বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

গ্রহণ-০১

"সাইন্স ফিকশন" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X "গ্রহণ" -নূর - ই - আলম তৈমুর ১. কারেন্ট চলে গেছে অনেকক্ষণ। পাড়ার মোড়ের বাবু ভাই এর দোকানে টিম টিম করে একটা হ্যারিকেন জ্বলছে। গত এক ঘণ্টায় পাঁচ কাপ চা খেয়ে ফেলেছে আরিফ, তারপরও কারেন্ট আসছেনা দেখে চায়ের দাম দিয়ে উঠে পড়ে। কদিন থেকে ইলশেগুঁড়ি বৃষ্টিটা খুব জ্বালাচ্ছে। সেই সন্ধ্যা থেকে শুরু হয়েছে, এখনো থামার নাম নিচ্ছেনা। তিন মাথার মোড়ে সুবীরের ভিডিওর দোকানে যেতে যেতে জামার পিছন দিকটা প্রায় ভিজেই গেল। “এই সুবীর, গামছা দে না একটা।” মোমবাতির আলোয় আধা অন্ধকার কাউন্টারের ওপাশ থেকে ময়লা একটা গামছা এগিয়ে দেয় সুবীর। “চা খাবি আরিফ?” “না রে। এখনি কয়েক কাপ খেয়ে আসলাম। শোন, বেশিক্ষন থাকবনা। নতুন কি আছে দে।” “নতুন কোন ছবি আসেনাই রে। আর যা ছিল, তুই তো সেদিন নিয়া গেলি।” “আরে ধুর! হুদাই প্যাঁচাল! ওগুলা না। ‘তিন পাত্তি’ আছে নাকি বল।” “ও! তাই বল। মামা, চখাম কিছু জিনিস আছে। দাড়া, তোকে দেখাই।” সুবীর কাউন্টারের নিচের ড্রয়ারে কিছু খুজতে থাকে। আরিফ টেবিলে রাখা সিডিগুলো দেখছে। মনিটরের পাশে রাখা একটা সিডি দেখিয়ে আরিফ প্রশ্ন করে, “এটা কিসের সিডি রে সুবীর?” সুবীর কয়েকটা সিডি টেবিলে রাখতে রাখতে বলল, “মামা, এইটা একটা জিনিস! কিন্তু, আইজকা নিস্ না। একটাই কপি। কারেন্ট আসলে আমি কয়েকটা কপি করি, তারপর তোরে দিবনি।” “খুব ভালো নাকি?” “খালি ভালো? পিনিক! আরে, একদম কচি মাল! জানতো না ভিডিও হচ্ছে... তাও কি লজ্জা!” “এই সুবীর! শোন মামা, আমি আজকে নিয়া যাই, তোকে কাল সকালেই ফেরত দিয়ে দিবনি।” “আরে, কি আজব! বললাম না, আমিই কপি করিনাই এখনো। তুই কাল নে!” “শোন, মাথা খুব আউলা হয়ে আছে। তুই এইটার কথা বললি, এরপর অন্য কোন কিছু ভালোই লাগবোনা। আর আমি তো অন্য কাউকে দিতেছি না, তোর কোন প্রবলেম হবেনা। প্লিজ না করিস না...” দোকানের দরজাটা লাগিয়ে আরিফ বৃষ্টি মাথায় নিয়ে দৌড় দেয়। সুবীর বিড়বিড় করতে থাকে, “কেন যে শালা বলতে গেলাম! ধুর!” ২. বাইরে বৃষ্টি বাড়ছে। টেবিলের উপর রাখা ফোনটা বাজছে অনেক্ষন ধরে। অন্ধকার ঘরটায় খুব খেয়াল করে না তাকালে আরিফকে দেখা যায়না। জানালার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আরিফের সাথে একটা পাথরের মূর্তির পার্থক্য শুধু বাতাসে এলোমেলো কিছু চুলের। U.P.S. চালু করার সাথে সাথে তীক্ষ্ণ বিপ বিপ শব্দে বাতাসের গর্জন ঢাকা পড়ে যায়। স্ক্রিনের নীলচে আলোয় আরিফের চোখগুলো জ্বলজ্বল করছে পশুর মত। টেবিলের উপর রাখা ফোনটা বাজছে। “আরিফ, খাবিনা? এ্যাই আরিফ!” দরজায় ধাক্কা দিচ্ছে মা। আরিফ কোন উত্তর দেয়না। ধাক্কার শব্দ ক্রমেই বাড়ছে। মা ওকে ডেকেই চলেছে। দুহাতে মাথা খামচে ধরে আছে ও। ব্যাথা! কি অসহ্য ব্যাথা! টেবিলের উপর রাখা ফোনটা বাজছে। গোলাপী রঙের জামা পরে আছে মেয়েটা। কাপড়টা কি মসলিন, নাকি সিল্ক? পার্থক্যগুলো কিভাবে করে ওরা? আরিফ অনেক চেষ্টা করেও কখনো বুঝতে পারেনি, শুধু নামগুলো শুনে গেছে। এখন কেন যেন খুব জানতে ইচ্ছে করছে। সুবীরকে একটা ফোন দেবে? জোরে হেসে ওঠে আরিফ। কি যায় আসে, কাপড়টা মসলিন বা সিল্ক হলে, অথবা তসর হলে? কাপড়ের নিচে তো সেই মাংস... পুরনো, পোকায় ধরা মাংস... শুধু নতুন চামড়ায় মোড়া। মেয়েটা সুন্দর... অনেক সুন্দর। আধো-অন্ধকার ঘরটার ঘুলঘুলি দিয়ে আসা গাঢ় হলুদ আলো পড়েছে মেয়েটার মুখে। হাসলে কাউকে কাউকে খুব সুন্দর লাগে... আচ্ছা, মেয়েটার কি গজদাঁত আছে? বোঝা যাচ্ছেনা এত অল্প আলোয়। মেয়েটা কি কাঁদছে? ছেলেটা কি জোর করে নিয়ে এসেছে ওকে? খাটের এককোণায় হেলান দিয়ে আছে ছেলেটা। ওইতো, মেয়েটা ওর দিকে তাকিয়ে হাসছে। তাহলে মেয়েটার চোখে পানি টলটল করছে কেন? আরিফ স্ক্রিনের খুব কাছে মুখ নিয়ে যায়, যেন আরো কাছ থেকে দেখলেই এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে। নিঃশব্দে, প্রায় চিতাবাঘের ক্ষিপ্রতায় মেয়েটার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ছেলেটা। মেয়েটার চোখ বন্ধ... চিলতে আলোয় ঘরে ধূলো উড়ছে। বাইরে তখনো বৃষ্টি থামেনি। জানালা দিয়ে আসা বৃষ্টির পানি মেঝেতে এঁকেবেঁকে এগুচ্ছে সাপের মত। ঘুমন্ত আরিফের মাথার কাছে জ্বলছে নিভছে মোবাইল স্ক্রিনের আলো।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ গ্রহণ-০১

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now