বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

গল্প : #তুবা_আপুকে_নিয়ে_পালানো !!!

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Pantha Shahria (০ পয়েন্ট)

X গল্প : #তুবা_আপুকে_নিয়ে_পালানো !!! Writer : Pantha Shahria !!! - সারারাত ইউটিউব এ দুষ্টুমি ভিডিও দেখছি...ভাবছি পরেরদিন দুপুর বারোটাই উঠমু আর গোসল করে সোজা মসজিদে দৌড়... কারণ..শুক্রবার তো, ভেঁতরে জায়গা না পেলে, গরমে অবস্থা শেষ... আর হ্যা দুষ্টুমি ভিডিও দেখার কথা বলছি বলে.. আবার মোটা ও উল্টাপাল্টা জিনিস ভেঁবে বইসেন না... আসলে দুষ্টুমি মানে.... ওহহহহহ দুষ্টুমি ও বুঝেন না... অদ্ভুত। কিন্তুু কে জানিতো যে কপালে আমার সুখের ঘুম নেহি... - সকাল সাড়ে ছটায়.. ফোনটা চিৎকার দিয়ে উঠলো... ফোনটা ও দেখছি ঠিক আমার বাপের মতোই... এই দুই জনের অত্যাচারে সকালে ঘুমাতে পারি না... আগে আমার বাপ জ্বালাই তো.. আর এখন এই হারামি ফোন... ওহহহহহহহ রে মরে যাইতাম দেখছি আমি... আপনারাই কন.. সেই মসলা, তেল, ঝাল দিয়া মাংস রান্না করছে কিন্তুু তাঁর মধ্যে লবণ দেন নাই... জিনিস টা কেমন লাগবে... আমার তো মনে হয়... লবণ ছাঁড়া মাংস আর, সকালের ঘুম না হওয়া একি ব্যাপার। তাও দেখি কোন মহা মানব ফোন করছে... ওমা ফোনের দিকে তাঁকাই দেখি, এটা তো মহা মানব না, এটা তো মহা মানবী... তুবা আপু ফোন দিছে... যার পিছনে আমি চার দিন ঘুইরা ও এক মিনিট কথা কইতে পারি নাই... তাহলে কী দুনিয়া আজকে ঘুরতেছে। ফোনটা রিসিভ করলাম...। - হ্যালো আপু... আপনি মনে হয় ভুলে আমারে ফোন দিছেন... তা না হলে সেদিন ওমন দৌঁড়ানি দেওয়ার পর কী কেউ আবার ফোন দেই। - সাহরিয়া... আমি ফাজলেমি মোড এ নাই... আমি সিরিয়াস কয়টা কথা বলতে ফোন দিছি। - হুমমমমমমমমম... বুচ্ছি.. সেদিন দৌঁড়ানি দিছেন আর আজকে ক্যালানি দিবেন তাই তো। - চুপপপপপপপ... আজাইরা কথা বাদ দাও... তুমি আমাকে নিয়ে পালাতে পারবে আজকেই..। - কীইইইইইইইই... পালাতে হবে কেনো...। - এত সব বলতে পারবো না... পালাতে পারবা কী না তাই বলো... তা না হলে আমার লাশ দেখতে এসো আজকে...। - আচ্ছা তুমি কী আমাকে ভালোবাসো। - ভালোবাসি কী না জানি না.. তবে... আমি অন্য কাউকে বিয়ে করতে পারবো না। - আচ্ছা ঠিকআছে ... আমি ফ্রেশ হয়ে তোমাকে ফোন দিচ্ছি..। - তুমি ফ্রেশ হও... আমি তোমার বাসার প্রায় কাছে চলে আসছি। - হুমমমমমমমমমমম ওকে....। বাঁশ তো একেঁবারে পুরাটাই ঢুঁইকা গেছে... এখন কোন দিকে যামু আমি... আপনারাই বলেন..