বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

গ্রেভইয়ার্ড

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান স্নিগ্ধা আফসানা রোশনী (০ পয়েন্ট)

X গ্রেভইয়ার্ড জিমির ডাক শুনে প্রতিদিন আমার ঘুম ভাঙ্গে।দিন না বলে এটাকে রাতই বলা ভালো হবে।কোনরাতে জিমি যদি নাও ডাকে তবু আমার ঘুম ভেঙ্গে যায়।আগে খুব গাঢ় ঘুম হত।এক ঘুমে রাত কাবার।বন্ধুরা টিটকারী মেরে বলে,আমি একটা কুম্ভকর্ণ।রাতে ঘোড়া বেচে আরামসে ঘুমাই।আমি ওদের কথায় হাসি।সুখী মানুষ বিছানায় শুয়ে পড়া মাত্র ঘুমিয়ে পড়তে পারে।আমি একজন সুখী মানুষ।অন্তত সুখী ছিলাম বলা যায়। আজ তিনটার আগেই ঘুম ভেঙ্গে গেল।টেবিল ল্যাম্পটা জ্বালিয়ে সময় দেখলাম।হাতে আরো কিছু সময় আছে।এই সময়টা বিছানায় মটকা মেরে শুয়ে থাকা যায়।এইটুকু সময়ে কোনভাবেই আর চোখ বন্ধ হবেনা।ভেতর থেকে কে যেন বলছে, “চোখ বন্ধ করো না,চোখ বন্ধ করলেই তুমি ঘুমিয়ে পড়বে”।আমি কান পেতে জিমির ডাকের অপেক্ষায় থাকলাম।জিমি আসলে ডাকে না,কাঁদে!ইনিয়ে-বিনিয়ে দুঃখের সুরে কাঁদে।নিচতলা থেকে রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙ্গে ওর কান্নার শব্দ আমার কানে আসে। ঘড়িতে তিনটার কাঁটা ঘরে পৌঁছেছে,আজ জিমি ডাকল না কেন?আমি কম্বল সরিয়ে উঠে পড়লাম। রাত তিনটায় লিরার ঘুম আরো গাঢ় হয়।গুটিশুটি মেরে কম্বলের তলায় পড়ে থাকে ও।ঘুমের মধ্যে স্বস্তির নিঃশ্বাস পড়ে তার।টমাস তার তিনটায় জেগে কি করছে তা নিয়ে লিরার কোন মাথাব্যথা নেই।ছয় মাস আগেই টমাসের পার্ট জীবন থেকে লিরা চুকিয়ে ফেলেছে।ওসব নিয়ে ভাবাভাবি করে আরামের ঘুম নষ্ট করতে চায়না লিরা।টমাস অবশ্য নাছোড়বান্দা টাইপের।লিরার ভাষায় “ইমোশনাল ফুল”।চারমাস ধরে একটা জিনিস নিয়ে ঘ্যানঘ্যান করে যাচ্ছিল।বেশ কয়েকবার ধমক দিয়ে বিদায় করেছে লিরা।এইসব অদ্ভুত ধরনের কথা শোনার ইচ্ছা বা সময় কোনটাই লিরার নেই।শেষে অন্য বাসা নিয়ে টমাসের পাগলামীর হাত থেকে মুক্তি। পুলওভারটা গায়ে চাপিয়ে কান ঢাকলাম।আমার সব শীত কানে আর হাতে।নিচে নামতে হবে এখনই।সব কিছু ঘড়ি ধরা।এখন না নামলে দেরি হয়ে যাবে।সময়মত না পৌঁছুতে পারলে জন রাগ করে,মুখ গোমড়া করে বসে থাকে।যাওয়ার আগে একবার লিরাকে ফোন করে যাব নাকি?প্রতিদিন এইরকম সময়ে লিরাকে ফোন করি।বাসা ছেড়ে চলে যাওয়ার পর এটা আমার রুটিন।