বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

হল লাইফের বন্ধুত্ব

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X বন্ধুত্ব বড় কঠিন জিনিস !! বন্ধুত্ব নিয়ে কতো গান, কবিতা, হাহাকার... অবশ্য, আমার পাশে বন্ধু নামের যে হারামিগুলো থাকে, আমার ধারনা এগুলা থাকলে কারো মনে হয়না আর শত্রুর দরকার আছে !! ... কয়েকদিন আগে হলের ডাইনিং এ খাইতে গেছি.. আরেক ফ্রেন্ড প্লেট নিয়ে এসে আমার বেঞ্চে বসলো !! পুরা ডাইনিং খালি, অথচ একেবারে আমার গা ঘেশে বসলো !! বসে এবার আমারে ধাক্কানো শুরু করছে। বেঞ্চে চাপতে চাপতে পরে যাবার জোগাড় !! কইলাম, "আরেহ হালা করস কি?? পইড়া যামু তো..." কইতে কইতে ধাক্কা দিয়া নিচে ফালাইয়া দিলো। পুরা আহাম্মক হইয়া গেলাম।। বন্ধু হাসতে হাঁসতে কইতেছে, "আর কিছুদিন পর তো কে কই থাকুম জানি না। তখন আমার কথা মনে হইবো, ডাইনিং এ একদিন আমি তোরে বেঞ্চে থেইকা খাইতে খাইতে ফালাই দিছিলাম..." ... অবশ্য বন্ধুদের যাতে মনে রাখি, এর জন্যে নানা কাজ করে। ধুপধাপ কিল ঘুশি লাগাইয়া দেওয়ার পরে এই ডায়ালগটা সবচেয়ে বেশি কার্যকরী !! ... একদিন ডাইনিং এ স্পেশাল বাবুর্চি দিয়া কাটানো ক্ষুদ্রাতি ক্ষুদ্র সাইজের মাংশের পিচ যক্ষের ধনের মতো ভাতের নিচে লুকাইয়া রাখছিলাম এই আশায় যে, পুরা ভাত খাওয়ার পরে আয়েশ করে মাংশটা খাবো। ঠিক তখন, কই থেইকা এক ফ্রেন্ড উদয় হয়ে তার পেটে মাংশটা চালান করে দিলো !! হাঁসতে হাঁসতে কইতেছে, "দোস্ত, আমারে যাতে তোর মনে থাকে এ জন্যে এমন করলাম...একদিন মনে হইবো, আমি তোর মাংশের পিচ কাইরা খাইয়া ফেলছিলাম "!! কিন্তু বন্ধু বলে কথা...এই আক্রমন থেকে বাচতে আমরা সাধারনত বাহিরে দলবেঁধে চাইনিজ খাইতে গেলে মাংশ চেটে চুটে প্লেটে রেখে দেই !! "আরেহ বন্ধুই তো মুখ দিছে"- এই নীতিখানা মেনে কেউ কেউ সেগুলাও খাইয়া ফালায় !! বাহিরে চাইনিজ খাইতে গেলে, সবার পরে যার খাওয়া শেষ হবে, সে মাস্ট মাংশের পিচ হারাতে হবেই। একটা কমন দৃশ্য আমাদের। তাই সবাই নিজের ভাগের খানা আগে শেষ করে অন্যদের খাবারে এটাক করার তালে থাকে... অবশ্য আমাদের ডাইনিং এর মাংশের পিচ নিয়ে নানা কথা প্রচলিত আছে। বাসাবাড়িতে মাংশ খাইলে যে পরিমান মাংশ দাতের ফাকে আটকে থাকে, হলের ডাইনিং এ ঠিক ততটুকুই মাংশ জুটে !! এর মানে কিন্তুক এই না যে, মাংশের পিচ অতিশয় ছোট !! মনে করেন, আমাদের দাতের ফাক গুলাই বড় বড় (নিজের ডাইনিং এর বদনাম কেমনে করি?? এর ডাল খাইয়াই তো বাইচা আছি) ...ফ্রেন্ড সার্কেলে আমরা গ্রুপ বেধে মারামারি করি।। বিভিন্ন সময় গ্রুপ হয়ে নানা জনকে এটাক করা হয় !! নির্দিষ্ট একজনকে টার্গেট করে সবাই মিলে তার রুমে যাই সুন্দর করে। সাধারনত এটাক বাহিনী ভিক্টিমকে লুঙ্গি পরিহিত অবস্থায় ধরতে পছন্দ করে। তবে নিজেরা জিন্স-বেল্ট পরেই এটাক করতে যায়, নাহলে ইজ্জতের লুটোপুটি হবার সম্ভাবনা আছে !! রুমে ঢুকেই দরজা বন্ধ করে এটাক... এরপর কি কি ধরনের এটাক হয়, সেটা না হয় নাইবা