বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

হঠাৎ ভালোলাগা তার থেকে ভালোবাসা

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান সাফায়েত হোসেন (০ পয়েন্ট)

X খাড়া দুপুর বেলায় ভার্সিটি থেকে বের হয়ে বাসার দিকে রওনা দিয়েছি।উফ আজ যেন গরম একটু বেশি পড়েছে।আর সূর্যের কি তেজ মনে হচ্ছে সিদ্ধ হয়ে যাচ্ছি।এখন একটা বাস পেয়ে গেলেই হয়।এই গরমে আর থাকা যাচ্ছে না। জলদি বাসায় যেতে হবে।যাই হোক বাস স্ট্যাণ্ডে যেতে যেতে আমার পরিচয়টা দিয়ে নেই।আমি সোহান।আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগ এর ২য় বর্ষের ছাত্র।ভার্সিটি শেষে বাসার দিকে যাচ্ছি এখন।আমি বাসে করেই প্রতিদিন যাতায়াত করি।বাসে আমার বাসায় যেতে প্রায় ৪৫ মিনিটের মত সময় লাগে।এই তো বাস স্ট্যাণ্ডে চলে এসেছি।একটা বাসও এসে গেছে দেখছি।তারপর বাসে উঠে গেলাম।বাসে উঠে তো মাথায় হাত আমার।একে তো এতো গরম তার মধ্যে আবার বাসে প্রচুর যাত্রি নিয়েছে।এদিকে বাস চালুও করে দিয়েছে।অগত্যা ইচ্ছা না থাকলেও এই বাসে করেই এখন বাসায় যেতে হবে।আমি বাসের একেবারে পিছনের দিকে গিয়ে দাড়ালাম।কিছুক্ষণ পর যখন আমি আমার এলাকার কাছে চলে আসলাম।হেল্পার নামার জন্য ডাক দিল যাত্রিদের।আমিও নামার জন্য যখন ভিড় ঠেলে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলাম হঠাৎ আমার চোঁখ আটকে গেল বাসের সামনে একটা মেয়েকে দেখে।মেয়েটি দেখি আমাদের এলাকার এখানেই নামছে।মেয়েটি হিজাব করা ছিল।আর মুখ খোলা ছিল।চোঁখে হালকা করে কাজল দেওয়া আর মুখটা ফর্সা।আমার পুরো শরীরে যেন কারেন্ট এ শক লাগার মতো করে শক লাগলো।আমি কখনো প্রেম করি নি।মেয়েদের প্রতি আমার আগ্রহ তেমন নাই।কিন্তু এই মেয়েটাকে দেখে আমার কি হলো।আমার যেন চোঁখটা যেন শুধু মেয়েটাকেই দেখছে।হা করে তাকিয়ে আছি আমি।আমি যেন ভাবনার সাগরে চলে যাচ্ছি আস্তে আস্তে।হঠাৎ খেয়াল করলাম মেয়েটি নেমে গেছে।আমিও তাড়াতাড়ি নেমে পড়লাম বাস থেকে।বাস থেকে নেমে আমি এদিক ওদিকে তাকাতে লাগলাম।আশেপাশে খুজলাম কিন্তু মেয়েটিকে পাইলাম না।মেয়েটি কখন বাস থেকে নেমে গেলো আবার চলেও গেলো।ধুর নিজের প্রতি নিজেরই এখন রাগ হচ্ছে।শুধু মনে হচ্ছে কিছু একটা যেন হারিয়ে ফেললাম।যাই হোক মন খারাপ নিয়েই বাসায় ফিরলাম।বাসায় এসেও কিছু ভালো লাগছে না।