বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আসসালামুয়ালাইকুম। আজ আপনাদের যে গল্প টা বলবো এটি আমার নিজের লেখা গল্প। ইনশাআল্লাহ আপনাদের ভালো লাগবে। একটু কষ্ট করে পড়ার অনুরোধ রইল।
ছোট্ট একটি গ্রাম। গ্রামের উত্তর দিকে স্কুল। স্কুলের একপাশে পাহাড় এবং জঙ্গল। গ্রামের সকলেই প্রায় গরিব। সবাই সুখে শান্তিতে একে অপরকে সাহায্য সহযোগিতা করে মিলে মিশে গ্রামে বসবাস করে। এই গ্রামে তিন জন ছোট ছেলে আছে। তাদের বয়স প্রায় ১০ এর উপর। তারা যেমনি পড়াশোনায় ভালো তেমনি খেলাধুলাও পারদর্শী।একদিন... গ্রামে তিন জন এর সাথে হলো কি---
কামাল: মা... মা... স্কুল থেকে এসেছি।
কামালের মা: এসেছিস? তারাতারি ভালো ছেলের মতো গোসল করে খেয়ে দেয়ে পড়তে বস।
(গোসলের পর)
কামাল: দেও খেতে দেও। (খেতে খেতে) মা আ.. ঈদ তো প্রায় চলে এলো। এবার ঈদে কাপড় কিনে দিবে না?
কামালের মা: দেখো বাবা আমরা বড়লোক না আমাদের তো এতো টাকা পয়সা নেই। তাই এবার হবে না বাবা পরের ঈদে দিবো।
কামাল: ধুর... ঐ ঈদে ও এই কথাই বলেছিলে। কোন দিন টাকা হবে? এমনিতে কিছু কিনে দেয়ই না আবার ঈদে কিছু চেলে টাকা নেই। ভালো লাগেনা আর। খাওয়া শেষ । খেলতে গেলাম।
কামালের মা: কামা.....ল পড়তে ব....স।
(কামাল হাসানের বাড়ির সামনে)
কামাল: হাসা.....ন হাসা...ন।
হাসান: কিরে কি হয়েছে?
কামাল: চল ফুটবল খেলতে যাই।
হাসান: চল রফিক কেউ সাথে নিয়ে খেলি।
কামাল: হ্যাঁ চল।
(তারপর কামাল, হাসান আর রফিক মাঠে গেল
ফুটবল খেলতে। খেলতে খেলতে--)
কামাল: আরে বলটা তো জঙ্গলে গেল। রফিক যা তো বলটা নিয়ে আয়।
রফিক: দারা যাচ্ছি।
রফিক: আরে এটা কি? হাসান, কামাল এদিকে আয়।
হাসান: কি হয়েছে?
রফিক: দেখ কি পেলাম।
কামাল: দেখে তো মনে হচ্ছে এটা কোন ম্যাপ। কিন্তু কোথাকার ম্যাপ?
রফিক: এটা তো এখানকারই দৃশ্য বলে মনে হচ্ছে। স্কুল, পাহাড়, জঙ্গল।
কামাল: পাহাড়ের গুহায় যেতে ইঙ্গিত করেছে।
হাসান: হুম...
কামাল: চল গিয়ে দেখি কি আছে গুহার ভেতরে।
রফিক: চল।
হাসান: না না কয়েকদিন আগে মাইকিং করেছিল এই গুহায় নাকি ভাল্লুক থাকে। তাই গুহায় আর গুহার আশেপাশে যেন না যাই।
কামাল: ভাল্লুক! এই ছোট গুহায়, ছোট জঙ্গলে ভাল্লুক কোথা থেকে আসবে?
রফিক: আরে পাগল গুপ্তধন থাকতে পারে। তুই না গেলে আমার দু জনেই যাব। চল কামাল।
কামাল: চল।
হাসান: আরে দ্বারা আমিও যাচ্ছি।
তারপর তারা গুহার ভেতরে গিয়ে দেখতে পেল
দুই জন লোক মাটি খোরাখুরী করছে।
১ম জন: এই তোমরা কারা?
কামাল: রফিক, হাসান পালা এখান থেকে।
১ম জন: (২য় জনকে উদ্দেশ্য করে) আরে ধর ওদেরকে পালাতে যেন না পারে।
(কিছুক্ষণ পর)
২য় জন: ধরেছি এখন কি করব?
