বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ইসরাত রনির দিকে তাকিয়ে বললো,"এইযে মি.রনি আমার পিছে এত ঘোরা হচ্ছে কেন?"
"অন্যজনের পিছে পিছে ঘুরতে দিবে?ঘুরলেই বলবে ইস বউকে রেখে আরেকজনের পিছে।"
"আমি এখনো বউ হইনি।আমার এখনো বিয়ে হয়নি।"
"ওহ তাই না!!তো চলো বিয়ে করি।"
"এত তাড়াতাড়ি না।তুমি তো পড়ালেখা কমপ্লিট করেছ এখন আমি করি।"
"ঠিক আছে।তা এই গান কেন বলো?নিশ্চয় কারণ আছে।"
"কারণ কি আর?আমি এই গান সেই ক্লাস এইট থেকেই বলে আসছি।আমার খুব ভালো লাগে এই গান।"
"হুমম বুঝলাম।"
"এই আমার পিছে পিছে আসবে না কিন্তু।"
রনি ইসরাতের আরেকটু কাছে এসে হাতটা ধরে বললো,"কি হবে?যতদিন বাঁচবো ততদিন তোমার পিছে পিছে ঘুরবো।"
"তাই না!দেখবোনি কি করো।"
"হ্যা আমিও দেখাবোনি কি করি।"
"থাক আর তর্ক করতে হবে না।এমনিতেই তর্কে পারবে না আমার সাথে।"
"হ্যা পারবো কি করে?আমি তো ইঞ্জিনিয়ার আর তুমি তো লোয়ার হতে যাচ্ছ।লোয়াররা তো তর্ক নিয়েই থাকে।"
"এখন যাও তুমি।"
"না তোমাকে না নিয়ে যেতে পারবো না।"
"কোথায় নিয়ে যাবে?"
"ঘুরতে।"
"আজকে যাবো না প্লিজ।"
"কেন যাবে না?"
"এমনি আমি যাবো না।"
"সত্যি!!"
"সত্যি।"
রনি ভাবলো এভাবে ইসরাতকে নিয়ে যাওয়া যাবে না।ইসরাত যা বলে তাই করে।
রনি বলল,"যাবে না তাহলে।কে বলেছে যাবে না।"
"আমি বলেছি।"
রনি ইসরাতকে কোলে তুলে নিলো।
"এই রনি কি করছো?ছেড়ে দাও নেমে দাও বলছি।"
রনি কিছু বলছে না।নিচে নামতে লাগলো।
"রনি প্লিজ নামাও।"
"হ্যা অবশ্যই নামিয়ে দিবো।বাইকের কাছে নিয়ে যাই তারপর।"
"তুমি না শুধু শুধু পাগলামি করো।"
"ইস সেদিনই তো বললাম এখনো পাগলামির কিছু দেখোনি।"
রনি ইসরাতকে বাইকে উঠিয়ে দিলো।
"রনি কোথায় যাচ্ছ?"
"কোথায় যাই?কোথায় যাবে?"
"বগুড়া হিহিহি।".
"ওহ খালি বগুড়া বগুড়া আর কিছু না।"
"এই বগুড়া আমার কি বুঝ না?"
"হ্যা বগুড়া তোমার জানপ্রাণ মাতৃভূমি বগুড়ার ভাষা তোমার মাত্রভাষা।"
"তাহলে চলো।"
রনি একটা নদীর কাছে নিয়ে গেল।
ইসরাত বললো,"তোমার কি এই নদীই পছন্দ?"
"হুমম এই নদীতে তোমাকে সুন্দর মানায়।"
"ওহ তাই না?"
"হুমম।আচ্ছা তুমি আমাকে কিসের মতো ভালোবাসো?"
"কিসের মতো শুনবে?"
"হুমম।"
"আমি ছবি আকাতে যতটা ভালোবাসি তেমনি তোমাকে ভালোবাসি।"
রনি ইসরাতের দিকে তাকিয়ে বললো
"কি?ছবি আঁকা!!!"
"হুমম আমার সবচেয়ে প্রিয় কাজ।যেটা না করলে আমি চলতে পারি না।আমি মাতাল হতে যাই।আমার কিছু ভালো লাগে না।আমি অনেক ভালোবাসি ছবি আঁকতে।"
"হুমম এত মাতাল তা জানতাম না।"
"আর আমি যখন ছবি আকাই তখন আমার কোনদিকে খেয়াল থাকে না।চুরি করে নিয়ে গেলেও বুঝতে পারবো না।এমনকি যে টেবিলে আকাচ্ছি সেই টেবিল থেকে চুরি করলেই বুঝতে পারবো না।"
"বাহ বাহ এত মনোযোগ ছবি আকানোর সময়!!আচ্ছা তুমি আমার ছবি কবে আকাবে?"
"ঠিক আছে খুব তাড়াতাড়ি।"
"হুমম।দাড়াও একটা ফটো তুলি।"
ইসরাত রনির ফটো তুলে বললো,"ও দেখ এটাই আকাবো।"
"আমার সামনে বসে আকাতে হবে।"
"ঠিক আছে।"
"এখনি আকাতে হবে আজকেই।"
"ঠিক আছে।"
একটু পর ইসরাত বাসায় গেলো।রনিও ইসরাতের বাসায়।ইসরাত রনির ছবি তাকিয়ে দিচ্ছে।আকানো শেষ হলে ইসরাত রনির হাতে ছবিটা দিয়ে বললো."এই নাও।"
"দেখি দেখি একদম আমি।"
"এখন যাও।"
"হুমম যাই।"
পরদিন ইসরাত রেস্টুরেন্টে কফি খাচ্ছি আর ছবি আকাচ্ছে।সজীব কাছে এসে বললো,"ভাবি কি আকাচ্ছেন?"
ইসরাত সজিবের দিকে তাকিয় বললো,"এইতো এটা।আচ্ছা ভাইয়া রনি কোথায়?"
"ওহ রনি বোধহয় ঘুমাচ্ছে।"
"আমার আকানো শেষ আমি এখন চলে যাবো।"
ইসরাত চলে গেলো।সজিব একটা জিনিস খেয়াল করলো ইসরাত বাম হাত দিয়ে আকালো।কিন্তু নিজের নামটা লিখলো দান হাত দিয়ে।রনিকে ফোন করলো।
"এই রনি ইসরাত কোন হাত দিয়ে আকাই?"
"কেন?দান হাত দিয়ে।"
"কিন্তু এইমাত্র দেখলাম বাম হাত দিয়ে আকাচ্ছে।"
"কি বলছিস তুই?কালকেই তো ইসরাত আমার সামনে বসে দান হাত দিয়ে আমার ছবি আঁকিয়ে দিলো।"
"আরে আমি তো নিজের চোখে দেখলাম।"
"তাহলে?"
"তাহলে মনে হয় দুই হাত দিয়েই আকাই।"
"কিযে হয়তো।দেখি শুনি তো।"
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now