বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
♥হৃদয়ের মাঝখানে♥
.
পার্ট-১৫ (Last Part)
.
অন্তর :তো কবে বিয়ে তোদের,,
আদি :তুই উপমার কাছে একটু যেতে পারবি…..
অন্তর :কেনো বল আমায়,,,,
খুব মিস করছিস নাকি তাকে, আর বিয়ের আগে এইসব হয় বুঝলি। এখন কোনো মতে মানিয়ে নে বিয়ের পর ওকে নিজের কাছেই পাবি……..
আদি :তোকে একটা বলি তুই আরেকটা কথায় যাচ্ছিস কেনো……
উপমা আমাকে বিনে কারনে ফেসবুক আর ফোন নাম্বার থেকে ব্লক দিলো কেনো। কী হয়েছে ওর ………
আমিতো ওর সাথে কোনো ফালতু কথা বলিনি,,,
অন্তর :হুম, নিশ্চয়ই কোনো কারণ আছে। নাহলে ও তোকে ব্লক দেওয়ার মতো মানুষ না আমার সালি আমি চিনি তাকে……..
আর আমিই কারন যেনে তোকে ফোন করে বলে দিবো ঠিক আছে………
আদি :আচ্ছা,,,,
তারপর ফোন রেখে দিলো অন্তর,,,,
আদির ফোনে গেলারি থেকে উপমার একটা ছবি বের করলো, ছবিটা দেখেই নিজের অজান্তে হেসে দিলো।
আদি একটাদিন উপমার সাথে কথা না বললে পাগলের মতো হয়ে যায়। আর আজ সেই যায়গায় তারা তিনদিন কথা বলেনি…….
.
অন্তর ফোন করে কিছুক্ষণ পর জানালো উপমা কিছুই বলেনি সে বললো আমাদের ব্যাপার আমাদের মাঝেই থাক আপনাকে মাঝে নাক গলাতে হবে না জিজু ………
অন্তর উপমার এমন ব্যবহারে কষ্ট পেয়েও ছিলো,,
আদি পরিবারের সবাই দেশে আসে,,
উপমার সাথে আজ এঙ্গেজমেন্ট আদি তার মা বাবা ও আদিরাকে নিয়ে উপমাদের বাসায় আসে,,,,
আংটিটা যখন উপমার হাতে আদি পরালো উপমা অন্যদিকে মুখ করে ছিলো। আদিকে পড়ানোর সময় ও অন্যদিকে মুখ করে পড়াতে নিলে হাত থেকে আংটি পড়ে যায় উপমার।
সবার মনে ভয় ডুকে গেলো নিশ্চয়ই কোনো অঘটন ঘটবে তাদের এই বিয়েতে,,,
আদি ও ভয়ে উপমার দিকে তাকিয়ে রইলো, পড়ে উপমা আংটিটা আবার উঠিয়ে পরিয়ে দেয়।
সবাই জোরে হাত তালি দিলো উপমা উপরে চলে যায় পিছন পিছন আদিও যায়। সবাই আদিকে উপমার পিছনে যেতে দেখে বললো কী বউ পাগলা আপনার ছেলে চৌধুরী সাহেব।
.
ওনারা তো আর জানিনা তাদের মাঝে কী হয়েছে,,
আদি :এই উপমা দাড়াও……
উপমা পিছন না পিরেই সামনে জোরে জোরে হাটতে লাগলো, নিজের রুমের সামনে চলে এসে দরজাটা লাগাতে গেলে আদি ধাক্কা দিয়ে ভেতরে ডুকে পরে,,,,
আদি :তোমাকে ডাকছি তুমি শুনতে পাওনি,
উপমা বিরক্তি নিয়ে,,,,
উপমা :কেনো ডেকেছেন বলুন,,,
আদি :তোমার হঠাৎ কী হলো এমন বিহেভ করছো কেনো আমার সাথে,
উপমা :তো কেমন ভাবে কথা বলবো শুনি,,,
যেমন লোক তেমন ভাবেই কথা বলা উচিত।
কথাটা আদির বুকে গিয়ে লাগে,,,,
আদি :ফেসবুকে ব্লক দিলে কেনো, কোনো দোষ করেছি আমি। আচ্ছা যদি দোষ করে থাকি তাহলে বলো কী করেছি আমি তারপর ও এমন করে থেকোনা।
উপমা :বিয়ে করতে আসছেন না বিয়ে করে চলে যান, কোনো বাধা বিপত্তি করার দরকার নেই।সময় হলে আমিই বলবো আপনার চরিত্র সম্পর্কে কথা। কতো ভালো মানুষ আপনি, সবার সাথে কী ভদ্রতা।
আদি কোনো কথাই বললো না চুপ করে দাড়িয়ে উপমার দিকে তাকিয়ে আছে,,
উপমা একনজর আদির দিকে তাকিয়ে সেখান থেকে চলে যায়,,,,
আদির মাথায় হাজারো প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, কী বললো উপমা। আদির চরিত্র কোনদিয়ে খারাপ, কী করলো সে এমন কতো কথাই মাথায় আসছে আর যাচ্ছে।
.
