বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
"হ্যাপি ফাদার্স ডে"
লেখকঃসোনালী মুখার্জী
ক্যান্টিনে বন্ধুদের সাথে জমিয়ে আড্ডা দেবার মুহূর্তে অনন্যার ফোনটা বেজে উঠলো।সাথে সাথেই অত্যন্ত বিরক্তিসহকারে ফোনটা কেটে দিলো ও।আর মুখে খুব খারাপ একটা ভাষা বলে দূরের দিকে তাকিয়ে রইল।
মিঠু জিজ্ঞাসা করলো
কে ফোন করলো রে?এমন মাথা গরম করে ফেললি?
জয় বললো কে আবার নিশ্চই ওর বাবা ফোন করেছিল।কি রে ?তাইতো?কারণ একমাত্র ওর বাবা ফোন করলেই ও এমন হয়ে যায়।
অনন্যা ঝাঁজিয়ে ওঠে তোরা জানিস না? ডিসগাস্টিং লোক একটা। ওই লোকটা আমার মায়ের খুনি।আমি নিজের চোখে দেখেছি ওই লোকটা আমার মাকে ঠেলে পাহাড় থেকে ফেলে দিয়েছিল।আমি কখনোই ওকে বাবা বলে স্বীকার করি না।
ওকে ওকে শান্ত হ।এই নে সিগারেট খা।বলে একটা সিগারেট ধরিয়ে ওর হাতে দিল অনুপম।
প্রিয়া বলে তবে যাই বলিস অনু উনি কিন্তু তোকে ভীষণ ভালোবাসেন।তোর কখনো কিছুতে অভাব রেখেছেন?বল?যখন যেটা বলিস উনি সাথে সাথেই দেন তোকে।আমরা এমন বাবা পেলে বর্তে যেতাম।
মিঠু বলে আর আঙ্কেল কে দেখে মনে হয় বল?উনি অনুর বাবা?মনে হয় যেন অনুর দাদা।কি হান্ডসাম কি সুন্দর দেখতে।এখনো যে কোনো মেয়ে প্রেমে পরে যাবে।
অনু বলে তবে তুই পর না মিস্টার অনিন্দ্য সেন এর প্রেমে?
জয় বলে তাহলে তো তোকে মিঠু কে মা বলে ডাকতে হবে পারবি?এই কথায় সবাই হেসে ওঠে।ওদের মাঝে কিছুক্ষনের জন্য যে ভারী বাতাস তৈরি হয়েছিলো সেটা কেটে আবার আড্ডায় মেতে উঠলো ওরা।
কলেজ থেকে ফিরে অনু ঘরে চুপচাপ শুয়ে থাকে একটু।অনিন্দ্য বাবু ঘরে ঢোকেন।
অনু ....
বলে ফেলো কি বক্তব্য...
বলছিলাম কি তোকে আমি ফোন করেছিলাম একটা দরকার ছিল তাই
ওটা তুমি রোজ ই করো,আসলে তুমি ভাবো আমি বোধয় এখনো সেই আগের মতো ছোটো আছি।আচ্ছা তোমার মনে হয় না?এতে আমার বন্ধুদের কাছে কতটা মানসন্মান যায়?কারোর বাবা এমন করে খবর নেয়? শুধু তুমি এমন করো...
আর চেহারা টাও তো এমন করে রেখেছ মনে হয় যেন আমার বাবা নয় আমার দাদা।
এসব বলে বিরক্তি সহকারে ফোন ঘাটতে লাগলো মন দিয়ে।অনিন্দ্য বাবু যে কথাটা বলতে এসেছিলেন সেটা না বলেই চলে গেলেন নিজের ঘরে।
এইভাবেই দিনগুলো কেটে যাচ্ছিল।শুধু বাবা মেয়ের সংসার। একজন কাজের লোক আছে সে দুবেলা সমস্ত কাজ আর রান্না করে দিয়ে চলে যায়।এতে কোনো অসুবিধা হয় না ওদের।
সেদিন কলেজে ক্লাস করার সময় আবার হঠাৎ ফোন আসে।অনু দেখে বিবেক আঙ্কেল ফোন করেছে।উনি ওর বাবার খুব ভালো বন্ধু আর হার্টের ডক্টর।অনিন্দ্য বাবুর মাঝে মাঝেই বুকের যন্ত্রনা হয় । ডক্টর বলেছেন হার্টের দুটো ভালব ব্লক হয়ে আছে।ওটা অপরেশন করতে হবে।তাই উনি মাঝে মাঝে রুটিন চেকআপ এ আসেন অনিন্দ্যকে পরীক্ষা করে যান। তাই হঠাৎ করে বিবেক আঙ্কেল এর ফোন দেখে ও ফোনটা ধরে।
হ্যাল্লো ?আঙ্কেল ? বলো...
