বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
হিমি আমার পাশে বসে আছে।লাল টুকটুকে শাড়ীতে জড়ানো মেয়েটাকে ঠিক ততটাই ভালো লাগছে যতটা ভালো লাগা এর আগে কোন মেয়েকে লাগেনি।আমাদের পাশাপাশির বসার সম্পর্কটার বৈধতা হলো হিমি বউ আর আমি বর!
লাজুক লাজুক চোখে এত মানুষের ভিঁড়েও মেয়েটাকে কিছু সময় পর পরই চোখটাকে বাকিয়ে দেখার লোভটা সামলাতে পারছি না।আমি দেখছি।মেয়েটি মিটিমিটি হাসছে!
.
বিদেশ থেকে আসতে না আসতেই বাবা বিয়ের আয়োজনটা করে ফেলেন।যদিও আমাকে ওর একটা ছবি মেইল করে বলেছিলেন "তোর বউ হবে এই মেয়েটি"!কথার ইঙ্গিতটা এমন ছিল যেন আমার মতামতের দরকার নেই উনাদের! ছবিটা দেখার পর অবশ্য কিছু বলার থাকেওনি আমার।এক বাক্যে বলে দিয়েছিলাম "আচ্ছা"!
ছবিতে হিমির পরনে ছিল হলুদ রঙ্গের একটা জামা।আর ঠোঁটের একটু নিচেই ছোট্র একটা তিলক।তিলকটাকে ঘিরে অজান্তেই একটা মোহ কাজ করেছিল।
.
পাশে বসে আছে অথচ তিলকটাকেই চোখে পড়ছে না! মুখটাকে একবারের জন্যই তুলছে না মেয়েটি! তবে কি আমাকে দেখার ওর কোন ইচ্ছে নেই! কি অদ্ভুদ!
.
বাসর ঘরে ঢুকার সময় ভাবি আমাকে কানেরর কাছে এসে বলছেন "শোন মেয়েটা এখনও বাচ্ছা বলে দিলাম।সো বি কেয়ারফুল"!আজব ব্যাপার সেপার বউ আমার,দরদ দেখছি ভাবির বেশি!
হিমি জড়োসড় হয়ে বসে আছে খাটের উপর।ওর মাথাটা তুললাম।লাল টুকটুকে গালদুটো।ইচ্ছে করছে একটু ছুঁয়ে দেখি।কিন্তু পারছি না! কি অদ্ভুদ! মনে হচ্ছে সাহসে দিচ্ছে না।ঠিক সাহস না মেয়েটা কি মনে করে এটা ভেবেই খাট থেকে উঠে জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম।না মেয়েটি বসেই আছে।চেয়ারটাকে টেনে নিয়ে বসলাম জানালার পাশটায়।ফোনটা বের করে ফেসবুকে লগ ইন করলাম।
লগ ইন করতেই তৃনার এসএমএস "বউকে একা বসিয়ে রেখে জানালার পাশে কি শুনি!" ম্যাসেজটা বারবার দেখছি।হ্যা তৃনাইতো।গত এক মাস ধরে আমার বিয়ের কথা শুনেই আমাকে ব্লক করে দিয়েছিল।কারন ওর সাথে দু বছরের ভার্চুয়াল প্রেম চলছিল আমার।কোন দিন দেখিনি।ফোনেও কথা বলা হয়নি।বড় অদ্ভুদ ছিল মেয়েটি। আমাকে বড্ড ভালোবাসতো।
কিন্তু ঠিক এই মুহুর্তে আমি বাসর ঘরে মেয়েটা কি করে জানলো! রিপ্লে দেবার আগেই আরো একটি ম্যাসেজ "শুনো আমি কিন্তু ঘুমিয়ে পড়বো।তখন জাগাতে পারবে না বলে দিলাম"!
.
অবাক হওয়ার মাত্রাটা বেড়ে গেল।এবার বউয়ের দিকে তাকালাম।বউ হাঁসছে।কাছে গেলাম।হিমি ওর ফোনটা আমার হাতে দিল।ফেসবুকে লগ ইন করা "তৃনা"!বুঝতে বাকি রইলো আমার বউ হিমিটাই যে দুবছরের ভালোবাসার সেই তৃনা।আমি হাঁসছি, হাঁসছে হিমিও।
এবার খাট থেকে নেমে এলো হিমি।আমাকে সালাম দিয়ে সামনে দাঁড়ালো।আস্তে করে বলছে ""একটু জড়িয়ে ধরার অনুমতি পেতে পারি?""
[] Mostofa Kamal Riad []
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now