কোন বড় আপুর পিছনে চার দিন ঘুরার পরে.. একদিন দৌঁড়ানি দেওয়ার পরে.. আবার পাঁচ দিনের দিন যদি কয় আমারে নিয়ে পালাতে হবে... তা না হলে আমার লাশ দেখতে এসো... তখন আপনারা কী করবেন... তাঁর উপরে আবার.. গতকাল রাতে ঘুম হয় নাই... হে আল্লাহ্ সবাই বাঁইচা থাকুক তুমি মোরে তোমার কাছে তুইলা নাও.... এখন আমি তাঁরে নিয়া কই যামু.. যাই হোক.. যতই ক্যালানি খাই বাড়িতেই যামু... আর কিছু না পাই একটা পরী তো পাইছি... তাঁরে দেখলেই আর কেউ কিছু বলবে না। একটু পড়ে দরোজাই ঠক ঠক আওয়াজ.. শুনে দরোজা খুলতেই দেখি... ওমা এতো দেখি সত্যি সত্যি পরী... তাঁর উপরে আবার নীল শাড়ী পড়ে আছে... আর হাতে একটা ব্যাগ। - সাহরিয়া... তুমি এখন ও রেডি হও নাই...। - এই তো হয়ে গেছে শুধু... শার্টটা পড়বো..। - ঠিকআছে তাঁড়াতাড়ি করো। - আচ্ছা তোমার বাবা আবার পুলিশ লাগিয়ে দিবে নাতো। - তাঁর আগে বলো... তোমার গ্রামের বাসা কই...। - আমার বাসা নওগাঁ... তে কেনো। - আরে বোকা আমি বাসাই একটা চিঠি লিখে আসছি... আর সেখানে লিখে আসছি সিলেট যাচ্ছি। এখন সবাই ঐ দিকে বিজি থাকবে... আর আমরা এই দিক দিয়ে সোজা নওগাঁ...। - আহা কী বুদ্ধিমতী তুমি... দেখেই বুঝা যায়...। - হয়েছে হয়েছে... এবার চলো... আচ্ছা কতক্ষণ লাগবে। - এই ধরো যে ট্রেন এ গেলে ৯ ঘন্টা... বাসে গেলে ও ঐ একই...। - ওহহহহহহহহহ শিট.... সাহরিয়া আমি তো আমার বাটন ফোনটা বাসাই ফেলে আসছি...। - তাঁতে কী... ভালোই করছো। - আরে গাধা ওখান থেকেই তোমাকে ফোন দিছিলাম... আর সেখানে তোমার নাম লেখা আছে.... আচ্ছা বাবা তো আর তোমাকে চেনে না তাই না...। - শুধু চিনলে তো ভালোই হতো... খুব ভালো করে চিনে... আর ওনি এটা ও জানে আমার বাসা নওগাঁ..। - কেমনে চিনলো। - সেটা এক বিশাল হতিহাস..তোমার ঠিকানা তোমার বাপের কাছেই নিতে গেছিলাম... বহুত কষ্টে বেঁচে আসছি...। - ঐ তাহলে এখন আমরা কী করবা..। - আমি যতদূর তোমার বাপরে জানি, এতক্ষণে পুলিকে ফোন করা শেষ। আচ্ছা এইটা বলো এখানে আসার সময় কী কেউ তোমাকে দেখতে পেঁয়েছিলো... - আরে না কেউ দেখে নি.. রিক্সা ওয়ালা কে ভেঁতরে আসতে বললে... ওনি বললো ভিতরে নাকি আসবে না। - তাহলে... এখন আমাদের বোঁকা বানানোর একটা প্লান করতে হবে। - কেনো...। - আরে বাবা.. এতক্ষণে পুলিশ মনে হয় আসতেছে বুঝলা...। - হুমমমমমমমমম... তাহলে কী করবা...। - তোমাকে যেহেতু কেউ দেখে নাই.. সেহেতু.. আমি ব্যাগ নিয়ে বাহিরে যাবো আর এমন ভ্যান করবো যে আমি চলে যাচ্ছি এখান থেকে...। - ঐ আমি কই থাকবো তাহলে...। - ওহহহহহহহ.... পুরোটা শুনবা তো নাকি...। - হুমমমম বলো। - আমি দরোজাই তালা দিয়ে যাবো.. তাঁরপরে আমি চুপিচাপি দেওয়ার টপকে.. ঐ জানালার সাইটে আসবো.. আর ওটা ডিজিটাল জানালা.. পুরোটাই খোলা যায়... আমি আসলেই