বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
: আসসালামু আলাইকুম।
: আচ্ছা তুই খিমার পরছ?কোত্থেকে নিছস?
আমি ফোন হাতে নিয়ে মেসেজ গুলা দেখে রীতিমতো অবাক।কারন কথা গুলা আমার ক্লাসমেটদেদের মধ্যে স্টাইলিশ মেয়েটি বলছে।কৌতুহল ধরে রাখতে না পেরে তাড়াতাড়ি ওকে নক করলাম।
: ওয়াইলাইকুমুস সালাম।আসলে তুই তো দেখিস আমাকে প্রাইভেট এ,আমি খিমার ইউজ করিনি,ফ্যামিলির জন্য।কিন্তু বোরকা,খিমার ভিতরের বাজারে লেডিস টেইলার্স একটা দোকান আছে অইখানে ভাল পাওয়া যায়।তুই নিবি??
জান্নাত: হুম চিন্তা করতেছি,এখন থেকে বোরকা,খিমার পড়ব।আমি অনলাইন এ ও দেখেছি।
: ব্যাপার টা কি?
জান্নাত: হুম তোকে সব খুলে বলব।তুই আমাকে বুঝবি।গত একটা বছর আমি নিজের সাথে।যুদ্ধ করছি।আমি আমার আধুনিক জীবন থেকে বের হওয়ার ট্রাই করতেছি।কিন্তু কিছুতেই পারতেছি না।সবাই কিভাবভাবে নিবে আমাকে? আমাকে নিয়ে ফ্রেন্ডরা ট্রল করবে?খিমার পড়ে প্রাইভেট এ যাব কিভাবে?ইত্যাদি নানা কারনে আমি কিছুই করতে পারছিলাম না।
: আলহামদুলিল্লাহ।এটা তোর সৌভাগ্য তোর এমনটা অনুভূতি হয়েছে।এবার ইমানি শক্তিটাকে আর একটু বৃদ্ধি করে তোর অন্তরে বিশ্বাস টাকে কাজের মাধ্যমে দেখাতে হবে।
জান্নাত: আচ্ছা তোকে একটা প্রশ্ন করি, তুই যেভাবে বোরকা,নিকাব,হাত পা মোজা পরিস গরম লাগে না।
: হাহাহা এই উত্তর টা তোর কাছেই আছে,কিন্তু কয়দিন পর জানতে পারবি।আমি একসময় গরম সহ্য করতে পারতাম না,পর্দা শুরু করার পর প্রচণ্ড রোদে বাইরে বের হলে,রাস্তা কিংবা গাড়িতে গরমে ঘামে আমি একাকার হয়ে যেতাম কিন্তু আমি আমার মাঝে কোন বিরক্তি খুঁজে পেতাম না,এখনো পাইনি।এই গরমে অন্যরকম এক ভাল লাগে,প্রশান্তি আছে।
জান্নাত: আসলে নারীদের এভাবেই চলা উচিত।কিন্তু আমরা আধুনিকতায় ব্যস্ত।
: হুম আমরা আমাদের সৃষ্টির উদ্দেশ্য ভুলে আজ আনন্দপূর্তিতে মেতে উঠেছি।
জান্নাত: আচ্ছা আমাকে তুই তোর পর্দা নিয়ে সংগ্রাম করার গল্প গুলো বল না,প্লিজ।আমার অনুপ্রেরণার খুব দরকার।