ওর ঘুম জড়ানো কন্ঠ শুনতে ভাল লাগে।আজ অবশ্য প্লান ভিন্ন।জন বেশ কিছুদিন ধরে লিরার সাথে কথা বলতে চায়।জনের কোন আবদার আমি কখনো ফেলিনি।এটাও রাখা হবে।কাজেই এখন ফোন করা বাদ,জনের কাছে যাওয়া যাক আগে। নিচতলায় নেমে এলাম,আমার পায়ের শব্দে জিমির এগিয়ে আসার কথা।চার মাস ধরে এমন রুটিন চলে এসেছে।আজ তিনটায় ডেকে ওঠেনি,আমার পায়ের শব্দে এগিয়ে আসেনি!ঘটনা কি? “জিমি,ডিয়ার জিমি...” সাড়া নেই।“ওহ জিমি...!” ড্রয়িংরুমের বাতি নেভানো।আমার স্পস্ট মনে আছে,আমি বাতি জ্বালিয়ে রেখে শুয়েছি।বুকটা কেন যেন ধ্বক করে উঠল।ঘরের সুইচবোর্ড কোথায় তা খুব ভাল করে জানা আমার,আজ পাচ্ছিনা কেন!হাতড়াতে হাতড়াতে দেওয়ালের কাছে গেলাম।সোফার কাছে কিছু একটা পায়ে বাঁধল। “জিমি?” জিমি কুঁইকুঁই শব্দ করে নিজের উপস্থিতি জানান দিল। “বাবা?” আমার বিস্ময় আকাশ স্পর্শ করল। “জন,আমার বাবাটা!জন তুই এখানে কি করছিস?” জন নিচু গলায় বলল, “তুমি আজ এত দেরি করলে কেন বাবা?আমি খুব ভয় পেয়েছি।রাস্তা ভুলে গিয়েছি আমি বাবা,জিমি পথ দেখিয়ে নিয়ে এসেছে”। “ বাবা,মাকে ফোন ধরিয়ে দাও না।“ আমি কথা ঘুরানোর জন্য বললাম, “কেন সোনা,মা ভয় পাবে যে...!মা তো এগুলো জানেনা”। অন্ধকারে জনের চোখ জিমির চোখের মত ঝকঝক করে উঠল। “বাবা,সাড়ে তিনটা বেজে গেল।প্রতিদিন বাজে।মা ভয় পায় না।আমি ভয় পাই।“ আমি জিমির মাথায় হাত দিলাম,চুলগুলো শক্ত হয়ে আছে বরফ লেগে। পকেট থেকে ফোন বের করে লিরাকে ডায়াল করলাম।একবার,দুইবার...তিনবারের মাথায় ফোন তুলল লিরা,ঘুম জড়ানো কন্ঠে বলল, “টমাস,আবার ফোন কেন করেছ।কি চাও তুমি?আমি জনের কথা শুনতে চাইনা।প্লিজ আমাকে ঘুমোতে দাও”। “মা,আমি জন,মা!” ফোনের ওপাশে লিরার চিৎকারে জনের হাত থেকে ফোনটা মেঝেতে পড়ে গেল।আমি তুলে নিয়ে লাইন কেটে দিলাম।লিরার সাথে পরে বোঝাপড়া করা যাবে। “বাবা,আমি ভয় পেয়েছি!”জন কাঁদোকাঁদো গলায় বলল। অন্ধকারে ছেলের মুখটা ভালো করে বোঝা যাচ্ছেনা।আমি ওর মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বললাম, “কোন ভয় নেই জন।বাবা আছে!” “বাবা,মা ভূত ভয় পায়,আমি ভূত ভয় পাই...” আমি ফিসফিস করে বললাম, “তুমি কেন ভয় পাবে বাবা,ভূতের আবার কিসের ভয় জন!”


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ গ্রেভইয়ার্ড

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now