কমিটি সেন্টারে আদি আর উপমার বিয়ে হয়ে গেলো। নিঝুমের অসহ্য লাগছে উপমার সাথে কথা বলতে, এই কদিন উপমার ব্যবহার দেখে তার মাথা গরম হয়ে গেছে। অন্তরের সাথেও ওইদিন কেমন ভাবে কথা বললো।
উপমা সবার কাছে বিদায় নিয়ে এলো নিঝুমের কাছে,,,,
উপমা :তোর ইচ্ছে পূরন হলো নারে। দু বেস্টির একই যায়গায় আজ বিয়ে হলো। ঠিক না?
নিঝুম :হুম ছিল ইচ্ছে ও পূরন হলো। এটাই পাওয়ার অনেক শখ ছিলো আর তা হয়েছে।
উপমা :ঠিক আছে, আমি আসি।
উপমা চলে গেল। আজ বাংলাদেশ থেকে সে থাইল্যান্ড যাচ্ছে।
বিয়ের পোশাকেই প্লেনে উঠলো,,,,
আদি আর উপমা পাশাপাশি বসলো কিন্তু একটুও কথা বলেনি।
থাইল্যান্ড এসে প্লেন থামলো। তাদের বাড়ি থেকে আগেই তাদের জন্য গাড়ি এসে গেছে।
বাসার সামনে গাড়ি থামলে আদি তারা হুরো করে নেমে চলে যায়। আদিরা উপমাকে নিয়ে ভেতরে ডুকলো। আদি যখন চলে গেলো তখন তার মা -বাবা পিছন থেকে অনেক ডেকেছে শুনেনি।
.
পরেরদিন রাতে তাদের বাসর রাত উপমাকে সাজিয়ে বিচানার উপর বসে রেখেছে। কতক্ষন ধরে উপমা বসে আছে কিন্তু আদি এখনো আসছে না।
বসে দরজার দিকে তাকিয়ে আছে, রাত ১২টা বাজে আদি আসছে না দেখে উপমা বিচানা থেকে নেমে আদির পুরো রুমটা ঘুরে ঘুরে দেখলো।বেশ সুন্দর করে গুছানো রুমটা, একটা ছেলের রুম এতোটা গুছানো কী করে থাকে।
আদি অনেক গুছালো একটা ছেলে রুমটা দেখেই বুঝা যাচ্ছে।
উপমা আবার এসে বিচানায় শুয়ে পরে।
আদি এইদিনটি নিয়ে অনেক কিছু ভেবে রেখেছিল। আর আজ সেই কিছুই পূরন হলোনা। উপমা তাকে এতো ঘৃনা করে কেনো। উপমাকে একটা আংটি উপহার দিবে কবে থেকে বানিয়ে রেখেছিল এটা।
হাতে ড্রিংকসের বোতল অন্য হাতে সেই আংটিটি। ছাদের উপর দোলনাটার উপর বসে আংটির দিকে তাকিয়ে এক চুমুক দিলো বোতলে। তারপর আংটিটা সেরোয়ানির পকেটে ডুকিয়ে নিলো।
ভোরের আলো যখন ফুটলো তখন আদি জেগে যায়।হাতে বোতল এটা নিয়ে নিচে নামা যাবেনা। বাবা দেখলে বলবে তুই সারারাত ড্রিং করেছিস। তাই গার্ডেনের দিকে ছুড়ে পেলে দেয় বোতলটি। নিচে নেমে নিজের রুমে গেল।
দরজাটা খোলা রুমের এখনো ভেতরে ডুকলো আদি, দেখলো উপমা গুটিসুটি মেরে শুয়ে আছে। বউ সাজে উপমাকে বেশ লাগে আদি কিছুসময় উপমার দিকে তাকিয়ে থাকে। কী মায়াভরা মুখটি। পরে আদির মনে পড়ে গেলো সেদিনের উপমার কথাটি।
আদি আর না দাড়িয়ে ফ্রেশ হয়ে অফিসের জন্য রেডি হয়ে বেরিয়ে যায়।আদি যাওয়ার পর সবাই আস্তে আস্তে ঘুম থেকে উঠলো।
উপমা উঠে দেখে আদি এখনো নেই রুমে। তাহলে কী রাতে আসেনি আদি। সেও উঠে ফ্রেশ হয়ে নেয়।
.
নিচে নেমে দেখে আদির বাবা বাইরে থেকে জগিং করে এসেছে। আদির মা কাজের লোকদের সাথে রান্নার কাজে হেল্প করছে। আদিরা বোধহয় এখনো উঠেনি ঘুম থেকে।
আদির মা :গুড মর্নিং বউ মা,
উপমা :গুড মর্নিং,,
আদির মা :এতো সকাল উঠে এলে যে,,,
উপমা :আমার সকালে ঘুম থেকে উঠার অভ্যাস আছে, তাই উঠে পরলাম।
উপমা রুমে আদিকে দেখেনি তাই ভাবলো নিচে আছে হয়তো, কিন্তু নেই সে। একবার জিজ্ঞেস করবে আদির মাকে যে আদি কোথায় পরে আবার ভাবলো জিজ্ঞেস করলে আবার কতো প্রশ্ন হবে তাই আর জিজ্ঞেস করেনি।
আদির মা :আদি এখনো ঘুমাচ্ছে মনে হয় বউমা …..
উপমা কি বলবে ভেবে পায়না,
উপমা :ওনি কোথায় যেনো বের হলো আমাকে বলে যায়নি। শুধু বললো আমি একটা কাজে যাচ্ছি তুমি মামুনি আর বাবাকে বলে দিও…….