আম্মু বিষয়টা বুঝতে পেরে জিজ্ঞেশ করলো কি হয়েছে আমার? কিছু হয় নি বলে কথাটা কাটিয়ে দিলাম।কিন্তু আমার মনের মধ্যে যেন কিছু একটা তোলপাড় হচ্ছে।শুধু মেয়েটার কথাই মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে।রাতে খাবার খাওয়ার পর ঘুমানোর সময় চোঁখ বন্ধ করলেই যেন চোঁখের সামনে মেয়েটার সেই কাজল মাখা চোঁখটাই ভেসে আসছে।তাহলে এটাই কি ভালোলাগা?এটাই কি তাইলে ভালোবাসার লক্ষণ।আমি এবার মনে মনে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললাম।যেই করেই হোক মেয়েটিকে খজে বের করবো।পরেরদিন ভার্সিটি গিয়ে মেয়েটিকে খুজতে লাগলাম।ভাবলাম মেয়েটি মনে হয় ঢাকা ভার্সিটিতেই পড়ে।কিন্তু খুজেও মেয়েটিকে পাইলাম না।বন্ধুদের ও এই বিষয়ে কিছু বললাম না।মেয়েটি আমাদের এলাকা তে নেমেছিল।তাই এলাকা তেও ঘুরে ঘুরে খুজলাম কিন্তু নাহ মেয়েটিকে খুজে পাইলাম না।আবার মন খারাপ হয়ে গেলো আমার।এভাবে সাত দিন চলে গেলো মেয়েটির কোনো খোজ পাইলাম না।মাঝেমধ্যে নিজেকে নিজেই শান্তনা দেই এই ভেবে যে আমি কেনো একটা মেয়ের পিছনে ছুটছি।যাকে আমি চিনি না যার নামটাও জানি না।আর মেয়েটার তো বয়ফ্রেণ্ড ও থাকতে পারে।আমি বৃথাই চেষ্টা করে যাচ্ছি না তো আবার।কিন্তু তাও যেন আমি শান্ত হতে পারি না।মেয়েটির ওই মুখ আর চোঁখ এর দৃশ্যই যেন আমার সামনে ভেসে উঠে শুধু।সাতদিন হয়ে গেছে মেয়েটির দেখা নাই।আমি তাও আশা ছাড়ি নি একদিন ঠিক দেখা হবে এই আশাতেই আছি।সাতদিন পর একদিন বিকেলে আমাদের এখানে একটা পার্ক আছে সেখানে হাটছিলাম একা একা।হঠাৎ দূর থেকে একটা মেয়েকে দেখলাম পার্কে।মেয়েটার সাথে আরো একটা মেয়েকে দেখলাম।তার দুজন পার্কের একটি কাঠের বেঞ্চিতে বসে ছিল।মনে হয় মেয়েটর বান্ধবী হবে।মেয়েটির মুখটা কেমন যেনো চেনা চেনা লাগছে আমার।তারপর আরেকটু কাছে গিয়ে একটি গাছের আরালে দাঁড়িয়ে দেখতে লাগলাম।এবার মেয়েটির মুখ দেখে আমি যেন আবার শক খেলাম।এই তো সেই মেয়ে যাকে গত সাতদিন ধরে খুজেছি আমি।সেই চোঁখ সেই মুখ আমি যেন আবার হারিয়ে গেলাম মেয়েটির সৌন্দর্যের মাঝে।কিন্তু মেয়েটির সামনে কিভাবে যাবো সেই সাহসটা পাচ্ছি না।মেয়েটির পাশে তার বান্ধবী আছে।এখন এভাবে সামনে গেলে না যানি কি মনে করে মেয়েটি। তাই মনে মনে সিদ্ধান্ত নিলাম কখনো মেয়েটিকে একা দেখলে তারপর না হয় কথা বলা যাবে।তারপর লুকিয়ে তাদের কথা শুনছিলাম।একটা ভালো খবর কি মেয়েটির নাম জানতে পারলাম ওদের কথা শুনার ফলে।