বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

হটাৎ..(গল্পের বিস্তার)-০৩

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Opu Ahasan (০ পয়েন্ট)

X আবন্তির ঘুম অনেকটা সময় আগেই ভেঙ্গেছে । জানলার পর্দা সকালের বাতাসে মৃদু কাঁপছে সেই সাথে সকালের রোদ মাঝে মাঝে এসে ওর গালের এক পাশে পড়ছে । একটা অন্য রকম ভাল লাগছে । মনে হচ্ছে এভাবে আরও অনেকটা সময় ঘুমিয়ে থাকতে পারলে ভাল হত । কিন্তু সেটা সম্ভব না । কিছু সময় পরেই সূর্যের তেজটা আরও বেড়ে যাবে তখন এই আরামটা পাওয়া যাবে না । -আবন্তি ! আবন্তি এক চোখ মেলে সামনে দাড়ানো মানুষটার দিকে তাকালো । হঠাৎ করেই আবন্তির মনে হল অনেক দিন পর কেউ তাকে এভাবে সকালে বিছানা থাকতে থাকতেই ডাক দিল । আবন্তি স্যামের দিকে তাকিয়ে থাকলো কিছুটা সময় । ছেলেটা যে সুদর্শন সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই । যে কোন মেয়ে তার উপর ক্রাশ খাবে মুহুর্তেই । একটু আগে গোসল করেছে সেটা চেহারা দেখলেই বুঝা যাচ্ছে । গাঢ় নীল শার্টের সাথে কালো প্যান্ট পরেছে ইন করে । কালো বেল্ট ! টাই টা এখনও ওর হাতে ধরা । আবন্তি বলল -রেডি ? -প্রায় । তুমি উঠে পড় । নাস্তা রেডি হয়ে গেছে । তোমার কফিও ! -আসছি । স্যাম আর দাড়ালো না । হাতে ধরা টাই নিয়ে বাইরে চলে গেল । আবন্তি বাথরুমে ঢুকে ট্যাপ ছেড়ে দিল ! ওর নিজের ভাবতে খানিকটা অবাক লাগছে । আজ থেকে দুই মাস আগেও স্যামকে চিনতো না । ওকে দু মাস আগে ঘুমের ঔষধ খাইয়ে স্যামে ঠিক এই ঘরেই নিয়ে এসেছিল । আর আজকে ও নিজের ইচ্ছেতেই এখানে এসেছে । এভাবে আসবে ও কোন দিন ভাবেও নি ! ফ্রেশ হয়ে ডাইনিং এসে ওর মনটা ভাল হয়ে গেল । টেবিলে সকালের নাস্তা তৈরি হয়ে আছে । স্যাম তখনও টাই বাঁধে নি । ওর জন্য অপেক্ষা করছে । আবন্তি বসতে বসতে বলল -এগুলো সব তুমি করেছো ? -কেন ? বিশ্বাস হচ্ছে না ? -আসলে হচ্ছে না । আমি এখনও ঠিক বুঝতে পারলাম না যে এতো টাকা পয়সা থাকতেও তুমি কেন এভাবে নিজের কাজ নিজে কর । আই মিন তোমার জন্য কাজ করার জন্য হাজার হাজার মানুষ রয়েছে, বিশেষ করে এই রান্না বান্না করার কাজ গুলো ! -আমি আমার কাজ নিজে করতে ভালবাসি । আর সব সময় তো করি না । মাঝে মাঝে করি ! আবন্তি পাউরুটিতে কামড় দিতে দিতে বলল -যাক ভাল । কোটিপতি বালকের হাতের রান্নাও এজীবনে খেতে পারবো ভাবি নি কোন দিন ! লাকি মি ! সেদিনের পর স্যামের সাথে আবন্তির দেখা হয়েছে অনেক বার । বিশেষ করে ওকে নিয়ে বেশ কয়েকটা ফ্যামিলি ফাংশনে হাজির হয়েছে ও । বলাই বাহুল্য সেই অনুষ্ঠানে যাওয়া আগে আবন্তিকে নিয়ে স্যাম গিয়েছে মার্কেটে ওকে পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য ! একবার আবন্তি স্যামের কাছে জানতে চাইলো -আচ্ছা আমাকে যে এতো কিছু কিনে দিচ্ছো তা ব্রেক আপ যখন করবো তখন কি এগুলো ফেরৎ দিতে হবে ! স্যাম আবন্তির প্রশ্ন শুনে হাসলো । হেসেই বলল -নাহ ! কিছু ফেরৎ দিতে হবে না ! -তাহলে এই সুযোগ তো হাত ছাড়া করা যায় না । দেখি আরও কি কি কিনতে পারি ! তারপর আরও অনেক ঘটনা ঘটে গেছে । আবন্তি ব্যাপারটা ফান হিসাবে নিয়েছিলো । ওর বন্ধুরাও জেনে গেল যে আবন্তি এক সুদর্শন ছেলের সাথে ঘুরছে ফিরছে । ওরা তো বিশ্বাসই করে নি । সব মিলিয়ে আবন্তির সময় গুলো ভাল যাচ্ছিলো । বিশেষ করে এই এতো গুলো বছরের এক ঘেয়ে জীবনের রুটিন থেকে বের হতে পেরে ওর ভাল লাগছিলো ! গতকালকে কি মনে হয় সন্ধ্যার সময় স্যামকে ফোন দিয়ে বসলো ! -হ্যালো ! -কি খবর তোমার ? কয়েকদিন স্যামের সাথে ওর যোগাযোগ হয় নি । স্যাম কাজে ব্যস্ত ছিল ! তাই যোগাযোগ হয় নি ওদের মাঝে । স্যাম বলল -আমি কাজে বিজি ছিলাম । জানোই তো ! -হুম । তা কাজের চাপে গার্লফ্রেন্ডকে ভুলে গেলে চলবে ? যতই ফেইক হোক না কেন গার্লফ্রেন্ড তো ! রীতিমত চুক্তি করা ! ওপাশ থেকে স্যামের হাসির আওয়াজ ভেসে এল । আবন্তি বলল -হাসলে চলবে না । ফাইন দিতে হবে ! -কি ফাইন দিতে হবে, শুনি ? -কালকে সকালে কফি বানিয়ে খাওয়াতে হবে ! -ওকে চলে আসো ! -এতো সকালে আমি আসতে পারবো না । আমার ঘুমই ভাঙ্গবে না । -তাহলে ? -আমি জানি না । তুমি বয়ফ্রেন্ড তুমি ব্যবস্থা কর ! কিছু সময় স্যামের দিক থেকে কোন কথা শোনা গেল না । তারপর স্যাম বলল -আচ্ছা যদি তোমার সমস্যা না থাকে তাহলে রাতের বেলা চলে আসো এখানে ! -একা ? যদি তুমি কিছু করে ফেলো তখন ? এসব কিন্তু চুক্তিতে নেই ! -যখন সুযোগ পেয়েও কিছু করি নি তখন জোর করে নিশ্চয়ই কিছু করবো না ! -তা অবশ্য ঠিক ! -আর রাতে আমাকে বেশ কাজ আছে । আমি কাজে ব্যস্ত থাকবো তবে সকালে কফি খাওয়াবো ঠিক ঠিক । আবন্তি আর বেশি কিছু চিন্তা করলো না । কাল থেকে ওর আসলে কিছুই ভাল লাগছিলো না । যদিও একা একা থেকে ওর অভ্যাস তবুও মাঝে মাঝে ওর খুব মন খারাপ হয় । নিজের উপর নিয়ন্ত্রন থাকে না । এই জীবনে কতবার যে ও সুইসাইড করতে চেয়েছে । তার কোন ঠিক নেই । ঠিক সাহসের অভাবে করতে পারে নি । রাতের বেলাতেই চলে এসেছিলো ও । রাতে অবশ্য খুব বেশি কথা হয় নি । স্যাম কাজ করছিলো ওর ল্যাপটপে । ও খানিক্ষন টিভি দেখে শুয়ে পড়ে রুমে গিয়ে । নাস্তা শেষ করে কফি নিয়ে বসলো সোফার উপরে । স্যাম ততক্ষনে টাই বাঁধার জন্য আয়নার সামনে দাড়িয়ে পড়েছে । কেন জানি আবন্তির খুব ইচ্ছে করলো স্যামনে গিয়ে টাই টা বেঁধে দিতে । কিন্তু নিজেকে সামলে নিল । তারপর নিজের কাছেই অবাক হয়ে গেল এমন একটা চিন্তা এল দেখে । বুঝতে পারলো এমনটা কেন হল ! আর এমন ভাবনাটাও কেন হল ? স্যামের মায়ের জন্য ? ঐদিন স্যামের মা অর্থাৎ ওদের ইউনিভার্সিটির প্রোভিসি ম্যাডামের জন্য ! ওনার কাছ থেকে স্যাম সম্পর্কে জানার পর থেকে এমনটা মনে হচ্ছে ! -আমি যাচ্ছি ! তুমি কখন বের হবে ? আবার বাস্তবে ফেরৎ চলে এল আবন্তি । স্যাম ততক্ষনে কোর্ট টাও গায়ে দিয়ে ফেলেছে । আবন্তি বলল -খানিকক্ষন শুয়ে থাকি তোমার বিলাশ বহুল এই ফ্ল্যাটে ! যখন যেতে ইচ্ছা করবে চলে যাবো । তোমার অফিস তো পাশেই তাই না ? আবন্তি জানে এই ফ্ল্যাটের চার বিল্ডিং পরেই স্যামদের বিশাল অফিস । স্যাম এখানে এই ফ্ল্যাটে এসে মাঝে মাঝে থাকে । সপ্তাহে দুই দিন । যখন ও একা থাকতে চায় কিংবা যখন ওর মন খারাপ থাকে । এসব কিছু আবন্তি জানতে পেরেছে ওর মায়ের কাছ থেকে ! -আচ্ছা ! আমি যাই ! স্যাম বের হয়ে যেতে আবন্তি দরজায় খানিকটা সময় দাড়িয়ে থাকলো । কেন দাড়িয়ে থাকলো ওর জানা নেই । লিফটের কাছে যাওয়ার আগ পর্যন্ত স্যামের দিকেই তাকিয়ে রইলো । ছোট বেলায় মাঝে মাঝে এমন দৃশ্য দেখতো ও । যখন স্কুল যাওয়ার সময় দরজার বাইরে আসতো তখন প্রায়ই পাশের প্রতিবেশিদের কারো কারো সাথে দেখা হয়ে যেত । অফিস যাওয়ার সময় বাড়ির মেয়েরা ছেলেদের এভাবে বিদায় দিচ্ছে । বারবার মনে হত ওর বাবা মা কেন এভাবে নিজেদের কে বিদায় দেয় না কোন দিন । কেন ওর জন্য ওর বাবা কিংবা মায়ের কোন সময় নেই। ( চলবে...)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ হটাৎ..(গল্পের বিস্তার)-০৩

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now