বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
অন্তর খুব ভাল ছাত্র। সে সবসময় স্কুলের টপ ফাইভের মধ্যে থাকত। সে যখন নবম শ্রেনিতে পড়ে তখন সে নবম শ্রেনিতে পড়ুয়া একটি মেয়েকে খুব ভালোবেসে ফেলে। তখন মেয়ের সাথে দেখা করা, মেয়ের সাথে কথা বলা, মেয়েটিকে নিয়ে ভাবা এগুলো তার লেখাপড়াকে যেন পাটল ধরিয়ে দিচ্ছিল। এভাবে অন্তর পড়ালেখার জগত থেকে একটু একটু করে বাহির হতে থাকে। অন্তর যখন এইসএসসি পরীক্ষা দেয় তখন তার প্রেমিকাও এইসএসসি পরীক্ষা দেয়। অন্তর পরীক্ষার সময় অর্ধেক পরীক্ষা দিয়েই মেয়েটিকে দেখার জন্য মেয়েটির পরীক্ষা কেন্দ্রে অপেক্ষা করে। একদিকে পড়ালেখা থেকে ধুরে সরে যাওয়া অন্যদিকে ফুলটাইম পরীক্ষা না দেওয়া। যা হবার তাই হল সে এইসএসসি পরীক্ষা ফেল করল। তার পরিবারসহ শিক্ষকগন কোনো ভাবেই মেনে নিতে পারছিলেন না। তাকে সবাই শান্তনা দিল যে সেটা একটা দূর্ঘটনা তোমি পরের বছরের জন্য প্রস্তুতি নাও। অন্যদিকে মেয়েটি পাশ করল এবং অন্তর ফেল করায় মেয়েটি তাকে ছেড়ে চলে গেল। কিছুতেই বিষয়টিকে মানতে পারছিল না অন্তর। যার জন্য আমার এই অবস্থা সেই আমাকে ছেড়ে চলে গেল! বিষয়টিকে একেবারেই মানতে পারছিল না অন্তর। তাকে সে কোনো ভাবেই ভুলতে পারছিল না। সেই কারন বসত সে পরের বছরও সে ফেল করে। অন্তর এর মতো ছাত্র টানা দুবার ফেল করা কোনোভাবেই মানতে পারছিলেন না তার পরিবারসহ শিক্ষকগন। তারজন্য স্কুলে ডাকলেন অন্তরকে তার স্কুলের প্রধান শিক্ষক। তখন প্রধান শিক্ষকের রুমের সামনে দাড়িয়ে অন্তর.....
অন্তরঃ আমি কি আসতে পারি স্যার?
প্রধান শিক্ষকঃ অবশ্যই অন্তর।
তারপর সে প্রধান শিক্ষকের রুমে ডুকল।
প্রধান শিক্ষকঃ অন্তর বস এখানে। অন্তর তোমিত খুব ভাল ছাত্র ছিলে। তোমার টানা দুবার ফেল করা আমরা কোনো ভাবেই মানতে পারছি না। কি কারন এর পেছনে?
তারপর সে প্রধান শিক্ষককে তার জীবনে ঘটে যাওয়া সব ঘটনা খুলে বলল।
প্রধান শিক্ষকঃ তাহলে এই হচ্ছে মূল কারন!
অন্তরঃ হ্যাঁ স্যার। সময় কি আমার শত্রু স্যার? সময় কেন আমাকে তার হাত ধরতে দেয় না!
প্রধান শিক্ষকঃ সময় কখনো অতীতকে নিয়ে আখরে ধরে বাচঁতে পছন্দ করে না। আর তোমি অতীতকে আখরে ধরে বাচঁতে চাও। তাইত সময় তোমাকে তার হাত ধরতে দেয় না।
অন্তরঃ তাহলে আমাকে কি করতে হবে স্যার?
প্রধান শিক্ষকঃ হাতের মুটোতে যে বালি আখরে ধরে আছ তাকে ছেড়ে দাও এবং আবার নতুন করে শুরু কর। বালিকে যতই তোমি হাতের মুটোতে আখরে ধরবে ততই বালি হাত থেকে শিঘ্র পড়ে যাবে। তেমনি সময়কে ও আখরে ধরে বাচঁতে নেই নয়তো বালির মতো সময়ও শেষ হয়ে যাবে। সর্বশেষ থাকবে শুধু আপসোস।
অন্তরঃ একদম ঠিক কথা বলেছেন স্যার। আর আমি এই মেয়েটিকে আমার প্রতিভা দেখাতে চাই।
প্রধান শিক্ষকঃ তার জন্য জেদ থাকতে। জেদ ছাড়া কোনো কাজই সফল হওয়া যায় না।
অন্তরঃ আাচ্ছা স্যার আমার মতো অনেকেই এই সময়টাতে এই পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়।তাদের জন্য তোমার কি উপদেশ?
প্রধান শিক্ষকঃ ছাত্র জীবন হচ্ছে সড়ক পারাপারের মতো। সড়ক পারপারের সময় যদি আশেপাশে থাকিয়ে তোমি সড়ক পারাপার হও তাহলে দূর্ঘটনা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তেমনি ছাত্রজীবনে যদি তোমি অন্যদিকে চাও তাহলে পড়ালেখার দূর্ঘটনা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ছাত্রজীবনে সফল হতে হলে হার না মানা পথিক হয়ে চারদিকে না ছেয়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে হাটতে হবে।
অন্তরঃ একদমি ঠিক কথা বলেছেন স্যার। আর আজ থেকে আমি জেদ করলাম যে আমি ভালো একটা করে দেখাবই।
তারপর অন্তর উরাধুরা পড়তে শুরু করে। সে একে একে ভালো ফলাফল করতে থাকে। সে এখন একটি সরকারি ব্যাংকে কর্মরত।
[আমার প্রকাশিত গল্পসমূহ সব আমার নিজের লেখা তাই দয়া করে আমার নাম ব্যাতিত লেখাগুলো কপিরাইট করবেন না]
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now