বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
"হঠাৎ এসেছিলে তুমি"
---
ছেলেটির সাথে মেয়েটির পরিচয়
ফেসবুকেই।
দুজনেই একই জেলার। গ্রামেই বেড়ে
উঠেছে দুজনেই। শুধু একই জেলার না
পাশাপাশি ইউনিয়নেরও!
সেই সূত্রেই কথা হত তাদের। ফেসবুকেই
দেখে তারা একে অপরকে। খুব বেশি
চ্যাট হতো। খুব কেয়ারিং ছিল একে
অপরের প্রতি। সবকিছুই শেয়ার করতো
একে অপরের কাছে। খুব ভালো বন্ধুত্ব
হয়ে যায় দুজনের মধ্যে।
মেয়েটি গ্রাম থেকে বাইরে গেলেও
নিজের শহরেই ছিল। সেখান থেকে
পড়ালেখা করছিল। যথেষ্ট পরিপাটী,
নিজেকে ঘুচিয়ে রাখা, পড়ালেখার
প্রতি যথেষ্ট মনোযোগী, সবকিছু
মিলিয়ে বাবা-মায়ের বাধ্য এবং
লক্ষি মেয়ে। বাবার রাজকুমারী সে।
আর ছেলেটিও পাশের শহরেই থাকত
পড়ালেখার সুবাধে। কিন্তু বড্ড
আগোছালো, নিজের প্রতি উদাসীন।
কখনো নিজের খেয়াল রাখতো না
সে। এলাকায় থাকাকালীন যথেষ্ট
মেধাবী থাকলেও শহরে এসে খুব
রকমের উদাসীন হয়ে যায় সে। নিজের
মেধাবী তকমাতে ঝং ধরে যায়।
কোনরকম পাস করেই যাওয়াই যেন তার
লক্ষ্য!!
কিন্তু যখন থেকে মেয়েটির সাথে
তার বন্ধুত্ব হয়। তখন থেকেই পাল্টে যায়
সে।
পরিচয়ের আগের তিন সেমিস্টার
যেখানে খুব রকমের খারাপ। সেখানে
পরের তিন সেমিস্টার আশাতীত
ভালো! তার বাবা যিনি প্রায়
ছেলেকে নিয়ে আশা ছেড়েই
দিয়েছিলেন তিনি আবার গর্বের
সাথে নিজের ছেলের সুনাম করতে
লাগলো।
তার একমাত্র কারণ মেয়েটি, তার
কেয়ারিং। ছেলেটির খুব বেশি
খেয়াল রাখতো মেয়েটি।
পড়ালেখার তাগিদ, পরিপাটি হয়ে
চলা, নিজেকে ঘুচিয়ে রাখা। সব
মিলিয়ে ছেলেটির কাছে মনেহতে
লাগলো সে যেন মেয়েটির অলিখিত
সম্পত্তি। আর মেয়েটি তাকে
যেভাবে চালাবে সে সেভাবেই
চলবে। খারাপ লাগতো না ছেলেটির।
কারণ পরিচয়ের এই দুই বছরে সে
মেয়েটিকে প্রচন্ড রকমের
ভালোবেসে ফেলে ছেলেটি।
হ্যাঁ অনেকেই বলে ফেসবুকে প্রেম
পড়াকে বিশ্বাস করা যায় না। কারণ
শুধুমাত্র ফেসবুক পরিচয়ে একটা মানুষের
স্বভাব-চরিত্র, চালচলন, কার কি পছন্দ?
এবং মানষিক দিক বুঝা যায় না। কিন্তু
ছেলেটি সবদিক জেনেই পছন্দ করে
মেয়েটিকে।
অনেক কথা হতো তাদের। কখনো
মেসেজিং এর মাধ্যমে আবার কখনো
ভিডিও কল এর সুবাধে। মেয়েটির উপর
খুব বেশি দুর্বল হয়ে পড়ে ছেলেটি।
কিন্তু কখনো প্রকাশ করেনি। কারণ আর
আট-দশটা মানুষের মতোই ও চিন্তা
করতো "যদি বন্ধুত্বটাই নষ্ট হয়ে যায়"!
