বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

#হুজুর হুজুরনী (3য় পর্ব)

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ★ রোদেলা রিদা ‎★ (০ পয়েন্ট)

X আবদুল্লাহ চা খাচ্ছিলো ভার্সিটির ক্যান্টিনে। বোরখা পড়া একটা মেয়ে এসে বসল অপর সাইডে। আবদুল্লাহ মাথা নিচু করে চা খাচ্ছে যাতে অপর পাশের কেউ যেন ইতস্তত বোধ না করে । আবদুল্লাহ মনে মনে ভাবছে মা শা আল্লাহ! মেয়েটা তো মনে হয় ধার্মিক। ভার্সিটিতে বোরখা পরে এসেছে ! ওপাশ থেকে মেয়েলী পরিচিত কন্ঠের আওয়াজ। - কি! এইবার ঠিক আছে তো ? আবদুল্লাহ আশ্চর্য হয়ে এদিক ওদিক তাকালো বুঝলোনা কাকে বলল ! বোরকাবৃতা মেয়েটির দিকে তাকিয়ে বললো, --আমাকে কিছু বললেন ? - জি আপনাকেই । -- ঠিক বুঝলাম না। - আমি ইশিতা । - মানে ! - হ্যা ঠিকই শুনেছেন আমি ইশিতা , আপনার জন্য বোরখা পড়েছি। আপনার জন্য সবকিছুই পারবো , আপনাকে তো আমি হারামের দিকে ডাকছিনা , হালাল সম্পর্কের মাধ্যমে দুজনে এক হতে চাচ্ছি । আমি শুধুই আপনাকে চাই । আবদুল্লাহ উঠে পড়ল। নিচের দিতে তাকিয়ে যেতে যেতে বললোঃ আপনার বাসার ঠিকানা পাঠিয়ে দিয়েন। ইশিতা খুশিতে কেঁদে ফেললো যেন! আবদুল্লাহ বাসায় এসে তার মা বাবাকে বুঝিয়ে মোটামুটি রাজি করিয়ে ফেললো।আবদুল্লাহর বাবা প্রথমে একটু আপত্তি করে আবদুল্লাহর আম্মুকে বলেছিলেন,পড়াশুনাই তো শেষ হয়নি তোমার ছেলের, বিয়ে করে বউকে খাওয়াবি কী? আবদুল্লাহর আম্মুঃ দেখো! তোমার যদি আরেকটা ছেলে বা মেয়ে থাকতো তাকে কি তুমি খাওয়াতে না! পড়াতেনা! আর একটা মেয়ের কি খুব বেশী চাহিদা থাকে! আল্লাহ্ পাক আমাদের যথেষ্ট সম্পদ দিয়েছেন। প্লিজ তুমি রাজি হয়ে প্রস্তাব পাঠাও ! বাবাঃআচ্ছা ঠিক আছে! আমরা না হয় রাজি হলাম। মেয়ের পরিবার কি রাজি হবে একটা বেকার ছেলের কাছে মেয়ে দিতে? আবদুল্লাহর আম্মুঃ সে পরে দেখা যাবে । আগে প্রস্তাব দিয়েই দেখোনা! বাবাঃ ঠিক আছে, আগামীকাল তুমি আর তাহিরা মামনিকে নিয়ে যাও। ...মাগরিবের পর ইশিতাদের বাসায় বসে আছে আবদুল্লাহর মা ও তার ছোট বোন তাহিরা। ইশিতার সম্পর্কে আগেই শুনেছে তারা।আজ দেখে পছন্দ হয়েছে তাদের।কিন্তু ইশিতার আম্মুকে রাজি হলেও ইশিতার আব্বু রাজি হলেন না। তার এক কথা, পড়াশোনা কমপ্লিট হওয়ার আগে মেয়ের বিয়ে দিবেন না। মেয়ে আগে অনার্স কমপ্লিট করুক তারপর ভেবে দেখবেন।