আদির মা :ও আচ্ছা ঠিক আছে।
তুমি বসো আমি তোমার জন্য নাস্তা আনছি,,,,
উপমা মিথ্যা বললো তার নতুন জীবন শুরুতেই। থাক তাও বাচা গেল, ওদের মাঝে কী হইছে তা না হলে জানাজানি হয়ে যেতো।
রাতে আদি আসলো বাসায় আসলো, দেখলো সবাই আড্ডা দিচ্ছে তার মা বাবা, আদিরা, উপমা।
উপমার দিকে পিরেও একনজর তাকায়নি আদি সোজা উপরে চলে গেল।
আদির মা :আমি খাবার বারছি ওর জন্য তুমি গিয়ে ডেকে আনো,,,,
উপমা :জ্বি, মা,,,,
উপমা উপরে গেলো রুমে ……..
আদি তখন চেন্জ করছিল,,,
খালি গায়ে ছিলো আলমারিতে জামা খুজছিল,,,,,,
.
উপমা :এই যে শুনছেন,,
আদি কোনো উওর দিলো না পিছনে পিরে একবার তাকিয়ে আবার জামা খুজতে লাগলো…
উপমা :আপনাকে মা নিচে খেতে ডাকছে,,
আদি :………(নিশ্চুপ)
উপমা গিয়ে আলমারীর ভেতর থেকে একটা জামা বের করে দিলো,,,,
উপমা :নিন পড়ুন,,,
আর কার সাথে রাগ দেখাচ্ছেন আপনি,,
আদি আবার কোনো কথা না বলেই লেপটপ নিয়ে সোফায় বসে পড়লো,,,,
উপমা :কথা বলবেন না আমার সাথে,,,
কী হইছে আপনার শুনি কাল রাতে ও আপনার দেখা মিলেনি,,
সারাদিন কোথায় ছিলেন খেয়েছেন আপনি,,,
আদি :এতো পকপক করছো কেনো আমার খিদে নেই আমি খাবো না। তুমি গিয়ে খেয়ে নেও ……….
বলেই লেপটপে কিছু খুজতে লাগলো……
উপমা :আমি পকপক আচ্ছা ঠিক আছে যান আমি পকপক করছি। তাও খেতে চলুন …..
আদি :এই মেয়ে তোমায় কতোবার বলবো যে আমি খাবো না ……
উপমা :আচ্ছা ঠিক আছে …….
উপমা নিচে চলে গেল,,,
আদি :এই নারী জাতী আর ঠিক হলোনা কানের কাছে এসে শুধু শুধু ঘ্যান ঘ্যান করে জাস্ট অসহ্য লাগে…….
উপমা নিচে গিয়ে,,
উপমা :মা খাবারটা আমার হাতে দিন আমি ওনাকে দিয়ে আসি, ওনি কাজ করছে কিছু অফিসের তাই নিচে আসতে পারবে না।
আদির মা :আচ্ছা নাও ধরো………
খাবারের প্লেট হাতে নিয়ে চললো আদির রুমে,,
আদির মা :দেখলি আদিরা স্বামীর জন্য কতো আদর তোর ভাবির…….
আদিরা :হুম, এককালে তোমার ও ছিলো। বিয়ের পর আমার ও হবে আমার স্বামীর জন্য 
আদির মা :থাপ্পড় চিনিস এই বয়সে মেয়ে কতো পাকনা হয়ে গেছে স্বামীকে খাইয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে ফাজিল 
আদিরা :আমি বাবার কাছে বলবো কিউটি ভাবির কাছে বলবো তুমি আমাকে থাপ্পড় মারবে এএএ……
আদির মা :যা গিয়ে বলে আয়……..
আদিরা নেকা কান্না করতে করতে তার বাবার কাছে চলে গেলো।
উপমা :এই নিন খান আপনার জন্য খাবার এনেছি,,,,,
আদি :কতোবার বলবো যে আমি খাবো না! কাল আমার আর্জেন্ট একটা মিটিং আছে কাজ করতে দাও শান্তিতে ……….
উপমা :আচ্ছা তাহলে আমি খাইয়ে দেই,,,
কাপড়ের আচলটা কোমড়ে গুজে এক হাতে প্লেট অন্য হাত দিয়ে মেখে,,,,
উপমা :নিন হা করুন ……….
আদি রাগী চোখে উপমার দিকে তাকালো, তার কাজ করার সময় যদি কেউ ডিস্টার্ব করে তার প্রচুর পরিমাণে রাগ উঠে ……….
উপমা :এই শুনেন আমি আপনার রাগকে না ভয় পাই না হা করবেন কিনা সেটা বলুন নাহলে আমি ও খাওয়াতে জানি বুঝলেন ……
আদি :ও আচ্ছা দেখি আমি না চাইলে তুমি কীভাবে খাওয়াতে পারো……..
উপমা :ওয়েট দেখাচ্ছি,,,,
আপনার বিয়ে করা বউ আমি গায়ে পরলে সমস্যা নেই তো
আদি :আমার গায়ে পরলে আমি কিন্তু ………
উপমা প্লেটটা হাত থেকে টেবিলের উপর রেখে আদির সামনে গিয়ে ঝুকে আদির মুখ এক হাত দিয়ে চেপে ধরলো,,,
জোরে চেপে ধরায় আদি ব্যথা পেয়ে ছাড়ো বলতে নিলেই উপমা এক লোকমা আদির মুখে ডুকিয়ে দেয়……….