তাই ও ভাবত 'এই আছি বেশ, কেন শুধু-শুধু
বন্ধুত্বটা নষ্ট করতাম'। তাই আর এগুতো না
সে। তবে মনে চেপে ধরে, একদিন না
একদিন বলবেই তার মনের কথা। তবে
ফেসবুকে নয়, সরাসরিই প্রপোজ করবে
সে।
আসে সে মহেন্দ্রক্ষন। একদিন রাতে
চ্যাট করার সময় মেয়েটি নিজে
থেকেই দেখা করার ইচ্ছে প্রকাশ করে।
ছেলেটিও কিছু না ভেবেই রাজি
হয়ে যায়। কেননা সে নিজেই দেখা
করার অপেক্ষায় ছিল, কিন্তু বাহানা
বানাতে পারছিল না।
তারিখ ঠিক হয় দেখা করার। নির্দিষ্ট
স্থানও। খুব উৎফুল্ল ছিল ছেলেটি। কারণ
মেয়েটি বলেছিল তাকে সারপ্রাইজ
দিবে। সেও বলে রেখেছিল
সারপ্রাইজ দিবে।
দেখার করার আগের রাতে ঘুম হয় না
ছেলেটির। প্রস্তুতি স্বরূপ সুনীলের কিছু
কবিতার অংশ মুখস্ত করে নেয় সে। যতই
হোক প্রেয়সীকে প্রপোজ করতে
যাচ্ছে সে!
অবশেষে আসে সেই দিন। সকাল
থেকেই তৈরী হয়ে নিচ্ছিল
ছেলেটি। মেয়েটির কথা অনুযায়ী
পাঞ্জাবী আর জিন্স পড়ে নেয়।
তারপর খুব কড়া করে পারফিউম ব্যবহার
করে। আর যাই হোক, টানা আড়াই ঘন্টা
জার্নি করতে হবে তাকে। তারপর তার
মায়ের কাছে ফোন করে বলে যে খুব
জরুরী একটা কাজে যাচ্ছে, যাতে
দোয়া করে। সকাল আটটা করেই বাসা
থেকে বের হয়ে যায় সে। যদিও দেখা
করার কথা আছে বেলা ১২টায়। তারপরও
হাতে সময় নিয়ে বের হয় সে।
ওই শহরে পৌঁছেই একগুচ্ছ নীল-গোলাপ
কিনে নেয় সে। কারণ মেয়েটির পছন্দ
নীল গোলাপ! যদিও অনেক
খোঁজাখুঁজির পর পেয়েছিল। তারপরও
চড়া দাম দিয়ে কিনতে হয়েছিল। সে
দাম যা-ই নিক প্রেয়সীকে দিবে সে।
যত দামই হোক তার কাছে এখন সেটা
কিছুই না।
১২টার কিছু আগেই নির্ধারিত স্থান
অর্থাৎ পার্কে পৌঁছে যায় সে। পছন্দ
মত একটা বেঞ্চে বসে পড়ে। আর
মনেমনে মুখস্ত করে আসা সুনীলের
লেখা প্র্যাক্টিস করতে থাকে।
কিছুক্ষন পরেই আসতে থাকে তার
প্রেয়সী। দেখে তার চিনতে একটুও কষ্ট
হয় না। তার কাছে মনেহয় যেন কতো যুগ
যুগ ধরে চেনা এই মেয়েটাকে। হাতের
গোলাপগুচ্ছ নিজের পিছনে লুকায় সে।
হাত দিয়ে ইশারা করতেই মেয়েটির
চোখে পড়ে ছেলেটি। তারপর এগিয়ে
আসে। ছেলেটি ভেবেছিল মেয়েটি
আসার সাথে সাথে প্রপোজ করবে,
কিন্তু পরে ভাবে যে কিছুক্ষন কথা
বলার পরই নাহয়।
কিছুক্ষন কথা বলার পরই মেয়েটি বলে
"তোমাকে না সারপ্রাইজ দিব
বলেছিলাম"... এইটা ধরো। এই বলে
একটা সুন্দর কাগজে মোড়ানো কিছু
একটা দেয়। তারপর খুলে দেখতে বলে।
কাগজটা খুলতেই ছেলেটির চক্ষু