মেয়েটির নাম হচ্ছে নীলা।তারপর বাসায় এসে আবার ভাবতে লাগলাম যে মেয়েটির সাথে কথা বলতেই হবে।ওর কোনো বয়ফ্রেণ্ড আছে কি না জানতে হবে আর যদি না থাকে তাইলে আমি আমার মনের কথা ওরেহ জানাবো।তার পরের দিন বিকেলেও মেয়েটিকে পার্কের সেই কাঠের বেঞ্চিটাতে বসে থাকতে দেখলাম।কিন্তু তার পাশে আগেরদিন এর মতো তার ওই বান্ধবীটা আবারও ছিল।এবারও সাহস করে আর মেয়েটির সামনে যাওয়া হলো না।দূর থেকেই দেখতে লাগলাম।এভাবেই আরো কয়দিন চলে গেলো।মেয়েটিকে দূর থেকে দেখি কিন্তু কাছে যাওয়ার সাহস হয় না।আর সবসময় ওর ওই বান্ধবী থাকবেই মেয়েটির সাথে।মনে হয় যেন আঠার মতো লেগে থাকে খালি।হঠাৎ একদিন মেয়েটিকে একা বসে থাকতে দেখলাম পার্কে।ওর ওই বান্ধবীটা নাই দেখলাম।ভাবলাম এই সু্যোগ ওর বান্ধবীর মনে হয় আসতে দেরি হবে বাহ আসবে না। আজ যাই হোক না কেনো আজ গিয়ে কথা বলতেই হবে মেয়েটির সাথে।এবার মনে সাহস সঞ্চয় করে মেয়েটির দিকে আগাতে থাকলাম হঠাৎ মেয়েটির ফোনে একটা ফোন আসলো।মেয়েটি ফোনে কিছুক্ষণ কথা বলে চলে গেলো পার্ক থেকে।আমি আবার হতাশ হলাম।দুঃখ ভরা মন নিয়ে বাড়ির দিকে রওনা হলাম।পরেরদিন আবার পার্কে গেলাম কিন্তু মেয়েটাকে আজ দেখতে পেলাম না আর তার সাথে মেয়েটার বান্ধবীকেও দেখলাম না আজ।এভাবে একদিন,দুইদিন,তিনদিন করে এক মাস পার হয়ে গেলো মেয়েটিকে আর পেলাম না খুজে।অনেকদিন পর বিকেলে আবার পার্কে বসে আছি।মেয়েটি যেখানে বসতো সেই কাঠের বেঞ্চিতে বসে আছে একা।আর ভাবছি আমার মনে জমে থাকা কথাগুলো মেয়েটিকে আর বলা হলো না।আমি কি তাহলে মেয়টাকে হারিয়ে ফেললাম।শুধু তার নীলা নামটাই আমার কাছে স্মৃতি হয়েই থাকবে।আর কি কখনো দেখতে পাবো না নীলাকে।হঠাৎ পিছন থেকে কেউ আমার ঘারে হাত দিলো।আমি পিছনে তাকাই দেখি নীলা দাড়িয়ে আছে।এই তো সেই মেয়েটি।এইতো নীলা।যাকে দূর থেকে দেখতাম।যার জন্য দীর্ঘ একমাস ধরে অপেক্ষা করে আছি।আর আজ সে নিজেই আমার সামনে।আমি যেন স্বপ্ন দেখছি মনে হচ্ছে।হঠাৎ এই যে মিষ্টার এই যে মিষ্টার কথায় ভাবনার জগত থেকে বাস্তবে ফিরলাম। নীলা বলছে:- এই যে মিষ্টার কি এতো ভাবছেন শুনি।কখন থেকে ডাকছি আর আপনি জবাব না দিয়ে হা করে তাকাই আছেন আমার দিকে।আর এত গাছের আড়াল থেকে লুকিয়ে দেখলে হবে সামনা সামনি আসলে কি হয়।আমি কি বাঘ ভাল্লুক নাকি।