: আমি সাধারণ একটা পরিবারের মেয়ে।যেখানে পর্দা মানা না হলেও শালীনতা ছিল।কিন্তু এই শালীনতা থেকে আমি যখন নিজেকে পরিপূর্ণ পর্দায় আবৃত্ত করলাম সবাই আমার এটাকে বাড়াবাড়ি হিসেবেই নিয়েছে।আমার পর্দা শুরু হয়েছে গ্রামের বাড়ি থেকে তখন ঘর থেকে বের হয়ে রাস্তা উঠে আমি পর্দা করতাম,আর পেরার পর ঠিক বাড়ি ঢুকার সময় আগের মত হয়ে যেতাম।আমি চেয়েছি আমার পরিবর্তনটা হঠাৎ করে কেউ না জানুক।কারন গ্রামে তিল থেকে তাল হতে সময় লাগে না।যাইহোক কয়েকদিনের মধ্যেই রাস্তায়,বাজারে থাকা বাড়ির লোকেরা জেনে গেল আমার চেঞ্জটা।এবার শুরু হল আমাকে নিয়ে ট্রল।চাচাতো বোনেরা বুড়ি,ঢং,এটা সেটা বলতে লাগল।গায়ে মাখিনি কিছু। কিন্তু একদিন রাস্তায় আম্মুর সাথে কথা বলার সময় এক নেতা টাইপের লোক এলো এবং উনি নাকি আমার দিকে কেমন করে তাকিয়ে ছিলেন,সেইদিন রাতে আম্মুর শেষ কথা আমি এভাবে আর বাইরে বের হতে পারব না।আমাকে নাকি জঙ্গি বলে ধরে নিয়ে যাবে।অনেক কেঁদেছি, কি করব,আমার সাপোর্টার কেউ ছিল না।কিন্তু আমি আম্মুর কথা শুনি নি।এভাবেই দিন কাটছিল।আম্মুর কাছে সেদিন জয়ী হয়েছিলাম আমি।
কলেজ লাইফ থেকে নানুর বাড়ি যাতায়াত একা একা।হঠাৎ আমাকে এভাবে দেখে রাস্তার ছেলেরাও ছাড় দিল না।পিছনে বলা বলি করতে লাগল " কোথথেকে বের হল আগের দিনের মানুষ "।অইদিন পিছন পিরে বলতে ইচ্ছে হল " আগের দিনের মানুষরা মরে গেছে, এই দিনের মানুষদেরতো মরণ নেই তাই না?তাই নারীদের এই বেহায়াপনা "।নাহ বলতে পারিনি ইমানি শক্তি যে অনেক দূর্বল।সেদিন হেরে গিয়েছে........
এভাবেই হার জিতের মাঝে দিন যাচ্ছিল,সব ঘটনাতো বলা যায় না।
তারপর আপুর বিয়ে ঠিক হলো অনেক কাজ।বড় ভাই নেই তাই মেয়ে হয়েও অনেক কাজ করছি,আর অন্তরটা বার বার কেঁদে উঠেছে যে কান্না কেউ দেখেনি।আপুর বউভাতের পর দিন যখন ওকে দেখতে গিয়েছিলাম খাওয়ার সময়...
খালামনি: চল খেতে ডাকতেছে।
আমি : প্লিজ খালামণি আমি ওখানে খেতে পারব না।ওখানে আপুর দেবররা খাবার বেড়ে দিচ্ছে
খালামনি :এখানে এত বাহানা করিস না।নতুন বিয়ে পরে তোর বোন কে কথা শুনতে হবে।
এটা সেটা বলে আমাকে ব্লাকমেইল করছিল আমি অই বাড়িতে তখন ও কেঁদেছি, বাচ্চাদের মত,হুম কেঁদেছি আমার আল্লাহর জন্য, আমার পর্দার জন্য।কিন্তু কাউকে আমার অনুভূতি বুঝাতে পারিনি।
আবারও হার মেনে নিয়েছি.........
তবে জয়ী হয়েছি সেদিন যেদিন বাধ্য হয়ে আপুর বিয়ে শপিং এ গিয়েছিলাম আপুর ৪ দেবর ভাসুরের সাথে,কিন্তু রাতের নয়টা পর্যন্ত এই গরমেও এই নিকাবটা সরে নি,হোটেলে নাস্তা খাওয়ার জন্নও জোরাজোরি করে উনারা আমার নিকাব খোলাতে পারেনি,আমি খাওয়ার টেবিলে বসে ছিলাম।তবে আজ আমি হেরে গেলাম.....
