বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

হৃদয়ের স্পন্দন (part 4)

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান সূর্য কর্মকার (০ পয়েন্ট)

X যত‌ই দিন যায় তত‌ই আবীর বাবুর প্রতি আমি দুর্বল হয়ে পড়ছি। দিনের প্রায় সব সময় তার কথা মনে পড়ে। এটি কি ঠিক কাজ?? আমি তো অনেক চেষ্টা করেছি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে। কিন্তু পারি নি। কলেজে আবীর বাবুর সাথে দেখা করাটা একটা রুটিন হয়ে গেছে। প্রতিদিন দুবার করে দেখা না করলে দিনটাই অপূর্ণ থেকে যায়। আবীর বাবু আমার জন্য সাগরের জলের মতো হয়ে গেছে ,যত‌ই পান করি ততই তৃষ্ণা বেড়ে যায়। আগে সিনেমার গান শুনতে বিরক্ত মনে করতাম। এখন সেগুলোই আমার প্রিয় গান হয়ে গেছে। এটা কি প্রেমের লক্ষণ?? হ্যাঁ, আমি প্রেমে পড়েছি। ভালোবাসি আবীর বাবুকে। কিন্তু কি করে তাকে বলবো?? যদি আমাদের বন্ধুত্ব টা নষ্ট হয়ে যায়?? আবীর বাবুকে আজ মনমরা দেখাচ্ছে।আমার মনটা মোচড় দিয়ে উঠলো। কারন টা কি? জানতে হবে।তার সাথে তার মনটা ও ভালো করার চেষ্টা করতে হবে। -এই যে মিস্টার, আপনার মন খারাপ নাকি?? কিছুটা হকচকিয়ে পিছনে ফিরে বললো, -ও তুমি, কি খবর,?? -আগে বলুন আপনার মনটা খারাপ কেন?? -কে বলেছে?? আমার কিছুই হয় নি। ভাঙবে তবু মচকাবে না। আমাকেই কিছু একটা করতে হবে। আচ্ছা আবীর বাবুকে নিয়ে যদি ঘুরতে যাই!! তাহলে কেমন হবে। মায়াকেও নিয়ে যাবো। -আজ বিকেলে আমার সাথে দেখা করতে হবে। মায়াও আসবে। -কেন?? -কোনো প্রশ্ন না।আসতে বলেছি আসবেন। -ওকে বেবি, আসবো। বেবি কথাটা শুনে একটু লজ্জা পেলাম। মিথ্যা রাগ দেখিয়ে বললাম, -বেবি কেন বললেন?? একটু ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে, -আরে ওই আর কি, তুমি তো বাচ্চাদের মতো বললে তাই বললাম। -মোটেও আমি বাচ্চা দের মতো বলি নি। -এই যা, ক্লাস শুরু হয়ে গেল। চলো। আমরা ক্লাসে গেলাম। মায়াকে বলার পর মায়া কিছুতেই রাজী হলো না। হারামী একটা। কি আর করার ,আসতে যখন বলেছি তখন তো আমার‌ই তো আগে যেতে হবে। ক্লাস শেষ করে বিকেলে তৈরী হয়ে বের হলাম। এই যাহ, কোথায় আসতে বলবো সেটাই তো আবীর বাবুকে বলা হয় নি। ফোন নাম্বার টা ও নেই। এখন কি হবে?? কি বোকা আমি। আনমনা হয়ে কলেজের গেটের সামনে এগোতে লাগলাম। কেন জানি মনে হচ্ছে আবীর বাবু এখানে অবস্য‌ই আসবে। একি, আমার মন সঠিক ছিলো। আবীর বাবু তো এখানেই আছেন। কি সুন্দর লাগছে তাকে। যেনো স্বর্গের কোনো দেবদূত। কিছু সময়ের জন্য কোথাও হারিয়ে গেলাম। ঘোর কাটলো আবীর বাবুর কথা শুনে। -মনপুরার মেয়েরা যে এতো সুন্দর হতে পারে সেটা ভাবতেই পারিনি। কি সুন্দর তুমি। -আপনিও তো কম সুন্দর না। আচ্ছা আপনি কি করে বুঝলেন যে আমি এখানে আসবো?? আপনাকে তো কোথায় দেখা করতে হবে সেটা বলা হয়নি। তাহলে??? -এমনি মনে