বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
♥হৃদয়ের মাঝখানে♥
.
পার্ট-১০
.
উপমা ও আদি দুজনে সমুদ্রের কিনারায় নিরলে হাটছে কেউ কোনো কথা বলছে না। তখনই আদি বলে উঠলো,,
.
আদি :তুমি অনেক ভালো,,
সবার সুখে দুঃখে নিজেকে বিলিন করে দেও।
উপমা :হুম, ঠিকই বলছেন,
আমি সবার সুখে দুঃখে নিজেকে বিলিন করে দেই। কেননা আমাকে একজন ভালোবাসা শিখিয়েছে, মানুষকে কীভাবে ভালোবাসতে হয়, সাহায্যে করতে হয় সব।
.
আদি :নিশ্চয়ই আবির,
উপমা :হুহ, ও শিখিয়েছে ওর থেকে আমি অনেক কিছু শিখেছি, পেয়েছি, কিন্তু ওকেই পেলাম না।
আদি :সবাই তো সব কিছু পায় না, মানুষকে কীভাবে ভালোবাসতে হয় তা পেয়েছো, শুধু ভালোবাসাকে পেলেনা।
.
আদি :তোমাকে একটা কথা বলি, নিজেকে আর আগের জিবনে পিরিয়ে নিও না, নিজেকে নতুন করে গড়তে শিখো, তোমার মা বাবার দিকে তাকাও ওদের তোমাকে নিয়ে কতো সপ্ন আছে, কতো আশা আছে।
.
আদির কথা গুলো শুনে উপমা তার মায়ের সেই পুরোনো দিনের কথাগুলো মনে পরে যায়।
যেদিন উপমার জন্ম দিন ছিল ,,
উপমা :মাম্মা আমাকে এই ডায়মন্ড নেকলেসটায় কেমন লাগছে,,
উপমার মা :আমার মাম্মাটাকে ঠিক পরীর মতো লাগছে,
উপমা :হিহিহি সত্যি,,
.
উপমার মা :হেরে বাবা সত্যি বলছি,,
জানিসতো তোকে নিয়ে আমার কতো সপ্ন, কতো কি,,(উপমার গালে হাত দিয়ে)
একদিন তোকে আমি খুব সুন্দর করে বউ সাজাবো, তোকে বিয়ে দেব একটা রাজপূএরের কাছে।
উপমা :বাব্বা আমাকে নিয়ে আমার মাম্মার এতো সপ্ন,,
.
উপমার মা :হুম কতো সপ্ন তোকে গিরে, আমার জামাই না, অনেক সুন্দর হবে তোকে খুব ভালোবাসবে, আগলে রাখবে। ঠিক মিলিয়ে নিস।
.
উপমার মনে করতেই হেসে দিলো।
আদি :জানতো এই বাংলাদেশটা না অনেক সুন্দর,,
উপমা এখনো তার মায়ের সেই কথাতেই ডুবে আছে।
আদি :এই যে আপনাকে বলছি,,(জোরে বললো)
উপমা :কি….কি?(জোরে বলাতে একটু ভয় পেল)
আদি :বলছি এই দেশটা না মানে বাংলাদেশটা অনেক সুন্দর,
উপমা :হ্যাঁ অনেক সুন্দর সবুজ শ্যামলা গাছপালা, কতো শত পাখি, ফুল, নদ -নদী, শত রঙের প্রজাপতি।
একটা সপ্নের দেশের মতো, আমার দেশকে আমি খুবই ভালোবাসি।
.
আদি :আমি ও অনেক মায়ায় জরিয়ে গেছি এই দেশটার।
উপমা :আপনি তো এখনো ভালো করে দেখেননি,,
আদি :আরো একজনের মায়ায় ও জরিয়ে গেছি,
উপমা :কে সে শুনি?
আদি :যদি বলি তোমাকে,,
উপমা :হাহাহাহাহা,,
ফাজলামো করতে আসছেন না।
.
আদি এক দৃষ্টিতে উপমার হাসির দিকে তাকিয়ে আছে, আদি যে তার ভালোবাসার কথা সত্যি বলেছে উপমা তা ফাজলামো হিসেবে ভেবেছে।আদি সত্যিই উপমাকে খুব ভালোবাসে তাইতো সব সময় পাশে থাকে, তার মনের কথা বুঝে।
আদি -আচ্ছা, চল যাই অনেক রাত হয়েছে।
.