কোথায় আছিস তুই?
আমি তো কলেজে..কেনো?
তুই যত তাড়াতাড়ি পারবি বাড়ি আয় তোর বাবা খুব অসুস্থ ।মাঝখানে চার পাঁচ দিন ওষুধ খায়নি। বলল তোকে ফোন করেছিল। কিন্তু....
যাক গে ...তুই তাড়াতাড়ি আয়।তোর বাবাকে আমি হসপিটালে ভর্তি করেছি।
আচ্ছা আচ্ছা আমি এক্ষুনি আসছি।
বলে ফোনটা কেটে দিলো অনু।
ওর মনে হলো তবে কি বাবা সেদিন ওষুধ আনার জন্য ই ওকে ফোন করেছিল? ওতো ফোনটা কেটে দিয়েছিল। আর সেদিন যে ঘরে এসেছিল কি বলবে বলছিল? তবে কি ওই ওষুধের কথাই ? তারপর থেকে তেমনভাবে ও তো বাবার কোনো খোঁজই নেয় নি।
নাহ... আর ভাবতে পারে না অনু ,বেরিয়ে নিজের স্কুটি টা বার করে কলেজ থেকে সোজা হসপিটালের দিকে যায়।
ওখানে গিয়ে জানতে পারে ও বেরিয়ে যাবার পর হঠাৎই খুব অসুস্থ হয়ে পরে ওর বাবা। বিবেক আঙ্কেল কে ফোন করে কোন রখমে ।এবং অজ্ঞান হয়ে যায়। বিবেক আঙ্কেল এসে ধরাধরি করে হসপিটালে ভর্তি করে এবং এখন অপারেশন চলছে কি হবে কিছুই বলা যাচ্ছে না বিবেক আঙ্কেল এসে একটা চিঠি ওর হাতে ধরিয়ে দেয়।বলে এখন বাড়ি যা অনু তুই।এখানে বসে থেকে কি করবি আমি আছি তো ।তুই বরং বিকালে আসিস। আর এটা নিয়ে যা ।এটা তোর বাবা তোকে দিয়েছে পড়ে দেখিস।
অনু অবাক হয়ে বলে কি এটা?
বাড়ি গিয়ে পড়ে দেখিস।এটা তোর পড়াটা খুব জরুরি।
আচ্ছা।
বলে অনু হসপিটাল থেকে বেরিয়ে আসে।এমনিতেও তেমন টান অনুভব করে না ও ওই মানুষটার জন্য,তার ওপর এই চিঠি তার অদম্য কৌতুহল বাড়িয়ে দিয়েছে।কি আছে এই চিঠিতে?বাড়ি গিয়েই পড়তে হবে।ভেবে আর কোনো কথা না বলে ও বাড়ির দিকে রওনা হয় ।বাড়ি এসে বিছানায় শুয়ে চিঠি খোলে ও ।ওকে ই উদ্দেশ্য করে লেখা ওর বাবার চিঠি। কৌতুহল নিয়ে ও পড়তে শুরু করে।
প্রিয় অনু
তোর জন্মদিনের দিন এই চিঠিটা আমি লিখে রেখেছি। এতদিন পর্যন্ত তোকে যে কথা জানতে দিইনি আজ সেই কথাগুলোই তোকে জানাচ্ছি। আজ তুই একুশ বছরে পরলি। আমার হৃদয়ের টুকরো তুই । তুই ছাড়া আমার জীবনে আর কিছু নেই কেউ নেই।
তুই ভাবিস তোর মাকে আমি খুন করেছি ,কিন্তু আসল ঘটনা এবার তোকে জানানো উচিত।
আজ থেকে প্রায় চোদ্দো বছর আগেকার কথা ।তখন আমি আঠাশ বছরের যুবক । সবে দুমাস বিয়ে হয়েছে। আমি আর আমার স্ত্রী মিলি দুজনেই হানিমুনে কাশ্মীর গেলাম। ওখানে গিয়ে পরিচয় হলো এক দম্পতি আবু সাঈদ চৌধুরী এবং অনিশা ভাবি ও তাদের ছোট্ট দুষ্টু মিষ্টিমেয়ে সাত বছরের আরিয়ানা র সঙ্গে।
পাশাপাশি দুটো ঘর আমরা নিয়েছিলাম ।স্বাভাবিকভাবেই বেড়াতে গিয়ে দুটো পরিবার এক হয়ে গিয়েছিল সমস্ত জায়গায় আমরা একসাথে ঘুরতে যাচ্ছিলাম ।আর আরিয়ানা বেশিরভাগ সময় আমাদের কাছেই থাকছিল , মিলিও ওকে খুব ভালোবেসে ফেলেছিল । রাতে শুয়ে আমায় বলেছিল আমাদের যেন আরিয়ানা র মতই একটা মেয়ে হয়। ওর মেয়ের খুব শখ ছিল।
