বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

♥হুজুর হুজুরনী ২য় পর্ব

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ★ রোদেলা রিদা ‎★ (০ পয়েন্ট)

X ইশিতাঃ এই হুজুর ছেলেটা আমার মাথা নষ্ট করে ফেলেছে। মিথিলাঃ কি হইছে রে তোর ,আমি বুঝিনা তোর মত একটা স্মার্ট মেয়ে কিভাবে এই হুজুরের জন্য এত পাগল হইছস! ইশিতাঃ পাগল হইছি কে বলছে ! অই হুজুরটায় আমার মত সুন্দরি মেয়েকে পাত্তা দেয়না ! ওর এত দেমাগ কিসের ! ওকে শায়েস্তা করার জন্য লোক পাঠাইছি , এখনি ওরা আসতাছে। সায়েম আসতেছে । ইশিতা দৌড়ে গিয়ে, - কিরে সায়েম দিছিস তো হুজুরটারে ভাল মতন। সায়েমঃ তোদের মত মেয়েদের চটকানা দিতে হয়। নিজেরা তো খারাপই সকল ছেলেকে নাকে তেল দিয়ে ঘুরাস , যারা ভাল আছে, ভাল থাকতে চায় , তাদেরও জ্বালা দিস। আজ আমি তোদের মত মেয়েদের বুঝতে পেরেছি। ঐ হুজুর ভাই আজ আমার চোখ খুলে দিয়েছে। আজ থেকে পুরুষের মতন চলবো, কুকুরের মতন মেয়েদের পিছনে ঘুরবোনা ! ইশিতা মনে হলো শকড খেলো।... ক্লাসে বসে আছে আবদুল্লাহ ! ইশিতা সবাইকে ইশারা করলো ক্লাস থেকে কিছুক্ষণের জন্য বের হয়ে যেতে ! সবাই বের হয়ে গেলো ! ক্লাসরুমে শুধু ইশিতা আর আবদুল্লাহ। আবদুল্লাহ মাথা নিচু করে বসে আছে । ইশিতা আজ টি শার্ট , জিন্স পরে এসেছে। বাধা চুল ছেড়ে দিয়েছে সে। ইশিতাঃ এ্যই হুজুর আমার দিকে তাকাও ! আবদুল্লাহঃ জাহান্নামের দিকে তাকানোর সাহস আমার নেই ! ইশিতাঃ কি বললে? আমি জাহান্নাম ! এই হুজুর ,জানো এখন আমি এমন কিছু করতে পারি যার জন্য তুমি কোথাও আর মুখ দেখাতে পারবেনা !জেলেও যেতে হতে পারে নারী নির্যাতন কেসে ! আবদুল্লাহঃ ইউসুফ (আঃ) জুলেখাকে ভয় পায়নি , আশা ছাড়েনি আল্লাহর উপর থেকে। আর আল্লাহই তার জন্য সহজ করে দিয়েছেন । ইশিতার মাথা আরো গরম হয়ে গেছে । সে খপ করে আবদুল্লাহর ডানহাতটা ধরে হাতে হাত রাখলো ! আবদুল্লাহ এতো অবাক হলো যেন তার মৃত্যু সে দেখে ফেলেছে ! তার সমস্থ শরীর যেন প্রকম্পিত হলো ভয়ে! সে এক টানে হাতটা সরিয়ে মাথা নিচু করলে বসে রইলো। ইশিতার কাছে ব্যাপারটা খারাপ লাগলো।