উপমা :হুম, চলেন,,
তারা দুজনে আবার নিঝুম আর অন্তরের কাছে যাচ্ছে,,
আদি :এই তুমি আমাকে আপনি করে বলো কেনো?
উপমা :আপনি করে বলবো না তো কি করে বলবো, হুহ কি করে বলবো ওগো শুনছো
বলবো?
আদি :বললে তো ভালোই হয়,, (চুলে হাত দিয়ে)
উপমা :আচ্ছা, আপনার বয়স কতো?
আদি :কেনো?
উপমা :আগে শুনি তারপর দেখবো আপনি না অন্য কি করে বলা যায়,
বলেন না?
.
আদি :এই মেয়েটা এমন ভাবে বলে শুনলেই মনটা গলে যায়,,,
যাও একটু রাগ আনছিলাম তাও পুরুৎ করে উড়ে গেল ওর কারনে(মনে মনে)
উপমা :আচ্ছা, ঠিক আছে, না বললে তো আর কিছু করার নেই,,,
আদি :হ্যাঁ,
আমার বয়স 24,,
উপমা :ওমা আপনি আমার ২৩ বছরের বড়,,
আদি পকেটে হাত দিয়ে হাটছে, উপমা এক হাতের উপর একহাত দিয়ে হাটছে আর কথা বলতে গেলেই আদির দিকে তাকাচ্ছে,,
আদি উপমার থেকেও সামান্য টুকু লম্বা।
.
আদি :মানে কি আমি তোমার ২৩ বছরের বড়,,
উপমা :মানে বুঝেন নাই,, আপনার তো ২৪ বছর আর আমার মাএ একবছর,, তাহলে আপনি আমার কতো বড় এবার দেখুন,,
আদি :হাহাহা,,,
তুমি এখনো বাচ্চা,,
উপমা :হিহিহি,,
হ্যাঁ আমি বাচ্চা, এখনো কোলের শিশু ললিপপ খাই।
আদি :তুমি যেহেতু কোলের বাচ্চা তাহলে আমি বাচ্চাটাকে কোলে নেই দেখি,,
.
উপমা :এই না না কি করছেন?
আদি :কেনো তুমিই তো বলছো তুমি এখনো কোলের বাচ্চা তাই কোলে নিলাম,,
উপমা :আমি তো ওটা জাস্ট ফাজলামো করলাম নামান বলছি,, লোকে দেখলে কি বলবে,,
আদি :লোকে যাই বলুক আমি তো একটা বাচ্চাকেই কোলে নিছি,,,,
.
কে শুনে কার কথা আদি কোল থেকে নামালোই না উপমাকে,,
কোলে করে বাড়ির সামনে নিয়ে আসলো।
উপমা :আরে এখন তো নামান,,
আদি :হুহ,,
ওই তো ওরা এসে গেছে,,
উপমা :কিরে নিঝুম আমার বেবি প্রেম কেমন করলি,,,
আমাকে ছাড়া তোরা নিজেরাই করলি,,
নিঝুম উপমার কথাতে কিছুটা লজ্জা পেয়ে যায়।
উপমা :আমার বেবিটা আবার লজ্জা ও পায়।(নিঝুমকে একটা ঠেলা দিয়ে)
নিঝুম :যা পাজি কোথাকার,,
.
উপমা আচ্ছা চল আমরা বাসায় যাই,,,
অন্তর :হ্যাঁ আমরাও বাসায় চলে যাই চল আদি?
আদি :হুহ,,,
আদি বারবার উপমার দিকে তাকাচ্ছে তার উপমাকে রেখে যেতে মন চাইছে না,,
মন চাইছে উপমাকে কাছে টেনে বুকে শক্ত করে জরিয়ে ধরে রাখতে।
উপমা :আপনারা কোথায় উঠছেন?
আদি :একটা হোটেল এ,,
.
উপমা :আমি একটা পুরো ভাংলো নিয়ে নিছি এখনো অনেক রুম খালি আছে,,
সো, আপনারা ও ওখানে চলেন,,
আদিতো খুশিতে আত্মহারা মন চাইছে উপমাকে জরিয়ে ধরে একটা চুমু খেতে কিন্তু এটা সম্ভব না।
.
