বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

হার্টের মহাযুদ্ধ

"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোহাম্মদ শাহজামান শুভ (০ পয়েন্ট)

X লেখকঃ মোহাম্মদ শাহজামান শুভ। ফেসবুকের প্রোফাইল পিকচারের মতো সিরিয়াস একটা বিষয় আজকাল প্রেম-প্রণয়ের সম্পর্ককে তছনছ করে দিতে পারে—এটা হয়তো পাঁচ বছর আগেও কেউ কল্পনা করত না। কিন্তু এখনকার যুগে প্রেম মানেই তো “রিঅ্যাকশন যুদ্ধ”! কে কোন ছবিতে হার্ট দিল, কে লাইক দিল, কে কনফিউজড ইমোজি দিল—এসব দিয়েই সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হয়। এই যেমন ধরুন, তন্ময় আর শ্রাবণীর কেস। তন্ময় সেদিন বিকেলবেলা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে নিজের প্রোফাইল পিকচার আপলোড করল। ছবিটা ছিল বিশেষভাবে এডিটেড—গোলাপি শার্ট, চশমা একটু কাত করে, মুখে “আমি খুবই ভাবুক অথচ কিউট” ধরনের একটা রহস্যময় হাসি। পেছনে আবার ক্যানভা দিয়ে বানানো হালকা ঝাপসা ব্যাকগ্রাউন্ড। আপলোড দেওয়ার সাথে সাথেই ফেসবুক বন্ধুরা ঝাঁপিয়ে পড়ল। কে লিখছে—“মনে হচ্ছে হিরো!” কে লিখছে—“আরে বাহ, ভাইয়া মডেলই বনে গেছেন।” আর কেউ কেউ আবার অতি উৎসাহী হয়ে কমেন্ট বক্সে লিখে দিল—“????????????”। তন্ময় এগুলোতে খুব একটা পাত্তা দিল না। ওর চোখ খুঁজছিল একটাই নাম—শ্রাবণী। শ্রাবণী মানে ওর প্রেমিকা, মানে ওর হৃদয়ের কনস্টিটিউশন। যেদিন প্রথম ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছিল, সেদিনই শ্রাবণী বলেছিল— “শুনো, আমি কিন্তু ভুয়া ছেলেদের সাথে ফ্রেন্ডশিপ করি না।” তখন তন্ময় বুক ফুলিয়ে উত্তর দিয়েছিল— “তাহলে তো আমি আসল প্রেমিক হওয়ার জন্যই বানানো।” সেই থেকে শুরু। এখন প্রায় আড়াই বছর ধরে তাদের প্রেম চলছে। কিন্তু হায়! সেইদিনের ছবিতে শ্রাবণীর হার্ট পড়ল না। তন্ময় প্রথমে ভেবেছিল—নিশ্চয়ই নেট সমস্যা। সে বারবার রিফ্রেশ দিলো। কিন্তু না—লাইক আছে, কেয়ার আছে, এমনকি এক কাজিন একটা “হাহা”ও দিয়েছে, কিন্তু শ্রাবণীর হার্ট? কোথাও নেই। ফোন হাতে নিয়ে তন্ময়ের বুক ধুকপুক শুরু করল। অবশেষে সাহস করে সে ইনবক্সে লিখল— “হার্ট দিলে তো ভালো লাগত।” উত্তরে শ্রাবণী হাসির ইমোজি পাঠিয়ে লিখল— “ওমা! তুমি কি রাগ করেছো নাকি? আমি তো হার্ট দিইনি।” তন্ময় মুখ ফুলিয়ে উত্তর দিল— “রাগ কেন করব? আমি তো তোমার আসল হার্টটাই চাই, ইমোজি না।” এই কথায় শ্রাবণী গড়গড় করে হেসে উঠল। লিখল— “তাহলে রিয়েল হার্ট দিচ্ছি না, ফেসবুকেই ম্যানেজ করো।” এবার তন্ময়ের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল। —“মানে? এই কি প্রেম?” কিন্তু শ্রাবণী আসলে মজা করছিল। তবে তন্ময় যে অত সিরিয়াসলি নিয়ে নিল, সেটা দেখে তারও ভেতরে ভেতরে হাসি পাচ্ছিল। ________________________________________ তন্ময় সেই রাতেই বিছানায় শুয়ে প্রেম-রাজনীতির তত্ত্ব আবিষ্কার করতে বসল। প্রথম আইন: “হার্ট-ইমোজি না পাওয়া মানে প্রেমে কনফিউশন।” দ্বিতীয় আইন: “প্রেমিকার হার্ট-ইমোজি প্রেমিকের মনের এয়ারপোর্টে ভিসা স্ট্যাম্পের মতো।” তৃতীয় আইন: “হার্টের জন্য অনশন করা যাবে না, তবে ইমোশনাল নাটক চালানো যাবে।” পরদিন অফিস থেকে বের হয়ে সরাসরি শ্রাবণীর বাসার সামনে হাজির হল। শ্রাবণী বের হয়ে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল— “এমন করে এলে কেন?” তন্ময় সিরিয়াস গলায় বলল— “তুমি যদি আমার ছবিতে হার্ট না দাও, তবে কি মানুষ বুঝবে আমি তোমার প্রেমিক? মানুষ বলবে—‘প্রেমিক হলে হার্ট তো দেওয়ার কথা।’” শ্রাবণী হেসে উত্তর দিল— “আরে, তুমি কি প্রেমকে ফেসবুক স্ট্যাটাসের সাথে গুলিয়ে ফেলছো? আমি তো তোমাকে আসলেই ভালোবাসি, ইমোজি দিয়ে সেটা প্রমাণ করতে হবে কেন?” তন্ময় মাথা চুলকাতে চুলকাতে বলল— “তা ঠিক, কিন্তু আজকাল পৃথিবীকে না দেখালে মানুষ বিশ্বাস করে না।” শ্রাবণী একটু ভেবে বলল— “তাহলে শোনো, তুমি যদি এতটাই হার্ট পাওয়ার জন্য ব্যাকুল হও, আমি আজ থেকে তোমাকে হার্ট-ম্যান বানিয়ে দিলাম। যেখানে যাবে, সেখানেই আমি হার্ট দেব। অফিসে গেলে হার্ট, বাজারে গেলে হার্ট, এমনকি তুমি ঘুমাচ্ছো—সেই ছবিতেও হার্ট।” তন্ময় হাঁ হয়ে গেল। “মানে? আমি তো আর ২৪ ঘণ্টা সেলফি দিই না!” শ্রাবণী এবার আরও জোরে হেসে ফেলল। “তাহলে আমি কী করব? আমার তো আসল হার্ট তোমার কাছেই আছে। ফেসবুকের হার্টের জন্য এত কান্নাকাটি কোরো না।” ________________________________________ এরপর থেকে তন্ময় আর শ্রাবণী একটা চুক্তি করে নিল। চুক্তি হলো—প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার একে অপরের প্রোফাইল ছবিতে হার্ট দিতে হবে। তবে শর্ত আছে—হার্ট দেওয়ার পর এক লাইন মন্তব্যও করতে হবে। যেমন—“হার্ট দিলাম, কারণ তুমি আমার ফেসবুকের লাল গোলাপ।” তন্ময় খুশি হয়ে বলল— “ঠিক আছে, এভাবেই চলুক।” কিন্তু ঝামেলা বাধল আরেক জায়গায়। একদিন শ্রাবণী তন্ময়ের ছবিতে হার্ট দিলো ঠিকই, কিন্তু নিচে কমেন্টে লিখল—“মারাঠি হিরোর মতো লাগছে।” তন্ময় আবার গোঁসা করল— “মানে? আমি বাংলা সিনেমার নায়ক হবো, আর তুমি আমাকে মারাঠি বানাচ্ছো?” শ্রাবণী এবার কপালে হাত দিয়ে বলল— “ওহ আল্লাহ! এই ছেলেকে সামলানো মুশকিল।” ________________________________________ শেষমেশ দু’জন বুঝল—আসল ব্যাপার হলো হার্ট নয়, হার্টের ভেতরের অনুভূতি। প্রেমে ইমোজি যতই চকচক করুক, দিনশেষে আসল জিনিসটা হলো দু’জনের হাসি, দু’জনের আড্ডা, আর দু’জনের ঝগড়াঝাঁটি শেষে আবার মিলেমিশে যাওয়ার মুহূর্ত। তন্ময় একদিন খুব আবেগ নিয়ে বলল— “শোনো, তোমার হার্ট-ইমোজি না পেলেও আমি খুশি। কারণ আসল হার্টটা তো আমার কাছে আছেই।” শ্রাবণী ঠোঁটে দুষ্টুমি মাখা হাসি এনে উত্তর দিল— “তাহলে চল, আজ থেকে ফেসবুকের হার্টের যুদ্ধ বন্ধ। শুধু আসল হার্টের সংসার শুরু করি।” এমন করে দুজনের রাগ-অভিমান গলে গেল। আর আশেপাশের বন্ধুরা অবাক হয়ে ভাবল— “অদ্ভুত! এই যুগে কেউ নাকি ইমোজির বাইরে প্রেম টিকিয়ে রাখে?” কিন্তু তন্ময় আর শ্রাবণী জানত—সত্যিকারের প্রেমের কাছে সব ইমোজিই একসময় হেরে যায়।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ হার্টের মহাযুদ্ধ

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now