বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
বোকা – একজন হিমু এবং কয়েকটি ঝিঁ ঝিঁ পোকা
বাবা হিমালয়,
তোমাকে বাস করিতে হইবে অনেকের মাঝে। লক্ষ রাখিও সেই অনেকের কেউই যেন তোমাকে কখনো চালাক বা বুদ্ধিমান মনে না করে।
মহাপুরুষরা চালাক হন না, বুদ্ধিমান হন না, আবার তারা বোকাও হন না। পৃথিবীর এই অনিত্য জগতে বুদ্ধির স্থান নাই। বুদ্ধি দ্বারা এই জগত বুঝিবার চেষ্টা করিবে না।
চেতনা দ্বারা বুঝিবার চেষ্টা করিবে। বুদ্ধি চেতনাকে নষ্ট করে…….
ভালো কাজ – হিমুর নীল জোছনা
বাবা হিমালয়,
ভালো কর্ম বা সৎকর্ম করার তোমার প্রয়োজন নাই। সৎকর্ম নেশার মতো। একটি সৎকর্ম করলে আরেকটি করতে ইচ্ছা করবে।
সৎকর্মের নেশা তৈরি হবে। যে-কোনো নেশাই মানুষের জন্যে ক্ষতিকর। নেশা হল নেশা। ভালো নেশা মন্দ নেশা বলে কিছু নাই।
তুমি সেই সৎকর্ম করবে যা অন্যরা করতে পারছে না। অন্যদের করার ক্ষমতা নাই।
সৎকর্ম যেমন নেশা তৈরি করে অসৎকর্মও করে। নেশাগ্রস্থ হয়ে দুষ্টলোক একের পর এক অসৎকর্ম করতে থাকে।
এখন কি বুঝতে পারছসৎকর্ম অসৎকর্ম একই মুদ্রার দুই পিঠ?
অস্থিরতা – একজন হিমু এবং কয়েকটি ঝিঁ ঝিঁ পোকা
কখনো কোনো অবস্থাতে অস্থির হইবে না। পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে ঘুর্ণায়মান। এই ঘুর্ণিতে তুমি কখনো অস্থিরতা পাইবে না।
তুমি পৃথিবীর স্বভাব ধারণ করিবে। মানুষ বাদ্য যন্ত্রের মত। সেই বাদ্য যন্ত্র নিয়ত সংগীত তৈরিকরে।
অস্থির বাদ্যযন্ত্র সংগীত সৃষ্টিতে অক্ষম। কাজেই তোমার জন্য অস্থিরতা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হইল।
আমি জানি ইহা জগতের কঠিনতম কর্মসমূহের একটি। বাবা হিমু, কাউকে কাউকে তো কঠিনতম কর্মগুলি করিতে হইবে?
হাসি – একজন হিমু এবং কয়েকটি ঝিঁ ঝিঁপোকা
হাস্যমুখি মানুষের দিকে ভালোমতো তাকাইও। অনেক কিছু শিখিতে পারিবে। মানুষের মনের ভাব কখনই মুখেপ্রতিফলিত হয় না।
মুখের উপর সর্বদা পর্দা থাকে।শুধু মানুষ যখন হাসে তখন পর্দা দূরিভূত হয়। হাস্যরতএকজন মানুষের মুখে তার মনের ছায়া দেখা যায়।
মিথ্যা – তোমাদের এই নগরে
হে আমার প্রিয় পুত্র, মিথ্যার কিছু কিছু উপকার আছে। কিছু মিথ্যা সমাজের এবং ব্যক্তিজীবনের ক্ষেত্রে কল্যাণকর ভূমিকা নেয়।
কিন্তু মিথ্যা মিথ্যাই। সত্য আলো, মিথ্যা অন্ধকার। তোমার যাত্রা আলোর দিকে। মিথ্যা ছলনাময়ী, নানান ছলনায় তোমাকে ভুলাইবে।
তুমি ভুলিও না। কখনো না, কোন অবস্থাতেই না। ইহা আমার আদেশ।
অপ্রকাশ্য – হিমু
হে মানবসন্তান, তুমি তোমার ভালোবাসা লুকাইয়া রাখিও। তোমার পছন্দের মানুষদের সহিত তুমি রূঢ়আচরণ করিও, যেন সে তোমার স্বরূপ কখনো বুঝিতে না পারে। মধুর আচরণ করিবে দুর্জনের সঙ্গে। নিজেকে অপ্রকাশ্য রাখার ইহাই প্রথম পাঠ।
ভয় – হিমুর দ্বিতীয় প্রহর
একজন মানুষ তার এক জীবনে অসংখ্যবার তীব্র ভয়ের মুখোমুখি হয়। তুমিও হইবে। ইহাই স্বাভাবিক।
ভয়কে পাশ কাটাইয়া যাইবার প্রবণতাও স্বাভাবিক প্রবণতা। তুমি অবশ্যই তা করিবে না। ভায় পাশ কাটাইবার বিষয় নহে।
ভয় অনুসন্ধানের বিষয়। ঠিকমতো এই অনুসন্ধান করিতে পারিলে জগতের অনেক অজানা রহস্য সম্পর্কে অবগত হইবে।
