বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

হাত কাটা রবিন পার্ট ১

"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ʀɪᴍᴜ (০ পয়েন্ট)

X আমি বাসায় গিয়ে সবাইকে হাত কাটা রবিনের গল্প বললাম। ছেলেটিকে যে আমার পছন্দ হয়েছে তা গল্প করতে গিয়ে বুঝতে পারলাম। সত্যমিথ্যা এক গাদা জিনিস বলে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিলাম। আম্মা বললেন নিয়ে আসিস তো ছেলেটাকে একদিন। বিকেল হওয়ার অনেক আগে আমি আমাদের ডিটেকটিভ ক্লাবে পৌঁছে গেলাম। গিয়ে দেখি সবাই আগে পৌঁছে গেছে, এমন কি রবিনও। হীরা, নান্টু, মিশু, সলিল সবাই মিলে একটা মাঝারি সাইজের ফুটবল পাম্প করছে। বলটা রবিনের। রবিন কাটা হাতটা দিয়ে এমন চমৎকারভাবে পাম্পারটা ঠেসে ধরে পাম্প করে যাচ্ছিল যে মনে হচ্ছিল হাত কাটা থাকলেই বুঝি এসব কাজ করতে সুবিধা। দারুণ একটা ফুটবল টিম খুলব। বলের লেসিং লাগাতে লাগাতে রবিন বলল, পৃথিবীর মাঝে সবচেয়ে ভাল। আমরা রোমাঞ্চিত হলাম। সলিল বলল, ঠাকুরপাড়ার টিমটা খুব শক্ত। গতবার চার গোল খেয়েছি, তার আগেরবার ছয় গোল। রবিন তাচ্ছিল্যের দৃষ্টিতে আমাদের দিকে তাকিয়ে বলল, তোরা দিনরাত মেয়েদের মত বুড়ী-চি খেলিস, ফুটবল খেলায় তো গোল খাবিই। ইহ্। বুড়ী-চি খেলি কে বলল তোকে? মারব থাবড়া— হীরা বাতাসের মাঝে ঘুষি মারল। ঐ হল। ফুটবল কেটে কেটে ভাগ করে নিস ফুটবল খেলিস না। তার মানেই বুড়ী-চি খেলিস! আবার? আবার? হীরা দাঁত কিড়মিড় করে। ফুটবলটি মাটিতে তিন চারবার ড্রপ দিয়ে রবিন বলল, চল খেলি গিয়ে। আমরা হৈ হৈ করে বেরিয়ে এলাম। মাঠের ধারে গোল হয়ে বসে টিম ভাগ করতে লাগলাম। আমাদের মাঝে সলিল আর মিশু দারুণ খেলতে পারে। হীরাটার পায়ে জোর বেশি, ল্যাং মেরে টেনে হিচড়ে বল নিয়ে যায়, আসলে বেশি ভাল খেলতে পারে না। রবিন কি রকম খেলে কে জানে, তবে ওর যে রকম উৎসাহ নিশ্চয়ই ভাল খেলে। আমাদের সর্দার হবার মারামারিটা তার আগে হয়ে যাক। রবিন বলের উপর এক পা তুলে কাটা হাতটা নাচাতে নাচাতে বলল। অনেকক্ষণ ধরেই অস্বস্তির সঙ্গে আমারএকথাটা মনে হচ্ছিল। হীরা গোঁ গোঁ করে বলল, ঠিক আছে। তারপর হাতা গুটিয়ে ফেলল। আমরা গোল করে জায়গা করে দিলাম। রবিন শাট খুলে গেঞ্জি বের করে নিল। তারপর হীরার দিকে এগিয়ে এল। বলল আয়। হীরা তার জায়গায় দাঁড়িয়ে বলল, তুই আয় আমি দেখেছি যেসব মারামারি হঠাৎ করে কোন কারণে শুরু হয়ে যায় সেগুলি চমৎকার চলতে থাকে। কিন্তু সামনাসামনি দাঁড়িয়ে খুব ধীরে ধীরে মারামারি শুরু করা দারুণ শক্ত। হীরা আর রবিন খুব কাছাকাছি দাঁড়িয়ে একজন আরেকজনের বুকে থাবা দিয়ে ফোঁসফোঁস করছিল। রবিন মাঝে মাঝে ঠেলে হীরাকে সরিয়ে দিচ্ছিল, হীরাও ঠেলে রবিনকে সরিয়ে দিচ্ছিল। লেগে দেখ না। ছাতু বানিয়ে ফেলব। হীরা গরম হয়ে রবিনকে একটা মাপসই ধাক্কা দেয়। ইহ! রবিন ঝটকা মেরে হীরার হাত সরিয়ে দেয়। বলে, কি করবি তুই? কাঁচকলা! তারপর কাটা হাতটা দিয়ে থুতনিতে টোকা মারে। আরেকবার মার তো! রবিন আরেকবার মারল, একই জায়গায় ঠিক একই ভাবে। আরেকবার মেরে দ্যাখ তো হীরার চোখ মুখ লাল হয়ে ওঠে। রবিন আবার ঠিক একই জায়গায় একই ভাবে মারল। সাথে সাথে হীরা রবিনের উপর ঝাপিয়ে পড়ল। আমি বুঝতে পারলাম রবিনের গায়ে দারুণ জোর। হাতটা কাটা থাকার পরও সে হীরাকে এমন বেকায়দাভাবে ল্যাং মেরে ফেলে দিল যে আমি তাজ্জব হয়ে গেলাম। দুজন দুজনকে খামচে ঝাপটে ঘষটে ঘষটে ঘাসের উপর গড়াগড়ি দিতে লাগল। কখনও হীরা রবিনকে কাবু করে ফেলছিল কখনও রবিন হীরাকে। অনেকক্ষণ ধরে ওদের জাপটাজাপটি চলল, শেষ পর্যন্ত আমরাই বিরক্ত হয়ে ওদের ছাড়িয়ে দিলাম। দুজনকে ছাড়িয়ে দেবার পর ওরা দুজনেই দাবি করতে লাগল যে সে জিতেছে। হীরার সাথে নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আমার সাথে মারামারি শুরু হতে পারে না তাই ওটা আগামীকাল পর্যন্ত স্থগিত থাকল। এখন ফুটবল খেলব। কিন্তু ফুটবল কোথায়? খুঁজে খুঁজে হয়রান হয়ে দেখি আমাদের ছোট ভাইয়ের দলটা ওটাকে দমাদম পিটিয়ে বাসার উঠনে খেলছে। রঞ্জুর কান মলে দিয়ে আমি বলটা নিয়ে এলাম। রঞ্জু, আমার ছোট ভাই, ভ্যা করে কেঁদে দিল। আজ বাসায় এ নিয়ে ভোগান্তি হবে। আমি বল নিয়ে এলাম, দল ভাগ করা হল, এক দিকে সলিল ক্যাপ্টেন আরেক দিকে রবিন। রবিন বলল ওকে ক্যাপ্টেন না বানালে সে খেলবে না, বল নিয়ে চলে যাবে। এমন বিচ্ছু ছেলে আমি আর দেখিনি। ওকেই ক্যাণ্টেন করা হল। বলের মালিককে সব সময় একটু সুবিধা দিতে হয়। wow


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ হাত কাটা রবিন পার্ট ১

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now