১ম জন: দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখ। আমাদের কাজ আগে শেষ হোক তারপর দেখা যাবে এদের কে নিয়ে কি করা যায়।
(সন্ধ্যার পর)
কামালের মা: (কামালের বাবাকে উদ্দেশ্য করে) কামাল তো এখন ও বাড়িতে এলোনা। দেখতো কামাল ওর বন্ধুর বাড়িতে আছে কিনা। রাগ করে বাড়ি থেকে চলে গিয়েছিল।
কামালের বাবা: এই ছেলেটাও না দিন দিন বদমাইশ হয়ে যাচ্ছে।
(রফিক এর বাড়ির সামনে)
কামালের বাবা: কামা.....ল কামা......ল।
রফিকের বাবা: কামাল এখানে নেই। রফিক ও তো বাড়ি এখনো বাড়ি ফেরে নি।
কামালের বাবা: আপনার ছেলেও এখনো বাড়ি ফেরে নি? চলুন হাসানের বাড়িতে গিয়ে দেখি ওখানে আছে কিনা।
রফিকের বাবা: চলুন।
হাসানের বাড়িতেও গিয়ে দেখলো। কিন্তু সেখানেও পেলনা। কামাল, হাসান, রফিকের বাবা সারা গ্রাম খুঁজে দেখলো কিন্তু তাদের তিনজন কে কোথায় পেল না।
(তারপর সকালে তাদের বাবা মা পুলিশ স্টেশনে)
হাসানের বাবা: স্যার আমাদের সাহায্য করুন। আমাদের ছেলে দের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
পুলিশ: বসুন শান্ত হয়ে বসুন। এখন বলুন কি হয়েছে?
(তারা সব খুলে বললো)
পুলিশ: হুম। তারা মাঠে খেলতে গিয়েছিল কিন্তু তারা সেখান থেকেই উধাও। চলুন মাঠে গিয়েই দেখি।
পুলিশ মাঠ, জঙ্গল খুঁজতে খুঁজতে গুহার সামনে ফুটবল পেল।
পুলিশ: দেখুন তো এটা আপনাদের ছেলের বল নাকি?
কামালের বাবা: এই ফুটবল টা তো আমার ছেলের।
পুলিশ: হুম। গুহার ভেতরে গিয়ে দেখতে হবে।
পুলিশ, তাদের মা- বাবা গুহার ভেতরে ঢুকলো। এবং দেখলো ২ জন লোক একটি সোনা ভরা বাক্স । আর কামাল, হাসান রফিক এক কোণে বাঁধা অবস্থায়।
পুলিশ: হ্যান্ডসআপ! এই তোরা কারা?
অপরাধী: না আমরা কিছু করিনি আমাদের ছেড়ে দিন।
পুলিশ: তোদের ছেড়ে দেব.... আএ । তোদের তো এর আগে এই এলাকায় দেখিনি কোথা থেকে এসেছিস? বল।
১ম জন: আমরা.... আমরা শহর থেকে এসেছি।
পুলিশ: শহর থেকে! কি জন্য?
১ম জন: এই গুপ্তধনের জন্য।
পুলিশ: গুপ্তধন! এই গুপ্তধন এখন দেশের উন্নতির জন্য ব্যায় হবে।
পুলিশ: বাচ্চারা তোমরা এখানে কিভাবে এলে?
কামাল: এই জঙ্গলে আমরা একটা ম্যাপ পেয়েছিলাম সেই ম্যাপের সাহায্যে এখানে এসেছি।
পুলিশ: ও....। তোরা কিভাবে এখানে এলি? (অপরাধীদের উদ্দেশ্য করে)
১ম জন: স্যার আমরাও একটা ম্যাপের মাধ্যমে এসেছি।
পুলিশ: ম্যাপ টা আমাকে দে।
২য় জন: পকেটে আছে এক্ষুনি দিচ্ছি। আরে ম্যাপ টা তো নেই।
পুলিশ: নেই মনে?
২য় জন: আমরা কয়েক দিন ধরে এখানে খোরাখুরি করছিলাম এখানে যাতায়াত করতে হয়তো ম্যাপ টা পড়ে গিয়েছে।
পুলিশ: বাচ্চারা তোমাদের ম্যাপ টা দেখি।
রফিক: এই নিন স্যার।
২য় জন: আরে এটা তো আমাদের ম্যাপ টাই।
পুলিশ: হুম তোদের ম্যাপ টাই হয়তো এরা কুরে পেয়েছে।
হাসান: স্যার এদের হয়তো আমি কোথাও দেখেছি।
পুলিশ: কোথায় মনে করো।
হাসান: আরে হা। এরাই মাইকিং করেছিল এই গুহায় নাকি ভাল্লুক আছে।
পুলিশ: ভাল্লুক! কেন বলেছিস?
১ম জন: এই গুহায় যেন ভয়ে কেউ না আসে। কেউ এলে আমরা এই গুপ্তধন পেতাম না।
পুলিশ: এমনি তেও তো গুপ্তধন পেলিনা। প্লান তো তোরা ভালই বানিয়েছিস গুপ্তধন পাওয়ার জন্য কিন্তু এই বাচ্চারা তোদের সব প্লান ভেস্তে দিল। চল এবার জেলে।
পুলিশ: বাচ্চারা তোমরা অনেক সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছ। এই গুহায় ভাল্লুক আছে এটা জেনেও তোমরা এখানে এসেছ। এই গুপ্তধনের কিছু অংশ তোমাদের গ্রাম এবং হাসান, কামাল ও রফিকের পরিবারও পাবে।
তারপর যে যার মতো হাসি খুশিতে বাড়ি ফিরে গেল।
✴️ সমাপ্ত ✴️
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now