বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
-'হুম বল।'(আমি)
-'কীরে সমস্যাটা কি তোর?'(আবিদ)
-'কোনো সমস্যা নাইতো, আমি নিজেই
একটা সমস্যা।'
-'হেয়ালী বাদ দে তো।'
-'বাদ দিলাম, বল।'
-'মিনিমাম ৭বার কল দিসি, এত
দেরিতে রিসিভ করলি কেন?'
-'বুঝলি দোস্ত? তুই ছাড়া সবাই আমার
সাথে বেঈমানি করলো'।
-'কেন? আবার কি হইছে?'
-'10mg ফ্রিজিয়াম খাইয়া
ঘুমাইছিলাম। তুই কয়েকবার কল দিতেই
ঘুম ভাইঙ্গা গেল। আমার সাথে
স্লিপিং পিলও বেঈমানি করলো।'
-'তুই আবার ঘুমের ওষুধ খাইছিস? তোরে
আর শোধরাইতে পারলাম না।'
-'যার জীবনেরই কোনো ঠিক ঠিকানা
নাই, তার শোধরাইয়া কী লাভ?'
-'আমার সাথে ফিলসফি করবি না।
থাপ্পড় দিয়া দাত ফালায়া দিমু।'
-'হাহাহা...'
-'কাজের কথা শোন...'
-'হু বল।'
-'আজকে কত তারিখ বলতো?'
-'১৪ তারিখ হতে পারে।'
-'ঠিক বলেছিস। ভ্যালেন্টাইন ডেতে
ঘুমিয়ে কাটাবি?'
-'তাছাড়া আর কি করবো? তুই তো
সবটাই জানিস।'
-'ঠিক বিকেল ৪টায় ক্যাম্পাসে
আসবি।'
-'কেন?'
-'তোর জন্য সারপ্রাইজ আছে।'
-'কি সারপ্রাইজ?'
-'সারপ্রাইজ বইলা দিলে কি সেটা
সারপ্রাইজ থাকে?'
-'সেটাও ঠিক...'
-' আসবি তো?'
-'দেখি....'
-'দেখি বললে হবে না। আসতেই হবে।'
-'আচ্ছা যাবো, খুশি?'
-'ওকে দোস্ত, বাই।'
-'ওকে বাই।'
আমি শুভ্র। ইউনিভারসিটিতে থার্ড
ইয়ারে পড়ি। এতক্ষণ যে হারামীর
সাথে কথা বলছিলাম, ও হচ্ছে আমার
অন্তরের বন্ধু আবিদ। আমরা একই ইয়ারে
পড়ি। আগের মুহূর্তে স্লিপিং পিল
খেয়ে ঘুমাচ্ছিলাম। কিন্তু, আবিদ
ডেকেছে যখন, অনিচ্ছা সত্ত্বেও না
গিয়ে উপায় নেই। আমরা স্কুল লাইফ
থেকে বন্ধু। এতদিনে কখনোই আমদের
মাঝে ঝামেলা হয়নি।
"বিকেল সাড়ে তিনটা"
ফ্রেশ হয়ে বাসা থেকে বের হয়ে
রিক্সা নিলাম।
এবার ভ্যালেন্টাইন ডে ঘুমিয়ে
কাটানোর হেতু নিয়ে ভাবছি...
গতবছর এই সময় পর্যন্তও এক রূপবতী নারীর
সাথে আমার সম্পর্ক ছিল। সামান্য
একটা কারণে অনন্যা আমায় ছেড়ে
চলে যায়।
কারণ টা হচ্ছে, ২০১৬সালের ১৪ই
ফেব্রুয়ারি স্কুল লাইফের একজন মেয়ে
ফ্রেন্ড এর সাথে দেখা হয়েছিল। ওর
সাথে এক রেষ্টুরেন্টে কফি খেতে
গিয়েছিলাম। সেই ব্যাপারটা অনন্যা
দেখে ফেলে, অভিমানী হলে যা
হয়....এরপর অনন্যা আমার সাথে
যোগাযোগ রাখে নি। ভেবেছিলাম
রাগ কমে গেলে ও ফিরে আসবে। কারণ,
আমার ভালোবাসায় তো কোনো
কমতি ছিল না। বার বার ফোন করেছি,
রিসিভ হয় নি। একসময় ফোন বন্ধ করে
ফেলে। বাসার সামনে গিয়ে
দাড়িয়ে থাকতাম বলে বাসাটাও
চেঞ্জ করে ফেলে, নতুন বাসার
ঠিকানা যোগাড় করতে পারিনি।
ও আর ফিরে আসে নি। কখনো বলার
সুযোগ হয়নি, সেদিনের মেয়েটি কে
ছিল? ওর ফেরার আশা ছেড়ে
দিয়েছি। হয়তো ভালোই আছে
আমাকে ছাড়া। সিগারেট আর ঘুমের
ওষুধের সাথে নতুন করে সম্পর্ক শুরু
করেছি, হয়তো আমিও ভাল আছি...।
-'মামা আইসা গেছি, নামেন।'
রিক্সাওয়ালার ডাকে আমার ঘোর
কাটলো। যেন নতুন এক জগতে প্রবেশ
করেছি। চারিদিক প্রচন্ড সুন্দর করে
সাজানো হয়েছে। হয়তো
ভ্যালেন্টাইন ডে উপলক্ষেই...
ভাড়া মিটিয়ে আবিদের সামনে
চলে গেলাম।
-'কী ব্যাপার বল?'(আমি)
-'সারপ্রাইজ পেয়ে খুশি হলে কি
খাওয়াবি?'(আবিদ)
-'সেটা কতটা খুশি হলাম, তার উপর
ডিপেন্ড করবে।'
-'ওকে দোস্ত, এই নে তোর সারপ্রাইজ।
আমি সবকিছু আলোচনা করে ঝামেলা
মিটিয়ে দিয়েছি।'
এইটুকু বলেই আবিদ সরে গেল। সঙ্গে
সঙ্গে আমার চোখ আটকে গেল এক
বালিকার চোখে। এ তো আর কেউ নয়,
চলে যাওয়া অনন্যাকে আবিদ
ফিরিয়ে এনে দিয়েছে। শালাকে
ধন্যবাদ দেবার ভাষা খুজে পেলাম
না। ইচ্ছে করলো একটু চোখের জল
ফেলি, পরমুহূর্তে ভাবলাম এই খুশির
মুহূর্তে কাদা ঠিক হবে না।
অনন্যার মায়াবী চেহারাটা
অনেকবার দেখেছি। নীল শাড়িতে
অনন্যাকে অপ্সরীর মতো লাগছে।
চিরচেনা বালিকা কে নতুন করে খুজে
পেলাম। আজকের অনন্যাকে নতুন করে
খুঁজে পেলাম।
আমি তাকিয়ে আছি অনন্যার চোখের
দিকে। সে চোখের জল ফেলতে
ফেলতে আমার দিকে এগিয়ে এসে
আমার হাত চেপে ধরে ভুল বুঝার
কারণে ক্ষমা চাইলো।
আমার গম্ভীর গলায় আবৃত্তি করতে ইচ্ছে
করলো,,,,
'''এইসব ভাল লাগে; জানালার ফাক
দিয়ে ভোরের সোনালী রোদ এসে
আমারে ঘুমুতে দেখে বিছানায়, আমার
কাতর চোখ-আমার বিমর্ষ ম্লান চুল,
এই নিয়ে খেলা করে জানে সে যে
বহুদিন আগে আমি করেছি কি ভুল,
পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমাহীন গাঢ় এক
রূপসীর মুখ ভালবেসে...'''
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now