বললাম... !! জানি আপনারা অনেক বুদ্ধিমান, বুঝে গেছেন... ... ধরুন, সবাই মিলে চা খাইতে গেলেন !! আপনি একটু হেলেদুলে আয়েশ করে সময় নিয়ে চা খাচ্ছেন !! ব্যাস, ধরা খেয়ে গেলেন !! চা শেষ হবার পরে দেখবেন, আশেপাশে কেউ নাই... ঐ দূরে দাত বের করে হাসছে হারামিগুলা !! মুখটা বিলা করে চায়ের বিল আপনাকেই দিতে হবে। বিল দিয়ে ওদের কাছে যাওয়া মাত্রই দেখবেন একজন মানিব্যাগ বের করে বলছে, "আরেহ মামা, তুই বিল দিয়া দিছিস?? ধুর বেটা আমি আরও দিতে চাইছিলাম...যাক আজকে না হয় তুইই খাওয়ালি !! আল্লাহ তোরে অনেক অনেক সওয়াব দিবেরে..."... এর সময় হয়তো আপনি তারে দৌড়ানি দিবেন, কিন্তু ৫ মিনিট পর দেখবেন, কিছুই আর মনে নাই !! রিকশা থেকে নামার পর দেখবেন আপনাকে রেখে সবাই দৌড় মারছে, হোটেলে খাইতে যাইয়া খাওয়া শেষে "মামা আইতেছি" কইয়া দেখেবেন হাওয়া !! মারা খাওয়ার এই দুনিয়ায়, জনম ভরে বন্ধুদের কাছে মারাই খেয়ে যেতে হয়... ... এখন ফাইনাল ইয়ারে তো !! বন্ধুরা এখন নতুন কথা চালু করছে !! হোটেলে গেলেই, "আরেহ ব্যাটা খাওয়া খাওয়া... শুন দুইদিন পরে ট্যাকা থাকবো অনেক, কিন্তু খাওয়ানোর জন্যে তখন আর আমাদের পাবি না !!" কথাখানা বলে আবার ভাব নেওয়ারও চেষ্টা করে... তখন মনডা চায়, দেই দুইটা ধইরা... ... হল লাইফে চরম উত্তেজনাকর মুহূর্তগুলোর একটা হলো "আড্ডা" !! আড্ডার কোন টপিক থাকে না । উত্তরে শুরু হলে দক্ষিণে শেষ হবে। মাঝে পূর্ব- পশ্চিম সব ঘুরা হয়ে যাবে। দেখা যাবে, পানি খাওয়া নিয়ে আড্ডা শুরু করে, দেশ- বিদেশের রাজনীতি, আবিষ্কার, প্রেম, ভালোবাসা, সিজিপিএ - এমন কোন জিনিস নাই, যা এখানে স্থান পায় না !! তো এসব আড্ডায় অনেকে অনেক এপিক এপিক মন্তব্য করে। যেমন, পাস করে নিজের পায়ে দাড়িয়ে বিয়া করার কথা বলছিলো এক ফ্রেন্ড !! তখন আরেক ফ্রেন্ড কইলো, "শুন মামা। নিজের পায়ে দাড়িয়ে বিয়া করতে করতে দেখবি, তখন আর ওটা দাঁড়াবে না " !! ... এমন কতো মজার মজার স্মৃতি জমা হচ্ছে !! কিন্তু ফাইনাল ইয়ার চলছে ... আর অল্প কিছুদিন পরেই তল্পিতল্পা গুছাতে হবে !! এই স্মৃতিগুলো এক সময়ের বোরিং অফিস লাইফে আনমনে হাসাবে, এক সময় এতো এতো দাওয়াত পাবো যখন খাইতে পারবো না কিছু। টেবিলে মাংশের স্তুপ দেখবো আর ভাববো, "ইশ !! এক সময় এক টুকরো মাংশের জন্যে কি মারামারিই না করতাম আমরা" !! হয়তো চোখ থেকে টুপ করে এক ফোটা পানি গড়িয়ে পড়বে , চোখের সামনে ভেসে উঠবে কিছু মুখ... তবে পোলাপাইন গুলা চরম খারাপ। আজকে খাওয়াইলে কালকেই বেমালুম সব ভুলে যায় ।। আর সবগুলা একসাথে বলবে, "তুই তো ব্যাটা কোনদিন কিছু খাওয়াইলি না।। আজকে খাওয়ানা না বেটা... এমন করস কেন??" ... মনডা চায় তখন, সবডিরে ককটেল মাইরা হুতাইয়ালাই... !! আচ্ছা, সব বন্ধুরাই কি এমন? হয়তো... বন্ধুই তো...


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ হল লাইফের বন্ধুত্ব

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now