বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

গুলাগ থেকে টুইনটাওয়ার চ্যাপ্টার-১

"সাইমুম সিরিজ" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ১ কাঁদছে মিসেস জোনস। অঝোর ধারায় ঝরছে তার চোখ থেকে অশ্রু। ঠোঁট কামড়ে কান্না চাপার চেষ্টা করছে পলা জোনস। আহমদ মুসা ও হাসান তারিকের বিব্রত চেহারায় বেদনার একটা মলিন আস্তরণ নেমে এল। ‘স্যরি, এই মর্মান্তিক ঘটনা রোধ করার কোন উপায় আমাদের ছিল না।’ বলল সে নরম ও বেদনা জড়িত কণ্ঠে। ধীরে ধীরে চোখ খুলে মিসেস জোনস বলল, ‘বাছা তোমাদের কোন দোষ নেই। তোমরা আত্মরক্ষার জন্যে যা করার তাই করেছ। তা না করলে হয়তো তোমাদেরই মরতে হতো। এরা যে কতবড় খুনি বর্বর, তা আবারও প্রমাণিত হয়েছে। আমার দু:খ.................।‘ কথা শেষ করতে পারলো না মিসেস জোনস। কান্নায় ভেঙে পড়ল সে আবার। সান্তনার কোন ভাষা খুঁজে পেল না আহমদ মুসা। বুক ভাঙা কান্না যাকে বলে সেই কান্না শুনে যাওয়া ছাড়া তাদের কোন উপায় ছিল না। অস্বস্তিকর একটা অবস্থা। চরম বিব্রতকর অবস্থা আহমদ মুসাদের। অসহনীয় নিরবতাটা এবার ভাঙল পলা জোনস। মুখ থেকে রুমাল সরিয়ে নিয়ে চোখ মুছে বলল, ‘আপনারা না বললে ভাইয়া খুন হয়েছে বা মরে গেছে সেটাও আমরা জানতে পারতাম না। ওরা আমাদের জানাত না। বেশি পীড়াপীড়ি করলে আমাদেরই ওরা খুন করতো। আহমদ মুসা মুহূর্তের জন্যে পলা জোনসের দিকে তাকাল। বলল, ‘স্যরি, আমি বুঝতে পারছি না, আপনি আজোরস-এর মানে পর্তুগালের গোয়েন্দা বিভাগের কর্মী হয়েও ওদের ভয় করেন কেন? আপনি গোয়েন্দা বিভাগকে বলে তো এদের শায়েস্তা করতে পারেন। ম্লান হাসর পলা জোনস। হাসিটা কান্নার চেয়েও করুণ। বলল, ‘বলে কোন লাভ হতো না। আমি খোঁজ নিয়ে জেনেছি, এরা WFA এর ভাড়া করা লোক। আর আমাদের দেশের গোয়েন্দা প্রধান WFA এর চীফ আজর ওয়াইজম্যানের অন্ধ বন্ধু। আর আমি মাত্র কয়েকদিন আগে কাজে যোগদান করা একজন সামান্য গোয়েন্দা অফিসার।’ ‘অন্ধ বন্ধু বলছেন কেন?’ বলল আহমদ মুসা। তার কণ্ঠে বিস্ময়। ‘আমাদের গোয়েন্দা প্রধান সকল নীতি-নিয়ম ভংক করে আজোরস-এর পানি সীমায় WFA-এর মিনি সাব ও অন্যান্য জলযানের অবাধ বিচরণের অনুমতি পাইয়ে দিয়েছেন এবং দূরের বিচ্ছিন্ন একটা দ্বীপ ওদের নামে লীজ করিয়ে দিয়েছেন।’ বলল পলা জোনস। ‘নাম কি দ্বীপটার?’ জিজ্ঞেস করল আহমদ মুসা। ‘দ্বীপের একটা নাম আছে, আমি শুনেছি। কিন্তু ভুলে গেছি নামটা।’ বলল পলা জোনস। ‘ম্যাপে নাম পাওয়া যাবে না?’ আহমদ মুসা বলল। ‘ফরমালি দ্বীপটার আলাদা নামকরণ হয়নি। মানচিত্রে পার্শ্ববর্তী দ্বীপের নামেই তাকে হয়তো ডাকা হয়। তবে লোক মুখে দ্বীপটার আলাদা একটা নাম আছে, তা আমি ভুলে গেছি।’ বলল পলা জোনস। ‘সাও তোরাহ কি?’ জিজ্ঞাসা আহমদ মুসার। হাসল পলা জোনস। বলল, ‘এ নামটা কি করে জানলেন? বেন্টো সসাদের কাছে শুনেছেন?’ ‘এ নাম আমরা আগে থেকেই জানি। এ দ্বীপেই আমাদের লোকেরা বন্দী আছে বলে মনে হয়।’ বলল আহমদ মুসা। ‘এ নাম আমি বেন্টো-সসাদের কথা থেকে জানি। কিন্তু দ্বীপটা চিনি না। এ নামের কোন দ্বীপ আজোরস দ্বীপপুঞ্জে নেই। হতে পারে এটা কোন দ্বীপের নতুন নাম।’ পলা জোনস বলল। কথা শেষ করে একটা দম নিয়েই আবার বলে উঠল পলা জোনস, ‘ও দ্বীপে শুধু আপনাদের লোকরাই নেই। অন্য লোকরাও আছে আমাদের এ দ্বীপের রুটেও তো অনেক বন্দী সেখানে যায়।’ ‘আপনাদের গোয়েন্দা বিভাগ এ বিষয়টা জানে না? কিছু করে না কেন?’ চট করে প্রশ্ন করল আহমদ মুসা। ‘আজোরস দ্বীপপুঞ্জ অনেকটা মুক্ত দেশ। পর্তুগাল কিংবা ইউরোপীয় কোন দেশের ভিসা থাকলে সে আজোরাসে প্রবেশ করতে পারে। তাছাড়া ওরা বন্দীদের নিয়ে আসে কোনও বিশেষ ব্যবস্থায় জলপথে। এ বিস্তীর্ণ জলপথ পাহারা দেবার কোন ব্যবস্থা আজোরস-এর নেই। এরপরও গোয়েন্দা বিভাগ এবং কোন পর্যায়ে পুলিশরাও এ বিষয়টা জানে বলে আমার মনে হয়েছে। আমি একদিন কথায় কথায় আমার উর্ধতন অফিসারকে এ বিষয়ে বললে তিনি মন্তব্য করছিলেন, WFA এর লোকরা এ দ্বীপপুঞ্জের ভিআইপি। এদের নিয়ে মাথা ঘামিও না। একদিন হারতার পুলিশ ইনচার্জের গাড়িতে আমি বেন্টো-সসাদের দেখেছি।’ বলল পলা জোনস। ‘যে দ্বীপ ওদের লীজ দেয়া হয়েছে, সে দ্বীপে তাহলে আজোরস সরকারের কোনই উপস্থিতি নেই?’ প্রশ্ন করল আহমদ মুসা। ‘সেটাই স্বাভাবিক।’ পলা জোনস বলল। ‘আপনি গোয়েন্দা বিভাগের লোক এ কথা কি বেন্টো-সসারা জানে?‘ প্রশ্ন আহমদ মুসা। ‘জানে না। জানলে আমার উপর ওদের আরও অধিকার বর্তাবে বলে আমি ভয় করি।’ বলল পলা জোনস। ‘আজোরস-এর একজন গোয়েন্দা এতটা অসহায়? তার সামান্য আত্মরক্ষার অধিকারও সে আদায় করতে পারবে না ডিপার্টমেন্ট থেকে?’ আহমদ মুসা হাসল। তার কণ্ঠে বিস্ময়। ম্লান হাসল পলা জোনস। বলল, ‘মেয়ে হওয়ার অনেক অসুবিধা আছে। আমার দূর্বলতা টের পেলে অফিসের যাদের কাছে আশ্রয় চাইব, তারাও এই সুযোগ ব্যবহার করতে পারে। তাছাড়া ভিআইপিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে চাকুরীর অসুবিধা হওয়ার ভয়তো আমার আছেই।’ আহমদ মুসা একটু হাসল। তার পরেই গম্ভীর হয়ে উঠল তার মুখ। বলল, ‘মুক্ত সোসাইটিতে’ মেয়েরা সমানাধিকার পাওয়ার পরেও মেয়েদের এই অসহায়ত্ব গেল না?’ ‘আরও বেড়েছে। আগে মেয়েরা পারিবারিক প্রটেকশনে থাকত। কিন্তু এখন পথে-ঘাটে, অফিসে-রেস্তোরায় পুরুষদের মত নিজেদের প্রটেকশন তাদের নিজেদেরই করতে হয়। কিন্তু সমানাধিকার পেলেও প্রাকৃতিকভাবে অসম নারীরা সে প্রটেকশন দেয়ার ক্ষমতা রাখে না। ফলে পথে-ঘাটে, অফিস-আদালতে অবাধ বিচরণের আজাদী তাদেরকে চারপাশের যথেচ্ছাচারের জিঞ্জীরে বেঁধে ফেলেছে। সমানাধিকারের ব্যাপারটা একটা গাঁজাখুরি, তা এখন আর বুঝার বাকি নেই। সমানাধিকার পেয়েও নারীরা লাঞ্জিত হবার অভিযোগ অবিরাম তুলছে, কিন্তু একজন পুরুষ কখনও এই অভিযোগ তোলে না। উভয়ের মধ্যেকার প্রাকৃতিক অসমতাই এর কারণ।’ বলল পলা জোনস। সে থামতেই মিসেস জোনস বলল, ‘তোমরা কথা বল বাছা। আমি একটু ওপর থেকে আসি।’ বলে মিসেস জোনস কাপড় দিয়ে ভালো করে চোখ মুছে উঠে দাঁড়াল। ‘ধন্যবাদ মিস পলা জোনস। আজকের ঘটনাকে আপনার অফিস কিভাবে দেখবে?’ আহমদ মুসা বলল। ‘আমি এতে ইনভলভ আছি, এ কথা আমি কিছুতেই প্রকাশ করব না। প্রমাণ হয়েছে বেন্টো, সসা, ‘এক বিশ্ব-এক দেশে-এক জাতি’ এনজিও এর এমানুয়েলরা সবাই WFA-এর লোক। এই ঘটনার জন্যে গোয়েন্দা বিভাগ উল্টো আমাকে দায়ী করতে পারে। তার চেয়ে বড় কথা হলো, একথা প্রকাশ হলে আমি WFA-এর টার্গেটে পরিণত হবো। ভাইয়াকে ওরা মেরেছে, আমাকেও মারবে।’ বলল শুষ্ক কণ্ঠে পলা জোনস, তার চোখে-মুখে ভয়ের চিহ্ন। ‘কিন্তু আমার বিশ্বাস, আপনাদের গোয়েন্দা বিভাগ এবং WFA সম্মিলিতভাবেই বের করতে চেষ্টা করবে কারা এ ঘটনার সাথে জড়িত। বেন্টো ও সসারা এ বাড়িতে থাকতো এ খবর তাদের জানা থাকতে পারে।’ বলল আহমদ মুসা। ‘তাহলে..........?‘ কথা শেষ না করেই থেমে গেল পলা জোনস। তার কণ্ঠে উদ্বেগ ঝরে পড়ল। ‘উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই মিস পলা জোনস। ওদের কাজ ওরা শুরু করুক। আমাদেরও কিছু করতেহবে।’ আহমদ মুসা বলল। ‘WFA আপনাদের লোকদের কেন বন্দী করে রেখেছে, তা কিন্তু বলেননি।’ বলল পলা জোনস। ‘আপনি কিছু কি আন্দাজ করেন?’ মুখে একটু হাসি টেনে জিজ্ঞেস করল আহমদ মুসা। ‘আপনাদের যারা বন্দী আছে, তারা কি মুসলমান?’ প্রশ্ন পলা জোনসের। ‘হ্যাঁ মুসলমান।’ আহমদ মুসা বলল। ‘তাহলে বন্দীটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রসূত। কারণ, আমি জানি WFA-এর চীফই শুধু ইহুদী তা নয়, গোটা WFA টাই ইহুদী। গত রাতের ঘটনায় ‘এক বিশ্ব এক জাতি’ এনজিওর যে ইমানুয়েল মারা গেল সেও ইহুদী। সুতরাং ইহুদীরা কোন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই আপনাদের লোকদের আটক করেছে। এটা আরও বেশি পরিষ্কার হবে, যদি জানা যায় ওরা কি করতেন।’ বলল পলা জোনস। হাসল আহমদ মুসা। বলল, ‘আপনি................।’ আহমদ মুসাকে থামিয়ে দিয়ে কথা বলে উঠল পলা জোনস, ‘আমাকে ‘আপনি’ সম্বোধনের কি প্রয়োজন আছে? গত রাতে আমাকে উদ্ধারের কঠিন মুহূর্তে আপনি আমাকে ‘তুমি’ সম্বোধন করেছিলেন, আমার খুব ভালো লেগেছিল। আমি আপনাদের ছোট বোনের মত হতে পারি না!’ থামল পলা জোনস। ‘ধন্যবাদ পলা। তুমি আমাদের ছোট বোনের মত নও, ছোট বোনই তুমি আমাদের।’ বলে আহমদ মুসা তাকাল হাসান তারিকের দিকে। বলল, ‘তাই কিনা হাসান তারিক?’ ‘অবশ্যই ভাইয়া।’ বলল হাসান তারিক আনন্দে মুখ উজ্জ্বল করে। বলেই হাসান তারিক পলা জোনসের দিকে তাকিয়ে বলে উঠল, ‘আজোরস-এর হারতায় এসে আমরা আরেকটা বোন পেয়েছি, এ কথা শুনলে তোমার ভাবীরা খুব খুশি হবে।’ ‘আমার কি তাহলে এখন দুই ভাবী?’ হেসে বলল পলা জোনস। ‘অবশ্যই।’ হাসান তারিক বলল। ‘ও! গুড গড! যেখানে একটিও ছিল না, সেখানে দুই ভাবী পেলাম, ওরা থাকেন কোথায়?’ বলল পলা জোনস। ‘আমার স্ত্রী থাকেন ফিলিস্তিনে আর ভাইয়ার মোহতারামা থাকেন সৌদি আরবের মদিনা শরীফে।’ হাসান তারিক বলল। ‘আপনারা আরব? তাহলে তো WFA-এর সাথে লড়াই লাগার কথাই। যাঁরা আজর ওয়াইজম্যানের হাতে আটক আছেন, ওঁরা কোন দেশের?’ জিজ্ঞেস করল পলা জোনস। ‘ওরা ৭ জন ছয় দেশের। দুজন তুরষ্কের, ইরান মিসর লিবিয়া ইন্দোনেশিয়া ও স্পেনের একজন করে।’ বলল আহমদ মুসা। ‘বোধ হয় একই সাথে ধরেছে, কিন্তু এক সাথে পেল কি করে?’ পলা জোনস বলল। তার চোখে-মুখে বিস্ময়। ‘ওরা ৭ জন ফ্রান্সের ষ্টার্সবার্গে একটা গোয়েন্দা ফার্ম খুলেছিল। সে গোয়েন্দা ফার্মটিকেও ধ্বংস করেছে, তাদেরকেও কিডন্যাপ করেছে।’ বলল আহমদ মুসা। ‘ওরা কি ইহুদীদের বিরুদ্ধে কিংবা WFA-এর বিরুদ্ধে কোন কেস নিয়ে কাজ করছিল?‘ প্রশ্ন করল পলা জোনস। ‘তোমার এ কথা মনে হলো কি করে?’ আহমদ মুসার জিজ্ঞাসা। ‘গোয়েন্দা ফার্মটাও যখন ধ্বংস করেছে, তখন বলতে হবে ফার্মটি খুব বড় ব্যাপার নিয়ে সামনে এগুচ্ছিল।’ বলল পলা জোনস। ‘ধন্যবাদ পলা। ঠিক বলেছ তুমি। গোয়েন্দা ফার্মটি ধ্বংস করার পর সেই কাজ সম্পর্কে তথ্য নেয়ার জন্যেই ওদের কিডন্যাপ করেছে।’ আহমদ মুসা বলল। ‘ভাইয়া আপনারা কে?’ প্রশ্ন পলা জোনসের। ‘কেন এ প্রশ্ন?’ বলল আহমদ মুসা। ‘কারণ বন্দী গোয়েন্দাদের যারা উদ্ধার করতে আসেন, তারা আরও বড় কেউ। আর এর প্রমাণও গত রাতে আমি পেয়েছি। দেখে মনে হয়েছিল, পৃথিবীর বেষ্ট কমান্ডোদের আমি দেখছি। আবার মানুষ হিসাবেও আপনারা অসাধারণ। সুতরাং আপনারা অসাধারণ কেউ হবেন নিশ্চয়।’ পলা জোনস বলল। আহমদ মুসা হেসে কিছু বলতে যাচ্ছিল, এ সময় বাইরের গেটে নক হলো। আহমদ মুসা থেমে গেল। পলা জোনস একবার দরজার দিকে তাকিয়ে বলল। ‘আপনারা বসুন, আমি দেখি কে?’ বলে পলা জোনস তাড়াতাড়ি উঠে গিয়ে দরজার লুকিং হোল দিয়ে বাইরে তাকিয়ে দেখেই দ্রুত ফিরে এসে বলল, ‘একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং আরও একজন লোক।’ পলা জোনসের চোখে-মুখে একটা ভীত ভাব। ‘আমরা ভেতরে যাচ্ছি। ওদের এনে বসাও। আমরা পরে প্রয়োজনে আসব। তোমার কোন ভয় নেই।’ দ্রুত কণ্ঠে বলল আহমদ মুসা। বলেই আহমদ মুসা উঠে ছুটল তার ঘরের দিকে। হাসান তারিকও। পলা জোনস ফিরে গিয়ে গেট খুলে দিল এবং গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে স্বাগত জানিয়ে বলল, ‘গুড মর্নিং স্যার। আপনি কষ্ট করে আমাদের বাসাায়! আমাকে খবর দিলেই তো হতো।’ গোয়েন্দা কর্মকর্তার নাম ভিক্টর রাইয়া। হারতার গোয়েন্দা প্রধান সে। কথা শেষ করে একটু থেমেই আবার বলে উঠল পলা জোনস, ‘স্যার, আসুন স্যার, ভেতরে আসুন।’ ভেতরে ঢুকতে ঢুকতে বলল, ‘ব্যাপারটা খুব জরুরী তো। তাড়াতাড়ি তোমার এখানে আসতেই হতো। তাই চলে এলাম। ভেতরে ঢুকে একটু থমকে দাঁড়াল। পেছন ফিরে তার পেছনে আসা সাথের লোকটির দিকে ইংগিত করে গোয়েন্দা প্রধান ভিক্টর রাইয়া বলল, ‘ইনি ‘এক বিশ্ব’ এনজিও‘র ভাইস চেয়ারম্যান। নাম কেলভিন কেনেইরো। এই সকালে তিনি হারতা এসে পৌছেছেন। ওঁদের একটা কাজ আমাদেরকে এখানে নিয়ে এসেছে।’ বলে আবার হাঁটতে লাগল ভিক্টর সোফা লক্ষ্য করে। পলা জোনস ও কেলভিন কেনেইরো সম্ভাষণ বিনিময়ের পর তারাও হাঁটতে লাগল সোফার দিকে। পলা জোনসের মুখটা মলিন। ওদের দেখেই বুঝতে পেরেছে পলা জোনস যে, এরা গতকালের ঘটনা তদন্ত করার জন্যে এখানে এসেছে। সে যে জড়িত এই বিশাল হত্যাকান্ডের সাথে, এরা কি তা জানতে পেরেছে?’ আশংকা ও অস্বস্তিতে ভরে গেল তার মন। ওদেরকে বসিয়ে তাদের সামনের এক সোফায় গিয়ে বসল পলা জোনস। পলা জোনস বসতেই গোয়েন্দা কর্মকর্তা ভিক্টর রাইয়া বলে উঠল, ‘বেন্টো ও সসা নামের দুজন লোক এবারও তো তোমার এখানেই উঠেছে?’ ভেতরে ভেতরে আৎকে উঠল পলা জোনস। কিন্তু স্বাভাবিক কণ্ঠে বলল, ‘জি স্যার।’ ’রাতে তো ওরা বাড়ি আসেনি। খোঁজ নিয়ে কিছু জেনেছ?’ বলল ভিক্টর রাইয়া। ‘হ্যাঁ, ওরা বাড়ি আসেনি। কিন্তু আপনি জানলেন কি করে স্যার?’ পলা জোনস বলল। ‘বলছি। আমার প্রশ্নের দ্বিতীয় অংশের উত্তর দাও।’ বলল ভিক্টর। এক টুকরো বিব্রত হওয়ার মত হাসি। বলল, খোঁজ নেয়ার প্রয়োজন হয় না। ওরা এ রকম প্রায়ই করেন। এমন কি একবার বাড়ি থেকে কোন কাজে বেরুবার পর চলে গিয়েছিলেন। তিন মাস পর ফিরেছিলেন।’ ‘ওরা খুন হয়েছে।’ ঠান্ডা গলায় বলল ভিক্টর। ‘খুন? কখন, কোথায়?’ চোখে মুখে উদ্বেগ ও বেদনার চিহ্ন মেখে বলল পলা জোনস। ‘শুধু তারা নয়, আরও কয়েকজন খুন হয়েছে তাদের সাথে।’ ভিক্টর বলল। ‘কোথায়?’ বলল পলা জোনস। ‘এক বিশ্ব এক দেশ‘ এনজিও‘র মি. এমানুয়েলের বাড়ি চেন?’ ভিক্টর বলল। ‘চিনি না, তবে লোকেশনটা জানি।’ বলল পলা জোনস। ‘ঐ বাড়িতেই তারাসহ এমানুয়েল ও অন্যান্যরা খুন হয়েছে।’ ভিক্টর বলল। রাজ্যের উদ্বেগ আতংক টেনে আনল পলা জোনস তার চোখে-মুখে। তার মুখ হ্যাঁ হয়ে গেছে। কথা সরছেনা যেন মুখে। ‘মিস পলা জোনস গতকাল ওরা কখন বেরিয়েছিলেন?’ জিজ্ঞাসা কেলভিন কেনেইরার। তার চোখেও সন্ধানী দৃষ্টি। ‘গতকাল সন্ধ্যার পর ওঁরা বেরিয়ে যান।’ বলল পলা জোনস। ‘তাদের সাথে কি আর কেউ ছিল?’ কেলভিন কেনেইরা বলল। বুকটা কেঁপে উঠল পলা জোনসের। ওরা কি জানতে পেরেছে যে, পলা ওদের সাথে ছিল! পলা স্মরণ করে খুশি হলো যে, সে যখন ওদের সাথে গাড়িতে উঠেছিল, তখন আশে-পাশে কেউ ছিল না। সন্ধ্যার আলো-ছায়ায় দূর থেকে সব দেখা ও বুঝাও কারও পক্ষে সম্ভব ছিল না। জিজ্ঞাসার উত্তরে পলা জোনস বলল, ‘স্যরি। ওদের যাওয়াটা আমি দেখিনি।’ ‘পাড়ার বা শহরের কোন মেয়ে বা মেয়েদের সাথে ওদের উঠাবসা ছিল?’ বলল কেলভিন কেনেইরা। ‘ওদের সাথে কোন মেয়ে কখনও আমাদের বাড়িতে আসেনি, বাইরে কিছু ঘটে থাকলে আমি কিছু বলতে পারবো না।’ পলা জোনস বলল। তার কথা স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছে। কিন্তু উদ্বেগটাতার চোখে-মুখে ঠিকরে পড়ছে। কেলভিন কেনেইরা কথা বলল, ‘দেখুন গত রাতে এমানুয়েলের বাড়িতে যে গণহত্যার ঘটনা ঘটৈছে, সেখানে একজন মেয়ের উপস্থিতি ছিল। সেখানকার পুরো ঘটনাটা অন্তত সেই মেয়েকে কেন্দ্র করেই সংঘটিত হয়েছে। তার সার্ট ও ব্লাউজের ছেড়া অংশ পাওয়া গেছে। পাওয়া গেছে চেন-ছেঁড়া একটি লেডিজ হাত ঘড়ি। হাত ঘড়ির ছেঁড়া চেনে রক্তের দাগ আছে। এর অর্থ একজন মেয়ে সেখানে নির্যাতিত হয়েছে। অবস্থা বলছে নির্যাতন করেছে এমানুয়েলরা। তারা সকলেই মরেছে। কিন্তু মেয়েটির লাশ কোথাও নেই। তার মানে মেয়েটাকে উদ্ধার কর হয়েছে। যারা উদ্ধার করেছে তারাই হত্যা করেছে এমানুয়েলদেরকে। মেয়েটাকে খুঁজে পেলে হত্যাকারীদেরকেও পাওয়া যাবে। আমাদের বিশ্বাস যাদের মাধ্যমে সেখানে মেয়ে নেয়া হতে পারে, তাদের মধ্যে বেন্টোদের কথাই প্রথম আসে। এজন্যেই প্রথমে এসেছি। বেন্টোদের কথা জানতে।’ ভেতরটা কাঁপছিল পলা জোনসের। কেলভিন কেনেইরার প্রত্যেকটা কথাই সত্য। ওরা কি আরও কিছু জানে? মনের দিক দিয়ে মুষড়ে পড়ল পলা জোনস। কিন্তু পরক্ষণেই আবার ভাবল, পরিস্থিতির মোকাবিলা তাকে করতে হবে। কেলভিন কেনেইরার দিকে মুখ তুলল পলা জোনস। বলল, ‘আর কি জানতে চান? ওরা মাঝে মাঝে এখানে এসে থাকতেন। এর বাইরে কোন প্রকার সম্পর্ক তাদের সাথে আমাদের ছিল না।’ কেলভিনের হঠাৎ নজর পড়ল পলা জোনসের ডান হাতের কব্জির উপর। কব্জির একটু উপরে চামড়া ছিড়ে যাওয়া। তাছাড়া হাতের ছোট্ট ব্যান্ডেজের পাশেও আঁচড়ের চিহ্ন। ভ্রু কুঁচকে উঠল কেলভিনের। বলে উঠল, ‘আপনার হাতে কি হয়েছে মিস জোনস? এ্যাকসিডেন্ট করেছিলেন বলে মনে হচ্ছে। কবে?’ ‘চমকে উঠেছিল পলা জোনস। নিজের ভেতরটাকে আড়াল করার জন্যে পলা জোনস তার মুখ নামিয়ে নিল এবং হাতটাকে নিজের কোলের মধ্যে টেনে নিয়ে বলল, ‘হ্যাঁ, একটু ছিড়ে গেছে।’ ‘আপনি ঘড়ি নিশ্চয় ডান হাতে পরেন?‘ বলল কেলভিন কেনেইরা। তার চোখে-মুখে প্রবল চাঞ্চল্য ঠিকরে পড়ছে। চকিতে মুখ তুলে একবার চেয়ে বলল, ‘হ্যাঁ, কেন বলছেন এ কথা?’ কণ্ঠের কম্পন পলা জোনস আড়াল করতে পারলো না। ‘মাফ করবেন মিস জোনস।’ বলে কেলভিন কেনেইরা ভিক্টর রাইয়ার সাথে একটুক্ষণ কানে কানে কথা বলল এবং পকেট থেকে একটা লেডিজ ঘড়ি বের করে ভিক্টর রাইয়া‘র হাতে দিল। ভিক্টর রাইয়া ঘড়ির দিকে একবার তাকিয়েই বলে উঠল, ‘মিস পলা, আমার যতটা মনে পড়ে তোমার ঘড়িটাও এই রকমই। নিয়ে এসতো তোমার ঘড়িটা।’ ভয়ে ফ্যাকাসে হয়ে গেল পলা জোনসের মুখ। কেঁপে উঠল তার বুক। বুঝল সব ওরা জেনে ফেলেছে। তার মুখ থেকে কোন কথা বের হলো না। ভ্রু কুঞ্চিত হলো গোয়েন্দা কর্মকর্তা ভিক্টর রাইয়ার। একরাশ প্রশ্ন জেগে উঠেছে তার চোখে। সে বলে উঠল, ‘মিস পলা, তাহলে তোমাকেই ধরে নিয়ে গিয়েছিল ওরা?’ দুহাতে মুখ ঢেকে কেঁদে উঠল মিস পলা। কেলভিন কেনেইরা আবার ভিক্টর রাইয়ার কানে কানে কথা বলল। ভিক্টর কেনেইরা বলল, ‘মিস পলা আমরা দু:খিত, তোমার উপর জুলুম হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বেঁচে গেছ। তোমাকে কে বা কারা উদ্ধঅর করল মিস পলা?’ ‘আমি জানি না। আমাকে উদ্ধার করে এনে পার্কের সামনে নামিয়ে দিয়েছে।’ কান্না জড়িত কণ্ঠ পলা জোনসের। ‘তারা কয়জন ছিল?’ জিজ্ঞেস করল কেলভিন কেনেইরা। ‘তারা কয়েকজন ছিল। খেয়াল করে দেখিনি কয়জন।’ ভয় ও দ্বিধাজড়িত কণ্ঠে বলল পলা জোনস। কেলভিন তাকাল ভিক্টর রাইয়ার দিকে। কেলভিনের চোখে সন্দেহ। পরক্ষণেই সে মুখ ঘুরাল পলা জোন্সের দিকে। বলল, ‘উদ্ধারকারীদের তো আপনি দেখেছেন।’ ‘হ্যাঁ।’ বলল পলা জোনস। ‘দেখলে তো নিশ্চয় চিনতে পারবেন।’ কেলভিন বলল। ‘আলো আঁধারীর মধ্যে দেখেছি তো!’ বলল পলা জোনস। আবার দ্বিধাজড়িত কণ্ঠ তার। কেলভিন কেনেইরা তাকাল ভিক্টর রাইয়ার দিকে। তার চোখে বিরক্তির ভাব সুস্পষ্ট। বলল, ‘মি. রাইয়া চলুন একে আমাদের অফিসে নিয়ে যাই। ফাইলে আমাদের প্রচুর ফটো আছে। ক্রিমিনাল থেকে অস্ত্রবাজ কেউ বাদ নেই। ফাইল দেখে পলা জোনস আমাদের মূল্যবান সহযোগিতা করতে পারবেন।’ ‘সেটাই ভাল। তাই চলুন।’ বলল ভিক্টর রাইয়া। মুখ শুকিয়ে এতটুকুন হয়ে গেল পলা জোনসের। ভয় ও উদ্বেগে আচ্ছন্ন হয়ে গেল তার চোখ-মুখ। মুখ থেকে কোন কথা সরল না তার। ভিক্টর রাইয়াই কথা বলে উঠল আবার, ‘তৈরী হয়ে নিন মিস পলা।’ ভিক্টর রাইয়ার কথা শেষ হবার আগেই ড্রইং রুমে প্রবেশ করল মিসেস জোনস। ‘পলা, কোথাও যাচ্ছিস নাকি?’ বলে মিসেস জোনস ভিক্টর রাইয়া ও কেলভিন কেনেইরার দিকে বিস্ময়ের চোখে তাকাল। পলা জোনস কম্পিত গলায় ভিক্টর রাইয়াকে দেখিয়ে বলল, ‘ইনি হারতার গোয়েন্দা বিভাগের ডিজি।’ আর কেলভিন কেনেইরাকে দেখিয়ে বলল, ‘ইনি গত রাতে যিনি মারা গেছেন সেই এমানুয়েলের দলের একজন বড় কর্মকর্তা। এঁরা গতরাতের ঘটনার তদন্তে এসেছেন।’ ‘ওয়েলকাম আপনাদেরকে। কিন্তু পলা কোথাও যাবে যেন বলছিলেন।’ বলল মিসেস জোনস ভিক্টর রাইয়াকে লক্ষ্য করে। ‘মি. কেলভিনের অফিসে। মিস পলাকে উদ্ধার করতে গিয়ে কারা হত্যাকান্ড ঘটায়, নানা কারণে এটা আমাদের জানা দরকার। তাদেরকে চিহ্নিত করার ব্যাপারে আমরা মিস পলার সাহায্য চাই। কিছু জানতে চাই তাঁর কাছ থেকে।’ ভিক্টর রাইয়া বলল। শুনে উদ্বেগ ফুটে উঠল মিসেস জোনসের চোখে-মুখে। একটু ভেবে বলল, ‘পলার যাওয়ার দরকার কেন? এখানেই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করুন। আমার মনে হয় সে তেমন কিছু বলতে পারবে না। সে তো মহাআতংকগ্রস্ত হয়ে নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত ছিল। কোন দিকে নজর দেয়ার তার সুযোগ ছিল কোথায়?’ ‘তবু একমাত্র উনিই সেই লোকদেরকে দেখেছেন। ওদের খুঁজে পাওয়ার ব্যাপারে একমাত্র উনিই সাহায্য করতে পারেন।’ বলল কেলভিন কেনেইরা দৃঢ় কণ্ঠে। ‘কিন্তু কালকের ঘটনার পর তাকে আমি এভাবে ছাড়তে পারি না। গতকালের বুকের কাঁপুনি আমার আজও শেষ হয়নি।’ মিসেস জোনস বলল। ‘কিন্তু ম্যাডাম জোনস, তাকে তো যেতেই হবে। গতকালকের ঘটনা ছোট কিছু নয়। বলতে গেলে গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে। যারা এটা ঘটিয়েছে তারা মিস পলাকে উদ্ধার করেছে বটে, কিন্তু উদ্ধার করতেই শুধু তারা গিয়েছিল বলে আমাদের মনে হয় না। মিস পলার উদ্ধার একটা আনুসঙ্গিক ঘটনা, আসল লক্ষ্য তাদের কি তা আমাদের জানা দরকার। সুতরাং মিস পলাকে আমাদের সাথে যেতেই হবে।’ বলল কেলভিন কেনেইরা। তার কণ্ঠ কঠোর শুনাল। ‘মিসেস জোনস, মি. কেলভিন যা.................।’ বলতে শুরু করেছিল ভিক্টর রাইয়া। এ সময় আকস্মিক বাজ পড়ার মত প্রচন্ড শব্দে ড্রইংরুমের বাইরের দরজা খুলে গেল। দরজা দিয়ে ঝড়ের বেগে প্রবেশ করল দুইজন মুখোশধারী। দুজনেরই শরীর ঢাকা বিশেষ এক ইউনিফরমে। দুজনের হাতেই উদ্যত রিভলবার। ‘কে আপনারা?’ বলে চিৎকার করে উঠে দাঁড়াচ্ছিল মিসেস জোনস। মুখোশধারীদের একজন অস্বাভাবিক ভারী কণ্ঠে পর্তুগীজ ভাষায় চিৎকার করে উঠল, ‘যে যেভাবে আছেন, সেভাবে থাকুন। এক ইঞ্চি নড়লেই মাথার খুলি উড়ে............।’ মুখোশধারীর কথা শেষ হওয়ার আগেই চোখের পলকে কেলভিন কেনেইরা পকেট থেকে রিভলবার বের করে মুখোশধারীদের লক্ষ্যে তুলছিল। কিন্তু তার আগেই মুখোশধারীর কথা থেমে গেল এবং সংগে সংগেই তার রিভলবার অগ্নিবৃষ্টি করল। গুলী গিয়ে কেলভিনের হাতের কব্জীতে লাগতেই রিভলবার পড়ে গেল তার হাত থেকে। গুলী করেই মুখোশধারীটি পাশের সাথীর উদ্দেশ্যে বলল, ‘কেলভিনকে ঘুম পাড়িয়ে গাড়িতে তুলে নাও।’ সংগে সংগেই দ্বিতীয় মুখোশধারীটি দ্রুত এগোল কেলভিনের দিকে এবং পকেট থেকে ক্ষুদ্র স্প্রেয়ার বের করে কেলভিনের নাকে স্প্রে করল। মুহূর্তেই তার দেহ সোফায় ঢলে পড়ল। দ্বিতীয় মুখোশধারীটি কেলভিনের সংজ্ঞাহীন দেহ পাঁজাকোলা করে তুলে নিয়ে পেছন ফিরে দরজার দিকে হাঁটতে লাগল। তার আগেই প্রথম মুখোশধারী দ্বিতীয় মুখোশধারীর হাত থেকে স্প্রেয়ার নিয়ে নিয়েছে। কেলভিনকে নিয়ে দ্বিতীয় মুখোশধারী বেরিয়ে গেলে প্রথম মুখোশধারী বাম হাতে স্প্রেটা রেখে ডান হাতে রিভলবার তাক করল ভিক্টর রাইয়া, মিসেস জোনস ও পলা জোনসের দিকে। বিমূঢ় ভিক্টর রাইয়া অনেকটা মরিয়া হয়েই বলল, ‘আপনারা কে? এসব কিন্তু ভাল হচ্ছে না। আমরা সরকারী লোক।’ প্রথম মুখোশধারীর অস্বাভাবিক ভারী কণ্ঠটা সিংহের মত গর্জন করে উঠল, ‘হ্যাঁ, আপনি ও পলা জোনস সরকারী লোক। কিন্তু নির্লজ্জের মত বিদেশী ষড়যন্ত্রকারী কেলভিনদের ভাড়া খাটছেন। তাদের হাতে আজোরস দ্বীপপুঞ্জকে ইজারা দিয়ে বসে আছেন। আজোরসবাসী আপনাদেরও বিচার করবে।’ বলে মুখোশধারীটি তার হাতের স্প্রেটার বোতাম টিপে ভিক্টর রাইয়া, পলা জোনস ও মিসেস জোনসের উপর ঘুরিয়ে নিল।’ মুহূর্তের মধ্যে তারা সংজ্ঞাহীন হয়ে ঢলে পড়ল সোফার উপরে। প্রথম মুখোশধারী গিয়ে গাড়িতে উঠতেই গাড়িটা ছেড়ে দিল। দ্বিতীয় মুখোশধারী আগেই গিয়ে ড্রাইভিং সিটে বসেছিল। আর প্রথম মুখোশধারী পেছনের সিটে গিয়ে বসেছে। তার সামনে গাড়ির মেঝের উপর কেলভিনের সংজ্ঞাহীন দেহ।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৭১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ গুলাগ থেকে টুইনটাওয়ার চ্যাপ্টার-১
→ গুলাগ থেকে টুইনটাওয়ার চ্যাপ্টার-১ বাকি অংশ

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now