আর তাছাড়া ছেলেও বেকার। এখনো পড়াশুনাই কমপ্লিট হয়নি। কি আর করা! ব্যার্থ মনোরথ হয়ে আবদুল্লাহর মা ও তাহিরা চলে এলো বাসায়। আবদুল্লাহ অধীর আগ্রহে প্রতীক্ষায় করছিলো, আম্মু কি সংবাদ নিয়ে আসে। কিন্তু যখন শুনলো ইশিতার বাবা কিছুতেই বিয়ে দিবেন না তখন আবদুল্লাহ কিছু না বলে চুপচাপ নিজের রুমে চলে গেলো। মা বুঝলেন ছেলের মন খারাপ। তাই আর কিছু বললেন না। গভীর রাত।তিনটা বাজে প্রায়। আবদুল্লাহর আম্মু কারিমা বেগমের ঘুম ভেঙে গেলো হঠাৎ। কে যেন চাপা স্বরে কান্না করছে।আবদুল্লাহর আব্বুকে ডেকে বললেনঃ এ্যই শুনছো! দেখোতো আবদুল্লাহর রুম থেকে কান্নার আওয়াজ আসছে মনে হচ্ছে। দেখো তো কি হয়েছে ছেলেটার! আবদুল্লাহর আব্বু আম্মু উভয়েই তারাতারি এসে আবদুল্লাহর রুমের দরজার সামনে এসে দাড়ালেন। দরজা হালকা ভেজানো ছিলো।দরজা ঠেলে তারা অবাক বিস্ময়ে ছেলের দিকে তাকিয়ে রইলেন। দেখলেন, আবদুল্লাহ জায়নামাজে বসে দুহাত তুলে কেঁদে কেঁদে মুনাজাত করছে।আবদুল্লাহর আব্বু আম্মুর কানে এবার স্পষ্ট শোনা গেলো আবদুল্লাহর চাপাকান্না মিশ্রিত আওয়াজ.... "হে আল্লাহ্! তুমি যা করো বান্দা বান্দীর ভালোর জন্যই করো।যদি ইশিতাকে আমার ভাগ্যে জীবনসঙ্গী হিসেবে লিখে থাকো তাহলে আমাদের বিয়ের মাঝে সকল বাঁধা বিপত্তিকে দূর করে দাও।আর নয়তো আমার মন থেকে তাকে মুছে দাও। আমি তাকে হালাল ভাবেই চিরজীবনের জন্য পেতে চাই। আমিও যে মনে মনে ইশিতাকে ভালোবেসে ফেলেছি! আমি যে তার বিরহ সইতে পারছি না.....আমীন!! আবদুল্লাহর কান্নাজড়ানো মুনাজাত শুনে আবদুল্লাহর মা স্বশব্দে কেঁদে ফেললেন।কান্নার আওয়াজ পেয়ে আবদুল্লাহ চমকে তাকিয়ে দেখলো কখন যে বাবা মা তার পেছনে এসে দাড়িয়েছে টেরই পাইনি।আবদুল্লাহ উঠে এবার মা বাবাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলো।ছেলের কান্না দেখে বাবার চোখেও অশ্রু বাধ মানলোনা। পিঠে মাথায় হাত বুলিয়ে শান্তনা দিলেন। "কাঁদিসনে বাপ আমার।তোর ভাগ্যে থাকলে নিশ্চয়ই আল্লাহ্ মিলিয়ে দিবেন।" এদিকে ইশিতার বাবা না করে দেয়ার পর থেকে ইশিতা নাওয়া খাওয়া একদম ছেড়ে দিলো। ভার্সিটিতে যায়না। সারাদিন রুমে শুয়ে দরজা বন্ধ করে শুধু কান্নাকাটি করতেছে। ইশিতার বাবা মেয়ের অবস্থা দেখে একটু নরম হলেন।সকালে অফিসে যাওয়ার আগে ইশিতার রুমে গেলেন। বাবাঃ মামনি! তুমি নাকি রাতে কিছু খাওনি! এসো আব্বুর সাথে খাবে এসো! ইশিতাঃ(অভিমানে আরেক দিকে তাকিয়ে) আমি না খেয়ে থাকলে তোমাদের কী! খাবোনা আমি।