বাড়িতে কোন পুরুষ মেহমান আসলে,আব্বু চা দিতে বলে শুধু গল্পই করতেন,একটিবার ভাবেন না আমি পর্দা করে কিভাবে নাস্তার ট্রে নিয়ে ওনাদের সামনে যাব।ভাবেন না অই পুরুষটি সাথে আমার দেখা দেওয়া নাজায়েজ।।।।
গ্রামের মুরুব্বিরা চাচা,জেঠারা আসলে আম্মু ডেকে পরিচয় করাতো,একটিবার মনে হয়নি আমি পর্দা করি,উনিতো জানেনই না ১৪ জন পুরুষ ছাড়া আর কারো সাথে বিনা প্রয়োজননে দেখা দেওয়া নিষেধ।হুম তখনো হার মেনেছি আমি...
আরেকদিন আম্মুর খালাতো ভাই বিয়ে,বিয়েতে যাওয়ার জন্য সবাই আমাদের বাসায় এসেছে।আমি না যাওয়ার জন্য প্রাইভেট লেট করে আসার সিদ্ধান্ত নিলাম,কিন্তু ফোন দিয়েই যাচ্ছে।এসেছি, বিয়েতে যাব না জানিয়ে দিয়েছি।কিন্তু সবাই আমার বিরুদ্ধে।খালামনির এক কথা আর কোনদদিন আমার সাথে কথাই বলবে,এটাতেও আমাকে রাজি করতে না পেরে উনার ছোট ছেলেকে শিখিয়ে দিয়েছে আমার পা ধরে বসে থাকতে।তো না গিয়ে উপায় আছে।হুম বিয়েতে বোরকা নিকাব পরে যাওয়া মানে সবার হাসাহাসির পাত্র হওয়া।অবশেষ সবার সাথে খাওয়ার পেন্ডেল এ ঢুকলাম, চেয়ারে বসলাম।ডানের টেবিলে কিছু ছেলে খেতে বসেছে,বামের টেবিলেও, সামনের টেবিলেও।এখানে একজন পর্দাশীল মেয়ে নিকাব খুলে খাবার খাবে!!
কাউকে কিছু না বলে হুট করে ঘরে ঢুকে বউরে পাশে বসে রইলাম।কিছুসময় পর খালামনি ভাতের প্লেট হাতে ঘর ভর্তি মানুষ এর মাঝে আমাকে খুঁজে নিল।
খালামনি আমাকে যেভাবে ভালবাসে ঠিক সেভাবে পর্দাটাকেও যদি ভালবাসত।।।।
সেদিন নিজেকে জয়ী মনে হয়েছে...
...
হেদায়েতের পর থেকেই আমার নতুন একটা দিন আমার নতুন একটা ঘটনা।কয়টা ঘটনা বলা যায়? এই হার জীতের মাঝেই আছি আমি এখনো।এখনো আমার পরিবার আমার আত্মীয়স্বজন আমার পর্দাটাকে বাড়াবাড়ি মনে করে,এখনো কেউ আমার অনুভূতিটার মুল্য দেয়নি।কেউ আমার পাশে দাঁড়িয়ে সাহস দেয়নি।
আমি কখনো এটা ভাবি নি বাইরে পর্দা করা থেকে ঘরে পর্দা করা এত কঠিন।
তাই তোকে এটা বলব আমার মত হার মেনে নিস না কখনো,হেদায়েত সবার কপালে জুটে না,পর্দা কি সেটা সবার জানার সৌভাগ্য হয় না।
জান্নাত: আমাদের সমাজে বড় মুখ করে অনেকে বলে মেয়েটা পর্দা করে,কিন্তু পর্দা করার পরিবেশটা সৃষ্টি করে দেয় না।
: হুম একটা মুসলিম দেশ হয়ে পর্দাশীল নারীদের পদে পদে এত অপমানের স্বীকার হতে হয়।
জান্নাত : আচ্ছা এখন ফোন রাখিরে আবার তোকে নক করব।বিরক্ত করব।আল্লাহ হাফেজ,আসসালামু আলাইকুম।
: ওয়ালাইকুমুস সালাম।
বাই বলা মেয়েটিও আজ আল্লাহ হাফেজ বলে।
#হেদায়াত।
#সৌভাগ্য।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now