সেদিন বেড়াতে বেরিয়ে আকাশের অবস্থা দেখে মনে একটু কিন্তু হয়েছিল তবুও প্রকৃতি দেখার অদম্য বাসনা য় আমরা দুই পরিবারই বেরিয়ে পরেছিলাম ।সাথে গাইড কাম ড্রাইভার বিষ্ণু ছিল। ও বলল এরকম ওয়েদার এখানে প্রায় সময়ই থাকে, চলুন কোন অসুবিধা হবে না । আমিতো আছি। ভালোই যাচ্ছিলাম হঠাৎ করে একটা বাঁকে র মুখে অন্য একটা গাড়ী এসে সামনাসামনি হতেই আমাদের গাড়িটা টাল সামলাতে না পেরে স্লিপ করে খাদের দিকে অর্ধেকটা চলে যায়।
আমি ড্রাইভার বিষ্ণুর পাশে আরিয়ানা কে কোলে নিয়ে বসেছিলাম। পিছনের সিটে ধারে আবু সাহেব পাশে ভাবিজি এবং তার পাশে মিলি বসেছিল। গাড়িটা খাদের দিকে বেঁকে যেতেই বিষ্ণু আমাকে ঠেলে রাস্তায় ছুড়ে দেয় এবং নিজেও লাফ দিয়ে রাস্তায় নেমে আসে ।ততক্ষনে গাড়িটা নিচের দিকে নামতে শুরু করেছে একদম ডান দিকে ধারে বসা আবু সাহেব খাদে তলিয়ে গেলেন মুহূর্তের মধ্যে ।পাশে থাকা ভাবি জিও হরকে ওই দিকে চলে গেলেন। এরমধ্যে আরিয়ানা হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যায় মাথায় ধাক্কা লাগে ।আমি ওকে রাস্তায় শুইয়ে দিয়ে মিলিকে টেনে বার করতে থাকি। বিষ্ণু এবং পাশাপাশি আরও একটা দুটো গাড়ির লোক ততক্ষনে জমা হয়ে যায়। কিন্তু কিছুতেই মিলিকে বার করতে পারছি না। গাড়ি আস্তে আস্তে নিচের দিকে নামতে যাচ্ছে এমন সময় আরিয়ানা চিৎকার করে ওঠে আমার মা কে তুমি ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলে কেন?আমি দেখি চোখের সামনে গাড়িটা খাদের মধ্যে তলিয়ে গেলো।
আমি দৌড়ে গিয়ে আরিয়ানা কে কোলে তুলে নিই। আরিয়ানা আবার অজ্ঞান হয়ে যায়।
এরপর দীর্ঘ সময় থানা পুলিশ অনেক রকম সমস্যা কাটিয়ে প্রায় এক সপ্তাহ বাদে কলকাতায় ফিরলাম আরিয়ানা কে সঙ্গে নিয়ে। মিলি আর আরিয়ানা র বাবা-মায়ের আর কোন খবর পাওয়া যায়নি । ওরা খাদের মধ্যে তলিয়ে গেছে ।বাড়ি ফিরে পাগলের মত সব জায়গায় ছুটোছুটি করতে থাকি আমি।আবু সাহেবের বাড়ি দক্ষিণ কলকাতায়।উনি আমাকে ঠিকানা দিয়েছিলেন কলকাতায় ফিরে ওনার বাড়ি যাওয়ার জন্য। আরিয়ানা কে সঙ্গে নিয়ে খোঁজাখুঁজি করে ওনাদের বাড়িতে যাই।
কিন্তু সমস্ত ঘটনা শুনে ওনার বাড়ির লোক আরিয়ানা কে রাখতে রাজি হয়না । বলে ওকে কোনো অনাথ আশ্রমে দিয়ে দিতে। ছেলে বউ যখন নেই ,ওকে পালন করার মত সঞ্চয় ও ওনাদের কাছে নেই।
বুকে পাথর চাপা দিয়ে ওই একরত্তি মেয়েটাকে নিয়ে বাড়ি ফিরে আসি ।আমার বাড়িতেও সেই একই ঘটনা। কেউই আরিয়ানা কে বাড়িতে রাখতে চায় না। আমার মা বলে ওকে ভালো কোনো অনাথ আশ্রম এ দিয়ে তুই আবার বিয়ে কর। এতটুকু বয়সে নিজের জীবনটা নষ্ট করে ফেলবি নাকি?
