বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
রাসূলের (সা) কথা শেষ হতেই ভূমিতে প্রথম পড়লো সেই মুশরিকটি। আর সাথে সাথেই তরবারির একটি মাত্র আঘাতে তার মস্তকটি দ্বিখন্ডিত করে ফেললেন যুবাইর।
যুবাইর মুখোমুখি হলেন আর একজন মুশরি- উবাইদা ইবনে সাঈদের। সে এমনভাবে বর্মাচ্ছাদিত ছিল যে তার চোখ দুটো ছাড়া আর কিছুই দেখা যাচ্ছিল না।
কুশলী এবং সতর্ক যুবাইর।
তিনি উবাইদার চোখ নিশানা করে তীর ছুঁড়লেন।
অব্যর্থ নিশানা।
বিদ্যুৎগতিতে তীরটি বিঁধে গেল উবাইদার চোখে। এফোঁড় –ওফোঁড় হয়ে তীরটি গেঁথে আছে তার চোখের মধ্যে।
যুবাইর ছুটে গেলেন উবাইদার কাছে। তারপর তার লাশের ওপর বসে তীরটি টেনে বের করে আনলেন।
তীরটি কিছুটা বেঁকে গেছে। সেই বাঁকা তীরটি রাসুল (সা) নিয়ে নিজের কাছে রেখেচিলেন স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে।
রাসূলের (সা) ইন্তেকালের পর খলিফঅদের কাছেও রক্ষিত ছিল এই ঐতিহাসিক তীরটি।
হযরত উসমানের শাহাদাতের পর নিজের কাছেই আবার তীরটি নিয়ে নেন যুবাইর।
বদর যুদ্ধে তিনি জীবন বাজি রেখে এমনভাবে যুদ্ধ করেছিলেন যে ভোতা হয়ে গিয়েছিল তার তরবারিটি।
তিনিও আহত হয়েছিলেন মারাত্মকভাবে।
শরীরে একটি বিশাল গর্ত হয়ে গিয়েছিল।
তার ছেলে উরওয়া বলতেন, আমরা আব্বার শরীরে সেই গর্তে আঙ্গুল ঢুকিয়ে খেলা করতাম।
বদর যুদ্ধে যুবাইরের মাথায় ছিলহলুদ পাগড়ি।
রাসূল (সা) হেসে বলেছিলেন, “আজ ফেরেশতারাও এ বেশে এসেছে।’
উহুদ যুদ্ধ।
সত্য এবং মিথ্যার যুদ্ধ।
রাসূল (সা) কোষমুক্ত কররেন তার তরবারি। তারপর বললেন,
‘আজ কে এই তরবারির হক আদায় করতে পারে?’
রাসূলের (সা) আহ্বানেসকল সাহাবীই অত্যন্ত আনন্দের সাথে চিৎকার করে বললেন, ‘আমি! আমিই পারবো এই তরবারির হক আদায় করতে।’
সেখাকনে উপস্থিত ছিলেন যুবাইর। তিনি তিন তিন বার বললেন,
‘হে রাসুল (সা)! আমাকে দিন। আমিই এই তরবারির হক আদায় করবো।’
কিন্তু সেই সৌবাগ্র অর্জন করেন আর এক দুঃসাহসী সৈনিক আবু দুজানা। খন্দরেক যুদ্ধেও ছিল যুবাইরের অসাধারণ ভূমিকা।
যুদ্ধের সময় মদীনার ইহুদি গোত্র বনু কোরাইজা ভঙ্গ করলো মুসলমানদের সাথে সম্পাদিত মৈত্রী চুক্তি।
তাদের অবস্থান জানার দরকার রাসূলেল (সা) তাদের সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেয়া জরুরি।
কিন্তু কাজটা সহজ ছিল না।
রাসূল (সা) তাকালেন তার সাহাবদের দিকে। জিজ্ঞেস করলেন, ‘কে পারবে তাদের থেকে সংবাদ সংগ্রহ করে আমাকে জানাতে’
তিনি তিনবার জিজ্ঞেস করলেন।
আর তিনবারই হাত উঁচু করে দাঁড়ালোন যুবাইর। বললেন,
‘হে রাসুল! আমি, আমিই পারবো সেখানে যেতে এবং প্রয়োজনীয় সংবাদ সংগ্রহ করে আপনার কাছে পৌঁছে দিতে। দয়া করে আমাকে অনুমতি দিন হে রাহমাতুল্লিল আলামীন!’
যুবাইরের কথায় ভীষণ খুশি হলেন রাসূল (সা)। তিনি বললেন, ‘প্রত্যেক নবীরই থাকে হাওয়ারী। আমার হাওয়ারী হলো যুবাইর।’
হযরত যুবাইর!
তিনি ছিলেন রাসূলের (সা) হাওয়ারী এবং নিত্যসহচর।
সাহস, সততা, আমানতদারি, দয়া, কোমলতা- এসবই ছিল তার পোশাকের মত অনিবার্য ভূষণ।
আল্লাহ, রাসূল (সা) এবং ইসলামের প্রতি ছিল তার দৃষ্টান্তমূলক ভালোবাসা এবং আত্মত্যাগ।
সোনার মানুষ ছিলেন তিনি।
যে দশজন সাহাবী বেহেশতের আগাম সুসংবাদ দিয়েচিলেন দয়ার নবীজী, যুবাইর ছিলেন তাদেরই একজন, অন্যতম।
হযরত যুবাইর!
কী অসাধারণ ছিল তার চরিত্র এবং ব্যক্তিত্ব!
এখনও যেন হাওয়ায় দুলছে তার সেই দুঃসাহসী মস্তকের হলুদ পাগড়ির দুর্বিনীত শিষ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now