বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

গল্প : #সন্দেস_ওয়ালি !!!

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Pantha Shahria (০ পয়েন্ট)

X গল্প : #সন্দেস_ওয়ালি !!! Writer : Pantha Shahria !!! - রাস্তা দিয়ে হাঁটছি... সন্ধার আগে দিয়ে... সব খানেই আমার একটা করে বদ অভ্যাস আছে.. এই যেমন রাস্তাই কোন বোতল পড়ে থাকতে দেখলেই... পা দিয়ে শর্ট মারি.. কত যে এর জন্য বকা খাইছি তাঁর কোন হিসেব নেই... রাস্তাই বোলত পড়ে থাকতে দেখলেই কেমন যানি পা সুরসুর করে... এদিন ওদিক তাঁকিয়ে দেখি কেউ নেই... শর্ট দিতেই কেমন উঁড়েই চলে গেলো.. আজকে মনে হয় একদম ঠিক জায়গায় লাগছে... হঠাৎ সামনে দেখি বোতলটা একে বারে রাস্তার মোড়ে.. একটা মেয়ের সামনে গিয়ে পায়ের পায়ের কাছে পড়লো। আর একটু হলেই লাগতো.. দেখলাম মেয়েটা একটু নিচু হয়ে বোতলটা তুললো.. এখন ও মুখটা দেখা যাচ্ছে না, কারণ চুল গুলো একেবারে মুখের উপরে পড়ে আছে। বোতলটা নিয়ে যেই উঠলো.. তাঁর দিকে তাঁকিয়েই তো একটা বড় ধরণের ঝটকা খেলাম.. ঠিক যেন চাঁদের আলো দিয়ে তাঁকে বানানো হয়েছে... মেয়েটা আমার দিকে আসছে.. আর আমি তো তাঁর দিকে হা করে তাঁকিয়ে আছি..। - এই যে.....। - তাও তাঁকিয়েই আছি... মেয়েটা যে কিছু বলছে.. সে দিকে আমার কোন খেয়াল নাই। - ঐ.... এমন হা করে থাকলে তো এখানের সব মশা.. পেঁটের মধ্যে ঢুকে যাবে। - এবার হুসে আসলাম.... হুমমমমমম। - আপনি কী পাগল....। - হুমমমমমমমম। - আজব তো। - না... মানে আমি পাগল না.. আমি সাহরিয়া। - তো মিস্টার সাহরিয়া... এই বোতলটা যদি আমার গায়ে লাগতো তাহলে কীইইইই হতো শুনি। - আসলে আমি না বুঝি নাই.. বোতল দেখলেই কেমন যানি আমার পা সুরসুর করে... আচ্ছা সরি। - কীসের সরি হুমমমমম... যদি লেগে যেত তাহলে...। - লাগে নাই তো নাকি... লাগলে দেখা যেত.... আর একটা কথা বলি। - হুমমমমমমমমম....। - আপনি না দেখতে পুরাই সন্দেস এর মতো... হি হি হি । বলেই দৌঁড়....। - ঐ ঐ দাঁড়ান... সন্দের এর মতো মানে কীইইইই। - কে শুনে কার কথা... এক দৌঁড়ে রুমের মধ্যে... জীবনে ও ভাবি নাই এমন একটা সুন্দরী মেয়ের সাথে আমার দেখা হবে। রাতে শুয়ে শুয়ে শুধু ঐ তখন এর কথা গুলোই মনের মধ্যে বেড়াইতেছে.. শুধু মনে হচ্ছে আর একটু কেন কথা বললাম না.. আর একটু কেন থাকলাম না তার সাথে.. এক দিক দিয়ে ধরতে গেলে আমি আস্ত বড় একটা গাধা, নামটা ও শুনলাম না, কোথাই থাকে তা ও জানা হলো না, কোন