বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

গোস্ট এন্ড স্পিরিটস

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X গোস্ট এন্ড স্পিরিটস ।। লিখেছেনঃ Ahmed Imtiyaz Sp বন্ধুদের সাথে প্রতি বিকেলে স্কুলের মাঠে আড্ডা দেয়া একটা রুটিনে পরিণত হয়েছে।দুপুরে কলেজ থেকে ফেরার পর খেয়েদেয়ে হালকা একটু বিশ্রাম নেই।বিশ্রাম শেষে স্কুলের পাশের বাড়িতে একটা টিউশনি।তারপর পুরো সময়টাই অবসর।আর এ সময়টা সব বন্ধুরা মিলে রীতিমত আড্ডায় মেতে উঠি।বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা এমন কি সন্ধ্যার পরও চলে আমাদের আড্ডাবাজি। . এলাকায় আমাদের ব্যাচের ছেলেদের একটু সুনাম আছে।প্রথমত পড়ালেখায় এই ব্যাচ-ই স্কুলের সেরা রেজাল্ট করেছে তার উপর ভদ্রতা ও সৌজন্যমুলক আচরণে এ ব্যাচকে অন্যরা উদাহরণ হিসেবে দেখে।তাই আমাদের আড্ডাবাজি নিয়ে কেউ কিছু মনে করত না।যদিও অন্য কোন ছেলেরা এভাবে আড্ডা ও হৈ-চৈ করার সুযোগ মোটেও পেত না। . সেদিন সবাই মিলে আড্ডা দিচ্ছিলাম।কথাপ্রসঙ্গে, ভূত শব্দটা চলে এল।ভূত নিয়ে শুরু হয়ে গেল সবার গল্প। আলোচনার মাঝখান বরাবর হাসি হাসি মুখ করে আসল অর্ণব।বেশ উৎফুল্ল কন্ঠ জিজ্ঞেস করল- কিরে, কি নিয়ে কথা হচ্ছে ? আরে, ভূত নিয়ে কথা হচ্ছে।তুই আবার কোন গল্প বলবি নাকি ভূত নিয়ে ?- হাসতে হাসতে বললাম আমি। -আরে, গল্প কি কমু।ভূত তোদের সামনেই নিয়া আসুম। -মানে ?? চোখ বড় করে জিজ্ঞেস করল আদিল। -দেখ।আমার কাছে একটা এপস আছে যেখানে ভূতের অস্তিত্ব দেখা যায়। একগাল হেসে শুভ্র বলল - হালা মদন।ভূত বলে আবার কিছু আছে নাকি ?আবার তুমি এপস দিয়া ভূত দেখাবা। আর ইউ কিডিং আস ম্যান ? - দেখ,মজা করবি না।আগে দেখ,তারপর কথা বল। - আচ্ছা দেখা। . ঝটপট স্মার্ট ফোনটা বের করে এপসটা ইনস্টল করল অর্ণব।এপসটা অপেন করতেই অন্যরকম একটা ভূতুড়ে শব্দ সৃষ্টি হল। -এই দেখ, এটা হল "সাইকোপোনি"। এখানে ভূতুড়ে শব্দের সৃষ্টি হয়।যেমন ধর, ভূত আশে পাশে থাকলে তাদের শব্দ এখানে শোনা যাবে। এই যে "প্যারানরমাল" অপশানটা দেখছিস এখানে একটা গ্রাফ আঁকা হচ্ছে।মানুষের হার্টবিট যেমন উঠানামা করে তেমন ভূতেরও হার্টবিট উঠবে। . আমরা সবাই খুব মনোযোগ দিয়ে দেখছি আর তার কথাগুলো শুনছি। হো হো করে হেসে উঠে শুভ্র বললঃ ভূতেরও আবার হার্টবিট।হালা মদন। . একটু উত্তেজিত হয়ে অর্ণব বলল, তুই চুপ করবি ? -এই দেখ, গোস্ট ফাইন্ডার অপশনে ভূত আছে কিনা জানতে পারবি।থাকলে লাল বাতিটা জ্বলবে।এই রাডারে দেখতে পাবি ভূত তোর আশে পাশে কোথায় অবস্হান করছে।যদি এই লাল বৃত্তের ভিতরে আসে তাহলে এই "গোস্ট ক্যামেরায়" দেখা যাবে। . আশ্চান্বিত হয়ে বললাম -ওরে বাপ রে।এরকম যদি বাস্তবে হতো ! উত্তরে শুভ্র বললঃ আরে, এটা বাস্তবেই দেখবি। মজা না। -হ।তোর মত মগা ছাড়া কেউ এটা বিশ্বাস করবে না। -দোস্ত, এভাবে এভয়েড করা ঠিক না।যদি সত্যই এমন কিছু হয়। -নাম কি রে এপসটার ? -"গোস্ট এন্ড স্পিরিটস"। -আচ্ছা তুই এপসটা আমার মোবাইলে সেন্ড কর। দেখি, ভূত বলে কিছু আছে কিনা। এই বলে অর্ণবের কাছ থেকে এপসটা নিল শুভ্র। -আমি তো এ বাগানটা হয়েই যাব।আজই নগদে ভূতের অস্তিত্ব পরীক্ষা করুম।যদি না পাই তোরে....। একথা বলতে বলতে বিদায় নিল শুভ্র।