বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

হারানো ব্যাগ-৩

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়াদুল ইসলাম রূপচাঁন (০ পয়েন্ট)

X ======================================================================== অনেকক্ষন ধরে দরজা নক করছি। কিন্তু আন্টির বাসার কেউ দরজা খুলছে না। ধৈর্যের বাঁধ প্রায় ভাঙ্গতে বসেছে। এমন সময় ভিতর থেকে ক্ষীণ কণ্ঠে আওয়াজ এলো, “কে? এত রাতে কে?” খালুর কণ্ঠ চিনতে আমার কষ্ট হল না। - “খালু, আমি মাটি। দরজা খুলুন।“ - “এত রাতে!!!” খালু দেরী না করে দরজা খুলে দিলেন। আমরা ভিতরে ঢুকতেই ঝট করে দরজা বন্ধ করে আমার দিকে ফিরলেন। “এত রাতে কোন সাহসে এলে? সাথে কে? তোমার সাহস তো কম না! নীল দানব বের হয়েছে। হুঙ্কার শোন নাই?” আমি এতগুলো প্রশ্নর কোনটারই উত্তর না দিয়ে মিষ্টি করে হাসলাম। তারপর খালাকে সালাম দিয়ে বললাম, “খুব ক্ষুধা লেগেছে। কিছু খাওয়াতে পারবে?” - “তোর জন্য রান্না করে বসে আছি।“ রাগী মুখ করে খালা জবাব দিলেও খালার চোখের খুশির ঝলক আমার চোখ এড়ালো না। খালা আমাকে অনেক আদর করেন। আমি জানি কিছুক্ষণের মধ্যেই খালা নীল দানবের ভয় ভুলে রান্না তুলে দিবেন। আমরা ফ্রেস হয়ে আসতে আসতে আমারদের জন্য গরম ভাত অপেক্ষা করবে। - “আচ্ছা খালু জান, এই নীল দানবের ব্যাপারটা কি?” খেতে খেতে মোক্তার খালুকে জিজ্ঞেস করল। আসলে সে কিছুতেই নীল দানবের ব্যাপারটা মানতে পারছে না। মোক্তারকে আমি যে গল্প শুনিয়েছিলাম, খালুও সেটাই শুনিয়ে দিল। - “এবার বিশ্বাস হল? খালুও নিশ্চই বানিয়ে বানিয়ে গল্প বলছে না।“ - “না, ঠিক তা নয়। তবুও.......। খালু জান, আপনি কখনো নিজ চোখে নীল দানব দেখেছেন?” মোক্তারের কণ্ঠের অবিশ্বাস তবুও গেল না। - “অনেক হয়েছে। এবার খেয়ে ঘুমিয়ে পর। কাল ব্যাগের পাশাপাশি নীল দানব খুঁজে বেড়াস।“ আমি বিষয়টা এখানেই শেষ করতে চাইলাম। - “ব্যাগ!!!” খালা আর খালু উভয়েই একসাথে জানতে চাইলেন। - “না, তেমন কিছুই নয়। মোক্তার এখানে আসতে গিয়ে ওর ব্যাগটা হারিয়ে ফেলেছে।“ আমি অল্প কথায় শেষ করে দিতে চাইলাম। - “বল কি?” খালু চেঁচিয়ে উঠলেন। “ইদানীং এলাকায় চোরের উপদ্রব খুব বেড়ে গেছে। কোথায় হারিয়েছে ব্যাগ?” - “কুষ্টিয়ায়।