তুমি ওটা খুলে দিবা... আর আমি ভেঁতরে চলে আসবো...। - তাঁরপরে কী করবা...। - আগে এটুুকুই ঠিক ঠাক ভাঁবে করি...। যেই বলা সেই কাজ শুরু....। - ওহহহহ কী কষ্টে সফল হলাম রে বাবা...। - ঐ সাহরিয়া এখন... এখন আর আমাদের কিছুই করতে হবে না... শুধু অপেক্ষা... পুলিশ আসবে, এলাকার সবাই বলবে ও তো চলে গেছে সকালে.. এখানে এসে দেখবে তালা.... আর চলে যাবে। - যদি তালা ভাঙ্গে... তাহলে। - তাহলে আবার কী... ডিজিটাল জানালা তো আছেই। - সব বুঝলাম আমরা যাবো কখন...। - দুই দিন পরে...। - কেনো..। - ঐ এখন যদি যাই ধরা খেঁয়ে যাবো না.. দুই দিনের দিন... আমরা খুব সকাল। উঠে চুপি চুপি বাস স্ট্যান্ড এ যাবো.. আর সোঁজা নওগাঁ। - যদি কেউ দেখে ফেলে। - সব মানুষ যদি সারারাত ও না ঘুমাই... তবু ও সকালে সে ঘুমাবেই বুঝলা... সকালের ঘুম হলো লবণ এর মতো.. পাগলি। - মানে...। - ঐ লবণ ছাঁড়া তরকারি খেঁতে পারবা। - না। - সকালের ঘুম বাদ আর তরকারি তে লবণ বাদ দুটোই এক বুঝলা...। - হুমমমমমমমমম..। - এখন চুপ চাপ থাকো... পুলিশ এসে চলে গেলে রান্না করবা। - কীইইইইইইইইই... আমি রান্না করতে পারবো না। - ঠিকআছে না করো... খাবার ও নাই তাহলে...। - ওকে ওকে... শুধু রুটি বানাতে পারি....। - ওতেই চলবে গো...... হি হি হি। একটু পড়ে প্লান মতো পুলিশ এসে চলে গেলো... তুবা তো তখন ভয়ে একদম আমার সাথে লেপ্টে ছিলো...। - ঐ যাও... রুটি বানাও। - হুমমমমমম যাচ্ছি যাচ্ছি। একটু পরে রান্নাঘরে গিয়ে দেখি.. রুটির থেকে তাঁর গাঁয়েই আটা বেশি লেগে আছে। - আচ্ছা তুমি কী রুটির উপরে গড়াগড়ি দিছো হুমমমমমম। - কেমন রেগে মেগে তাঁকালো... বাবা রে বাবা...। - একটা কথা বলবো...। - বলো। - তোমাকে না পুরাই আমার... বউ বউ লাগতেছে হুমমমমম... হি হি হি। - তাই না দাঁড়াও... দৌঁড়ে এসেই আমার উপরে আটা ঢেঁলে দিলো...। - এবার তোমাকে পুরাই সাদা বাঁন্দর এর মতো লাগছে... - দাঁড়াও এবার তোমাকে দেখাচ্ছি মজা... বলেই যেই না দৌঁড় দিছি ওমনি, গতকাল রাতে খাওয়া কলার চোঁচার উপরে পা পড়ে... একে বারে তুবার উপরে গিয়ে পড়লাম। আহা কী নরম। - সরি সরি সরি... আমি না ইচ্ছে করে করি নাই...। - ঠিকআছে যাও ফ্রেশ হয়ে আসো। - তুমি না পুরাই আমার সপ্নের বউ এর মতো... সে ও রাগ করে না.. হি হি। - শয়তান... যাবা নাকি মাইর দিমু। কেমনে কেমনে যে দুষ্টু.. মারামারির মধ্য দিয়ে দুইটা দিন চলে গেলো... আমি সিওর এই পাগলিটার সাথে আমি সারাজীবন এমন ভাঁবেই কাটিয়ে দিতে পারবো... আর এটা কোন আবেগ না....