বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

♦হাসিমুখ♦

"শিক্ষণীয় গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মফিজুল (০ পয়েন্ট)

X আসসালামু আলাইকুম।।। রাত এগারোটা। আলমারি থেকে একটা শাড়ি বের করতে দেখে মা বলে উঠলেন, “তুই কি এবারও যাবি?” “হ্যাঁ, মা। তুমি তো জানো যে প্রতিবছর এই দিনটাতে আমি যাই। তারপরও একথা জিজ্ঞেস করছো কেন?” “এত রাতে যাবি, চিন্তা হয়না আমার?” পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিল মা। “চিন্তার কিছু নেই, আজ অনেক মানুষ আসবে।” “হুম সেইজন্যই আরো বেশি চিন্তা।” “চিন্তা তো প্রতিবছরই করো। এবছর একটু কম কম করো।” মায়ের কালো মুখটা দেখতে দেখতে আমি রুম থেকে বের হয়ে আসি। ভালো একটা দিনের প্রারম্ভকালে এমন কালো মুখ দেখতে ভালো লাগে না। তবু দেখতে হচ্ছে, প্রতিবছরই দেখি। আমার যাওয়াটা মা পছন্দ করেন না, আবার মানাও করতে পারেন না। শাড়িটা পরে যেই মোবাইলটা হাতে নিয়েছি, অমনি দেখি যে মা দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। কিছু বলবেন মনে হয়। “এই নে ধর টাকা। আর চাদর নিয়ে যা, বাইরে ঠান্ডা আছে।” টাকাটা হাতে নিতে নিতে বললাম, “আচ্ছা।” পার্সে মোবাইল ও টাকা ঢুকিয়ে আবার মায়ের মুখের দিকে তাকালাম। অন্ধকার ভাবটা এখনো সরেনি মুখ থেকে। আমি চাদরটা পড়তে পড়তে বললাম, “যাওয়ার সময় মুখ কালো করে থেকো না তো মা। এটা তো নতুন কিছু না। আমি তাড়াতাড়ি চলে আসবো।” মা এবার একটু হাসি মুখ করে বললেন, “আচ্ছা। সাবধানে যাস।” বাইরে বের হয়ে আকাশের দিকে তাকালাম। কি সুন্দর এক ফালি চাঁদ মেঘে ভেসে বেড়াচ্ছে। তারাগুলো পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে না। কেমন একটা ঠান্ডা চারপাশে। এই রাতটা আমার কাছে অনেক ভালো লাগে, আবহাওয়া যেমনই হোক না কেন। রাস্তার এক পাশে একটা রিকশাওয়ালাকে বসে থাকতে দেখলাম। বয়স খুব বেশি হলে পঞ্চান্ন হবে। মুখে বয়সের একটা ছাপ রয়েছে। পাকা দাঁড়ি-গোঁফ মুখে, গলায় গামছা। “যাবেন, চাচা? বাংলা একাডেমি?” “হ যামু, চলেন।” আমি চমৎকৃত হলাম এটা আবিষ্কার করে, যে এই প্রথম কোনো রিকশাওয়ালা এত রাতে তেমন কোনো বিরক্তি না দেখিয়েই যেতে রাজি হয়েছে। আমি ভাড়া ঠিক না করেই উঠে পড়লাম। একটু যাওয়ার পর উনিই প্রথম মুখ খুললেন। “আপা, আপনে ফুল কিনবেন না?” “হ্যাঁ কিনব। কিন্তু আপনি কি করে জানলেন?” “এই, এমনেই মনে হইল।” “আচ্ছা ফুলের মার্কেটের সামনে তাহলে একটু রিকশাটা রেখে দিয়েন।” “আইচ্ছা।” ফুল মার্কেটে পৌছালাম। প্রচুর ভীড়।কারণ সবাই ফুল এখান থেকেই নিচ্ছে। ভীড় ঠেলাঠেলি করে কয়েকটা গোলাপই কেবল কিনতে পারলাম। ফুলগুলো কিনে রিকশার কাছে পৌছাতেই উনি বলে উঠলেন, “আপা আমারে একটা ফুল দিবেন?” আমি একটু অবাক হয়ে বললাম, “কেন?” “না মানে এই এমনি। আমিও হগলের লগে ফুল দিতাম।” সরল স্বীকারোক্তি।