়াই ঘন্টার বেশি সময় লাগার কথা না । সেখানে বয়স্ক মানুষের মতো পথে ধুকে ধুকে বাসটা যখন ঢাকায় এসে পৌছল ঘড়িতে তখন কাঁটায় কাঁটায় রাত আড়াইটা বাজে। জগলুরা কয়েকজন বন্ধু মিলে গিয়েছিল দাউদকান্দি । ওর এক বন্ধুর বোনের বিয়েতে । যাবে না , যাবে না করেও সবার চাপা চাপিতে শেষ পর্যন্ত আর না গিয়ে পারেনি জগলু । বাংলায় একটা প্রবাদ আছে অনুরোধে ঢেকি গেলা, কিন্তু জগলুর কাছে এখন মনে হচ্ছে, সে অনুরোধে ঢেকি নয়, কামান গিলেছে । আর তা হজম না হয়ে হয়েছে বদহজম হয়েছে । বন্ধুরা সবাই বিয়ে বাড়ীতে রয়ে গেলেও । জগলু তারাহুরো করে চলে এসেছে কারন আগামিকাল ওর অফিস আছে । জগলু একটা তৈল কম্পানীতে মোটা বেতনে চাকরি কর সেখানে শুক্রবার ছাড়া অন্য কোন দিন কোন রকমের ছুটি নেই । বছর শেষে আছে টানা ত্রিশ দিনের লম্বা ছুটি । শাশান্তি পরিবহনের বাসটা যাত্রাবাড়িতে আসতেই বেশির ভাগ যাত্রী নেমে গেল । সায়দাবাদেও নামলো আরো কয়েক’জন । জগলু নামলো টিকাটুলিতে । ওর বাসা নারিন্দার মুনির হোসেন লেনে । বাস’টা ওকে রাজধানী সুপার মার্কেটের সামনে পুলিশ বক্সের কাছে নামিয়ে দিয়ে একটানে চলে গ গুলিস্তানের দিকে । বাসে তখনও কিছু যাত্রি বসেছিল । জগলু বিরক্তি নিয়ে ছুটে যাওয়া বাসটার দিকে কিছুক্ষন চেয়ে থাকলো । তারপর মনে মনে বললো- হারামজাদা । ইদানিং ও’র এই একটা বদ অভ্যাসটা হয়েছে । যখন তখন মনে মনে ও যাকে তাকে গালি গালাজ করে । অনেক সময় নিজের দেয়া গালিতে নিজেই চমকে উঠে জগলু । তবে এ’তে একধরনের তৃপ্তি বা আরাম পাওয়া যায় । ব্যথার উপড় আলতো করে হাত বুলালে যে ধরনের আরাম পাওয়া যায় । অনেকটা সে ধরনের আরাম । জগলু এর নাম দিয়েছে "পরিবেশ বান্ধব তৃপ্তি " । পথে বারবার বাসটা খারাপ হওয়াতে এমনিতে জগলুর মেজাজটা তেতে আছে , তার উপর এখন পথ ঘাট এ রকম শূণ্য দেখে, ওর মেজাজ আরো খারাপ হয়ে গেল । মনে মনে ও গজগজ করতে লাগলো, এর কোন মানে হয় ? এভাবে বিয়ে খেতে যাওয়ার কি দরকার ছিল ? বন্ধুদের উদ্দেশ্য করে জগলু মনে মনে ‘তিন অক্ষরের’ একটা গালি দিল । তবে আরাম পালো কিনা বোঝা গেল না । ব্যাগ দু’টো পায়ের দু’পাশে রেখে পকেট থেকে রুমাল বেড় করে ও মুখ মুছলো । জগলুর সঙ্গে দু’টো ব্যাগ । একটা লেদারের জার্র্নি ব্যাগ তাতে ওর কাপড় চোপোর । অন্যটা সিমেন্টের ব্যাগ দিয়ে বানানো বাজারের ব্যাগ । জগলু দাউদকান্দি বাজার থেকে বাসার জন্য কিছু মাছ কিনেছে । যদিও মাছওয়ালা পলিথিনের ব্যাগে বরফ দিয়ে মাছ গুলো বেঁধে দিয়েছিল তবুও জগলুর ধারনা মাছ গুলো এখন নষ্ট হচ্ছে । বরফ গলে ব্যাগটা থেকে চুঁইয়ে চুঁইয়ে ঠান্ড সেই সঙ্গে একটু একটু মাছের গন্ধও মনে হয় পাওয়া যাচ্ছে বলে ওর মনে হচ্ছে । দুই টিকাটুলি থেকে হেঁটেই বাসায় যেতে হবে । এতো রাতে রিকসা পাবার কোন প্রশ্নই উঠে না । পথ ঘাট একেবারে শুনশান । কোথাও কোন লোকজন বা জনমানব নেই । আকাশে বিশাল একটা চাঁদ মেঘের সঙ্গে লুকুচুড়ি খেলছে । জগলু হেঁটে পুলিশ বক্সে থেকে খ্রিষ্টান কবরস্তানের রোডটায় এসে দাঁড়ায় । ওর হাতের বাম পাশে খ্রিরিষ্টান কবরস্তান, ডানপাশে বলধা গার্ডেন । খ্রিষ্টান কবরস্তান আর বলধা গার্ডেন দু’টোই উঁচু প্রাচীর দিয়ে ঘেরা । রাতের অন্ধকারে বলদা গার্ডেন থেকে বড় বড় ইউকিলিয়াস গাছগুলো অজগর সাপের মতো মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে । হঠাৎ দেখলে কেমন যানি গা ছমছম করে উঠে । জগলু একবার সেদিকে তাকিয়ে চোখ ফিরিয়ে নিল । তারপর খ্রিরিষ্টান কবরস্তানটার দিকে চাইতে ওর মনে হলো ভেতরের গাছপালা গুলো