আদি :ওকে আই ডোন্ট মিস।
উপমা :নিঝুম তোর আর জিজুর ও ভালো একটা সুবিধা করে দিলাম কি বল।
অন্তর আর নিঝুম তো লজ্জায় মুখ নিচে করে পেললো।
উপমা :ওকে বাবা আপনাদের লজ্জা পেতে হবে না। এখন চলেন,,
আদি :আরে কি করছো কি ওদের একসাথে যেতে দেও।
উপমা :ওকে তাহলে আমি একাই যাই,
আদি :আমি তাহলে কার সাথে যাবো। আমি আপনার সাথেই যাবো মেম।
উপমা :আচ্ছা, চলুন স্যার।
.
আদি আর উপমা এক গাড়িতে, নিঝুম আর অন্তর এক গাড়িতে চলে গেল………….
.
নির্জন রাস্তা দু একটা গাড়ি চলছে,, মানুষের কোনো কোলাহল নেই। এখানে যদি কেউ কাউকে মেরেও ফেলে দেয় কেউ জানতেও পারবে না।
আদি :তুমি লংড্রাইব ওনেক ভালোবাসো,,,
.
উপমা :হুম, আমি ওনেক ভালোবাসি সেই ছোট বেলা থেকেই,,
আদি :আমিও,,
আমি প্রতিদিন রাতেই লং ড্রাইভে যাই,,
এখানে তো কোনো খোলা মেলা যায়গা নেই,, আমাদের এখানে তেমন গাড়ি চলে না,,
আর ওখানে চালাতেও কোনো অসুবিধা নেই।
.
উপমা :জানি,,
আদি :তুমি কীভাবে জানো?
উপমা :অস্ট্রেলিয়া আমি না গেলেও খবর কিন্তু রাখি প্রতিদিনের,,
আদি :নিশ্চয়ই কেউ থাকে তোমার,,
উপমা :আমার বড় জেঠুর ছেলে মিথুন,, ওখানেই জব করে ওর বিজনেস ও ওখানে,,
বউকে নিয়ে ওখানেই থাকে।
.
আদি :হুহ,,
সেদিনের মতো সবাই খেয়ে দেয়ে ঘুমিয়ে পরলো।
পরেরদিন সবাই চা বাগান দেখতে ব্যস্ত হয়ে যায়,, সারাদিন বিভিন্ন যায়গা দেখে আবার রাতে ক্লান্ত হয়ে চিৎপাত হয়ে শুয়ে পরে।
রাতে উপমার পানির পিপাসা পেয়েছে,,
.
উপমা :আরে দেত আন্টি কি গ্লাসে পানি রাখে নাই,,
এখন কি করবো,,
কি আর যাই নিচে,,
উপমা সিড়ি দিয়ে নেমে টেবিলের উপর থেকে পানি নিয়ে খাচ্ছে,,,
রাত তখন প্রায় ২টা বাজে,,
.
উপমা :আরে ওইটা কিসের ছায়া,,
না না আমি মনে হয় ভুল দেখলাম,,
ঘুমের তালে কিসব দেখছি,, (মাথা চুলকাতে চুলকাতে)
সিড়ি দিয়ে উঠতে গেলাম,,
এমা আমি তো ঠিকই দেখলাম কিসের ছায়া ওটা,, নিশ্চয়ই বাড়িতে চোর ডুকছে,, তবেরে বেটা তোকে দাড়া,,
এমা এটা তো ভূত ও হতে পারে (কিছুটা ভয় পেয়ে)
এখন যদি আমাকে একা পেয়ে বসে তাহলে,,
আমি বাবা এখান থেকে তারাতারি চলে যাই।
.
উপমা :এমা এটাতো আমার দিকে আসছে,,
বাপরে দরতে পারলে এখন গাড় মটকাবে।
.
হালকা বাইরে জালানো আলো বেতরে আসছে,,
তা দিয়েই কিছুটা বিতরে দেখা যাচ্ছে,, কিন্তু কারো মুখ ঠিক করে দেখা যাচ্ছে না।
উপমা আর কিছু না ভেবে,,
উপমা :ভূ……ভূ……ভূতততততততততত
.
ধপাস পরে গেল।
কিছুক্ষণ পর উপমা,,
উপমা :আচ্ছা, নিঝুম আমি কি মরে গেছি না বেচেঁ আছি,,
ওই ভূতটা কি আমায় মেরে পেলেছে,,,
.