উনি বুঝতে পেরেছেন যে আমি কোথায় যাচ্ছি।একটা ফুলই তো কেবল। তাই বললাম, “আচ্ছা ঠিক আছে। যখন ফুল দিতে যাবো, তখন নিয়েন।” “আইচ্ছা আপা।” রিকশা খুব বেশি দূর যেতে পারলো না, বাংলা একাডেমির কাছে থেমে গেলো। অবশ্য আমার গন্তব্যও এটা ছিল। পুলিশ রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে। নিশ্চয়ই এখন প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি ফুল দিতে এসেছেন। তাঁরা যাওয়ার পরই সাধারণ জনগণ ফুল দিতে পারবে। আরও কিছুক্ষণ সময় কেটে গেলো।রিকশাতেই এতসময় বসে আছি দেখেই হয়তো রিকশাওয়ালা চাচা বলে উঠলেন, “আপা আপনে ফুল দিতে যাইবেন না শহিদ মিনারে?” “হ্যাঁ যাব। আপনি যাবেন না এখন?এই নেন আপনার ফুল।” এই কথা বলে দুইটা গোলাপ ফুল তার দিকে বাড়িয়ে দিলাম। “একটা গোলাপেই তো হইত” ফুল নিতে নিতে বললেন তিনি, “হ আমিও যাইতাম কিন্তু মোর রিকশাডা দেখতেও তো হইব। এইডা দিয়াই তো এহন মোর জীবন বাঁচতাছে।” “আপনি যান, আমি এইখানে বসে আছি। আপনার রিকশার কিছু হবে না।” আমি বললাম। “আল্লাহ আপনের ভালা করুক, আপা। মোর কতোদিনের ইচ্ছা আছিল শহিদ মিনারে ফুল দেওনের। আজ মোর হেই ইচ্ছা পূরণ হইব।” রিকশাওয়ালা চাচা ফুল নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন। হাঁটতে হাঁটতে একসময় তিনি শহিদ মিনারে পৌছাবেন। ফুল নিয়ে এগিয়ে যাবেন। পড়নে লুঙ্গী আর ছেঁড়া গেঞ্জি। তাঁর পাশের জন হয়তো স্যুট পরিহিত থাকবেন। কিন্তু তারা সবাই এখন একই উদ্দেশ্যে অগ্রসর হচ্ছেন। তা হলো শহিদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহিদের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন। রিকশায় বসে বসে এইসব ভাবছিলাম। হঠাৎ করে কেউ বলে উঠল, “আপা আপনে এহন যাবেন?” তাকিয়ে দেখি, সেই রিকশাওয়ালা চাচা। বললাম, “আপনি ফুল দিয়েছেন? ” “হ আপা। মোর মেলা দিনের ইচ্ছা পূরন হইল।” কথাটা বলতে বলতে তাঁর এক প্রশস্ত হাসিমুখ দেখা গেল, চোখ আনন্দে চিকচিক করছে। “হ্যাঁ যাই। আপনি এখানে আমার জন্য অপেক্ষা করতে পারবেন? আমি এই আপনার রিকশাতেই বাসায় ফিরতাম তাহলে।” “কি কন আপা! আপনে মোর লাইগ্যা রিকশায় বইয়া রইলেন, আর মুই পারমু না? আপনে যান, মুই আছি এহানে।” ফুল নিয়ে আমি এগিয়ে যেতে থাকলাম। মনে পড়লো রিকশাওয়ালার সেই হাসিমুখটা। এই একুশে ফেব্রুয়ারির দিনের শুরুতে আমি একজনের ইচ্ছে পূরণ করতে পারলাম। হোক না সে একজন রিকশাওয়ালা, কিন্তু এটাই বা কম কি! এসব ভাবতে ভাবতেই হয়তো আমারও মুখে খানিকটা হাসি ফুটে উঠল। [সংগৃহীত]


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১০১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ♦হাসিমুখ♦

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now