এটা ভালোবাসার একটা শক্তি। - তুবা... ঐ তুবা বুড়ি.. তুবা। - কী হয়েছে....। - তাঁড়াতাড়ি উঠো...। কেমন হক চকিয়ে উঠো আমার কাছে এসে বললো... সাহরিয়া কী হয়েছে। - চলো যাবা না... সকাল হয়ে গেছে...। - তাই বলে এত সকালে...। - না... এখন যাবো না তো... একটু পড়ে তোমার আব্বু উঠে যখন খুঁজতে বের হবে তখন। - ঐ এমন করো কেনো। - আচ্ছা সরি... চলো এবার। - ঠিকআছে চলো....। - প্লান মতো সোজা বাস স্ট্যান্ড...। কপাল ভালো তাই... এসেই নওগাঁর বাস পেঁয়ে গেছি। - ঐ চলো চলো উঠো পড়ো...। পাগলিটা জানালার সাইটে আর আমি.. আর আমি পাগলিটার সাইটে... বাস চলছে.. আর ওর চুল গুলো উঁড়ে উঁড়ে এসে.. আমার চোখে মুখে এসে পড়ছে...। হঠাৎ আমার কাঁধে মাথা দিয়ে ঘুমিয়ে পড়লো...। বাস কিছু দূরে যেতেই দেখলাম.. কয়েকটা পুলিশ বাস থামিয়ে দিলো....। এবার তো আমি গেছি... পুরা দশ বছরের জেল দিবে। - তুবা ঐ তুমি... দেখো.. সামনে পুলিশ.. আর আমি তো এই দিকে শেষ...। - ঐ গাধা এমন ঘ্যামছো কেনো। - পুলিশ দেখে আমার ভয় করে.. আমাকে ধরার আগেই আমি মরে যাবো। - কীইইইইইইই..ভীতুর ডিম একটা.. ওই সব আমার বন্ধু... আমিই ওদের বলেছি... খাবার দিয়ে যেতে। - কীইইইইইইইই......তাহলে তোমার বাবার পুলিশ। - হি হি হি... তুমি যখন আমার পিছন পিছন ঘুরতে... তখন আমি ওকালতি পড়ছিলাম... এখন আমি একজন ওকিল... তাই ভাবছিলাম যাঁকে ভালো বাসবো সে কেমন বুদ্ধিমান... একটু বাঁজিয়ে দেখি...। আর সব তো তোমারি প্লান ছিলো.. শুধু আমি একটু মাথা খাঁটিকে ওদের ফোন দিয়ে দরোজাই টোকা দিতে বলছিলাম...। - তাই বলো.... এমন টেনশনের মধ্যে পরিক্ষা নিবা... এবার বলো পাশ নাকি ফেল। - তোমার আইডিয়া তোমার মতোই.. বাঁদর মার্কা... কই একটু এ্যাকশন ফাইট হবে তা না... কাউকে কিডন্যাপ করে আবার ওর বাড়িতেই লুকিয়ে রাখার মতো.. তবে পাশ করে গেছো....। - এমন ভাঁবে বললা... কেউ ফেল করলে ও এমন ভাঁবে বলে না...। - তাই না ছাগল একটা। - আচ্ছা ছাগল টাকে কী ভালোবাসো...। - ঐ তুমি আসলেই একটা ছাগল... ভালো না বাসলে কী তোমার সাথে এক রুমে থাকতাম হুমমমমমম। - ও হ্যা তাই তো...। - এবার চুপচাপ আমার দিকে তাঁকিয়ে থাকবা... আমি ঘুমাবো... কিন্তুু খবর দার নজর দিবা না.... - ঠিকআছে.. তবে দুই একবার.. দুই একটা করে পাপ্পি দিবো হুমমম হি হি হি হি......। বাস চলছে... তুবার মাথাই আমার মাথা আর আমার মাথাই তুবার মাথা... এমন ভাঁবেই যাচ্ছি দুইজন... আর ওর সব চুল আমার মুখের উপরে এসে ঢেঁকে গেছে.... এখনি চান্স দুই একটা পাপ্পি দিলে কেউ দেখতেই পাবে না... হি হি হি।।। >>সমাপ্তThe End


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ গল্প : #তুবা_আপুকে_নিয়ে_পালানো !!!

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now