তোমার জন্য ইহার প্রয়োজনীয়তা আছে। তবেতোমাকে বলিয়া রাখি, এই জগতের রহস্য পেয়াজের খোসার মতো।
একটি খোসা ছাড়াইয়া দেখিবে আরেকটি খোসা। এমনভাবে চলিতে থাকিবে- সবশেষে দেখিবে কিছুই নাই। আমরা শূন্য হইতে আসিয়াছি,
আবার শূন্যে ফিরিয়া যাইব। দুইশূন্যের মধ্যবর্তী স্থানে আমরা বাস করি। ভয় বাস করেদুই শূন্যে। এর বেশি এই মুহূর্তে তোমাকে বলিতে ইচ্ছা করি না।
মায়া – হিমুর হাতে কয়েকটি নীলপদ্ম
প্রিয় পুত্র,
মানুষ মায়াবদ্ধ জীব। মায়ায়আবদ্ধ হওয়াই তাহার নিয়তি। তোমাকে আমি মায়ামুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়ার ভিতর দিয়া বড় করিয়াছি।
তারপরেও আমার ভয়- একদিন ভয়ঙ্কর কোনো মায়ায় তোমার সমস্ত বোধ, সমস্ত চেতনা আচ্ছন্ন হইবে। মায়া কূপবিশেষ,
সে-কূপের গভীরতা মায়ায় যে আবদ্ধ হইবে তাহার মনের গভীরতার উপর নির্ভরশীল।
আমি তোমার মনের গভীরতা সম্পর্কে জানি- কাজেই ভয় পাইতেছি– কখন-না তুমি মায়া নামক অর্থহীন কূপে আটকা পড়িয়া যাও।
যখনই এইরূপ কোন সম্ভবনা দেখিবে তখনই মুক্তির জন্য চেষ্টা করিবে। মায়া নামক রঙিন কূপে পড়িয়া জীবন কাটানোর জন্যে তোমার জন্ম হয় নাই।
তুমি আমার সমগ্র জীবনের সাধনাকে নষ্ট করিও না।…
প্রেম – হিমুর হাতে কয়েকটি নীলপদ্ম
হিমালয়,
তুমি অষ্টাদশ বর্ষে পদার্পণ করিয়াছ। আমার অভিনন্দন। অষ্টাদশ বর্ষকে গুরুত্বের সঙ্গেবিবেচনা করা হয়। এই বয়সে নারী ও পুরুষ যৌবনপ্রাপ্ত হয়। তাহাদের চিন্তা-চেতনায় ব্যাপক পরিবর্তন হয়। এই পরিবর্তনের ফল সুভ যেমন হয়- মাঝে মাঝে অশুভও হয়।
প্রিয় পুত্র, তোমাকে আজ আমি তরুণ-তরুণীর আকর্ষণের বিষয়ে আমার দীর্ঘদিনের চিন্তার ফসল বলিতে চাই। মন দিয়া পাঠ করো। তরুণ-তরুণীর আকর্ষণের সমগ্র ব্যাপারটিকে আমরা নানানভাবে মহিমান্বিত করিবার চেষ্টা করিয়াছি। প্রেম নিয়া কবি-সাহিত্যিকরা মাতামাতি করিয়াছেন। চিত্রকররা প্রেমিক-প্রেমিকার ছবি অঙ্কন করিয়াছেন। গীতিকাররা গান রচনা করিয়াছেন। গায়করা সেই গান নানান ভঙ্গিমায় গাহিয়াছেন।
প্রিয় পুত্র, প্রেম বলিয়া জগতে কিছু নাই। ইহা শরীরের প্রতি শরীরের আকর্ষ্ণ। এই আকর্ষণ প্রকৃতি তৈরি করিয়াছেন যাহাতে তাঁহার সৃষ্টি বজায় থাকে। নর-নারীর মিলনে শিশু জন্মগ্রহণ করিবে- প্রকৃতির সৃষ্টি বজায় থাকিবে।
একই আকর্ষণ প্রকৃতি তাঁহার সমস্তজীবজগতে তৈরি করিয়াছেন। আশ্বিন মাসে কুকুরীর শরীর দুই দিনের জন্য উত্তপ্ত হয়। সে তখন কুকুরের সঙ্গের জন্য প্রায় উন্মত্ত আচরণ করে। ইহাকে কি আমরা প্রেম বলিব?
প্রিয় পুত্র, মানুষ ভান করিতে জানে, পশু জানে না- এই একটি বিষয় ছাড়া মানুষের সঙ্গে পশুর কোনো তফাতনাই। যদি কখনো কোনো তরুণীর প্রতি তীব্র আকর্ষ্ণ বোধকর, তখন অবশ্যই তুমি সেই আকর্ষণের স্বরূপ অনুসন্ধানকরিবে। দেখিবে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু তুচ্ছ শরীর। শরীর যেহেতু নশ্বর, সেহেতু প্রেমও নশ্বর।
প্রিয় পুত্র, তোমাকে অনেক দূর যাইতে হইবে। ইহা স্মরণ রাখিয়া অগ্রসর হইও। প্রকৃতি তোমার সহায় হউক- এই শুভ কামনা।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now