অনুশোচনাবোধ করলো। বললঃ এই হুজুর কি হইছে , স্যরি! খুব স্যরি আমি আসলে রাগের মাথায় এমন করে ফেলেছি । আবদুল্লাহ এই প্রথম ইশিতার দিকে তাকালো ! ইশিতা দেখলো নূরের আলোয় উজ্জ্বল এক অপরূপ সুন্দর নূরের আলোয় ভরপুর এক চেহারা , গাল বেয়ে টলটলিয়ে পানি বেয়ে পড়ছে! আবদুল্লাহঃ দেখেন ম্যাডাম , এই জীবনটা খুবই সংক্ষিপ্ত । এটা ফূর্তির জায়গা না । নিজের ইচ্ছা মত চলার জায়গা না। ভোগ করার জায়গা না। নিজের খায়েশ পূরন করার জায়গা না। আর ভালোবাসা! হ্যা আমার মনেও ভালবাসা আছে , অনেক ভালবাসা , নিখাদ ভালবাসা, পবিত্র ভালবাসা , যা শুধু একজনেরই অধিকার , যা এতটা দিন জমিয়ে রেখেছি। এতটুকু খিয়ানত করিনি। আজ আপনি আমার সেই আমানতে আঁচড় দিলেন। আমার পবিত্র সুন্দর স্বপ্নে প্রথম কাটার আঁচড়টা দিলেন ! আমার হাত ধরার অধিকার একমাত্র আমার স্ত্রীর। আমার হাত আমার ভবিষ্যৎ স্ত্রীর আমানত। আপনি যে অন্যায় করলেন তা আমি কখনো ভুলবোনা। আপনাকে মাফ করবোনা বলেই ধীরপায়ে বাসায় চলে গেল আবদুল্লাহ ! এতক্ষন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সব শুনছিলো ইশিতা ! আবদুল্লাহর ঈমান , পবিত্র স্বপ্ন নষ্ট করার অপরাধ তাকে যেন নিস্তব্ধ নির্বাক করে দিল। আবদুল্লাহ ঐ ঘটনার পর আর ক্লাসে আসছেনা অনেকদিন হলো। সবাই ইশিতাকে ঐ ঘটনার জন্য দায়ি করছে। ইশিতাও নিজেকে খুব অপরাধী মনে করছে । ইশিতা মনমরা হয়ে গেছে। সে নিজেকে বড় পাপী মনে করছে। আবদুল্লাহকে ফোন দিয়ে স্যরি বলবে সেই সাহস ও তার হচ্ছে না। এক্সাম চলে আসল ! ইশিতা এখন আগের চেয়ে নিজেকে একটু পরিবর্তন করেছে। সে হিজাব পরিধান করছে, তবে ডিজিটাল হিজাব ! যেহেতু তার প্রকৃত পর্দার ব্যাপারে আইডিয়া নেই ।এখন সে নামাজও পড়ছে মোটামুটি । আজ প্রথম পরীক্ষা। ইশিতা বসে আছে মন খারাপ করে। খুব দুয়া করছে আবদুল্লাহ যাতে পরীক্ষা দিতে আসে । ইতোমধ্যে পরীক্ষার খাতা দিয়ে দিলো। প্রশ্নও দিয়ে দিলো । ইশিতা তাকিয়ে আছে দরজার দিকে...।। আবদুল্লাহ কি আসবেইনা ! ইশিতার ভিতর থেকে যেন তাকে তিরস্কার করে বলছে, তোর জন্য একটা ছেলের লাইফ নষ্ট হয়ে গেল । ইশিতার দু চোখ দিয়ে দু ফোটা অশ্রুজল বেয়ে বেঞ্চের উপর পড়লো। হঠাৎ কারো আওয়াজে তার চিন্তায় বাঁধা পড়লো। "মে আই কাম ইন স্যার!" বলে স্যারের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে খাতা ও প্রশ্ন নিয়ে লিখতে শুরু করলো। ইশিতা মাথা উচু করে দেখলো আবদুল্লাহ । একটা প্রশান্তির পরশ ছুয়ে গেলো ইশিতার হৃদয়ে । মুচকি হেসে লেখা শুরু করলো। নতুন সেমিস্টারের ক্লাস হচ্ছে। আবদুল্লাহ ক্লাস করছে। ইশিতা ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকে আবদুল্লাহর দিকে তাকায়। আবদুল্লাহ আরো বেশি চোখের হেফাজত করে চলছে । আবদুল্লাহর দিকে একবার তাকালে যেন চোখ ফিরাতেই পারেনা ইশিতা। কি নূরাণী