হলো যে তুমি হয়তো এখানে আসবে। আচ্ছা মায়া কোথায়?? -আসতে রাজি হয় নি। -যাক, ভালোই হয়েছে। -ভালো হয়েছে কিভাবে?? -ও কিছু না। স্পষ্ট বোঝা গেলো যে আবীর বাবু কথা ঘুরিয়ে ফেলেছে। -তা কি জন্য ডেকেছো?? -ঘুরতে যাবো তাই। -এই জন্য এতো কিছু। আগে বললেই হতো। আমি ভাবলাম আবার কি না কি। -কি ভেবেছেন আপনি?? -কিছু না। কোথায় যাবে?? -পার্কে যাবো। -চলো। আবীর বাবু একটা রিক্সা ডেকে আনলো।আমি আর আবীর বাবু একসাথে রিক্সায় চড়ে পার্কে গেলাম। রিক্সায় বসে হঠাৎ আবীর বাবু বললেন, -তমা তুমি আমার তৃতীয় কোনো মেয়ে মানুষ, যে কিনা আমাকে ভালো করে বুঝতে পারো । আমি তো হতবাক। কী বলে এসব?? -মানে, কি বলছেন এগুলো?? -কিছুনা, পার্কে চলে এসেছি। পার্কে গিয়ে আবীর বাবু সেই বেঞ্চটাতে বসালো। সেদিনকার কথা মনে করে একটু হাসি পেলো। আবীর বাবু ও আমার দিকে তাকিয়ে হাসছে। একটু লজ্জা লাগছে। খুব ইচ্ছে করছে আজ মনের কথাটা বলে দেই। কিন্তু মনের মধ্যে শুধু একটা কথাই ঘুরপাক খাচ্ছে, আমি যদি তৃতীয় মেয়ে হ‌ই, তবে প্রথম দুজন কারা?? আর হঠাৎ করেই বা একথা বললেন কেনো?? পার্কে কিছুক্ষণ থাকার পর আবীর বাবু বললেন, -চলো, তোমাকে এক জায়গায় নিয়ে যাবো। -কোথায়?? -আরে বাবা চলোই না। অগ্যতা যেতেই হলো। রিক্সা করে একটা ছোটো গলির কাছে নিয়ে আসলেন। রিক্সা থেকে নেমে একটা দোচালা ঘরের সামনে নিয়ে গেলেন। বাইরে থেকে বাচ্চাদের পড়ার শব্দ শোনা যাচ্ছে। এটা কি স্কুল?? এখানে কেন নিয়ে আসলো?? ভিতরে ঢুকে দেখি একটি মেয়ে কতগুলো বাচ্চাদের পড়াচ্ছে। আবীর বাবু মেয়েটিকে বললেন, -কেমন আছো কৃপা?? -ভালো, আপনি দাদা?? -ভালো। আজকে একজনকে নিয়ে আসলাম এখানে। ওর নাম তমা। আর তমা ওর নাম হলো কৃপা। বাচ্চাদের কৃপা আন্টি। -কেমন আছেন তমা দিদি?? -ভালো, আপনি?? -ভালো। আবীর বাবু আবার বললেন, -কৃপা, আজ আমার মেয়েটাকে ছুটি দিয়ে দাও। ওকে নিয়ে একটু ঘুরতে যাবো। আমার মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়লো। এগুলো কি শুনছি। আবীর বাবুর মেয়ে আছে?? উনি বিবাহিত?? তাহলে ওনার স্ত্রী কোথায়?? আর মেয়েটি এখানে কেনো?? পরিবারের সাথে কেনো থাকে না?? এই মুহুর্তে হাজারো প্রশ্ন ঘিরে ধরছে আমাকে। তাহলে আমার ভালবাসা???????? চলবে,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,, (সার্ভারের কারনে দুই দুই বার লিখেও পোষ্ট করতে পারি নি।এই জন্য আন্তরিক ভাবে দুঃখিত। পরের পার্টগুলো খুব ইন্টারেস্টিং হতে চলেছে। আপনাদের সহযোগীতা কামনা করছি )


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ হৃদয়ের স্পন্দন(part 8)
→ হৃদয়ের স্পন্দন (part 7)
→ হৃদয়ের স্পন্দন (part 6)
→ হৃদয়ের স্পন্দন (part 4)
→ হৃদয়ের স্পন্দন (part 3)
→ হৃদয়ের স্পন্দন (part 2)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now