কলেজে পড়ে সেটা ও শুনি নাই... তাহলে আমি একটা গাধার থেকে কম কিসের.... এখন কোথায় খুঁজবো তাঁকে... হে আল্লাহ্ কেন যে তাঁকে আমার সামনে এনে ফেলাইলা... দিব্যি তো এতদিন ফাটাফাটি ছিলাম। এমন একটা মেয়েকে এক নজর দেখাইলা... প্রথম বারেই তো চোখের ঘুম কেঁড়ে নিলো.... তাঁরপরে থেকে প্রতিদিন ওই রাস্তাই তাঁকে খুঁজতে লাগলাম... বেশ কয়েক দিন হয়ে গেলো হাল প্রায় ছেঁড়েই দিছিলাম। কিন্তুু কপালের লিখন... না যায় মোছন । ঠিক সেটাই হলো... সেদিনের মতো ঐ একই জায়গায় অন্য একটা বোতল পড়ে থাকতে দেখলাম। আবার যে শর্ট মারতে যাবো ঠিক তখনি মোড়টা ক্রস করে, আমার রাতের ঘুম চুরি করা মেয়েটা কে আসতে দেখলাম। মাথাটা নিচু করে চলে আসতেছিলাম, মেয়েটা ও মাথাটা নিচের দিকে দিয়ে যাচ্ছিলো.. সে জন্য হয় তো আমাকে দেখতে পায়নি। কিন্তুু ঠিকি আমি তাঁকে আড় চোখে দেখছিলাম.. একটা সময় দুই জন দুইজন কে ছেঁড়ে অনেকটা চলে আসছি... মেয়েকে ও কেমন বিষন্ন মনে হলে... সে ও হয়তো কিছু একটা খুঁজতেছিলো। এক মনে বলছিলো.. তাঁকে ডাক দিতে... আবার অন্য মনে বাঁধা দিচ্ছিলো যদি কিছু বলে। আবার মনে হচ্ছিলো দৌঁড় দিয়ে তাঁর কাছে যাই। কিন্তুু সাহস পাচ্ছিলাম না.. একটা অজানা ভয় কাজ করছিলো.. কেউ যেন পিছন থেকে টানছে... আচ্ছা মনের মানুষটার সাথে প্রথম কথা বলতে গেলে কী সবার এমনটাই হয় নাকি শুধু আমার একার হচ্ছে। আবার ভাবছিলাম.. এবার যদি কথা না বলতে পারি আর হয়তো কোনদিন দেখা না ও হতে পারে... এর মধ্যেই সে অনেকটা দূরে চলে গেছে। আশেপাশে তাঁকিয়ে দেখি কেউ নেই.... হঠাৎ মুখ ফসকে বের হয়ে গেলো ঐ সন্দেস ওয়ালি। জানি না এই নামটাই কেন বললাম.. মনের মধ্যে যেমন সন্দেস গেঁথে আছে.. ঠিক তেমন ভাঁবে সে ও তো মনের মধ্যে গেঁথে আছে তাই হয়তো বেড় হয়ে গেছে। - ডাকটা শুনে মুহূর্তেই পিছনে ঘুরলো.. মনে হয় এই ডাকটার জন্যই অপেক্ষা করছিলো। - ঐ আপনি কেমন মানুষ বলেন তো... সেদিন দৌড়ে চলে গেলেন তাঁরপরে থেকে আর কোন দেখা নাই। - না মানে... আমি ও তোমাকে অনেক খুঁজছিলাম.. সরি তুমি বলে ফেলছি। - আরে না ঠিকআছে...। - আচ্ছা তোমার নাম.....