বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
চোখ মেলে আবন্তি কিছুটা সময় বুঝতে পারলো না কোথায় আছে । সিলিংয়ের রংটা তার কাছে পরিচিত মনে হচ্ছে না । ওর নিজের ঘরের সিলিংয়ের রং হালকা নীল । অথচ এই ঘরের সিলিংয়ের রংটা একদম সাদা !
আবন্তি আরও কিছুটা সময় চিন্তা চেষ্টা করলো ঠিক কোথায় আছে কিংবা কোথায় থাকতে পারে ! কিন্তু কিছুই মনে করতে পারলো না । মাথার ভেতরটা এখনও কেমন ফাঁকা হয়ে আছে । কাল রাতে একটু বেশিই ড্রিংক করা হয়ে গেছিলো !
ওয়েট !
ওয়েট !
আবন্তির কিছু মনে পড়ে গেল !
কাল রাতে ও একদমই ড্রিংক করে নি । ও বন্ধুদের সাথে ছাড়া কখনই অন্য কিছু খায় না । আর গতকাল রাতে ও একাই গিয়েছিলো ক্লাবে । ওর আর কোন বন্ধু তখনও এসে পৌছায় নি । ও অপেক্ষা করছিলো আর একটা লেমন জুস নিয়ে বসে ছিল ক্লাবের ড্যান্স রুমের এক কোনায় ! তাহলে ?
ও এখানে এল কিভাবে ?
আবন্তি বিছানা থেকে উঠে বসলো । বাঁ দিকে তাকিয়ে দেখলো ওর নিজের পোষা সুন্দর করে ভাজ করে রাখা আছে । ও নিজের দিকে তাকালো । কম্বলের নিচে ও তেমন কিছুই পরে নি ।
ওর পোষাক বদলালো কিভাবে ?
কে বদলালো !
কাল রাতে কি কিছু হয়েছে !
একটা সুক্ষ আতংকের প্রবাহের বয়ে গেল ওর পুরো শরীর জুড়ে ।
ও কোথায় !
কাল রাতে কি হয়েছে ওর সাথে !
ও এখানে কেন ?
এটা কার বাসা ?
ওকে কি কিডন্যাপ করা হয়েছে !
এতো গুলো প্রশ্ন ওর মনের ভেতরে ঘুর পাক খাচ্ছে কিন্তু একটারও জবাব নেই । ভয়ে ভয়ে ও খাট থেকে নামলো । নরম কার্পেটে ওর পায়ের পাতার অনেকটাই ডুবে গেল !
নাহ !
ওকে কেউ কিডন্যাপ করে নি । কারন কিডন্যাপ করলে ওকে এমন বিলাশ বহুল ঘরে রাখা হত না ।
ও নিশ্চয়ই কাল রাতে এমন কিছু করেছে কিংবা এমন কোন ঘটনা ঘটেছে ওর সাথে যার ফলে ও এখানে এসে পরেছে । জীবন কোন রকম ঘটনা ঘটে !
ইন্সিডেন্টস হ্যাপেন ইন লাইফ ! ওর পছন্দের একটা লাইনটার ! কিন্তু এটা কি ধরনের ইন্সিডেন্ট ?
পোষাক পরে নিল । তারপর পা টিপে টিপে দরজার কাছে আসতেই কারো কথা বলার আওয়াজ শুনতে পেল । একজন মহিলার কন্ঠ ! কাউকে যেন কিছু বলছে !
কয়েকবার চিন্তা করলো দরজার নব টা খুলবে কি না নাকি এখানেই অপেক্ষা করবে ! শেষে নব খুলে দরজা খুলেই ফেলল । দরজা খুলে ড্রয়িং ঢুকতেই ওখানে থাকা তিনজন মানুষ ওর দিকে ফিরে চাইলো ।
তাদের ভেতরে একজনের দিকে তাকাতেই আবন্তি তাকে চিনে ফেলল সাথে সাথেই । গতকাল রাতে এই যুবকের সাথেই দেখা হয়েছিল । ও যখন এক কোনায় বসে ছিল তখনই এই যুবক তার পাশে এসে বসে । সুদর্শন ছিল সেই সাথে পোশাক-আষাকেও ভদ্র ঘরের মনে হয়েছিল তাই আবন্তির কিছু মনে হয় নি ।
টুকটাক কথাও তাদের ভেতরে হয়েছিল ! নাম যেন কি বলেছিল ?