“ মোক্তারের উত্তর শুনে এত রাতেও খালু উচ্চস্বরে হেসে উঠলেন। - “কুষ্টিয়ায় হারানো ব্যাগ খুঁজবে বেতুয়ান?” খালাকেও দেখলাম আচলে মুখ চাপা দিয়ে হাসছেন। মাঝেমাঝেই মোক্তারের কাজকর্ম আমার কাছে অসহ্য মনে হয়। এই যেমন এখন, কম করে হলেও ২০ থেকে ২৫ জনের কাছে নীল দানবের গল্প শুনল। ঘুরে ফিরে সেই একই গল্প। তবুও শুনেই যাচ্ছে। সেই সাথে ওর নোটবুকে নোট নিচ্ছে। এই নোটবুকটাও আমার কাছে একটা রহস্য। কখনো আমাকে দেখতে দেয় না। সকাল বেলা গ্রামের বাজারের এক চায়ের দোকানে বসে সবাইকে নীল দানবের কথা জিজ্ঞেস করে যাচ্ছে। সবাই খুব আগ্রহ নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিচ্ছে। একটা বিষয় আমাকে অবাক করল। এদের কেউ নীল দানব কে দেখে নাই। সবাই গল্প শুনেছে। আর শুনেছে নীল দানবের ভয়াবহ হুঙ্কার। সেই হুঙ্কার শুনেই যে যার মত গল্প বানিয়ে ফেলেছে। তবে সব গল্পের মুল কথা একটাই, “নীল দানব আছে। এবং সেই দানব নদীর ওপারের জঙ্গলে থাকে। ভয়ে গ্রামের কেউ তাকে ঘাটাতে যায় না।“ - ‘নীল দানবকে নিয়ে আমার কেমন যেন সন্দেহ হচ্ছে।“ বাড়ি ফিরতে ফিরতে মোক্তার আপন মনেই বলল। - “সন্দেহের কি আছে? এতগুলো লোক কি মিথ্যা বলছে?” - “সেই প্রশ্ন তো আমারও। নিশ্চই কিছু একটা আছে। এতগুলো লোক নিশ্চই মিথ্যা বলছে না। আচ্ছা, এই নীল দানবের খবর কোন পেপার পত্রিকায় আসে নি?” - “জাতীয় দৈনিকের কথা বলতে পারি না। তবে থানা থেকে একটা লোকাল দৈনিক ছাপা হয়। সেটাতে ছাপা হয়েছে। শুনেছি যতবার নীল দানব এর হুঙ্কার শোনা গেছে ততবারই রিপোর্টার রিপোর্ট করেছে। গতকালের খবরটাও এসেছ। দেখতে চাও?“ - “তবে তো ভালই হল। পেপার অফিস গেলেই কবে কবে নীল দানব দেখা দিয়েছে তার হিসাব পাওয়া যাবে। গতকালের খবরটা দেখলে মন্দ হত না।“ - “ঠিক আছে। বিকালে আমরা পত্রিকা অফিসে যাব।“ মোক্তার “ঠিক আছে” বলে হটাৎ করেই আমার হাত টেনে ধরল। আচকা হাতে টান খেয়ে আঁতকে উঠে বললাম, “কি হল?” মোক্তার গ্রামের রাস্তা ধরে হেটে যাওয়া একটা লোককে দেখিয়ে বলল, “ঐ লোকটাকে চেন?” - “কেন?” আমি পাল্টা প্রশ্ন করলাম। - “চেহারা দেখে আমার মনে হচ্ছে ব্যাগ চোরদের একজন।“ - “চল গিয়ে জাপটে ধরি। জেরা করলেই বোঝা যাবে, ব্যাগ চোর কি না।“ - “তোমার যা বুদ্ধি!!” মোক্তার আমার দিকে বিরক্ত চোখে তাকাল। “যাও না! গিয়ে জিজ্ঞেস কর। গ্রামের একজনকে প্রমাণ ছাড়াই চোর বলার অপরাধে গ্রামের লোকজন কিলিয়ে কাঁঠাল পাকাবে।“ - “তাহলে আমরা এখন কি করব?” আমি মোক্তারের কাছেই জানতে চাইলাম। - “নজর রাখব।“ মোক্তার নির্লিপ্ত গলায় জবাব দিল।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১০৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ হারানো ব্যাগ-৩

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now