না খেয়ে মরে যাবো! বাবাঃ (ইশিতার মাথায় হাত বুলিয়ে) পাগলী মামনি আমার! এতো অভিমান করলে চলে! না খেয়ে এই দুদিনেই কি অবস্থা হয়েছে তোর! এই বুড়ো ছেলেকে আর কতো কষ্ট দিতে চাস! আয় মা! তোর পছন্দের ছেলের সাথেই তোকে বিয়ে দিবো।" ইশিতা খুশিতে আব্বুর গলা জড়িয়ে ধরে বললোঃ সত্যি বলছো আব্বু! আমার বিশ্বাস হচ্ছেনা! বাবাঃ হ্যা রে মা সত্যি বলছি! তুই যেভাবে নাওয়া খাওয়া ছেড়ে দিয়েছিস! তাতে তোর কিছু একটা হয়ে গেলে আমি কাকে নিয়ে বাঁচবো? কাকে আম্মিজান বলে ডাকবো!...বলতে বলতে কান্নায় গলা ধরে এলো বাবার। ইশিতাঃ স্যরি আব্বু! তোমাদের অনেক কষ্ট দিয়েছি। মাফ করে দাও।চলো খেতে যাই খুব খিদে পেয়েছে।... অবশেষে পারিবারিকভাবেই দুজনের বিয়ে হয়ে গেলো। তবে আবদুল্লাহ চাকরি পাবার আগ পর্যন্ত দুজনে দুজনের বাসায় থাকবে।এই সিদ্ধান্ত হলো। একদিন ইশিতা রিকশায় ভার্সিটিতে আসছিলো।আবদুল্লাহ হেটে আসছিলো।কাছে এসে রিকশা থামালো ইশিতা। নিকাবের ফাক দিয়ে তাকালো তার হবু বরের দিকে। মুচকি হেসে বললোঃ এই যে হুজুর ওঠেন রিকশায়। রিকশার পাশে জায়গা করে দিলো ইশিতা। আবদুল্লাহ উঠে বসল পাশে। ইশিতা স্বামীর কানের কাছে মুখ নিয়ে, --কি হুজুর সাহেব এখন লজ্জা লাগেনা মেয়ের সাথে বসতে ! আবদুল্লাহঃ লজ্জা লাগছে কিন্তু ভালও লাগছে,আর অন্তরে প্রশান্তি লাগছে কজ ইউ আর মাই ওয়াইফ! ইশিতা স্বামীর গালে একটা চিমটি দিয়ে বলল, ইশশশ ঢং ...!! আবদুল্লাহ ক্লাস শেষে সিঁড়ি দিয়ে নামছে। দেখলো ইশিতা তাদেরই ডিপার্টমেন্টের স্টুডেন্ট সাকিব এর সাথে কি নিয়ে যেন কথা বলছে আর একটু হাসাহাসি করছে। আবদুল্লাহ আসতেই সাকিব চলে গেল।সবাই জানে ইশিতা আবদুল্লাহর ওয়াইফ। আবদুল্লাহঃ ওর সাথে কি কথা তোমার? ইশিতাঃ কি কথা মানে , তেমন কিছুনা ,এমনি কথা বললাম। --শোনো ইশিতা একটা কথা বলে রাখি,আগে কি করেছো জানিনা , জানতেও চাইনা, এখন তুমি আমার স্ত্রী । আর মাহরাম ছাড়া পরপুরুষের সাথে অপ্রয়োজনীয় কথা বলা শরিয়তে নিষেধ। এমন যেন আর না হয়। ইশিতাঃ তুমি তো দেখছি আমার স্বাধীনতার উপর হামলা করছো? আবদুল্লাহঃ কি ! পরপুরষের সাথে হেসে হেসে কথা বলছো সেটা আমি স্বামী হিসেবে বারন করলে স্বাধীনতা কাড়া হয় !! ইশিতাঃ( রেগে )হ্যা হয়! আবদুল্লাহঃ ভেবেছিলাম তুমি নিজেকে বদলিয়ে নিয়েছো । আমি মনে হয় বড্ড বড় ভুল করেছি তোমাকে বিয়ে করে। এমন ভুল যা আর শুধরানোর উপায় নেই ,বোরকা পড়লেই কাউকে পর্দানশীল ভাবাটা ভুল, যদি না সে পরিপূর্ণভাবে ইসলামের হুকুম আহকাম মেনে চলার চেষ্টা করে।"বলেই আবদুল্লাহ চলে গেলো ক্লাসে। ইশিতা ঠায় দাড়িয়ে রইলো। ভাবতে লাগলো,তার স্বামী তো ঠিকই বলেছে।