বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

হৃদয়ের স্পন্দন ( part 5)

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান সূর্য কর্মকার (০ পয়েন্ট)

X তাহলে আমার ভালোবাসার কি হবে?? একজন বিবাহিত মানুষকে কি করে প্রেমের প্রস্তাব করা যায়?? অসম্ভব ব্যাপার। আমার‌ই ভুল।কিছু না জেনে প্রেমে পড়াটাই উচিত ছিল না। আজ আমার মনে হচ্ছে যে পৃথিবীর সবচেয়ে দুর্ভ্যাগ্যের অধিকারী আমি। -তমা, পার্কে যাওয়া যাক। -হ্যাঁ বাবা, অনেকদিন ধরেই পার্কে যাই না। চলো যাই। আমি কোনো উত্তর না দিয়ে মৌন সম্মতি জানালাম। রিক্সায় চড়ে আমরা পার্কে যাচ্ছি। আবীর বাবু, আমি আর মাঝখানে মিতু। মনে হচ্ছে আমি ওর মা, আবীর বাবু ওর বাবা আর ও আমাদের একমাত্র মেয়ে। কিন্তু এটা just কল্পনা ছাড়া আর কিছুই না। পার্কে গিয়ে একটা বেঞ্চে বসলাম।একটু পরে মিতু আইসক্রিম দেখে আইসক্রিম খাওয়ার জন্য বায়না করলো। তো আবীর বাবু আমাদের বসিয়ে আইসক্রিম আনতে গেলেন। মিতুর সাথে এতক্ষণ পর্যন্ত কথা বলি নি। ওর কি দোষ। ও তো নিষ্পাপ শিশু। এটা তো আমার ভাগ্য। যাইহোক, ওকে জিজ্ঞেস করলাম, -বাবার উপর রাগ করে আছো?? -একটু। তবে বেশি না। -কোনো?? বেশি না কেন?? -আমি জানি, বাবা খুব ব্যস্ত থাকে। কিন্তু আমার জন্য তার চিন্তা হয়। তবুও, বাবা যদি দেখা করতে না আসে তাহলে খুব খারাপ লাগে। খুব কষ্ট হয়। -ওহ্, আসলেই তো স্পর্শ কাতর বিষয় এটা। -জানো, আমার মা নেই। জন্মের পর থেকে আমি মাকে দেখিনি। আচ্ছা তুমি কি আমার মা হবে?? কথাটা শুনে মনের মধ্যে একটা মোচড় দিয়ে উঠলো। কি বলে এই মেয়ে?? -কেন, তোমার মায়ের কি হয়েছে?? -মারা গেছে। মিতু তো খুব ভুল কথা তো বলে নি। ক্ষতি কি যদি আমি ওকে আমার মেয়ে করে নেই??কিন্তু পরিবার তা মানবে?? তার থেকেও বড় কথা হলো আবীর বাবু মানবে?? ভাবতে ভাবতে আবীর বাবুকে আইসক্রিম নিয়ে চলে এলো। আমরা তিনজন মিলে আইসক্রিম খাচ্ছি। কিন্তু আমার মনে শুধু আবীর বাবু আর মিতুর কথাটাই ঘুরপাক খাচ্ছে। -এই তমা, তোমার মুখে আইসক্রিম লেগে আছে। -কোথায়?? ( এদিকে ওদিকে মুছলাম।)এবার গেছে?? -না, তুমি বাচ্চাই রয়ে গেলে। এই বলে আবীর বাবু নিজের হাতে আইসক্রিম মুছিয়ে দিলেন। মিতু এগুলো দেখে মিটি মিটি হাসছিলো। খুব দুষ্টু। তাও ওর হাসি দেখে মনে একটু শান্তি পেলাম। সন্ধ্যা হয়ে গেছে। তাই মিতুকে পৌছে দিয়ে আবীর বাবু আর আমি হোস্টেলের দিকে রওনা দিলাম। পথিমধ্যে আবীর বাবুকেও মিতুর মায়ের কথাটা জিজ্ঞেস করায় ঐ এক‌ই উত্তর পেলাম। যাইহোক, হোস্টেলে পৌঁছে আবীর বাবুকে বিদায় দিয়ে রুমে আসলাম। আমাকে দেখেই মায়ার হাজার টা প্রশ্ন করতে শুরু করলো। এমনিতেই মনটা খুব খারাপ। তার ওপর মায়ার প্রশ্ন গুলো তীরের মত বিঁধছে। রেগে গিয়ে একটা ধমক দেই। মায়া ব্যাপারটা কিছুটা আন্দাজ করে আর কিছুই বললো না। আমি বিছানায় শুয়ে পড়লাম। খুব ঘুম পাচ্ছে। খুব ক্লান্ত লাগছে। -এইযে আবীর বাবু, নতুন মোবাইল পেয়েছি। ক্যামেরা টা খুব ভালো। -ক‌ই দেখি?? দুটো ছবি তুলে দেখি। (ছবি তোলার পর)খুব ভালো। তোমার জন্য পারফেক্ট। কারন তুমি তো সেলফি পাগলী। আমি মিথ্যা রাগ দেখিয়ে আবীর বাবুর পিঠে একটা কিল বসিয়ে তার পেট জরিয়ে ধরলাম। জরিয়ে ধরে হাঁটছি আর মিতু আমার হাত ধরে হাটছে। এত