স.... স্যাম....। স্যামন চৌধুরী ! ডাক নাম বলেছিলো স্যাম ।
হ্যা !
তারপর .....।
ছেলেটা ওকে ড্রিংক অফার করে ।
ওটা খাওয়ার পরপরই...... ওর মাথাটা কেমন চক্কর দিয়ে ওঠে !
তারপর তারপর আর কিছু মনে নেই ।
এই সেই কাল্প্রিট ! ইয়েস, স্যামই ওকে নিয়ে এসেছে ওকে !
ও কিছু বলার জন্য মুখ খুলতে যাবে তখনই স্যাম চৌধুরী বলে উঠলো,
-এইতো ঘুম ভেঙ্গেছে ! এতো সময় লাগলো ? আবন্তি মিট মাই প্যারেন্টস !
স্যাম চৌধুরীর মুখে হাসি দেখে আবন্তি কেমন কনফিউজ হয়ে গেল । ছেলেটার মুখের দিকে তাকিয়ে মনে হচ্ছে না ছেলেটা কোন অন্যায় করেছে আর করলেও নিশ্চয়ই সে তাকে তার বাবা মায়ের সাথে পরিচয় করিয়ে দিত না ।
কিন্তু স্যাম তাকে তার বাবা মায়ের সাথে পরিচয় কেন করিয়ে দিবে ?
এর ভেতরে কোন একটা সমস্যা আছে !
কিন্তু কি !
স্যাম আবার বলল
-তোমাকে বলেছিলাম সকালে তোমাকে সারপ্রাইজ দিব !
আবন্তি দেখলো ওদের পাশে বসে থাকা একজন মাঝ-বয়সী মহিলা ওর দিকে এগিয়ে হাসি মুখে ! মহিলার চেহারা কেমন যেন পরিচিত মনে হল । কোথায় দেখেছে ঠিক মনে করতে পারলো না । তবে তাকে দেখেছে সেটা নিশ্চিত । মহিলা তারপর আবন্তিকে জড়িয়ে ধরলো ! তারপর ওর দিকে তাকিয়ে বলল
-বাহ ! আমার ছেলের যে এতো চমৎকার একটা গার্লফ্রেন্ড আছে এটা তো আমি বিশ্বাসই করি নি ।
আবন্তি অপ্রস্তুত ভাবে হাসলো । এখনও ঠিক বুঝতে পারছে না কি হচ্ছে ওর সাথে । কিন্তু ছেলেটা এমন ভাবে ওর সাথে কথা বলল যেন কত দিনের চেনা । আর ছেলেটার বাবা মায়ের চেহারাতেও কেমন একটা আনন্দ আনন্দ ছাপ । এসব কি হচ্ছে ?
পেছন থেকে স্যাম চৌধুরী বলল
-মা । তুমি এসব কি করছো ? দেখো ও লজ্জা পাচ্ছো ! তুমি কি বলেছিলে !!
-ওকে স্যাম ! আমরা যাচ্ছি !
এই বলে মাঝ বয়সী মহিলা ওকে ছেড়ে আবার সোফার কাছে এসে দাড়ালো । তারপর স্যাম দিকে তাকিয়ে বলল
-তোর কথা বিশ্বাস করলাম স্যাম । এখন আমরা যাচ্ছি !
তারপর আবন্তির দিকে তাকিয়ে বলল
-আমার ছেলেটা এমন হয়েছে না ? যাক তোমরা থাকো ! আমরা গেলাম ! এখন তোমাকে চিনে ফেললাম । আরও কথা হবে কেমন মা-মনি !!