এত ভিতু কেনো আপনি। আমি:-আপনি কিভাবে জানলেন যে আমি আপনাকে গাছের আড়াল থেকে দেখি? নীলা:-আমার বান্ধবী খেয়াল করছিলো।আমিও একদিন দেখছি আপনাকে।মনের কথা বলবেন এতে এতো ভয় কিসের সামনেই এসে বলতেন। আমি:-মনের কথা বলবো মানে।আপনি এসব কিভাবে জানেন? নিলা:-আমি সব জানি।এভাবে লুকিয়ে লুকিয়ে একটা মেয়েকে দেখা।এতেই আমি বুঝে গেছি যে আপনি আমাকে পছন্দ করেন।কিন্তু আপনি একটা ভিতু।সামনেই আসেন না খালি দূর থেকেই দেখে যান। আমি:-আসলে আপনার বান্ধবী থাকেতো পাশে।তাই সাহস করে যাইতে পারি না আপনার সামনে।কিন্তু একদিন সাহস করে আপনার সামনে যাচ্ছিলাম কিন্তু হঠাৎ আপনার ফোনে ফোন আসলো।আপনি চলে গেলেন।আর আপনাকে দেখি নাই।কত খুজেছি।কিন্তু আপনাকে দেখি নাই আর। নীলা:-আসলে ওইদিন আমায় ফোনটা ভাইয়া করেছিলো।ভাইয়া বললো আম্মু নাকি অসুস্থ হয়ে পড়েছে।এই কথা শুনামাত্রই তাই জলদি আমি পার্ক ছেড়ে বাসার দিকে চলে যাই।আম্মুর অনেক জ্বর আসছিলো তাই আম্মুর দেখাশুনা করেছি।আম্মুর সুস্থ হতেই এক সপ্তাহ লেগে যায়।তারপর গ্রামে চলে যাই আমরা পরিবারের সবাই।কারণ আমার চাচাতো বোনের বিয়ে ছিল।সেখানেই আরো পনেরো বিশ দিন চলে যায়।তারপর ঢাকায় আসছি তিনদিন হলো।কিন্তু পার্কে এসে আপনাকে আর পাই না।এই তিনদিন পার্কে এসে আপনাকে খুজেছি কিন্তু পাই নি।তারপর আজ দেখা পাইলাম আপনার। আমি:-আমাকে খুজেছেন কেনো আপনি?আর আপনার বাসা কি আমাদের এলাকায় নাকি? আপনাকে বাসে আমি প্রথম দেখি আর আপনি আমাদের এলাকায় নামছিলেন।কিন্তু পরে বাস থেকে নেমে আর আপনাকে খুজে পাই নি।তারপর আমি আপনাকে ঢাকা ভার্সিটিতেও খুজছি।আর আমি ঢাকা ভার্সিটির অর্থনীতি ভিভাগের ২য় বর্ষের ছাত্র।ভাবছিলাম আপনি হয়তো ঢাকা ভার্সিটিতে পরতে পারেন। নীলা:-তাই নাকি বাস আবার ভার্সিটি এত খুজছেন আমায়।ঠিকই ধরেছেন আমি ঢাকা ভার্সিটিতে ইংরেজী বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী।পারবারিক বিভিন্ন কারণে অনেকদিন ভার্সিটিতে যাওয়া হয় নি।তাই খুজে পান নি আমায় ভার্সিটিতে।আমার বাসা আসলে আপনাদের এখানেই।আমরা এখানে নতুন।তিন মাস হলো আসছি এখানে।আমার বাসা গ্রামে।বলতে ভুলে গেছি আমার চাচতো বোন এর বিয়েতে যেই গ্রামে গেছি আমার বাসাও সেখানে।আমার পড়াশুনার জন্য এখানে একটা বাসায় ভাড়া থাকি আমরা।আর বাসা থেকেও বের হতে পারি নি তেমন পারাবারিক অনেক সমস্যার কারণে।তাই হয়তো আপনি আমায় দেখতে পান নি।