বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
বৃদ্ধ বাবার লাশটা প্রথম আবিষ্কার করে বড় ছেলে শফিউল। বুকে ও মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে মারা হয়েছে। ঘাতকের খুব বেশি কষ্ট হয়নি সাবেক এ সরকারি কর্মকর্তাকে হত্যা করতে। ঘুমন্ত অবস্থায় আক্রমণ করেছিল।
পুলিশ ইন্সপেক্টর রফিক আহমেদ ব্যস্ত হয়ে পড়লেন ক্লু খুঁজতে। ফোন পেয়ে ছুটে এসেছে গোয়েন্দা নাবিন ববিও। ক্ষুব্ধ সন্তান ও কয়েকজন প্রতিবেশী মিলে গ্যারেজে আটকে রেখেছে এক লোককে। নাক-মুখ দিয়ে রক্ত ঝরছে তার। বাড়ির মেজো ছেলে রবিউলের দাবি, সে তার বাবার ঘরে এই মিস্ত্রিকে হাতুড়ি হাতে ঢুকতে দেখেছে। তাই বাকিদেরও ধারণা হলো, গ্যাসের লাইন ঠিক করতে আসা এই মিস্ত্রিই তাদের বাবার খুনি।
গোয়েন্দা ববি মুখ ফেরাল সবার দিকে। বেশ কষ্টে মাথা তুলে মিস্ত্রি ববিকে বলল—‘স্যার, আমি ক্যান খুন করব? ওনার রুমের পাশ দিয়া কিচেনে গ্যাসের লাইন চেক করতে গেছিলাম। কাজ করার সময় আমার ব্যাগটা কিচেনে রাইখা বের হই।’
গোয়েন্দা ববি জানতে চাইল, ‘বের হয়েছিল কেন?’
মিস্ত্রি বলল, ‘আমি লাইন ঠিক করার জিনিসপত্র আনতে গেছিলাম। আসার পর ড্রয়িংরুমে একটু বইসা ছিলাম। পানি খাইতে চাইছিলাম। কিন্তু আচমকা হৈচৈ শুরু। সবাই আমারে খুব মারল। কোনো কথাই শুনল না।’
নিচতলার বড়সড় বাড়িটায় একবার চোখ বোলাল ববি। কোনার দিকের রুমে থাকতেন রমজানুল উদ্দিন। অসুস্থ ছিলেন খুব। খুন না হলেও বেশিদিন বাঁচতেন না তিনি। লাশের পাশে এক কোণে দাঁড়িয়ে কাঁদছে বাড়ির গৃহকর্মী। মেঝেতে পড়ে আছে ঘাতকের অস্ত্র হাতুড়ি। মিস্ত্রিই ওটার মালিক। একজন পুলিশ সদস্য গ্লাভস পরে আলগোছে ওটা তুলে রাখল ফিঙ্গারপ্রিন্ট পাওয়ার আশায়।
গোয়েন্দা ববি মেয়েটার দিকে তাকাল। কেমন যেন উদ্ভ্রান্তের মতো দেখাচ্ছে মেয়েটাকে। ‘এ বাসায় কয়দিন?’ মেয়েটা চোখ মুছে হড়বড় করে কথা বলতে শুরু করল। এর মধ্যে অনেক কথা বুঝতেও পারল না গোয়েন্দা ববি। তবে যা শুনতে পেল, ‘সিঁড়ির রুমে থাকি। ভাত চড়াইছিলাম মাত্র। ওই সময় খুন হইয়া গেলেন আব্বা। কে এই কাম করল কন? ওই মিস্ত্রিরে ফাঁসিতে ঝোলান, স্যার।’
চোখের দিকে তাকাতেই মেয়েটার কান্না থেমে গেল। ‘আচ্ছা, আপনি কী করে জানলেন যে আপনি যখন রান্না করছিলেন, তখন উনি খুন হয়েছিলেন?’
কথা বলল না মেয়েটা। ‘রান্না করার আগে আব্বারে চা দিয়া গেছিলাম। এর খানিক পর চিৎকার হুনি। এরপর ছুইটা আসি।’
ফুঁপিয়ে উঠল মেয়েটা। গোয়েন্দা ববি দেখল, বিছানার পাশেই একটা কাপ। কাপের তলানিতে চা পড়ে আছে সামান্য। তার মানে মারা যাওয়ার আগে চা-টা খেয়েছিলেন রমজানুল সাহেব। এবার বড় ছেলেকে প্রশ্ন করল ববি, ‘আপনি কেন আপনার বাবার রুমে এসেছিলেন?’
বড় ছেলে শক্ত প্রকৃতির। কান্নাকাটির মধ্যে নেই। মিস্ত্রির দিকে কটমট করে তাকিয়ে বলল, ‘হারামজাদাটার আসার কথা সকালে। এসেই দেখি চোরের মতো বসে আছে ড্রয়িংরুমে। আমাকে দেখে থতমত খেয়ে দাঁড়িয়ে যায়। বলল, টাকা লাগবে। টাকা আনার জন্য বাবার রুমে যাই। গিয়ে দেখি সারা ঘরে রক্ত। ছুটে এসে দেখি, মিস্ত্রি পালানোর চেষ্টা করছে।’
দুর্বল কণ্ঠে উত্তর দিল মিস্ত্রি—‘আমি লাইন ঠিক করার জন্য কী কী লাগবে, তার জন্য টাকা চাইছিলাম, স্যার। কিন্তু চিক্কুর শুইনা ডরাইছি। তাই ভাগতে ধরছিলাম। আমি খুন করি নাই, স্যার!’
‘কিন্তু মিস্ত্রি খুন করতে যাবে কেন, বলুন তো? কিছু চুরি হয়েছে কি?’ প্রশ্ন করল ববি।
‘বাবা তার সব টাকা আর সোনাদানা নিজের বিছানার নিচে রাখেন। এটা আমরা সবাই জানি। কিন্তু কখনোই সেসবের প্রতি লোভ ছিল না আমার। আমাদের কারোরই ছিল না। মিস্ত্রি হারামজাদা নিশ্চয়ই সেটি জেনে গেছে কোনোভাবে। কিন্তু খুন করার পর সম্ভবত টাকা-পয়সা নেওয়ার সাহস করেনি। পালাতে চেয়েছে।’
গোয়েন্দা ববি এতক্ষণে পরিষ্কার হলেন খুনের মোটিভের ব্যাপারে। রমজানুলের জমানো টাকা আর স্বর্ণালংকারই তাঁর কাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তবে খুনি কে, সেটিও এখন পরিষ্কার।
এবার বলো, রমজানুল উদ্দিনকে কে খুন করেছে। কী করে নিশ্চিত হবে?
(গল্পটি ‘মোটিভ’ শিরোনামে দৈনিক কালের কন্ঠ পত্রিকায় প্রকাশিত।)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now