উপমা :কী পারলাম তো……….
আদি :আজ প্রথম কোনো বউ আমায় খাইয়ে দিলো………….
উপমা :হোয়াট আপনি আগেও বিয়ে করছেন 
আদি :এমা না না আমি আবার বিয়ে করতে যাবো কেনো, বিয়ে আমি এক জঙ্গলী মেয়েকে করেছি আজ যে খাইয়ে দিলো,,,,
উপমার খাওয়ানো শেষ হলে,,
আদি :তুমি খেয়েছো……
উপমা :খাবো নাতো কী করবো আপনার জন্য বসে বসে কী অপেক্ষা করবো নাকি,,,
আমার খিদে পাইছে আমি খেয়ে নিয়েছি কারো জন্য অপেক্ষা করার টাইম নেই আমার …..
আদি :বাপরে …….
এন্গেজমেন্টের দিন আমার সাথে এতো খারাপ বিহেভ করলে আজ হঠাৎ এতো ভালো হলে কীভাবে আর প্লিজ আমার দোষটা কী বলো……
.
উপমা মনে মনে চিন্তা করতে লাগলো,,
ও কী আসলেই এইসব কিছু জানেনা, জানলে কী এতোবার বলতো আমার দোষ কী আমার দোষ কী।ক্ষমা চাইতো নিশ্চয়ই এইসব বাজে মেসেজ গুলো করার জন্য,,
আর আমার মনে হয় ওর মোবাইল ওই সময় অন্য কেউ ধরেছে কে ধরতে পারে। এখানে কাউকে চিনিও না আমি। আদিকে দেখলে ও বুঝা যায় ও এইসব কথা আমায় বলবে,,,
আদি :হেলো কী ভাবছো,,
উপমা ডেসিনটেবিলের উপর থেকে মোবাইলটা নিয়ে আদির সামনে মোবাইলটা ধরে,,,
উপমা :এইসব কে করেছে বলেন আমায়,,
আদি ফোনটা হাতে নিয়ে পড়তে লাগলো……
পাস্ট আদির দেওয়া মেসেজ …….
—হেই বেবি,,
—হোয়াট ইজ দিস এটা কি নামে ডাকছেন আমায়,,,
—তো কী নামে ডাকবো তোমায়, সুইটহার্ট, সেক্সি, বেবিডল, সানিলিউন এইসব নামে ডাকবো। আচ্ছা আজ থেকে এইসবই বলে ডাকবো …………
—
—কুল বেবি কুল এতো রেগে যাচ্ছো কেন,,
জানো আজ তোমার প্রপোইল দেখলাম কী সেক্সি সেক্সি পিক ছাড়ো তুমি,, পিংক কালারের শার্ট পড়ছো তুমি ওই ছবিটায় তোমার সাদা পেটটা দেখা যাচ্ছিল জানো। মন চাইছে আমার একটা কামুড় দেই ………..
—মাইন্ড ইউর লেন্গুয়েজ আদি চৌধুরী।
এতো খারাপ আপনি আগে জানতাম না প্রতিটা মেয়ের সাথে আপনি এইভাবে কথা বলেন তাই না।
—এইভাবে শুধু কথা নয় সুইটহার্ট রাতে হোটেলে গিয়ে মেয়েদের সাথে সেক্স করি।
—
আমার কাছে বললেন আজ অবধি একটা মেয়ের সাথে ঘুরতে যাননি আর এখন এইসব ছিঃছিঃ ……………
আপনি এতো খারাপ লোক এতো অভদ্র, নোংরা লোক। আজ জানা হয়ে গেছে আমার, নেক্সট টাইম আমার সাথে কথা বলার চেষ্টা করবেন না। করবেন কীভাবে আমি তো আজই আপনাকে ব্লক লিস্টে রাখবো এমন লোকদের জন্য ব্লক লিস্টই বেটার …………
—ইউ লিসেন ব্লক দেওয়ার আগে চিন্তা করো বেবি আইডি হ্যাক হবে ………..
—আরে আপনি শুনুন আপনার মতো খারাপ লোককে না জেলে ডুকানো উচিত। মেয়েদের সম্মান করতে যানেনা আপনার ঘরে কী মা -বোন নেই ওদের কথা চিন্তা করুন ওদের যদি কেউ এভাবে কথা বলে তখন আপনার কেমন লাগবে…………
ব্লা ব্লা আরো অনেক কিছু বলে ব্লক দিলো উপমা।
ব্লক দেওয়ার সময় আদিকে একটু কষ্ট ও হয়েছিল আবিরের যায়গায় আদির নামটি বসিয়েছিল তার
#মনের_মাঝে
আর সেই আদিকে আজ ব্লক দিলো। চোখ দিয়ে এক ফোটা পানিও পরেছিল।
আদি :বিশ্বাস করো আমি এই মেসেজগুলো করিনি কে করেছে এটা আমি নিজেও জানিনা।
উপমা :আপনার মোবাইল আপনার একাউন্ট আর আপনি জানেন না।
আদি :আমার মোবাইলে তো লক করা থাকে তাহলে এইসব,,,,
আর আমার মোবাইল চেক করে দেখো এইগুলোর একটা মেসেজ ও নেই।
উপমা :হয়তো ডিলেট দিয়েছেন,,,
আদি আর কোনো কথাই বললো না উপমার কাছে তার চরিত্র খারাপ করলো কে,,,
তাকে খুজেঁ বের করতেই হবে ………
কিছু মনে করে আদি রুম থেকে বেরিয়ে গেলো।
মোবাইলটা সোফায় মেলা দিয়ে রেখে গেলো যেনো কেউ তাকে ফোন দিয়ে ডিস্টার্ব করতে না পারে।
.