আরিয়ানা কে কলকাতায় নিয়ে আসার পর আরো একটা জিনিস আমার চোখে পড়ল ও কিছুতেই আমাকে সহ্য করতে পারছে না। ওর মনের মধ্যে একটা চাপা বিদ্বেষ আমার প্রতি ।ও সব সময় একটা কথাই বলে তুমি আমার মায়ের খুনি আমার মাকে পাহাড় থেকে ঠেলে ফেলে দিয়েছো আমি দেখেছি।ওকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাই অনেক চিকিৎসা করাই কিন্তু ওর স্মৃতি থেকে সাত বছর পর্যন্ত আরিয়ানার স্মৃতি সম্পূর্ণ মুছে গেছে । সেদিনের সেই ঘটনা মনের মধ্যে দাগ কেটেছে গভীরভাবে । যেনো ওখান থেকেই ওর জীবনের শুরু।যে মুহূর্তে বিষ্ণু আমাদের টেনে গাড়ি থেকে নামিয়ে দিয়েছিল এবং আরিয়ানা অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিল তখনই ওর মন থেকে সমস্ত স্মৃতি মুছে যায় এরপরে যখন ওর জ্ঞান ফেরে তখন ও দেখে আমি মিলি কে উদ্ধার করার জন্য হাত বাড়িয়েছি ।ও ভাবে আমি বোধয় ওর মাকে ঠেলে ফেলে দিচ্ছি । ও আবার অজ্ঞান হয়ে যায় ।সেটাই সারা জীবন ওর মনে থাকে।ডক্টর বলেন আস্তে আস্তে সব ঠিক হয়ে যেতে পারে। ধৈর্য ধরুন অনিন্দ্য বাবু।
ওই ছোট্ট মেয়েটার আমার প্রতি অত বিদ্বেষ সত্বেও
কিন্তু আমি ওই মেয়েটা কে তখন নিজের সন্তান ছাড়া আর কিছু ভাবতে পারিনি। তার ওপর মিলি যে ওকে খুব ভালোবেসে ফেলেছিল ও যে আমার কাছে আরিয়ানা র মত একটা মেয়ে চেয়েছিল। অনেক ভেবে আমি কলকাতায় এই ফ্ল্যাটটা কিনে আরিয়ানা কে নিয়ে চলে আসি একা। সেই থেকে আমি ওকে মানুষ করি। কাউকে আমাদের মাঝখানে আসতে দিইনি ,কারণ যদি কেউ এসে আমার আর আরিয়ানার মাঝে দেয়াল তুলে দেয়? সেই ভয়ে আমি আর বিয়েই করলাম না .সেদিনের সেই আরিয়ানা তুই অনু মা ... আমার মেয়ে আজকের অনন্যা সেন।
আর একটা কথা আমার শরীর খুব খারাপ অনু। জানিনা মাত্র বিয়াল্লিশ বছর বয়সে আমার শরীরে এমন অসুখ কেন বাসা বাঁধলো। জানিনা আর কতদিন আমি বাঁচবো। তাই আমার যা কিছু সম্পত্তি সব তোর নামে করে দিলাম। তোর শোবার ঘরের ড্রয়ারে দলিল ও কাগজপত্র সব আছে। আর কম্পিউটারে লোড করা আছে তোর বাড়ির ঠিকানা আর আমার বাড়ির ঠিকানা । যদি মনে হয় আমি মিথ্যে বলছি তাহলে একবার গিয়ে প্রমাণ করে নিস। আর কি... তুই আমার ভালোবাসা নিস ।ভালো থাকিস।
আমি আমার শরীরের কথা ভেবে সবকিছু আগে থেকেই ঠিক করে রাখলাম ।
অনিন্দ্য সেন
চিঠি টা পড়ে অনু চুপচাপ বসে থাকে।শরীরে যেন কোনো বল শক্তি নেই।মাথার মধ্যে হাজার প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।এতক্ষণ ও যা পড়লো সব সত্যি?মিস্টার অনিন্দ্য সেন তার কেউ নয়?অথচ শুধু তার জন্য সারাজীবন লোকটা সব কিছু থেকে নিজেকে বঞ্চিত রাখলো?