এর মধ্যেই তাঁর বড় ভাই আসলো বাইক নিয়ে। আর সে চলে গেলো... যাবার সময় যতদূর পর্যন্ত দেখা যায়... সেখান অবদি তাঁকিয়ে ছিলো আমার দিকে.. সে ও কিছু বলতে চেয়ে ছিলো হয়তো। কিন্তুু ... সব কেমন অজানাই রয়ে গেলো... এর মধ্যে একটা বছর কেঁটে গেছে তাঁকে আর পাই নাই... অনেক খুঁজেছি কিন্তুু কোথাও তাঁকে পাই নাই... প্রতিদিন সপ্নে ও তাঁকে খুঁজে বেড়াই.... কোথায় আছে আমার সেই প্রথম দেখা সন্দেস ওয়ালিটা। বাসাই ও বিয়ের জন্য জোরাজোরি করছিলো... - আর কতদিন এমন থাকবি বলতো... ভাল একটা জব করছিস বিয়েটা করে ফেল... (মা)। - কিন্তুু মা। - এবার আর কোন কিন্তুু না... আমি আর তোর বাবা একটা মেয়ে দেখেছি খুুব সুন্দরী... একে বারে তোর মতো। - কীইইইই... মেয়ে তাও আবার আমার মতো.. ঐ মেয়েকে আমি বিয়ে করবো না তাহলে... বিয়ের পরে কোথাও গেলে সবাই কী বলবে আমাদের দেখে... জমজ ভাই...এইটা হয় বলো। - চুপ ফাজিল... মেয়ে আমাদের খুব পছন্দ হয়েছে.. এখন তুই যদি বলিস... বিয়েটা সেরে ফেলতাম। - ঠিকআছে তোমরা যা মনে করো। খুব ধুমধাম করেই বিয়েটা পার হয়ে গেলো... কিন্তুু একটা বারের জন্য ও আমি বউ এর দিকে তাঁকাই নাই...। শুধু আমার প্রথম দেখা সন্দেস ওয়ালিটার কথাই মনে হচ্ছিলো। রাত প্রায় বারোটা বাজে.... মোটামুটি সবাই ঘুমিয়ে গেছে... বাসর ঘরে ঢুকতেই দেখি.. এত্ত গুলে ফুলের মধ্যে বড় একটা ঘুমটা দিয়ে বউ আমার বসে আছে... কী বলবো ভেঁবে পাচ্ছিলাম না, - তোমাকে আমার কিছু কথা বলার ছিলো... জানিনা কথা গুলো তুমি কীইইইই ভাঁবে নিবে... কিন্তুু আমার মন বলছে.. কথা গুলো বলা উচিৎ.. এখন তুমি যদি কিছু মনে না করো। - হুমমমম... ঠিকআছে বলেন। - তাঁর আগে আমার সাথে একটা জায়গায় যেতে হবে... যাবা। - আচ্ছা....। - বউ এর হাত ধরে... ঠিক সেই জায়গাতে নিয়ে গেলাম যেখানে প্রথম আমার সন্দেস ওয়ালি কে দেখছিলাম। হাতটা ধরার পরে কেমন জানি একটা হচ্ছিলো বুকের মধ্যে। - চলো ওই খানে বসে তোমাকে সব বলছি... - এখন.. বলেন। - ঐযেই মোড়টা দেখছো.. ঠিক ওখানেই একটা মেয়েকে দেখছিলাম, এখন থেকে প্রায় দেড় বছর আগে.. প্রথম দেখাতেই হা করে ছিলাম.. সেদিন প্রথম দেখেই তাঁকে ভালোবেসে ফেলেছিলাম... তাঁর নাম ঠিকানা কিছুই জানতাম না আমি.. আমার রাতের ঘুম কেঁড়ে নেওয়ার জন্য.. তাঁর চাঁদের মতো মুখটাই যথেষ্ট ছিলো। তাঁর থেকে আমার মাত্র দুই বার দেখা হয়েছে.. শেষ বার সেও অনেকটা সময় আমার দিকে তাঁকিয়ে ছিলো। তাঁর চোখ দেখেই আমি বুঝছিলাম তাঁর ও আমার মতোই অবস্থা... কোনদিন ভাঁবতে পারি নাই ওই দিনটাই হবে তাঁকে দেখার শেষ দিন। অনেক খুঁজছি কিন্তুু কোথাও তাঁকে পাইনি... এই ছিলো আমার ঘটনা...। আর ভেঁব না যে তাঁকে পাইনি বলে তোমাকে ভালোবাসবো না.. তাঁকে যেমনটা ভালোবেঁসেছিলাম তোমাকে ও ঠিক তেমনটাই ভালোবাসবো.. এখানে তোমাকে নিয়ে আসলাম