একটা আরেকটার উপর ঝুকে রাস্তার দিকে উকি দিয়ে আছে । জগলু হঠাৎ অনুভব কললো ওর গা কেমন ভয় ভয় লাগছে। মাথার চুলগুলো মনে হলো, একটা একটা করে দাঁড়িয়ে যাচ্ছে । কিন্তু ওর বাস্তববাদী মন ভয় পাওয়ার কোন কারণ খুঁজে না পেলও নানান আজে বাজে চিন্তা মনের ভেতর উঠে আসছে । চারিদিকে কবরের শুনশান নিরবতা । জগলু ঘড়ি দেখলো , রাত পৌনে তিনটা বাজে । জগলু এদিক সেদিক তাকিয়ে লোকজন বা রিকসা খুঁজছে । একা হেঁটে যেতে ওর ক্যামন জানি মন সায় দিচ্ছে না । অজানা একটা ভয় একটু একটু করে ওর অজান্তেই এগিয়ে আসছে । জগলু মাছের ব্যাগটা পায়ের কাছে রেখে, পকেট থেকে মোবাইল বেড় করলো । সুইচে টিপ দিয়ে অন করতেই -দু বার পিপ পিপ শব্দ করে মোবাইলটা বন্ধ হয়ে গেল । বাসে বসেই ও দেখেছিল মোবাইলের চার্জ প্রায় শেষ হয়ে এসেছে । তাই এখন মোবাইলটা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ও খব একটা অবাক হলো না । শুধু মুখে “চুক” করে শব্দ করে মোবাইলটা আবার পকেটে রেখে দিয়ে বললো- না , হেঁটেই যেতে হবে । কবরস্হান তো কি হয়েছে । আল্লাহ ভরসা । জগলু যেই হাঁটার জন্য পায়ের কাছে রাখা ব্যাগ দুটো তুলে নিয়েছে, ঠিক সেই সময় ও খেলাল করলো রাস্তার ওপর পাশ থেকে কেউ একজন হেঁটে এগিকটায়ই আসছে । মনে মনে ও সাহস পেল । যাক, বাঁচা গেল । সঙ্গে কেউ একজন থাকলে হাঁটা কোন ব্যাপার না । খাঁটো মতো , কালো কোট পড়া লোকটা জগলুর সামনে এসে দাঁড়াল । একবার ওর দিকে, তারপর ওর পাশে রাখা ব্যাগ দু’টোর দিকে তাকিয়ে বললো, জনাব কোন সমস্যা ? জগলু মাথা নেড়ে না করলো , তারপর বললো - না কোন সমস্যা না । ভাল করে লোকটার দিকে তাকাতেই ও দেখলো , লোকটার পরনে কোট প্যান্ট থাকলেও পা দুটো খালি । ও মনে মনে ভাবলো পাগল টাগল নাকি । লোকটার মুখের আকৃতিটাও কেমন যেন একটু চ্যাপটা আর লম্বাটে । গলাটা মনে হচ্ছে শরীর থেকে বেড় হয়ে যেতে চাচ্ছে । কোটের কলারের উপড় দিয়ে লম্বা গলাটা বিশ্রীভাবে বেড় হয়ে আছে । জগলুর কাউকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখার স্বভাব না । কিন্তু তবুও কেন যেন হঠাৎ উদয় হওয়া এ লোকটার সব কিছুর দিকে জগলুর চোখ অতি সহজেই ছুটে যাচ্ছে । এবং বেঁছে বেঁছে লোকটার শারীরিক খুঁতগুলো ওর চোখে পরছে । ও আরো খেয়াল করলো যে, লোকটার উপস্হিতি ওর মধ্যে একধরনের ভীতির সৃষ্টি করছে । লোকটা ঠিক যেন স্বাভাবিক না । কোথায় যেন একটা সমস্যা রয়েছে । ও অসস্থি বোধ করতে লাগলো । জগলুকে চুপ থাকতে দেখে লোকটা আবারও প্রশ্ন করলো - জনাব কোন সমস্যা ? আমি কি কোন কাজে আসতে পারি ? -না সমস্যা না । তবে কোন রিকসা পাচ্ছি না । এটা অবশ্য একটা সমস্যা । -কোথায় যাবেন ? -এইতো সামনেই । জগলু হাত দিয়ে সামনের টিপুসুলতান রোডটা দিকটা দেখালো । ও নারিন্দা ! আমিও ওদিকটায় যাবো , চলুন তবে হাঁটি । লোকটা ওর মাছের ব্যাগটার দিকে তাকিয়ে সামান্য হাসতে হাসতে বললো । জগলু ইতস্তর্থ করতে লাগলো, মনে মনে সিদ্বান্ত নিতে পারছেনা লোকটার সঙ্গে যাওয়া ঠিক হবে কি না । লোকটা এবার ও’র মুখের কাছে এসে ফিসফিস করে বললো - ভয় পাচ্ছেন ? তবে থাক । আমি একলা একলাই যাই । লোকটার মুখ থেক বিশ্রী একটা গন্ধ এসে ওর নাকে লাগলো । জগলুর মনে হলো ওর ভেতটা গুলিয়ে উঠলো । পেটটা ক্যামন মোচর দিয়ে উঠলো । জগলু কোন মতে বললো - না , আপনাকে আবার ভয় কিসের । তারপর “থু’ করে রাস্তার একপাশে একদলা থুতু ফেললো । (চলবে)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১০৬ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now