বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
গুড্ডুবুড়া ভেবে কুলাতে পারে না।
শেষে সে ঠিক করে পিঁপড়াগুলোকেই চিনির কৌটায় ছেড়ে দেবে।
তা–ই করল। একটা মড়া পিঁপড়ার দেহ আর কয়েকটা পিঁপড়া অতিকষ্টে সে ছেড়ে দিতে পারল চিনির বয়ামের ভেতরে।
তারপর সে পিঁপড়াগুলোর উদ্দেশে বলতে লাগল, কী পিঁপড়ারা, এখন খুশি?
পিঁপড়ারা বলল, হ্যাঁ। খুব খুশি। তবে...
তবে?
তবে তোমার মা যদি দেখেন, তুমি আমাদের চিনির বয়ামে এনেছ, তাহলে ভীষণ রেগে যাবেন। তোমার কান মলে দেবেন। তা দিন। কিন্তু আমাদের নিশ্চয়ই ফেলে দেবেন ডাস্টবিনে। ভাগ্য খারাপ থাকলে আমাদের বেসিনের পানিতে ভাসিয়েও দিতে পারেন।
তা পারেন। আমার মার রাগটা একটু বেশি কিনা।
তাহলে তুমি কী করবে?
তোমরাই বলো, তোমরা কী চাও।
আমাদের লুকিয়ে রাখো।
কোথায় লুকিয়ে রাখব?
তোমার বইখাতার আড়ালে যে লেগোর বাক্সটা আছে, সেটার ভেতরে।
তা রাখা যায়।
গুড্ডুবুড়া একা একা কথা বলে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলল। চিনির বয়াম সে রেখে দিল তার লেগোর বাক্সের ভেতরে।
বিকেলবেলা চা বানানোর সময় মা চিনির বয়াম খুঁজতে লাগলেন। খুঁজে পেলেন না। শেষে গজর গজর করতে লাগলেন, নিশ্চয়ই বাড়িতে ভূতপ্রেত ঢোকেনি। তার মানে ওই বুয়ার কাজ। নিশ্চয়ই বয়াম ভেঙে ফেলেছে। তারপর বয়াম লুকিয়ে ফেলেছে। উফ্, কী যে করি?
গুড্ডুবুড়া মুশকিলে পড়ল। মা যদি বুয়াকে বকা দেন, তাহলে সেটা বেশ একটা অন্যায় হবে। একজনের দোষে আরেকজন শাস্তি পেতে পারে না।
মা বড় কৌটা থেকে চিনি বের করে আরেকটা বয়ামে ভরলেন।
গুড্ডুবুড়া হাঁপ ছেড়ে বাঁচল। আপাতত মা তো চিনি সমস্যার সমাধান করে ফেলেছেন।
গুড্ডুবুড়া তার পোষা পিঁপড়াগুলো নিয়ে বেশ সুখে–শান্তিতে আছে। রোজ লেগোর বাক্স খুলে চুপি চুপি সে পিঁপড়াগুলোকে দেখে। তাদের গান শোনায়। বড় পিঁপড়াটার পছন্দের গান রবীন্দ্রসংগীত। ‘আমরা সবাই রাজা আমাদের এই রাজার রাজত্বে’—এই গান গুড্ডুবুড়া যখন গায়, বড় পিঁপড়াটা তখন নাচতে শুরু করে। আর একটা পিঁপড়া আছে, একটা পা খোঁড়া। তার পছন্দের গান হলো ‘আমি তো ভালা না ভালা লইয়াই থাইকো’।
গুড্ডুবুড়া ক্লাসে বসে এসব ভাবছে। তারপর সে বলল, মিস, আমি কাল আমার পোষা পিঁপড়াগুলোকে আনব।
পরের দিন সে স্কুলে আসার সময় বয়ামটা চুপি চুপি নিজের স্কুলব্যাগে ভরে ফেলল। মা তাকে রিকশায় করে স্কুলের গেটে নামিয়ে দিলেন। গুড্ডুবুড়া খুব টেনশনে ছিল। এই বুঝি মা ধরে ফেলেন যে ব্যাগে বয়াম আছে। যাক বাবা, মা ধরতে পারেননি।
চশমা মিসের ক্লাসে গুড্ডুবুড়া বয়াম বের করল। তারপর বলল, মিস, এই যে আমার পেট। আমি এনেছি।
মিস চিনির বয়ামটা দেখলেন। বললেন, ইস, চিনিতে তো পিঁপড়া। তা–ও লাল পিঁপড়া। এ তো তোমাকে কামড় দেবে।
গুড্ডু বলল, মিস, ওরা তো আমার পোষা পিঁপড়া। আমাকে কামড় দেয় না।
মিস বললেন, পাগল ছেলে! তা–ও কি হয়? ওরা বয়ামে আটকে আছে বলে কামড় দিতে পারছে না। কিন্তু তোমার হাতে উঠলেই দেখো কুটুস করে কামড় দেবে।
পিঁপড়ারা, তোমরা কেমন আছ? গুড্ডুবুড়া ফিসফিস করে বলে। পিঁপড়ারা জবাব দেয় না। আবারও সে জিজ্ঞেস করে, পিঁপড়ারা, তোমরা কেমন আছ? নিজে নিজেই গুড্ডুবুড়া জবাব দেয়, ভালো। তবে...
মিস ক্লাস থেকে চলে গেলেন। তার বন্ধুরা তাকে ঘিরে ধরল।
এই গুড্ডু, তোর পেট কি বাথরুম করে?
এই গুড্ডু, তোর পেটের কোনটার নাম কী?
শুধু উমাইয়া মেয়েটা খুব ভালো। সে বলল, গুড্ডু, তোমার পেট আমার পছন্দ হয়েছে। তুমি ওদের সঙ্গে কী কী করো?
[চলবে ]
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now