সেদিন আর কথা হলোনা। কিছুদিন পর। ক্লাসে প্রজেক্ট এর জন্য গ্রুপ বানানো হচ্ছে, স্যার কয়েকজনকে গ্রুপ লিডার ঠিক করে দিলেন। তারা তাদের ইচ্ছামতো মেম্বার নিচ্ছে । আবদুল্লাহ একটা গ্রুপের লিডার । সে প্রথমেই নাম নিলো ইশিতার । ইশিতাঃ (ভেংচি কেটে), স্যার আমি হুজুরের গ্রুপে থাকবোনা । ক্লাসের সবাই হাসি। একটু অবাকও হলো সবাই। স্যারঃ বিয়ে হতে না হতেই ঝগড়া! কিছু করার নেই তোমাকে আবদুল্লাহর গ্রুপেই যেতে হবে । প্রজেক্ট এর কাজ শুরু হয়েছে। ইশিতাঃ (আবদুল্লাহকে উদ্দেশ্য করে) ঢং দেখে বাচিনা! আমাকে গ্রুপে নিতে আসছে । বুঝি সব বুঝি ,আমাকে পাহাড়া দেবার ধান্দা সব। আবদুল্লাহঃ দায়িত্ব যখন কারো নিয়েছি , তখন তাকে দেখেও তো রাখতে হবে । অবাধ্য কে কিভাবে বাধ্য করতে হয় আমার জানা আছে বুঝছো? ইশিতাঃ হয়েছে হয়েছে ,আমিও দেখে নিবো কয়দিন এই পাহাড়াদারি করতে পারো। আবদুল্লাহ ইশিতার দিকে তাকিয়ে ছন্দাকারে বললো, "করে যাব তোমার পাহাড়াদারি আমরন, হারাতে দেবোনা তোমায় কভু কোনদিন। " ইশিতাঃ( ভেংচি ) যোহরের আযান দিয়ে দিলো। ইশিতা- কই যাও? আবদুল্লাহঃ নামাজে। তুমিও প্রেয়ার রুমে গিয়ে নামাজ পড়ে নাও। ইশিতা- পরে পরবো । আবদুল্লাহঃ এইসব চলবেনা , এখনি পড়তে যাও। ইশিতা - ক্ষুধা লাগছে । আবদুল্লাহঃআগে নামাজ পড়ে নাও , আজকে তোমায় খাওয়াবো, ঘুরতে নিয়ে যাবো । ইশিতা - অই এত টাকা পাইছো কোথায় ? আবদুল্লাহঃ টিউশনির টাকা। নামায শেষ করে আবদুল্লাহ তার বন্ধুর কাছ থেকে কিছুক্ষণের জন্য মোটরসাইকেলটা নিয়ে আসলো। আবদুল্লাহঃ এ্যই উঠো । ইশিতা- কি হুজুর পিছনে মাইয়া নিয়া ঘুরার শখ হইছে ! আবদুল্লাহঃ না বউ নিয়া ঘুরার শখ হইছে । ইশিতা - ঐ আস্তে চালাও , ভয় লাগে । আবদুল্লাহঃ আমি তো সাথে আছি এত ভয় পেওনা,আমায় শক্ত করে ধরে রাখো । ইশিতা- ছি ছি হুজুর সাহেব লজ্জা লাগেনা বুঝি! আবদুল্লাহঃ হ লাগে একটু একটু! ইশিতাঃ আমাকে ক্ষমা করে দাও। সেইদিন তোমার সাথে শক্ত করে কথা বলে ফেলছিলাম ।আমি আসলে ইসলামের ব্যাপারে এত বুঝিনা , তুমি আমাকে একটু বুঝিয়ে নিও ধীরে ধীরে । আবদুল্লাহঃ আরে হইছে জানি তো , তোমারে সাইজ করার দায়িত্ব আমার! ইশিতা - ওই ভাল হবেনা কিন্তু ! কথা বলতে বলতে হঠাৎ বেখেয়ালে এক্সিডেন্ট......! ....................................


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ #হুজুর হুজুরনী (3য় পর্ব)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now