আমরাও যার যার বাড়ি চলে গেলাম। . ২ . ক্রিং ক্রিং ক্রিং ক্রিং -হ্যালো -ইমন শুনেছিস।শুভ্রর কথা? - ক্যান কি হইছে? -শুভ্র তো মারা গেছে।কি বিভৎস লাশ।চোখ দুটো উপড়ে ফেলেছে।সারা গায়ে নখের দাগ। -কি বলিস।কেমনে সম্ভব? - জানি না।তুই তাড়াতাড়ি আয়। -আচ্ছা। . ফোনটা রেখে দৌড়ে গেলাম শুভ্রর বাড়ির দিকে। আদিল আগ থেকেই সেখানে ছিল।একটু পর অর্ণবও আসল।আসলে বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না, আমাদের এত ভাল একটা বন্ধু এত তাড়াতাড়ি আমাদের ছেড়ে চলে যাবে।তবে,তার মৃত্যুটা বড্ড রহস্যজনক।কেউ দেখলে বলবে না যে মানুষ এভাবে মেরেছে।আর সত্যি বলতে ওর তো কোন শত্রুও নেই। . কিভাবে কি হল কিছুই বুঝতে পারছি না।ওদিকে ছেলের শোকে তার মা পাগল প্রায়। . পরিস্হিতি একটু শান্ত হতেই ওর ছোটভাই সাদাফকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলাম। কাঁদতে কাঁদতে ও বললঃ ভাইয়া, কাল আপনাদের সাথে দেখা করে অনেক রাত বাড়িতে ফেরে। রাত তখন প্রায় ১২ টা।আমি জিজ্ঞেস করলে বলে একটা পরীক্ষা করতেছিলাম ভূত নিয়ে। -মানে ? -হুম।কি একটা এপস থেকে নাকি ভূত ধরার কৌশল শিখেছে।সেই সন্ধ্যা থেকে বাগানে বসে বসে নাকি ভূত ধরেছে। -তারপর ? -বাসায় এসে খাওয়া দাওয়া সেরে শুতে যায়।রুমের আলো জ্বালিয়ে মোবাইলে কি যেন করছিল। আমরা ঘুমিয়ে যাই।তারপর.... ছেলেটা আর কোন কথা বলতে পারল না। . বুঝতে বাকি রইল না এটা কোন সাধারণ মৃত্যু নয়। হতে পারে কোন আত্মা কিংবা ভূত।তবে বিশ্বাস করতেও ভয় হয়, ভূত মানুষও মারে। . তাড়াতাড়ি করে ওর রুমে গিয়ে মোবাইল ফোনটা খুঁজতে লাগলাম।সারা রুমে এলোমেলো হয়ে আছে।রক্ত দেয়ালে দেয়ালে লেপ্টে আছে।খাটের নিচ থেকে কিছুক্ষণ পর মোবাইলটা উদ্ধার করলাম। . হুম যা সন্দেহ করেছিলাম তা-ই।এপস টা এখনো চালু।অপেন করতেই এক শ্বাসরুদ্ধকর জিনিস দেখলাম।এপসের ভিতরেই শুভ্রর ছবি।ক্ষত- বিক্ষত।উপরে লাল বর্ণে লেখা ছিল- "ডোন্ট এভয়েড মি"। . হাত পা ঠান্ডা হয়ে গেল নিমিষেই।অর্ণব একেবারেই নির্বাক।কি থেকে কি হয়ে গেল ! . ৩ . স্কুলের মাঠেই বসে ছিলাম আমি আর আদিল।হঠাৎ দেখলাম,অর্ণব দৌড়ে আমাদের দিকে আসছে। -কিরে এমন দৌড় দিলি কেন? হাপাতে হাপাতে ও বললঃ আরে। একটা ঘটনা ঘটে গেছে। -কি বল তো। -আরে ঐ যে এপসটা "গোস্ট এন্ড স্পিরিটস" এটার কাহিনী শুনছিস? -নাতো। কি হয়েছে। -আরে। ওটা যে বানিয়েছিল "টু ব্রাদার্স কম্পানি" তাদের নামে কেস হইছে।ওটা নাকি ফেক ছিল না। ওটাতে নাকি আসলেই ভূত ধরা পড়ত।অনেকে এই এপসটা নিয়ে ফেক বলে মজা করে প্রাণ হারাইছে।"প্লে স্টোর" থেকে এপসটা রিমুভও করে দেয়া হইছে। -কি বলিস? সত্যি? -হ বন্ধু।তাইলে অর্ণবও একারণেই.... আমার জন্যই তো।আমি এপসটা না আনলেই তো আর এমনটা হত না....। কথাগুলো বলতে বলতে কাঁদতে লাগল অর্ণব। . আমরাও হতবাক হয়ে গেছি ওর কথা শুনে।কিছু বলার ভাষা পাচ্ছি না। দুজন মিলে ওকে বুঝাতে লাগলাম। তোর কোন দোষ নেই রে। . কতদিন কেটে গেছে।অথচ আজও মনের মধ্যে একটা এপস দাগ কাটে।"গোস্ট এন্ড স্পিরিটস"। অর্ণব আজও মাঝেমধ্যে শুভ্রকে স্বপ্নে দেখে আর কাঁদে। . ।। ডার্ক নাইট ।।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ গোস্ট এন্ড স্পিরিটস

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now