বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

হাফসা (দুই)

"ভিন্ন খবর" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান সংগ্রাহক (০ পয়েন্ট)

X আমি তোমাকে শোনার মাঝে একটু একটু করে, তোমাকে জানার, বোঝার চেষ্টা করি। আমার এই চেষ্টাটা তোমার ছায়া হয়ে তোমার আশেপাশে দীর্ঘদিন থেকে যাওয়ার উদ্দেশ্যে। আমি মন থেকে চাই, তোমার প্রতিটি বিষয়ই কম-বেশি আমার জানা থাকুক। মানুষের কোন আচরণ থেকে তুমি কষ্ট পাও, কোন আচরণ থেকে তুমি আনন্দ পাও, কোন কোন আচরণের কারণে তুমি বিরক্ত হও, কেমন আচরণে তোমার মেজাজ খারাপ হয়ে যায়---এই সমস্ত কিছুই আমি বুঝতে চাই। বুঝতে চাই এইজন্য যে, তুমি তোমার জীবনে যেরকম ভালোবাসার মানুষ চাও, আমি যেন কিছুটা হলেও সেরকম হয়ে উঠতে পারি। জানি, এটা সম্ভব নয়, এটি সহজ নয় এবং সম্ভবত, আমি এটা পারবও না। তবে আমি চাই, তোমাকে বুঝতে চাওয়ার চেষ্টাটুকু অটুট থাকুক আমার মধ্যে। ইতোমধ্যে তুমি অনেক কথা বলেছ, যা যা তোমার বলতে মন চেয়েছে। আমি যখন বলতে শুরু করেছি, ঘুম এসে ভর করেছে তোমার চোখে! আমি নিজের মতো করে বলেই যাচ্ছিলাম আর বলেই যাচ্ছিলাম, কিন্তু মোবাইলের অপরপ্রান্তে তুমি ছিলে না। কিছু সময় পর বুঝলাম, লাইনটি কেটে গেছে অনেক আগেই! হ্যাঁ, তুমি কলব্যাক করেছিলে, আমি খেয়াল করিনি। নেটওয়ার্কের সমস্যায় কলটি কেটে গেছে, এটা আমি বুঝতে পেরেছি। আমি যা বলেছি, তুমি তার একটি কথাও শুনতে পাওনি, এটা মনে করে খুব কষ্টে একটি দীর্ঘনিঃশ্বাস জমল বুকে! তোমার ব্যস্ততার জন্য কোনও দিনই আমাকে তোমার ঠিক করে শোনা হবে না, এই ব্যাপারটা আমি নিজেকে ঠিকঠাক মতোই বুঝিয়ে দিয়ে রেখেছি। তুমি হয়তো ঘুমিয়েই পড়েছ এতক্ষণে! আমি তোমাকে লিখতে বসেছি, না লিখলে বলতে-না-পারা কান্নাগুলি অভিযোগ হয়ে বুকে জমে থাকবে, এত এত অভিযোগ বুকে রেখে মানুষকে ভালোবাসা সম্ভব হয় না। ডায়েরিতে যে নামে তোমাকে লিখি, সে নামের পাশে এই কথাগুলি লিখে রেখেছি---‘সে আমার সময় অপচয়কারী ভালোবাসার মানুষ!’ তুমি জানো না, তোমাকে আমি আমার জীবনের বৃত্ত - পরিধি - পরিজন - পরিবার…সবকিছু ভেবে বসে আছি। বাইরের পুরো পৃথিবী বাদ দিয়ে তোমার চারদেয়ালের মধ্যে নিজেকে ভীষণ ব্যস্ত করে রাখি রাতদিন। এখন আমার নাওয়া-খাওয়া-ঘুম সংক্রান্ত সমস্ত অনিয়মের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছ শুধুই তুমি! তোমাকে ভালোবাসার আগে আমি নিজেকে পেয়েছি একজন নিষ্ঠাবান কর্মমুখর মানুষ হিসেবে, যার কাছে সময়ের চেয়ে, কাজের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কোনও কিছুই ছিল না। আর‌ তোমাকে ভালোবেসে ফেলার পর, তোমাকে নিজের জীবনে এত বেশি গুরুত্বপূর্ণ করে রেখেছি যে, নিজেই নিজের কাছে দিন দিন গুরুত্বহীন হয়ে যাচ্ছি, আর তার সাথে আমার কাজগুলিও! সত্যি কথা বলি, মাঝে মাঝে তোমার উপর প্রচণ্ড রাগ হয়। আমার নিজের চেয়ে আমার নিজের কাছে একজন অন্য মানুষ কেন বেশি প্রাধান্য পাবে? এটা কী করে সম্ভব! এটা হওয়া তো উচিতই নয়! তুমিই তো বলো, মানুষ দিনশেষে নিজের জন্যই বাঁচে। আমারও তো নিজের জন্য বাঁচা উচিত, তাই না? কী আশ্চর্য! একজন মানুষ ভালোবাসার নামে আর একজন মানুষের সমস্ত কিছুতেই কেন থেকে যাবে সারাক্ষণই! এটা ঠিক বুঝতে পারছি না, আর বুঝতে পারছি না বলেই আমি বুঝতে পারছি না নিজেকেও! আচ্ছা, ফোন করেছিলে কেন? কেন এত উৎকণ্ঠা ছিল তোমার কণ্ঠে? বলতে আসলে কী চেয়েছিলে তুমি আমাকে? তুমি আমাকে ভালোবাসো, আমি যেন অভিমান ভুলে তোমার কাছে রয়ে যাই, এমন কিছু? কই, বললে না তো! কেন বলোনি? তোমার ইগো, তোমার ইচ্ছের সব ছিল বুঝি? জানো, আমি শুনতে চেয়েছিলাম…শুনতে চেয়েছিলাম, তুমি আমাকে বলবে---আমি তোমাকে প্রচণ্ড ভালোবাসতে শুরু করেছি। আবার আমি কখনও রেগে গিয়ে ভুল করে ভুলভাবে ভুল-আচরণ করে ফেললেও তুমি আমাকে ছেড়ে যেও না... (সংগৃহীত)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ হাফসা (দুই)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now