চেহারা! ইশিতা জল্পনা কল্পনায় শুধুই আবদুল্লাহ । কিন্তু আবদুল্লাহ! সে তো ইশিতাকে পছন্দ করেনা। হয়তো ঘৃনাই করছে সেই দিনের ঘটনার পর থেকে । ইশিতা তবুও তার আশেপাশে ঘুরাঘুরি করে । শুনিয়ে শুনিয়ে বলে , ভাল ছেলে পেলে বিয়ে করবো! আবদুল্লাহ পুরাই ইগনোর করে। ইশিতা কাছে আছে টের পেলে চলে যায়। ইশিতার মন খারাপ হয়ে যায় ! তাকে ইগনোর করাটা ইশিতাকে অস্থির করে তুলছে ! একদিন আবদুল্লাহ লাইব্রেরীতে বসে একটা ইসলামিক ম্যাগাজিন পড়ছে । ইশিতা এসে সোজাসুজি বসল । ইশিতা- আমাকে কিছু ইসলামি বই এনে দিতে পারবেন? আবদুল্লাহ মাথা নিচু করে --আমি পারবোনা, আমাকে দয়া করে আর বিরক্ত করবেন না। ইশিতার চোখে পানি চলে আসলো। ইশিতা উঠে দাড়ালো। চোখের পানি মুছতে মুছতে বললো- আপনাকে ছাড়া আমি বাঁচবোনা। বলেই চলে গেল। আবদুল্লাহ না শোনার ভান করে পড়ায় মনোযোগ দিলো। এসব আবেগকে সে প্রশ্রয় দিতে চায়না। ক্লাস শুরু হয়ে গেছে ইশিতা আসছেনা অনেকদিন হয়ে গেছে। ইশিতা আর ক্লাসে আসেনা। ক্লাসের সবাই আবদুল্লাহকে ধরলো ! ইমরানঃ আবদুল্লাহ ভাই, মেয়েটা তার ভুল বুঝতে পেরেছে। তোর উপর করা অপরাধের কারনে সে মানসিক ভাবে খুবই অসুস্থ হয়ে পড়েছে , শুনেছি একসাথে অনেক ঘুমের ঔষধ খেয়েছে সেইদিন। আবদুল্লাহঃবলিস কি! এটা করা তার উচিত হয়নাই আমার কি করার আছে বল?আমি তো তাকে কিছুই করতে বলিনাই । না আমি তাকে কিছু করেছি। সে নিজে থেকেই সব করলো ! ইমরানঃ সে তোকে বিয়ে করতে চায় । আবদুল্লাহঃ এটা সাময়িক আবেগ। আমি চাই না । বলেই আবদুল্লাহ চলে গেলে । দুই সপ্তাহ পর ইশিতা ক্লাসে আসলো , চিকনা রোগা হয়ে গেছে ।চোখ দুটো কোটরে ঢুকে গেছে। আবদুল্লাহ ক্লাসে ঢুকল। সবাই ইশিতাকে ঘিরে বসে আছে । সবাই তাকে বুঝাচ্ছে। আবদুল্লাহকে দেখতে পেয়েই ইশিতা সহ অন্যান্য মেয়েরা মাথা নিচু করে বসে রইল । আবদুল্লাহ ধীর পায়ে ইশিতার সামনে এসে দাড়ালো। দৃষ্টি নিচের দিকে রেখেই বললোঃ দেখেন আপনি এগুলা একদম ই ঠিক করছেন না। নিজেকে কষ্ট দেয়া গুনাহের কাজ । ইশিতাঃ তোমার জন্যই তো কষ্ট দিচ্ছি নিজেকে । আবদুল্লাহঃ দেখেন এগুলো গুনাহের কাজ । আর আমি আপনাকে অনেক আগেই মাফ করে দিয়েছি । আর এসব করবেন না। প্লিজ! ইশিতাঃ তাহলে আমাকে বিয়ে করবেন? আবদুল্


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২৯৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ♥হুজুর হুজুরনী ২য় পর্ব

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now