আবন্তি কিছুই বুঝতে পারছে না । ওর সাথে কি হচ্ছে !
ওর চলে গেলেই আবন্তি স্যাম চৌধুরীর দিকে তাকিয়ে বলল
-হোয়াটস জাস্ট হ্যাপেন্ড ?
স্যাম চৌধুরী একটু হাসলো !
-ইন্সিডেন্টস হ্যাপেন ইন লাইফ ! সিট ....
সামনের সোফার দিকে ইশারা করে ওকে বসতে বলল ! এখনও পর্যন্ত যা হয়েছে তার কিছুই আবন্তির মাথায় ঢুকছে না । অনেক প্রশ্নের জবাব তার জানার বাকি !
আবন্তি স্যাম চৌধুরীর সামনের সোফার এসে বসলো ।
আবন্তি এক ভাবে স্যাম চৌধুরীর দিকে কিছু সময় তাকিয়ে রইলো । এরই মাঝে মানুষটা ওর জন্য কফি বানিয়ে নিয়ে এসেছে । ধোঁয়া ওঠা কাপের দিকে কিছু সময় তাকিয়ে আবারও স্যাম চৌধুরীর দিকে তাকালো ।
কিছু মিশিয়ে দেয় নি তো ?
গত রাতের মত !
স্যাম যেন ওর মনের কথাটা বুঝে ফেলল । ওর চোখ দেখেই আবন্তির কেমন যেন একটু অস্বস্থি হল । স্যাম বলল
-ভয় নেই । এখন কিছু মিশাই নি ওখানে !
-কিভাবে বিশ্বাস করবো ? গতরাতে ঠিক এইভাবেই আমাকে এখানে নিয়ে এসেছেন ! আপনি জানেন, আমি চাইলে আপনার নামে অপহণের অভিযোগ আনতে পারি ?
-পারো ! আমি তো মানা করছি না । তবে তুমি তা করবে না ! আমি জানি ।
-বাহ ! এতো কন্ফিডেন্ট আসলো কোথা থেকে ?
-আমার নিজের উপর বিশ্বাস আছে আমার ।
আবন্তি কি বলবে বুঝতে পারছে না । তবে পুরো ব্যাপারটা ওকে একটু কৌতুহল যে করে নি সেটা ও বলবে না । স্যামন চৌধুরী যার ডাক নাম স্যাম, ওর সাথে এমন আচরন কেন করছে ? তবে ওর যে ভয় লাগার কথা সেই ভয় লাগছে না । মনের ভেতর থেকেই মনে হচ্ছে যে এখান থেকে ওর ক্ষতি হবে না । স্যামের বাবা আর মা চলে যাওয়ার পরপরই আবন্তির মাথাটা একদম পরিস্কার হয়ে গেছে । সব মনে পরেছে ।
গত দুই দিন স্যামের সাথে ক্লাবে দেখা হয়েছে । স্যাম যে দেখতে সুদর্শন সেটা স্বীকার করতে কোন বাঁধা নেই । আর পোশাক পরিচ্ছেদেও সম্ভ্রান্ত আর ভদ্র ঘরেরই মনে হয়েছে । কেবল একটা আচরনের ব্যাখ্যা আবন্তি এখনও ঠিক মত বের করতে পারছে না । সেটা হল ওকে এভাবে এখানে ঘুমের ঔষধ খাইয়ে আনার কি মানে হল !
আবন্তির মনে একটু দ্বিধা যদিও ছিল তবুও ও কফির কাপে চুমুক দিল । সাথে সাথেই মনটা অনেকটাই শান্ত হয়ে এল । কফির স্বাধটা আসলেই চমৎকার হয়েছে । এতো চমৎকার কফি সে অনেক দিন খায় নি । এই সকালবেলা খালি পেটে খেতেও চমৎকার লাগলো !
আবন্তি বলল
-এবার বলবেন কি এসবের কারন কি !
-বলছি ।
স্যাম একটা লম্বা শ্বাস নিল । যেন অনেক কথা বলতে হবে !
চলবে...
বাই আপু তানবির
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now