আরে ওইটা যে আর কেউ ছিল না ছিল আদি।
আদি :ভুত আসবে কই থেকে ওটা তো আমি ছিলাম,, আমাকে দেখে ভয় পাওয়ার কি আছে।
উপমা :কি কি আপনি ছিলেন? (শোয়া থেকে লাফ দিয়ে উঠে বসে)
.
আদি :আরে এতো লাপাচ্চো কেনো,,
হে আমি ছিলাম,, আমার ফ্রেন্ড তুবা ফোন করেছিল London থেকে,, আমার রুমে নেটওয়ার্ক ছিল তাই বাইরে বের হইতে হইছে,,
.
উপমা :হুম, তাহলে ভুতের মতো আমার দিকে এগিয়ে আসলেন কেনো,, জানেন না আমি ওনেক ভয় পাইছি।
আদি :ও সরি সরি আমার জানা ছিল না,,
.
উপমা :যান বের হন এখন আমার রুম থেকে,,
ভূতের বাচ্চা কোথাকার,, আমাকে ভয় দেখাইতে আসছে,, এখন যদি আমি স্টক করে মারা যেতাম তাহলে আমার পাপার কি হতো,,
.
আদি :আরে বাবা সরি বললাম তো,,
আচ্ছা, আমি যাই তুমি শুয়ে পর,,,
বাজ্ঞিস কেও জাগেনি,,,
উপমা :হুম যান।
.
তারা টানা সাতদিন সিলেটে কাটিয়ে ঢাকা পিরার উদ্দেশে রওনা দিবে।
উপমা আদির সাথে এখন ওনেকটা ক্লোজ হয়ে গেছে,, ফ্রিলি কথাও বলে,, আবিরকে প্রায় ভুলেই গেছে।
নিলা :এই আমি সামনে বসবো।
উপমা :ওকে বস তাহলে আমি জিজুর সাথে বসা মিস করছি না।
.
আদির মনটা খারাপ হয়ে গেল। উপমা পিছে বসবে বলে গাড়ি আদিই চালাচ্ছে,,
নিঝুম :হুম আমি নিশ্চিত দেখতে পারছি আদি ভাইয়ার মনে উপমার জন্য ভালোবাসা জেগেছে,,
উপমা সামনে বসেনি বলে বেচারা মুখটা কালো করে রাখছে,,
ওকে তাহলে আমিই কিছু করি (মনে মনে)
.
অন্তর :কি এতো ভাবছো সুন্দরী,, (নিঝুমকে ঠেলা দিয়ে)
নিঝুম :কই কিছুনা,,
অন্তর :আমি যা ভাবছি তুমিও নিশ্চয়ই তাই ভাবছো তাই না।
নিঝুম :হুম, কিন্তু তুমি কি ভাবছো,,
অন্তর :কি আবার উপমা আদির কথা,,
.
নিঝুম :Great তাহলে আমাদের দুজনের ভাবনাই এক,,
এই নিলা,,
নিলা দরজা খোলে গাড়িতে বসতে গেলে আবার নিঝুমের ডাকে বেরিয়ে আসে।
.
নিলা :কি?
নিঝুম :তোর সাথে আমার কথা আছে,, আমার সাথে বস,,
নিলা :এখানে বল সমস্যা কই?
নিঝুম :যেতে যেতে বলবো,, আমার সাথে বসতে বলছি বস।
নিলা :আচ্ছা।
.
নিঝুম :এই বাইর হো গাড়ি থেকে,,
উপমা :এভাবে বলছিস কেনো,, আর কেনো বাইর হবো?(সংকোচ বোধ করে)
নিঝুম :গিয়ে সামনে বস আমার সাথে নিলা বসবে,
উপমা :আমি জিজুর সাথে বসবো,,
নিঝুম :আপনার জিজুর সাথে বসতে হবে না, যান এখান থেকে,,
.
উপমা :জিজু কিছু বলো,,,,
আদি :এই অন্তর কালকে তুবা ফোন করে বলেছে ও তোর বিয়েতে আসতে পারবে না,
অন্তর কিছু বলার আগেই আদি বলে পেললো।
.
আদি :আরোহী আর ইলফা আসবে,,
অন্তর :হুম, তুবা কেনো আসবে না জানি আমি,, আচ্ছা আমি বাসায় গিয়ে দেখছি,,
এখন চল ……………….
.
.
চলবে ………………..
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now