উপমা বসে বসে আদির জন্য অপেক্ষা করছে আর ভাবছে এইগুলো না বললেও পারতো আজ যদি আদি নিজের কোনো ক্ষতি করে দেয়। না না এইসব করলে উপমার কী হবে আবির ছেড়ে চলে গেছে এখন শুরু তার জীবনে আছে ওর কিছু হয়ে গেলে ও নিজেকে রাখবে কীভাবে।
ফোন দিতে গেলেই দেখলো মোবাইল তো নেয়নি ও।
এক সময় উপমা ঘুমিয়ে পড়ে।
ভোরে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নামাজ পড়ে নিচে যেয়ে কাজের বুয়াদের সাথে সকালের নাস্তা তৈরিতে হেল্প করছে।
উপমা ভেবেছে আদি হয়তো কালকের মতো আজও সকালে অফিসে চলে গেছে তাই আর খোঁজ লাগায়নি। কিন্তু আদি কাল রাত থেকে এখনো বাড়িতে পেরেনি এটা ও জানেনা। সবার সাথে নাস্তা করে উপরে যায়, ভাবছে আজ তিনদিন হলো এই বাড়িতে কিন্তু আদির রুম মা বাবার আর আদিরার রুম ইত্যাদি ছাড়া আর কিছুই দেখা হয়নি। তাই ছাদে গেলো।
ছাদে বোধহয় কেউ আশে না বেশি দেখলেই বোঝা যায়। কাজের লোকরা এসে সাপ করে যায় দু একদিন পর …………..
ছাদের দরজা খুলে ভেতরে আসলো ছাড়পাশ ঘুরে দেখলো। অনেক সুন্দর তো ছাদটা। ছাদ থেকে নেমে রুমগুলো দেখতে গেলো,,,
কতো বড় বড় রুমগুলো বাড়িটাও তো কতোবড়,, বলতে হয় চৌধুরী বাড়ি এটা। সব রুমগুলো দেখলো, তারপর মোড়ঘুরে চলে যেতে নিলেই চোখ পড়ে একটা রুমের উপর ………….
ওটার সামনে গেলো দরজায় তালা আটকানো পাশে দেওয়ালে চাবি আটকানো। চাবি নিয়ে দরজা খুলে ভেতরে ডুকলো,,,
উপমাতো অবাক ওর এতো ছবি তাও জলরং দিয়ে আকা……….
একটা টেবিলের উপর ডায়রী খুললো তা উপমাকে নিয়ে লেখা কতো কী। আর পাশেই আরেকটা ডায়রী তাও উপমাদের বাড়িতে যেদিন প্রথম আদি গেলো ওইদিন যেই ডায়রিটা পড়েছে সেটা। উপমার পছন্দের নেবি -ব্লু কেপটা, কিন্তু এটা এখানে কী করে নিধি বলেছিল এটা হারিয়ে গেছে তাহলে।
নিশ্চয়ই নিধিকে আদি ঘুষ খাইয়ে কেপটা নিয়েছে ………
আদিকে একবার হাতের কাছে পাই তারপর ঘুষ খাওয়ানো দেখাবো।
তারপর অন্যপাশের দেওয়ালে উপমার কালো শাড়ি পড়া ছবিটা, আল্লাহ নিশ্চয়ই বেটা এইসব চুরি করেছে।
একটা বার হাতের কাছে আদিকে পাক তারপর মজা বুঝাবে। আর উপমাকে এতো ভালোবাসে বলেনি কেনো।
উপমা তো আদির বলার অপেক্ষায় ছিলো কিন্তু দাড়া বেটা তুই এতো লাজুক আমি বের করছি।
তারপর নিচ থেকে উপমার ডাক পরে আদিরা ডাক দিলো ………..
উপমা শুনে তারাতারি দরজা আটকিয়ে নিচে গেলো।
উপমা :হে বলো আদিরা,,
আদিরা :তোমায় রাইজান ভাইয়া ডাকছে কি জরুরি কথা বলবে,,,
উপমা :আমায় আবার কি বলবে আর ওনিই বা কে চিনলাম না তো…..,,
.
আদিরা :আদি ভাইয়ার বন্ধু এখানের তাই তুমি চিনোনা। আর আমি জানিনা কী বলবে জিজ্ঞেস করলাম আমায় বলো বললো না। বললো শুধু তোমাকেই বলবে যাও শুনে আসো …..
উপমা গেলো যেতে যেতে ভাবতে লাগলো আমায় আবার কী বলবে,,,
দূর সেসব ওনার কাছে শুনলেই তো বোঝা যাবে …..
.
উপমা :আমায় খুঁজছিলেন আপনি?