আর আমি আপনাকে কেনো খুজেছিলাম এটা জানতে চান তো? উত্তরটা কি মুখে বলা লাগবে।এখনো বুঝেন নি।যান বলবো না।আপনি একটা আসতো বোকা। আমি:-বলেন না একটু বুঝতে পারছি না।আপনার নামটাই শুধু জানি আমি।লুকিয়ে শুধু নামটাই জানতে পারছি। নীলা:-নাম নিয়েই থাকেন আপনি।আমাকে যে আপনি ভালোবাসেন তাইলে আপনি করে বলছেন কেনো শুনি।তুমি করে বলতে কি হয়। আমি:-আপনিও তো আমায় আপনি করে বলছেন। নীলা:-আমি কেনো তুমি করে বলবো আগে।তাছাড়া আপনি বলতে আমারও ভালো লাগছে না।কিন্তু আগে আমি তুমি বলবো না।আপনি আগে তুমি করে বলেন। আমি:-আচ্ছা ঠিক আছে বলছি।তোমার কি কোনো বয়ফ্রেণ্ড আছে? নীলা:-হ্যা আছে তো। কথাটা শুনে মন খারাপ হয়ে গেলো আমার।আমি আর কিছু বললাম না। নীলা:-কিহ চুপ করে আছো কেনো।আমার বয়ফ্রেণ্ড কে শুনবে না?আর তোমার নাম কি বললে না তো। আমি:-একটু মন খারাপ করেই বললাম আমার নাম সোহান। নীলা:-তাইলে শোনো আমার বয়ফ্রেণ্ড আর কেউ না।আমার বয়ফ্রেণ্ড হচ্ছে সে যে আমায় গাছের আড়াল থেকে লুকিয়ে দেখেছে।আমাকে না পেয়ে খুজেছে আমায়।আমাকে সে দূর থেকেই দেখে গেছে কখনো সামনে আসে নি।এবার বুঝলে কে আমার বয়ফ্রেণ্ড? আমি:-একটু খুশি মনে তার মানে আমি তোমার বয়ফ্রেণ্ড। আমাকে তুমি ভালোবাসো? নীলা:-হ্যা সোহান তুমিই আমার বয়ফ্রেণ্ড।গ্রামে গিয়ে তোমাকে আমি অনেক মিস করছি।তোমার লুকিয়ে আমায় দেখা আমার খুব মনে পড়তো।তারপর ঢাকায় আসার পর তিন দিন পার্কে এসে ঘুরে গেছি কিন্তু তোমাকে দেখি নি।এতে তোমাকে আরো মিস করতে থাকি আমি।আর ভালোবেসে ফেলি।কিন্তু তুমি একটা গাধারাম। প্রথমেই তো তোমাক খুজার কথা বললাম।তাও বুঝতে পারো নি।আর এবার তো তোমার মনের কথা বলো।নাকি আবার হারিয়ে যাবো আমি।আর তুমি আবার খুজতে থাইকো আমায়। তারপর আর দেরি না করে আমার মনের কথা ওরেহ বলার জন্য প্রস্তুতি নিলাম।কিন্তু নীলা হঠাৎ করে সামনে চলে আসলো তাই গোলাপ ফুল ও আনা হয় নি।তাই পার্কের কিছুটা ঘাস তুলে হাটু গেড়ে বলা শুরু করলাম......... তোমাকে যখন প্রথম বাসের মধ্যে দেখি তখন প্রচণ্ড গরম,মানুষের কোলাহল সবকিছু আমি ভুলে গেছিলাম। তোমার ওই কাজল মাখা চোঁখ আমার রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। রাতে ঘুমানোর জন্য চোঁখ বুঝেছি তখনও তোমাকে আমি দেখেছি। ভেসে উঠেছে তোমার ওই সুন্দর মুখ আর তোমার ওই কাজল মাখা দুই চোঁখ। তাইতো চাই আমি তোমার ওই দুই চোঁখের মায়ায় আমাকে আরো বেধে ফেলো। আমি আরো চাই থাকতে তোমার সাথে সারাজীবন। ধরতে চাই তোমার হাত সুখে দুঃখে সবসময়। এই আবদার গুলো সহ তোমাকে মন থেকে বলছি....... আমি তোমাকে ভালোবাসি নীলা। আমার কথা শেষ হতেই নীলা আমার হাত থেকে ঘাসটুকু নিয়ে আমায় জরিয়ে ধরলো। আর বললো........ নীলা:-আমিও তোমায় ভালোবাসি সোহান।আমিও থাকবো তোমার সাথে সবসময় কথা দিচ্ছি।আর আমারও ছোট্ট ছোট্ট আবদার আছে কিছু।সেটা না হয় পরে বলবো কিন্তু এবার যে ঘাস দিয়ে প্রপোজ করলে আমাকে এরপর ৫০টা গোলাপ ফুল দিয়ে প্রপোজ করতে হবে কিন্তু। আমি:-আমিও নীলাকে জরিয়ে ধরে রেখেই বলতে লাগলাম আচ্ছা এবার যেহুতু তোমার হঠাৎ চলে আসার ফলে গোলাপ ফুল দিয়ে প্রপোজ করতে পারি নি এরপরে গোলাপ ফুল দিয়েই প্রপোজ করবো নি এবার খুশিতো। এবার নীলা আমার জড়িয়ে ধরা থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে বললো..... নীলা:-হইছে এখন এতো ভালোবাসা দেখাতে হবে না।আর এতো বোকা থাকবে না একটু চালাক হবে বুঝলে। আমি:-তুমি না হয় আমায় একটু চালাক বানিয়ে দিয়ো। নীলা:-হইছে ঢং করতে হবে না ওতো।সন্ধ্যা হয়ে আসছে চলো দজনে পার্কে একটু হেটে তারপর বাসায় যাই। তারপর আমি আর নীলা হাটছি। হাটতে হাটতে আমি নীলাকে এবার বললাম তোমার হাতটা একটু ধরি। নীলা:-আস্তো বোকা একটা।জড়িয়ে ধরতে পারলে আর এখন হাত ধরতে লজ্জা পাচ্ছো।আমি তো এখন তোমার প্রেমিকা তাই হাত ধরতে পারো।হাত ধরতে কোনো অনুমতি নেওয়া লাগবে না।কিন্তু শুধু হাত ধরবা এর চেয়ে বেশি কিছু না। বাকি সব বিয়ের পরে বুঝলা।আর যদি দেখি বেশি বাড়াবাড়ি করছো তাইলে একটা ঘুসি মেরে তোমার নাক ফাটাই দিবো কথাটা মনে থাকে যেন। আমি:-হাহাহা কি সব বলো না তুমি।দেখছি একটা গুন্ডি মেয়ের প্রেমে পড়ছি। আমার কথা শুনে নীলা মুখ ভেংচি দিলো আমায়।তারপর নীলার হাত ধরে হাটতে লাগলাম। সূর্য ডুবে যাচ্ছে পশিচম দিগন্তে।দিনের আলো শেষ হয়ে রাতের আধার ঘনিয়ে আসছে আর তার মাঝে সোহান আর নীলা একে অপরের হাত ধরে হেটে যাচ্ছে।তার সাথে সাথে তারা শুরু করছে তাদের নতুন একটা জীবন।সেই জীবনে তাদের মধ্যে থাকবে একটু অভিমান,একটু ঝগড়া কিন্তু দিনশেষে কেউ কাউকে ছাড়া থাকতে পারবে না কারণ তাদের মধ্যে থাকবে একে অপরের প্রতি সীমাহীন ভালোবাসা।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ হঠাৎ ভালোলাগা তার থেকে ভালোবাসা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now