সুন্দর একটা মুহুর্ত এতো সহজে পেলাম কি করে?? এটা কি সম্ভব?? -এই তমা, ওঠ। কলেজে যাবি না,?? আর কতো ঘুমাবি। ধরমরিয়ে উঠে পরলাম। আমি কি তাহলে স্বপ্ন দেখছিলাম?? এই পোড়া কপালে স্বপ্ন ছাড়া আর কিবা জুটবে। -চল, রেডি হয়ে কলেজে চল। অনেক ঘুমিয়েছিস। কলেজে যাওয়ার জন্য রেডি হলাম। সামনেই পরীক্ষা। অনেক ফাঁকি দিয়েছি। আর না। তা না হলে নিজেই ফাঁদে পড়ে যাবো। অনেকদিন ধরে আবীর বাবুর সাথে দেখা হয় না। অনেকটা পরীক্ষার জন্য আর অনেকটা লজ্জায়। দুদিন পর আবীর বাবু হঠাৎ করেই আমার সাথে দেখা করতে চলে এলেন। -কি ব্যাপার তমা, ভাবসাব তো ভালো ঠেকছে না। ছেঁকা খেয়েছো নাকি?? আমি মরি আমার জ্বালায় আর উনি আছেন ওনার মজা নিয়ে। -এমন মনে হলো কেনো?? -না এমনি, তোমার কোনো খবর নেই তাই ভাবলাম তুমি বোধহয় ছেঁকা খেয়েছো। -ওহ, তা তো ভালো। আমার জন্য ভাবার মানুষ‌ও আছে। -হুম। চলো। -কোথায়?? -খেতে। -কেনো?? -এমনিই। আমি জানি যে তোমার মন খারাপ। সেদিন তুমি আমার মন ভালো করার চেষ্টা করেছিলে আজ আমি তোমার মন ভালো করার চেষ্টা করবো। -আপনি কি করে বুঝলেন যে আমার মন খারাপ?? -আপন করে নিতে পারলেই বোঝা যায়। -কিহ, -(থতমত খেয়ে )না কিছু না। চলো এবার। কিছু না ভেবেই আবীর বাবুর সাথে যেতে লাগলাম। একটা রেস্টুরেন্টে খেতে নিয়ে গেলেন। খাবার অর্ডার করা হলো। একটু পরে খাবার গুলো আসবে। -আবীর বাবু, -হুম, -আপনার স্ত্রীর একটা ছবি দেখাবেন?? -কিহ, -কেন, একেবারে আকাশ থেকে পড়লেন নাকি?? -কি বলছো(আবীর বাবু হাসছেন)। -তাহলে মিতুর মা, (কথাটা বলার সাথে সাথে আবীর বাবু হো হো করে হেসে ফেললেন)।হাসছেন কেন?? -দাড়াও দাঁড়াও একটু হেসে নেই। তোমার কেন মনে হলো যে আমি বিবাহিত?? আমি তো থ হয়ে গেলাম। কি বলে এগুলো। -মিতু আপনার মেয়ে না?? -এই ব্যাপার।মিতু যেখানে পড়ে সেটা হলো একটা অনাথ আশ্রম। ঐ অনাথ আশ্রমে 60জন সদস্য আছে। আর তার মধ্যে আমি একজন। প্রত্যেক সদস্যরা একটা করে বাচ্চার অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করে। আর মিতুর অভিভাবক হলাম আমি। তাই মিতু আমাকে বাবা বলে ডাকে। কথাটা শুনে মনে হলো বুকের ওপর থেকে জেনো একটা পাথর নেমে গেলো। খুশিতে অসাবধানতা বসত একটা গ্লাস ভেঙে ফেললাম। সাথে সাথে হাতটিও কেটে গেছে। কি রক্ত বের হচ্ছে। আবীর বাবু সাথে সাথে একটি রুমাল দিয়ে হাতটা বেধে দিলেন। -এই যাহ, এবার তুমি খাবে কি করে?? হাত তো বাধা। কোনো ব্যাপার না। আমি খাইয়ে দেবো। -আপনি?? -হুম। কিছুই করার নেই। তাছাড়া এমন সুযোগ আর আসতে নাও পারে। আবীর বাবু নিজ হাতে খাইয়ে দিচ্ছেন। তৃপ্তির সাথে খেলাম। খাওয়ার পর আবীর বাবু আমাকে হোস্টেলে পৌঁছে দিয়ে গেলেন। আজ আমি খুব খুশি। খুব খুব খুব খুশি। ,, ,,,,,,,,,চলবে। (পরবর্তী পার্টগুলো খুব ইন্টারেস্টিং হতে চলেছে। আপনাদের সহযোগীতা কামনা করছি )


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৫১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ হৃদয়ের স্পন্দন(part 8)
→ হৃদয়ের স্পন্দন (part 7)
→ হৃদয়ের স্পন্দন (part 6)
→ হৃদয়ের স্পন্দন ( part 5)
→ হৃদয়ের স্পন্দন (part 4)
→ হৃদয়ের স্পন্দন (part 3)
→ হৃদয়ের স্পন্দন (part 2)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now