কারণ.. এখান থেকেই আমি অজানা একজন কে ভালোবেঁসেছিলাম... আমি চাই যে তাঁকে ভুলে গিয়ে এখান থেকেই আবার নতুন করে তোমাকে ভালোবাসতে শুরু করবো। যে নেই তাঁকে ভাবতে গিয়ে কাছের মানুষটাকে আমি কষ্ট দিতে পারবো না... এটা জানার অধিকার ছিলো তোমার তাই সব কিছু বলে দিলাম... আমার মনে হয় প্রিয় মানুষটার কাছে কিছু লুকাতে নেই। এবার বউ এর পাশে গিয়ে বসলাম, - তোমার কিছু বলার আছে। আমি কিন্তুু এখন ও তোমাকে দেখি নাই.. না দেখেই ভালোবেঁসে ফেলছি। - আমি সত্যি অনেক ভাগ্যবতি যে তোমার মতো একজন কে পেয়েছি... তাই বলে সন্দেস ওয়ালিকে ভুলে যাবা। - কথাটা শুনে কেমন চুমকে উঠলাম... উপর থেকে ঘুমটা সরিয়ে দেখি এতো সত্যি আমার সন্দেস ওয়ালি। দেখি খুব কান্না করছে। কিছু বলার আগেই এসে জরিয়ে ধরলো। - আচ্ছা কোথায় ছিলে তুমি হুমমমমমম। - ভাইয়া সেদিন আমাদের দুইজন কে সেদিন ওখানে দেখার পরে.. আমাকে অনেক দূরে নিয়ে মামার বাসাই রেখে আসছিলো। - আমাকে তুমি ও ভালোবাসতে। - হুমমমম রে পাগল খুব। সব সময় তোমাকে নিয়ে ভাঁবতাম। - তাই তো বলি আমার ঘুম হতো না কেনো... তোমাকে মাইর দেওয়া দরকার। - কেনো। - আমাকে না ঘুমাতে দেওয়া জন্য... হি হি হি। - আচ্ছা সাহরিয়া.. আমি না হয়ে অন্য মেয়ে হলে ও কী এমন জরিয়ে ধরতে। - হুমমমমমমম... তাঁকে কষ্ট দিতে পারতাম বলো। - সেটা ঠিক বলছো....। - ঐ তুমি আমার নাম জানলে কেমনে। - আরে বোকা বিয়ের সময় সবাই বলছিলো তখন....। - আমি না এখন ও তোমার নাম জানি না। - কেন বিয়ে করছো আর বউ এর নাম শোন নাই। - আরে পাগলি তোমাকেই যে সব সময় মনে পড়ছিলো... জানতাম নাকি তোমাকে বিয়ে করছি...। - তাই তো। - এবার বলো নাম। - আমার নাম হলো..... তুবা। - হি হি কেমন নরম নরম তুলতুলে নাম....। - ফাজিল। - আচ্ছা পাপ্পি দিবো। - আমি তো তোমারি সেটা আবার বলতে হবে পাগল। - ঠিকআছে চলো এবার বাসাই যাই.. কেউ যদি দেখে রুমে বর বউ নাই কেলেঙ্কারি হয়ে যাবে। - আচ্ছা চলো....। দুই জন দুজনের হাত শক্ত করে ধরে গায়ের সাথে গা লাগিয়ে হাঁটছি। - তুবা একটা কথা বলো। - হুমমমম। - এবার আমি সিওর যে পৃথিবী সব সময় ঘোরে....। - কেনো। - আরে বোকা না হলে কী... আমরা আবার এক হইতে পারতাম নাকি হি হি।।। >>সমাপ্তThe End


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৪২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ গল্প : #সন্দেস_ওয়ালি !!!

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now