বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
"গুম"
নাজিম উদ দৌলা
=============
লাশবাহী পিক আপ ভ্যান নিয়ে পালানো খুব ঝুঁকির
ব্যাপার! সামনের রাস্তা ফাঁকা দেখে চুপিচুপি
আসলামকে বললাম- "আসলাম! এটাই সুবর্ণ
সুযোগ। গাড়ি ঘুরিয়ে বা দিকের রাস্তাটা ধর"।
আসলাম ভাল করে চারপাশ দেখে নিল। আশে
পাশে কোন পুলিশের গাড়ি নেই নিশ্চিত হয়ে হঠাৎ
বন বন করে স্টিয়ারিং ঘুরিয়ে আমাদের গাড়িটা
বাদিকের রাস্তায় নিয়ে এল। এবার শান্তি মত কাজটা
হাসিল করা যাবে! কেউ কিচ্ছু টের পাবেনা!
কেউ বাগড়া দিতেও আসবেনা!
ফাঁকা রাস্তা। ফুল স্পিডে চলছে পিক আপ ভ্যান। আমি
বসে আছি ড্রাইভারের পাশের সিটে। গন্তব্য
শহরের শেষ মাথায় একটা নির্জন পরিত্যাক্ত বাড়ি।
ওটা আমার আর ভ্যান ড্রাইভার আসলামের অনেক
পুরনো আস্তানা। প্রায়ই আমরা রাত এগারোটার
পরে ওখানে একটা বিশেষ কাজে যাই। আজও
সে কাজেই যাচ্ছি। কিন্তু পুলিশ কিংবা আইন শৃঙ্খলা
রক্ষাকারী বাহিনী যদি কিচ্ছু টের পেয়ে যায়
তবে খবর আছে! তাই তো এত সাবধানতা।
পিক আপ ভ্যানে কিন্তু শুধু আমরা দুজনে নই, আরও
একজন আছে! অথবা বলা যায় আরও একটা দেহ
আছে। দুর্ঘটনায় নিহত একটা লাশ। লাশটা নিয়ে পালাচ্ছি
শহরের বাইরে।
আমরা দুজনে একটা সরকারী প্রতিষ্ঠানের
কর্মচারী। আমাদের কাজ হচ্ছে শহরের বিভিন্ন
যায়গায় কোন প্রকার দুর্ঘটনা বা সন্ত্রাসী হামলায়
নিহত লাশগুলো পিকআপ ভ্যানে করে পোস্ট
মরটেম এর জন্য মর্গে নিয়ে যাওয়া। আমি হচ্ছি
ম্যানেজার, আর আসলাম ড্রাইভার।
কোথাও আগুন লেগে কেউ মারা গেছে,
আমাদের ডাক পড়বে। কোথাও সড়ক দুর্ঘটনায়
কেউ মারা গেছে, আমাদের ডাক পড়বে।
কোথাও অজ্ঞাতনামা লাশ পাওয়া গেছে, আমাদের
ডাকা হবে। অপঘাতে কারো মৃত্যু হয়েছে,
আমাদের যেতে হবে। তবে এই লাশটানার
কাজের ফাঁকে অন্য একটা কাজও করি আমরা!
মাঝে মধ্যে দুই একটা লাশ মর্গে নিয়ে যাই না!
লাশ নিয়ে শহরের বাইরে পালাই। একটা বিশেষ কাজ
করার জন্য!
আজ যে লাশ নিয়ে যাচ্ছি, সেটা বাসে পেট্রোল
বোমায় নিহত এক ব্যাক্তির লাশ। ইদানিং অস্থির
রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারনে দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা
অধিক। ফলে প্রায়ই দুই একটা লাশ গুম করে দেয়া
আমাদের জন্য খুব সহজ হয়ে উঠেছে। আহ কি
শান্তি!
পিক আপ ভ্যান পৌছে গেছে গন্তব্যে। আমি
আবার একটু আশে পাশে দেখে নিলাম। কেউ
নেই। ধারে কাছে মানব বসতী না থাকায় এদিকটা
সন্ধ্যেবেলাতেই নিরব হয়ে যায়। আর এত রাতে
তো কারো আসার প্রশ্নই ওঠেনা! দরজা খুলে
ভ্যান থেকে ঝট করে নেমে গেলাম। ভ্যান
ড্রাইভার আসলামও নেমে পড়ল।
দুজনে পিছনে চলে এলাম পিক আপ ভ্যানের।
আসলাম সিটকিনি সরিয়ে ডালা খুলে দিল। দুজনে দুদিক
থেকে ধরে লাশভরা প্লাটিকের ব্যাগটা পিক আপ
ভ্যান থেকে টেনে নামালাম। এবার কাজ শুরু করা
যাক! আমি আসলাম কে চোখের ইশারা করতেই
সে প্লাস্টিকের ব্যাগের চেইন টেনে খুলে
ফেলল।
এবং সাথে সাথেই একটা কান্ড ঘটল!
ব্যাগের ভেতরের লাশটা নড়ে চড়ে জ্যান্ত
হয়ে উঠল। দুজনেই ভুওয় পেয়ে আঁতকে
উঠলাম। লাফিয়ে দু পা পিছিয়ে গেলাম আমি, আতংকে
সমস্ত শরীর কাঁপছে। আসলামের মুখ রক্ত বর্ণ,
মনে হচ্ছে ভয়ে নড়া চড়া করতেও ভুলে
গেছে সে!
আমরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই লাশটা তিরিং বিড়িং করে
লাফিয়ে দাঁড়িয়ে গেল। অল্প আলোয় লাশের
হাতে কিছু একটা চিক চিক করে উঠল। পিস্তল চিনতে
ভুল হল না আমার! তারমানে মরালাশ নয়! আজ
কোন জিন্দালাশ উঠিয়ে এনেছি আমরা, যার কাছে
একটা পিস্তল আছে!
