বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
হাসি
আফরিন মৌনী
হরর
বান্ধবী আর রুমমেটদের ভূতের গল্প শুনিয়ে রাতের ঘুম হারাম করে দেয়াটা ঐন্দ্রিলার বদ-স্বভাব। ভূতের গল্প বলতে বলতে সবার মুখের ভয়াল এক্সপ্রেশান দেখে খিক খিক করে হাসতে হাসতে লুটোপুটি খায় মেয়েটা। অন্যদের ভয় দেখিয়ে আনন্দ নেয়াটা ওর একটা বিশ্রী হবি। গতরাতেও পাশের বেডের সিনিয়র রুমমেট তুলি আপুকে তো প্রায় আধমরা করে ফেলেছিল ও।
ঐন্দ্রিলার ঝুলির যত ভূতের গল্প তার প্রায় সব-ই ওর কল্পনা আর অভিনয়ের সংমিশ্রিত। ওর একটা ভাল গুণ হচ্ছে ওর কল্পনাশক্তি বেশ তীব্র। আর ঐটা ও শুধুমাত্র ভূতের গল্প বানাতেই ব্যবহার করে।
ব্যাগ গুছাতে গুছাতে বাড়ির কথা মনে করে ঐন্দ্রিলা। কতদিন পর ও বাড়িতে যাবে,ভাবতেই এক চিলতে হাসি ফোটে ওর ঠোঁটে। প্রতিরাতে মেয়েদের হাসি ঠাট্টায় মুখর হোস্টেলটা আজ পুরো নিশ্চুপ। গরমের ছুটিতে স্কুল বন্ধ হতেই সবাই বাড়ি চলে গেল। ওর বাসায় একটু ঝামেলা হওয়ায় আটকে গেছে ওর বাপি। তাই আজ নয়,কাল নিতে আসবেন ওকে। ঐন্দ্রিলা বিছানা গুছাতে গুছাতে খিক খিক হাসির শব্দটা প্রথম শুনতে পেল। একটু চমকে উঠলেও ওটাকে মনের ভুল বলে চালিয়ে দিল ও। আবার ব্যাগ গুছাতে ব্যাস্ত হয়ে পরল।
রাত পৌনে বারটা.....
ঐন্দ্রিলা শুয়ে শুয়ে ওর বাড়ির কথা, মায়ের আর ছোট্ট ভাইটার কথা ভাবছে। ছোট ভাইটাকে ভূতের গল্প শুনিয়ে ভয় পাইয়ে দিয়ে ভীষণ মজা পায়। সেই কথা ভাবতেই খিক খিক করে হেসে দিল ও। চোখ বন্ধ করে একটা ভুতের গল্প বানাতে শুরু করল এবার। একটা অস্পষ্ট খিক খিক হাসির শব্দে ঘোর ভাঙল ওর। মনের ভুল ভেবে আবার চোখ বন্ধ করতেই আবারও সেই একই শব্দ শুনতে পেল ঐন্দ্রিলা । এবার কিছুটা অবাক হয়ে বিছানায় উঠে বসল। পুরো হোস্টেল নিঝুম হয়ে আছে। ঐন্দ্রিলার মেট্রন ম্যামের কথা মনে পরে গেল। উনি বার বার করে বলে ছিলেন ওনার রুমে থাকতে আজ রাতে। অথচ ও এক প্রকার জোর করেই নিজের রুমেই রয়ে গেল! আবারও সেই খিক খিক হাসির শব্দ! এবার ঐন্দ্রিলা একটু ভয় পেয়ে গেল। বালিশ আর টর্চ হাতে নিয়ে উঠে দাঁড়াল ও। দরজার কাছে গিয়ে সাবধানে ছিটকিনি খুলতেই ঠান্ডা দমকা হাওয়া হুট করে ছুঁয়ে গেল। ও এখন দাঁড়িয়ে আছে লম্বা করিডোরের ঠিক মধ্যিখানে। করিডোরের দুপাশে রুমের সারি। বামদিকের একদম কোনার দিকে মেট্রনের রুম আর ডানপাশে গেইট। লম্বা করিডোরটার মাঝে মাঝে তিনটা ষাট পাওয়ারের বাল্ব জ্বলছে। আর বাল্বগুলোর হলুদ আলো এতবড় করিডোরকে আলোকিত করার বদলে হালকা আবছায়া সৃষ্টি করে রেখেছে। গেইটের ওপাশে নিচের ফ্লোরে নামার আর উপরের ফ্লোরে ওঠার সিঁড়ি। ও থাকে দোতলায়। ঐন্দ্রিলার হঠাৎ গতরাতে তুলি আপুকে বলা গল্পটা মনে পরে গেল। গল্পের মেয়েটাও এভাবেই একা ছিল হোস্টেলে,আর সেও শুনতে পেয়ে ছিল ঠিক এমনই হাসি। গল্পের কথাগুলো মনে পরতেই গায়ে কাঁটা দিল ওর। আর তখনই সেই একই শব্দ শুনতে পেল ঐন্দ্রিলা। শব্দের উৎস খুঁজে লম্বা করিডোরের ডান দিকে তাকাল ও। ষাট পাওয়ারের হলুদ বাল্বের আবছা আলোতে প্রথমবারের মত দেখতে পেল হাসির উৎসকে। ওর হাত থেকে বালিশটা পরে যেতেই ও সম্বিত ফিরে পেল। আর যাই হোক এ কিছুতেই স্বাভাবিক কিছু হতে পারে না। তীব্র পচা গন্ধ নাকে আসতেই ওর গতরাতের গল্পের বাকি অংশ মনে পরে গেল,ততক্ষণে প্রাণীটা ল্যাংচাতে ল্যাংচাতে ওর দিকে আসা শুরু করে দিয়েছে। গল্পের মেয়েটার পরিণতি মনে পরতেই ঐন্দ্রিলা জোরে দৌড় দিতে চাইল,কিন্ত পা দুটো বেইমানি করে একই পরিণতির পথে ওকেও ফেলে দিল! ও শেষবারের মত চিৎকার দিতে চাইল,কিন্ত ওর চিৎকারের শব্দ ছাপিয়ে শোনা গেল এক অপার্থিব খিক খিক হাসির শব্দ। অবিকল ঐন্দ্রিলার গলায়,ঐন্দ্রিলার মত করে হাসি। খিক খিক,, খিক খিক,,খিক খিক.........
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now