চড়কগাছ! একটা বিয়ের কার্ড! হ্যাঁ,
মেয়েটির বিয়ের কার্ড ছিল ওইটা।
কার্ডটা খুলতেই মেয়েটি বলে উঠে
"ছয়মাসের রিলেশন আমাদের, খুব
ভালো আন্ডারস্ট্যান্ডিং। বাসা
থেকেও বিয়ের কথা চলছিল, তাই
বাসায় জানালাম। ওর সম্পর্কে জানার
পর আর বাসায় না করেনি। বিয়ে
গ্রামের বাড়িতেই হবে। তুমি কিন্তু
আসতেই হবে। ঠিকানা লিখা আছে।
আর এফবিতেও মেসেজ করে দিব।
সামনের মাসের ১০ তারিখ"।
একনাগাড়ে কথাগুলো বলে যায়
মেয়েটি। কিন্তু ছেলেটি সেদিকে
কতটুকু মনোযোগ দিল বলা যায় না। তার
চোখ টলমল করে উঠে। কোনরকম চোখ
ঠিক করে মেয়েটির দিকে তাকিয়ে
থাকে সে, তারপর হাসিমাখা মুখ করে
বলে "তোমার বয়ফ্রেন্ড আছে? আগে
বলোনি কেন?" "তুমি আমাকে একবারও
জিজ্ঞেস করেছিলে নাকি"?
মেয়েটি সরলভাবে বলে। তারপর
আবার ছেলেটি কি সারপ্রাইজ দিবে
সেটা জিজ্ঞেস করে সে। কিন্তু
ছেলেটি কথা কাটিয়ে নেয়।
কিছুক্ষন পার্কে গল্প করে দুজন। কিন্তু
ছেলেটি স্বাভাবিক ভাবে কথা
বলতে কষ্ট হয়। দুজনে উঠে একটা
রেস্টুরেন্টে যায়, দুপুরের খাওয়ার
সেখানেই সেরে নেয়। যদিও
ছেলেটির খাওয়াতে ইচ্ছে ছিল না
কিন্তু মেয়েটির সামনে স্বাভাবিক
থাকার জন্যই কিছু মুখে নেয় সে। তারপর
সেখান থেকে বিদায় নেওয়ার সময়
চলে আসে। মেয়েটিকে হোস্টেল
পর্যন্ত এগিয়ে দিতে যায় ছেলেটি।
রিক্সায় বসে মেয়েটি কথার ফুলঝুড়ি
ফোটালেও ছেলেটি তেমন একটা
কথাই বলেনি। তারপর বিদায় নিয়ে
চলে আসে।
...
সেদিন ছেলেটির মেয়েটিকে তার
মনে কথা আর বলা হয়ে উঠে না, নীল-
গোলাপ গুলোও সেখানে পার্কের
বেঞ্চেই থেকে যায়। রাতে যখন
ছেলেটি বাসায় আসে তখন সে
বিধ্বস্ত। সব হারিয়ে একা হয়ে গেছে
মনে হয় যেন। তার মনের মধ্যে ঘুরতে
থাকে "মাত্র ছয় মাসের রিলেশন! আর
আমিতো তাকে একবছরেরও বেশি সময়
ধরে ভালবাসি, আমি যদি ওই ছেলের
আগে তাকে আমার মনের কথা
জানাতাম তাহলে তো হয়ত সে আমারই
হতো"। এইগুলা চিন্তা করতে করতে রুমে
ঢুকে সে।
তারপর দিন ছেলেটি আর স্বাভাবিক
ভাবে রুম থেকে বের হতে পারেনি।
সে হারিয়ে ফেলেছে তার
স্বাভাবিক জ্ঞান। এখন সে আর
কাউকেই চিনে না, আবার সবাই তার
পরিচিত। হ্যাঁ, ছেলেটি এখন পাগল।
(সমাপ্ত)
...
...
যাকে ভালবাসেন তাকে জানিয়ে
দিন। নয়তো পরে হয়ত অনেক কিছুই
হারাতে পারেন।
.
--Nazmul Hasan Biplov
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now