জিন্দালাশ আমাদের উদ্দেশ্য করে বলে উঠল-
“হ্যান্ডস আপ! দুজনে একদম নড়বে না”!
আমরা কিছু না বলে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে দাঁড়িয়ে
থাকলাম। লোকটি বলল, “ভয় পেওনা বাছারা। আমি
ভুত নই। তোমাদের সামনে কোন মরা লাশ
জীবিত হয়ে ওঠেনি! আমি জীবিতই ছিলাম। মরার
ভান ধরে পড়ে ছিলাম তোমাদের হাতে নাতে
ধরার জন্য”।
আমরা দুজনে বেকুবের মত একে অপরের মুখ
চাওয়া চাওয়ি করছি। বুঝতে পারছি না ব্যাপারটা কি
ঘটছে! এইবার লাশরুপী সেই মানুষটা আমাদের
বুঝিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে বলতে থাকল।
"আমি ডিটেকটিভ ইন্সপেক্টর ইকবাল মাহমুদ।
অনেক দিন যাবত আমি লক্ষ করছি অপঘাতে মারা
যাওয়া কিছু লাশ মিসিং যাচ্ছে! ক্রাইমের স্পট
রিপোর্টে লাশের উল্লেখ্য আছে কিন্তু
মর্গের ফাইলে লাশ গ্রহনের কোন ডকুমেন্ট
নেই! তাহলে এই সব লাশ যায় কই? আমার
প্রথমেই সন্দেহ হল তোমাদের দুজনকে।
তোমাদের দায়িত্ব হচ্ছে লাশটা পিকআপে তুলে
নিয়ে মর্গে পৌছে দেয়া, কিন্তু সব সময় তোমরা
তা করোনা! কিছু লাশ গুম করে দিচ্ছ সবার
অজান্তে!"
আমি আসলামের দিকে তাকালাম। আসলামকে
দেখে মনে হচ্ছে কেঁদে ফেলবে!
দৃষ্টিতে ভয়। এভাবে ধরা পড়ে যাবে ভাবেনি
কখনও। আসলামকে দেখে আমি নিজের অবস্থা
অনুমান করতে পারলাম। আমারও চোখে মুখে
অপরাধীর দৃষ্টি। নিজের কপালে নিজের জুতো
খুলে বাড়ি দিতে ইচ্ছে করছে। আর একটু সাবধান
হলে এভাবে ধরা খেতে হত না!
ডিটেকটিভ বলে চলেছে, "আমি আমার বসকে
বলেছিলাম এই সন্দেহের কথা। স্যার আমার কথায়
কান দিলেন না। তাই বাধ্য হয়ে নিজেই এই
পদক্ষেপ নিতে হল! তোদেরকে হাতে নাতে
ধরার খায়েস ছিল। আজ সেটা পূরণ হয়েছে!"
ডিটেকটিভ এক মুহূর্ত থেমে থাকল। ভাল করে
আমাদের দুজনকে দেখে নিচ্ছে। তারপর বলল,
"এখন বল তোরা এই লাশ গুলো সরিয়ে এনে কি
করিস? কারো কাছে বিক্রি করে দিস? যাদের
কাছে বিক্রি করিস তারা এগুলো নিয়ে কি করে?"
আমি আর আসলাম চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছি। কারো
মুখে কথা নেই।
আমার কাছে সত্যি কথা স্বীকার করলে
তোদের শাস্তি যেন কম হয় তার ব্যবস্থা করতে
পারি। ডিটেকটিভ কড়া গলায় বলল, "সত্যি করে বল
কার জন্য এই লাশ তোরা চুরি করিস? তোদের মত
ছুঁচো মেরে আমি হাত গন্ধ করতে চাইনা। আমি
চাই তোদের পেছনে যে বিগবস আছে তাকে
ধরতে!"
"আমাদের পেছনে কোন বিগ বস নেই"।
আসলাম ধীর স্থির কণ্ঠে বলল। ধরা পড়ে যাওয়ার
প্রাথমিক ধাক্কাটা কাঁটিয়ে উঠেছে সে।
"তাহলে বল তোরা এই লাশ নিয়ে কি করিস?"
"আপনি সত্যি জানতে চান আমরা লাশ নিয়ে কি করি?"
এবার আমি প্রশ্ন করলাম।
"অবশ্যই জানতে চাই! সেজন্যই আজ আমার এত
আয়োজন!"
"ভাল করে ভেবে দেখুন!" আমি আবার বললাম।
ডিটেকটিভ আমার দিকে তাকাল। মনে হদ্ধে একটু
দ্বিধায় পড়ে গেছে। বলল, “এই... এই? কি উল্টা
পালটা বকসিস? ফাজলামি করার চেস্টা করিস না! আমার
হাতে পিস্তল দেখেছিস? এটা কোন খেলনা
পিস্তল না! এক গুলিতেই তোদের ভবলীলা সাঙ্গ
হবে!”
আমি আর আসলাম পরপস্পরের মুখ চাওয়া চাওয়ি
করলাম। আমাদের দুজনের মুখেই অদ্ভুত এক হাসি
ফুটে উঠল। অল্প আলোতে পরপস্পরের
জান্তব দাঁত দেখতে পেলাম আমরা। আজ আর মরা
জিনিসে মুখ দিতে হবেনা, তাজা রক্ত মাংসের
ব্যবস্থা হয়েছে!
ডিটেকটিভের ঐ পিস্তলকে ভয় পাবে মানুষ!
আমাদের ভয় পাওয়ার কোন কারণ নেই!
(সমাপ্ত)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now