বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

হঠাৎ দেখা

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোঃ ছহিনুর রহমান বিন মনির (০ পয়েন্ট)

X . সাল ২০২৭। সকাল ৯ টা ৩০ মিনিট। . আমি: আজ তোমার অফিস অফ তাই ভাবছি আমরা আজ মার্কেটে যাবো। ফারাবি: আজ ছুটির দিন ভাবছি সারাদিন বাসায় থাকবো। আর তুমি চাচ্ছো মার্কেটে যেতে? আমি: হুম আসলে ফাইজার জন্য কিছু কেনাকাটা করা লাগবে তাই যেতে চাইছি। ফারাবি: আচ্ছা ঠিক আছে বিকালে যাবো। আমি: আচ্ছা এখন খাবার টেবিলে আসো আমি খাবার দিচ্ছি। ফারাবি: আচ্ছা আসছি। . যেতে যেতে পরিচয়টা দেয়া যাক। আমি ফারিয়া। আর তিনি হলেন আমার হ্যাজবেন্ড। একটা মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে চাকরি করে। বিয়েটা পারিবারিক ভাবেই হয়েছিলো। এই বছর আমাদের বিয়ে ১০ বছর পূর্ন হবে। আমাদের ৭ বছরের একটা মেয়ে আছে। নাম ফাইজা। . ফাইজা: আম্মু আব্বু কোথায়? আমি: আব্বু ফ্রেস হয়ে আসছে। তুমি চলো এখন খেতে বসবে আসো। ফাইজা: হ্যা আম্মু চলো। . বিকাল ৪ টা... . ফারাবি: তোমার রেডি হয়ে নাও আমি একটু বাহির থেকে আসছি। আমি: আচ্ছা তাড়াতাড়ি এসো। ফারাবি: ওকে। . দরজা লক করে রুমে ঢুকতেই.. . ফাইজা: আম্মু তোমরা কোথায় যাবা? আমিও যাবো তোমাদের সাথে। আমি: হ্যা মামুনি তুমিও যাবে। চলো আমরা রেডি হই না হলে তোমার বাবা বকা দিবে। ফাইজা: আমি কিন্তু ঐখানে যেয়ে আইস ক্রিম খাবো। আমি: আচ্ছা ঠিক আছে। এখন চলো . বিকাল ৫ টা ৩০ মিনিট..... . ফারাবি: চলো আমাদের দেরি হয়ে যাচ্ছে। আমি: এইতো আসছি চলো এখন। . কেনাকাটা করতে করতে আমাদের সন্ধ্যা হয়ে গেছে। ফেরার সময় ফাইজা হঠাৎ করে বায়না করে ফেললো.. . ফাইজা: আব্বু আমি আইস ক্রিম খাবো। ফারাবি: আচ্ছা চলো মামুনি আমরা আইস ক্রিম কিনতে যাই। তুমিও(ফারিয়া) চলো। আমি: না থাক তোমরা যাও আমি এখানে দাড়িয়ে আছি। তাড়াতাড়ি আসবা। ফারাবি: আচ্ছা এখানেই থেকো কিন্তু। আমি: হুম যাও . ওরা আইস ক্রিম কিনতে চলে গেলো আমি অপেক্ষা করতে থাকি। হঠাৎ কে যেন পিছন থেকে আমার নাম ধরেই ডাকচ্ছে। পিছে ফিরতেই অবাক হয়ে গেছি . আমি: আবির তুই? আবির: হ্যা আমি। কেমন আছিস? আমি: হুম ভালো তুই? আবির: আমিও ভালো। আমি: কত বছর পর দেখা। দেশে আসলি কবে? আবির: এইতো ২ বছর হলো। তা তোর খবর কি? আমি: খারাপ না। তোর কি অবস্থা বিয়ে করছিস? আবির: হুম করছি ১ বছর হলো। এখানে কার সাথে আসছিস? আমি: এইতো হ্যাজবেন্ড আর মেয়ের সাথে। তোর বউ কই? আবির: ভিতরে মার্কেট করছে। খুব সুখে আছিস তাহলে? আমি: হুম তা আছি বটে। . এভাবে কথা বলতে বলতে ফারাবি আর ফাইজা চলে আসছে। . ফারাবি: কার সাথে কথা বলছো? আমি: ফারাবি ও আবির। আমরা একসাথে কলেজ লাইফ শেষ করছি। ভালো বন্ধু ও ছিলাম। আর আবির ও আমার হ্যাজবেন্ড ফারাবি। আবির: কেমন আছেন ভাইয়া? ফারাবি: এইতো ভাইয়া ভালো তুমি? আবির: জ্বি ভালো ভাইয়া। ফারাবি: চলো আমাদের সাথে ঘুরে আসবে। আবির: না ভাইয়া অন্য একদিন যাবো। ফারাবি: আচ্ছা বাসায় এসো তাহলে এখন আসি ভালো থেকো। আবির: জ্বি ভাইয়া আপনিও ভালো থেকেন। আর ফারিয়া আসিস আমাদের বাসায় ভাইয়াকে নিয়ে। আমি: হুম। তুইও আসিস ভাবিকে নিয়ে। . রাত ১২ টা...... . রুমে শুয়ে আছি। আবির সাথে দেখা হওয়ার পর থেকে খুব খারাপ লাগছে। শুয়ে শুয়ে আগের দিন গুলোর কথা ভাবছি। . ১২ বছর আগের কথা.... . কোনো এক সকালে কলেজ যাওয়ার পর কারো সাথে খুব জোরে একটা ধাক্কা খাই ক্লাসের সামনে। কিছু বলার আগেই . আবির: সরি সরি আসলে আমি আপনাকে দেখতে পাইনি। রিয়েলি সরি। আমি: না না ঠিক আছে। . কিছু বলতে চেয়ে ও বলতে পারিনি শুধুই তার ভদ্রতা দেখে। কারন সে ফোনের দিকে তাকিয়ে হাটছিলো তাই সামনের কিছু দেখে নি। . এর পর আমাদের দেখা হয় ক্লাস রুমে... . আবির: আপনি ইন্টারে নিউ? আমি: হুম আর আপনি? আমি: আমিও। . এর পর থেকে আমাদের মধ্যে মাঝে মাঝেই কথা হতো। তারপর আপনি থেকে তুই। তুই থেকে ভালো বন্ধু। নবীব বরন অনুষ্ঠানে আবির নিজে গান গেয়েছিলো। এর পর থেকে আমরা সব সময় একসাথে থাকতাম। এক সময় আমরা দুই জন দুইজনের প্রতি খুব দুর্বল হয়ে পড়ি। তারপর এক সময়ে প্রেম হয়ে যায় দুইজনের সহমতে। তারপর ঘুরা ঘুরি। একসাথে পথ চলা। এভাবে আমাদের কলেজ লাইফ শেষ হয়। তারপর দুজনে একসাথে একই ভার্সিটিতে ভর্তি হয়। হঠাৎ বাসায় থেকে বিয়ের চাপ আসে। তখন আবিরকে ফোন করি.... . আমি: হ্যালো আবির? আবির: হুম বল। আমি: আজ বিকাল ৫ টায় একটু দেখা করতে পারবি? আবির: আচ্ছা আসবো। আমি: ওকে বাই। আবির: হুম বাই। . বিকাল ৫ টা ৩০ মিনিট এ.... . আমি: এতক্ষন লাগে আসতে? ৩০ মিনিট লেট করছিস তুই। আবির: আচ্ছা সরি। বল কি বলবি? আমি: বাসা থেকে বিয়ের চাপ দিচ্ছে। আবির: তো কর বিয়ে। আমি: দেখ ফানি মুডে নাই সত্যি বলছি। আবির: তো কি করবো এখন? আমি তো কিছু দিন পর বিদেশে যাবো পড়াশুনার জন্য। ভাবছি পড়া শুনা শেষ করে আমরা বিয়ে করবো। তার আগে কিভাবে সম্ভব এটা? আমি: সবাইকে বলি এটা তারপর হয়ত তারা বুঝবে আমাদের কথা। আবির: সম্ভব না এই মূহুরতে আমি কাউকে এসব বলতে পারবো না। একটু বোঝার চেষ্টা কর। আমি: তাহলে আমি কি করবো বল? আবির: বিয়ে করে ফেল। আমি: তুই এসব কি বলছিস? আবির: যা বলছি ভেবে বলছি। এতে তোর ও ভালো আমার ও। আমি: তোর কি মাথা ঠিক আছে? এত দিনের সম্পর্ক তুই একদিনে ভেঙ্গে ফেলবি? আবির: কিছু করার নাই রে। আমি: একটু ভেবে দেখ ব্যাপারটা প্লিজ? আবির: ভাবার কিছু নাই। আমি: আচ্ছা ঠিক আছে ভালো থাকিস। আবির: হুম। . এভাবেই শেষ হয়ে গেছিলো ওর আর আমার সম্পর্ক। আর দেখা হয়নি আমাদের। তার পর ও বিদেশে চলে যায়। আর আমার পারিবারিক ভাবে ফারাবির সাথে বিয়ে হয়।। . এসব ভাবতে ভাবতে হঠাৎ ঘারে কারো হাত অনুভব করে বাস্তবে ফিরে এলাম। . ফারাবি: এখনো ঘুমাও নি? আমি: এইতো ঘুমাচ্ছি। তুমি ঘুমাও। ফারাবি: হুম।। .


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৪০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ চলন্ত ট্রেনে হঠাৎ দেখা -০৫
→ চলন্ত ট্রেনে হঠাৎ দেখা -০৪
→ চলন্ত ট্রেনে হঠাৎ দেখা -০৩
→ চলন্ত ট্রেনে হঠাৎ দেখা -০২
→ চলন্ত ট্রেনে হঠাৎ দেখা
→ হঠাৎ দেখা
→ হঠাৎ দেখা কিন্তু দ্রুতই হারিয়ে ফেলা
→ হঠাৎ দেখা
→ হঠাৎ দেখা
→ হঠাৎ দেখা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now