রাইজান :হুম আপনায় খুজছি আমি,,,,
উপমা :হ্যাঁ বলুন কী বলবেন,,
রাইজান :আদি আমার বন্ধু, অনেক দিন ধরেই বন্ধুত্ব। আমাদের সাথেনা কোনদিন খারাপ ব্যবহার করেনি।
আর আপনি ওকে ভুল বুঝবেন না ও কিন্তু ওইদিন মেসেজগুলো করেনি।
উপমা :তাহলে কে করেছে………
রাইজান :ওইদিন রাতে মেসেজগুলো করেছি আমি, আমার ফোনে ব্যালেন্স ছিলো না তাই ওর ফোনটা নিয়েছিলাম কথা বলতে! মোবাইল আমার কাছে ছিলো আমিই সব করি ওর কোনো দোষ নেই।
উপমা :এতো খারাপ হোন কী করে আপনি,,
আপনার ঘরে ও তো মা -বোন আছে তাদের কথা চিন্তা করবেন না আপনি,,, আজ আপনার কারনে আমি আমার স্বামীকে ভুল বুঝেছি।
রাইজান :সরি ভাবি আমি তার জন্য খুবই দুঃখীত। কিন্তু ভাবি আমি আগের তুলনায় এখন অনেক ভালো হয়ে গেছি।
এখন আর এইসব করিনা ………..
উপমা :এইতো গুড,,,,
আর খারাপ কাজ করবেন না এইসব ভালো না।
রাইজান :আদি কী বাসায় আছে?
উপমা :নাতো অফিসে গেছে ও………
.
রাইজান :ও অফিসে যায়নি,
আমি গিয়েছিলাম তার অফিসে ওর পিএ বললো আসেনি।
উপমা :ওতো বাসায় ও নেই তাহলে কোথায় গেলো। কাল রাতে বাড়ি থেকে বের হলো ……..
রাইজান :কালরাতে আমার কাছে এসেছিলো তারপর তো ও চলেই আসে,,,,
তাহলে কোথায় যেতে পারে ও,,,
অন্তর :কে কোথায় যেতে পারে শুনি,,
নিঝুম :ওরে আমার বেস্টিটারে কেমন আছিস রে বাহ শাড়ি ও পরিস তুই এখন দারুণ লাগছে কিন্তু শাড়িতে এখন থেকে শাড়ি পরবি।
উপমা :হ্যাঁ আমি ভালো আছি, তুই?
নিঝুম :এইতো ভালোই।
রাইজান :হেই ব্রো……….
হাউ আই ইউ……..(অন্তরকে জরিয়ে ধরে)
অন্তর :আম ফাইন ইউ……….
রাইজান :ফাইন।
নিঝুম :কি হয়েছে তোর মন খারাপ করে আছিস কেনো………….
অন্তর :আমার শালি সাহেবা এমন করে আছে কেনো শুনি,,,,
আর আমার ভাই কোথায় আদি………
রাইজান :কাল রাতে আমার কাছে এসেছিলো। তারপর আর বাসায় আসেনি ভাবি জানেনা আদি ইজ হোয়ার………….
অন্তর :হোয়াট,,,,
আদি কোথায় গেছে জানিস না,
ও কেনো বাসা থেকে বের হয়েছে আর ফোনতো করতে পারো উপমা,,,,
উপমা :ফোন রুমে রেখে গেছে নিয়ে যায়নি ……….
.
নিঝুম :তোর সাথে কোনো ঝগড়া হইছে রে উপমা,
উপমা :হুম, ঝগড়া তো আমি করেছি ওনার সাথে শুধু শুধু (মন খারাপ করে)
নিঝুম :তুই শুধু শুধু কেনো ঝগড়া করিস ওর সাথে কতো ভালোবাসে ভাইয়া তোকে জানিস।
উপমা :তুই এইসব জানিস কী করে…………….
অন্তর :আমার কাছে সবই বলে ও বোন, কতো ভালোবাসেও তোমায় জানো। থাইল্যান্ড এসে তোমায় না দেখে পাগলের মতো হয়ে গেছিলো আর আমি কয়দিন আগে যে বাংলাদেশে গিয়েছিলাম শুধু বলতো তোমার ছবি তুলে দিতাম। তুমি কী করো, আবার বলে জানিস উপমার হাসিটা না অনেক সুন্দর, চেহারাটায় অনেক মায়ভরা। ওর চোখের দিকে তাকালে ডুবে যেতে মন চায় চোখের সমুদ্রে……………..
আমার বন্ধুটা না তোমার জন্য পাগল তাই এতো পাগলামি করে।
উপমা :আজ ওর পার্সোনাল রুমটায় অনেক কিছুই দেখলাম আমায় নিয়ে। কিন্তু, ও বলেনি কেনো?
অন্তর :বলেনি কেননা তুমি যদি রিজেক্ট করে দাও তার প্রপোজ। তাহলে কষ্টে ও না মরে যেত। ও রিজেক্ট করার ভয়ে তোমায় প্রপোজ করেনি। তোমায় শুধুই দেখে গেছে। কতোবার বললাম একবার বল ওকে বলতো সময় হলেই বলবো। এই শুধু বলতো।
.
উপমা :এখন কোথায় খুঁজবো আমি ওকে, কোথায় গেছে কি করছে, কিছুই তো জানিনা,,,
অন্তর :আমার মনে পরেছে আদি বলেছিল একবার যখন তার মন খারাপ থাকে তখন সে এই যায়গায় আসে। আমাকে একবার নিয়েও গিয়েছিল ……..
উপমা :কো…..কোথায় সেই যায়গা আমায় নিয়ে চলো জিজু ……….