অথচ সে?সে কি দিলো এর বদলে?শুধুই বঞ্চনা শুধুই অপমান।হুহু করে কেঁদে ওঠে অনু। যে লোকটাকে কখনো ও সহ্য করতে পারেনি আজ তার জন্যেই হঠাৎ করে মনের ভেতরটা আকুল হয়ে উঠলো। বাবা বলে চিৎকার করে উঠতে চাইল ।উঠে দাঁড়াতে গিয়ে মাথাটা কেমন যেন ঘুরে গেল অনুর । উঠে দাঁড়িয়েও হঠাৎ মেঝেতে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যায় ও।
বেশ কিছুক্ষণ পরে অনুর জ্ঞান ফেরে। বাড়িতে কেউ নেই , চুপচাপ চোখ বুজে স্থির হয়ে শুয়ে থাকে ও।
খুব ক্ষীণ একটা আওয়াজ মনে হয় যেন মাথার ভেতর থেকে উঠে আসছে ।কেউ যেন ওকে ডাকছে আ...রি...য়া...না.. বলে. ফর্সা ফর্সা দুটো হাত ওকে জড়িয়ে ধরে আদর করছে ,যেন একটা বড় উঠোন ওর মনের কোণে উঁকি দিচ্ছে, সেখানে একজন তাকে দুই হাতে কোলে তুলে আদর করছে। একটা অন্যরকম অনুভূতি ওর মনের ভেতরে ছড়িয়ে পড়ছে। আস্তে আস্তে উঠে বসলো অনু, এবার মনে পড়ছে খুব হালকা ভাবে তার বাবা-মা কে।
উঠে অনু ঠাকুর ঘরে যায়। সেখানে গিয়ে ভগবান কে উদ্দেশ্য করে বলে .....
আমি জন্মসূত্রে মুসলমান ,কিন্তু মানুষ হয়েছি হিন্দু ঘরে। তাই আমি জানিনা আমার কাকে ডাকা উচিত, আল্লাহকে... না ভগবান কে... আমি দুজনের কাছেই আমার বাবাকে ফেরত চাইছি । হ্যাঁ আমার বাবা... শ্রী অনিন্দ্য সেন কে ।আমার বাবাকে ভিক্ষা দাও ,তোমরা আমার বাবাকে আমার কাছে ফিরিয়ে দাও বলে কান্নায় ভেঙে পরে অনু।
বিবেক আঙ্কেলকে ফোন করে অনু জানতে পারে তার বাবার অপারেশন সাকসেসফুল হয়েছে। বিকালে বেডে দেওয়া হবে ।
তাই বিকালবেলা এক গুচ্ছ গোলাপ হাতে অনু যায় তার বাবার সাথে দেখা করতে। ঘরের সামনে গিয়ে বাবার কেবিনের সামনে চুপ করে দাঁড়িয়ে একমনে মানুষটাকে দেখতে থাকে। অনিন্দ্য বাবু দেখতে পেয়ে মেয়েকে কাছে ডাকেন,
বলেন ওখানে দাঁড়িয়ে কেন অনু মা?? আমার কাছে আয়... ।
অনু দৌড়ে এসে বাবার বুকের ওপর ঝাঁপিয়ে পরে।বলে বাবা আমায় ক্ষমা করে দাও, আমাকে ক্ষমা করে দাও... আমি যে বড় ভুল করে ফেলেছি, অনেক বড় পাপ করে ফেলেছি তুমি আমায় ক্ষমা করো। বলে হাউহাউ করে কাঁদতে থাকে অনু।
অনিন্দ্য বাবু বলেন ধুর বোকা মেয়ে... সন্তান কখনো বাবা-মায়ের কাছে পাপী হয়? তুই আমার সন্তান অনু ,আমি যে তোর বাবা রে....
হ্যাঁ বাবা... আজ ফাদার্স ডে, আজ আমি আমার বাবাকে ফিরে পেলাম ...হ্যাপি ফাদার্স ডে বাবা.... বলে অনু দুহাতে বাবাকে জড়িয়ে ধরে । অনিন্দ্য বাবু ও মেয়েকে জড়িয়ে ধরে মেয়ের মাথায় হাত বুলাতে থাকেন ।
একটু দূরে দাঁড়িয়ে ডক্টর বিবেক চোখের কোনে লেগে থাকা জলটা মুছে নেন এবং থেকে যান বন্ধু র ভালোবাসা ও সুখের দিনের সাক্ষী হিসেবে।।
আর আমরাও সাক্ষী হয়ে রইলাম ওদের সুখের দিনের।।
সমাপ্ত
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now