অন্তর :আচ্ছা চলো……..
নিঝুম, অন্তর, উপমা তিনজন চললো সেই যায়গায় কিছুটা দূর এসে গাড়িটা থাকলো।
অন্তর :যাও এই সোজা বরাবর ……….
উপমা :তোমরাও আমার সাথেই চলো……
নিঝুম :আমাদের কাবাব মে হাড্ডি হওয়ার দরকার নেই, আপনার স্বামী সেটা আপনি বুঝবেন বুঝাবেন আমার গিয়ে কী করবো ……
উপমা আর কথা না বলে সামনে দিকে এগলো………
নিঝুম আর অন্তর ও কিছুটা সামনে এসে দাড়ালো যেনো দেখতে পায় উপমা যাচ্ছে কি না,,,,
উপমা যেতে যেতে এসেই পড়লো,,,,
সমুদ্রের কাছেই খোলা মেলা একটা যায়গা যে কেউ আসলেই মন ভালো হয়ে যাবে, কেউ একজন একটা বেঞ্চে বসে আছে পা উপরে উঠিয়ে। সমুদ্রের ঢেউগুলো একবার আসছে আবার যাচ্ছে সেগুলো দেখছে।
উপমা পিছনে দাড়িয়ে জামা দেখেই চিনতে পারলো এটাই আদি একটুও ভয় করছে তার এখানে একা বসে থাকতে। ওহ ছেলেরা তো আবার সাহসী ভয় করবে কেনো।
উপমা দু হাত পিছনে রেখে আস্তে আস্তে সামনে যেতে যেতে,,,,
উপমা :এই যে হিরো,,,
আদি কারো আওয়াজ শুনতে পেলো,,,,
উপমা :এই যে ড্রামা হিরো কী করছেন এখানে, আপনার বাসা কোথায়। আর থাকার যায়গা নেই তাই এখানে পড়ে আছেন,
আমাকে বললেও পারতেন আমার স্বামীর বাড়িতে একটা থাকার ব্যবস্থা করে দিতাম আপনাকে।
আদি শুনেও না শুনার বান করে সামনে তাকিয়ে আছে,,
উপমা আদির সামনে গিয়ে দাড়ালো,,,
উপমার এক হাত আদির গালে আরেক হাত চুলের উপর রেখে…….
উপমা :আহারে রাতে ঘুমাননি না তাই চেহারার এই অবস্থা আপনার হইছে আর চুলগুলো এতো এলোমেলো কেনো শুনি। আপনি জানেন না আপনার চুলগুলো আমার কতো ক্রাশ ………..
আদি :………..(নিশ্চুপ)
উপমা আদির দু গালে হাত রেখে,,,
উপমা :গাল দুটো বাচ্চাদের মতো কেমন ফুলিয়ে রেখেছে দেখো,
গাল ফুলিয়ে রেখোনা বাবু না হলে পরে বেলুনের মতো তোমায় উড়িয়ে নিয়ে যাবে আকাশে ……………………..
উপমা বাচ্চাদের মতো আদির কপালে একটা চুমু দিলো,
ওইদিন নিঝুম আর অন্তর উপমার কাহীনি দেখে হাসতে হাসতে পিট,,
নিঝুম :এই শুনো আজ রাতে ওদের জন্য একটা প্লেন করে রেখেছি,
অন্তর :কী শুনি সেই প্লেন?
নিঝুম :এখন এখান থেকে চলো যেতে যেতে বলছি,
অন্তর :আচ্ছা চলো,
.
আদি :কেনো এসেছো এখানে?
উপমা :আমার স্বামীর কাছে এসেছি আপনার কোনো সমস্যা আছে তাতে,
আদি :নাহ। আমার আবার কিসের সমস্যা থাকতে যাবে।
উপমা :সরি (এক কানে ধরে)
আদি :কেনো?
উপমা :ভুল বুঝার জন্য,,,,
আদি :ইটস ওকে যে কেউই এমন করতো এইসব মেসেজ দেখলে,,,
উপমা :বাসায় চলুন,
আদি :হ্যাঁ চলো, খুব খিদে পাইছে,,,,
দুজনে গাড়িতে উঠে বসলে,,
বাসা থেকে ফোন আসলো আজ রাহুলদের বাসায় কোনো অনুষ্ঠান আছে তাই মা, বাবা, আর আদিরা চলে গেছে ওরাও যেনো রেডি হয়ে চলে আসে।
আদি আর উপমা বাসায় না যেয়ে সোজা রেস্টুরেন্টে ডুকে উপমাই আদিকে খাইয়ে দিয়েছিল। মার্কেটে যায় শপিং করে সারা শপিংমল উপমা আদির হাত ধরেই হেঁটেছিলো কিছুই চিনেনা যদি হারিয়ে যায় সেই ভয়ে।
সারাদিন বাইরে ছিলো আদি আর উপমা,
রাতে বাসায় পিরে। মা বাবা আর আদিরাতো আজ বাসায় আসবেই না, আদি তার বাবাকে পরে ফোন করে জানিয়ে দিলো তার যাবেনা।
বাসায় আসলেই,,,
উপমা :আরে তুই আর জিজু বাসায়,
ভালোই করেছিস আড্ডায় বসবো।
নিঝুম :আমার সাথে আসুন আপনি, পরে সব হবে।
অন্তর :তুই ও আমার সাথে আয়,,
দুজন দুজনকে নিয়ে যায়। উপমার চোখে কালো ফিতা বাদা ছিলো আদির ও সেম। উপমাকে নেবি -ব্লু কালারের মধ্যে একটা শাড়ি পড়লো চুল গুলো খোলা ছিলো সামনে বেনি করে কানের কাছে গুজানো। কানে ঝুমকো গলায় ডায়মন্ড নেকলেস, হাতে চুরি।
আদিকে নেবি -ব্লু স্যুট পড়ালো অন্তর তারপর চোখ বেধেঁ রুমে ডুকালো। আর বাইরে থেকে দরজা আটকে নিঝুম অন্তর চলে গেলো।
উপমা চোখের বাধন অনেক আগেই খুলে পুরো রুম দেখে নিলো, আদি চোখের বাধন খুললো দেখলো মোমবাতি আর গোলাপ ফুল দিয়ে রুমটা সাজানো। বিচানায় গোলাপের পাপড়ী দিয়ে লাভ আকা।
তারপর সামনে চোখ পরতেই দেখে আয়নার সামনে দাড়িয়ে আছে উপমা তার ভালোবাসার মানুষ।
আদি হাত থেকে ফিতাটা পেলে উপমার দিকে এগোলো। দুজনেই বুঝলো নিঝুম আর অন্তর তাদের এক করার জন্য আজ তাদের সাজিয়েছে যেমন আদি আর উপমা তাদের জন্য করেছে।
.
আদি নিজেকে সামলাতে পারেনি উপমাকে আজ এতো সুন্দর ভাবে দেখে। আদি যেয়েই উপমাকে পিছন থেকে জরিয়ে ধরে। উপমা শিহরিয়ে উঠে আদির জরিয়ে ধরায়। আজ আদির যা খুশি সব করেতে দিবে বাদা দিবেনা উপমা।
আদি উপমার ঘাড়ে নাক দিয়ে ঘষতে থাকে উপমা ভয়ে আদির হাত দুটো চেপে ধরে।
আদি :ভালোবাসি, খুব ভালোবাসি উপমা তোমায়। আই লাভ ইউ উপমা।
উপমা :লাভ ইউ ২ড্রামা হিরো।
আদির দিকে পিরে দাড়ালো।
উপমা এক হাত দিয়ে আদির গলার পিছনে জরিয়ে ধরে অন্য হাত দিয়ে নাকটা ধরে টেনে,,,,
উপমা :ঘুষখোর, চোর একটা,,
আদি :এইসব হলাম আমি কবে……
উপমা :হলেন কবে, নিধিকে ঘুষ খাইয়ে আমার শখের ক্যাপটা নিয়ে আসছেন তারপর আমার বাড়ি থেকে আমার ছবি চুরি করেছেন। এইসব করলে কী বলবো মনচোর নাকি ঘুষখোর চোর কোনটা বলবো।
আদি :”মনচোর “বলো না। তুমি আমার পার্সোনাল ঘরটায় ডুকে এইসব দেখছো তাই না।
উপমা :ইয়াহ ………..
আদি :তাহলে তো তুমি আরেক চোর,,,,
উপমা :হ্যাঁ আর আপনি চোরের বর হিহিহি …….
আদি :এইদিকে পিরো ……
উপমা :কেনো?
আদি :অনেকদিন ধরে একটা জিনিসের উপর আমার নেশা আছে তা টেস্ট করে দেখতাম।
উপমা :ওমা আপনি নেশা করেন,,,,
আবার টেস্ট ও করবেন,,,,
আদি উপমার মুখটা উপরে তুলে ধরেই আবার হাতটা উপরে পিঠে রেখে উপমার ঠোঁটে ঠোঁট চেপে দিলো। আদি কিছুক্ষণ পর ছাড়লে দুজনে কপালে কপাল রেখে বড় বড় নিশ্বাস নিতে থাকে ……….
আদি :এতো মিষ্টি কেনো,,,,
উপমা : যাহ লুচু কোথাকার ……….
আদি :আমি লুচু না দাড়াও এখনই দেখাচ্ছি কী পরিমাণ হতে পারি………
আর রোজ রোজ না আমার অত্যাচার সহ্য করতে হবে,,,,,
উপমা লজ্জায় আদির বুকে মুখ লুকালো,,,,
আদি :এই #হৃদয়ের_মাঝখানে শুধু তোমার জন্যই যায়গায় আছে থাকার জন্য, মাথা রাখার জন্য। না বুকটা আর কারো না। আর #হৃদয়ের_মাঝখানে শুধু তোমার নামই লেখা আর কারোর জন্য না।
তারপর আদি উপমাকে কোলে তুলে বিচানায় নিয়ে যায়।
ওদের জীবনের আজ নতুন অধ্যায় শুরু, ভুল বুঝাবুঝি শেষে দুজন দুজনাকে পেলো। আর যেনো কোনো বিপদ কোনো দুঃখের সম্মুখীন তারা হয় সবসময় ভালো থাকে এটাই আশা করি। সামনের মাসে রাহুল আর নীলার বিয়েটাও যেনো ঠিকঠাক মতো হয়। সবাই সবার ভালোবাসার মানুষকে পায়।
.
.
“সমাপ্ত ”
(গল্পটা পুরোটাই লিখলাম আপনাদের কথা চিম্তা করে আশা করি সবারই ভালো লাগবে)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now