বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
_ এই শুনছো
হ্যা শুনছি,,,
_ আরে শুনছো যখন তাহলে
উঠো,,
আর কত ঘুমাবা,,,???
হুম,,
_ আরে কি হুম?? উঠো নাহ,,,
হুম
_ এই যে কি পাইছেন মি. উঠেন
নাহ কেন???
আরেকটু ঘুমাতে দেও না জানু
_ জানু টানু বলে কাজ হবে
নাহ,,,
উঠো,,,নাহলে পানি ঢেলে
দিব,,,
তুমি না আমার লক্ষী বউ,,
পিলিজ আরেক টু ঘুমাতে দেও,,,
_ নাহ আমি তোমার রাক্ষুসী
বউ,,
এবার,,উঠো অফিস যেতে হবে
তো,,
আজকে না গেলে বস কিছু
বলবে
নাহ,,,তাও একটু ঘুমাতে দেও,,,
_ নাহ সোজা আঙুলে ঘি উঠবে
নাহ,,,
আঙুল ব্যাকাতেই হবে,,,
আরে আরে এখন রান্না করবা
নাকি???????
_ হুম তোমাকে রান্না
করবো,,,খাওয়ার
জন্য,,বুঝেছো,,,
কি বউ রে আল্লাহ,,,নিজের
স্বামী
কে নাকি রান্না করবে,,,
_ রাক্ষুসী রা স্বামী টামী বুঝে
নাহ,,
এখন উঠো প্লিজ,,
আচ্ছা উঠছি,,,
_ হুম,,দ্রুত,,,আমি ফ্রেস হয়ে
এসে
যেন দেখি উঠে গেছ,,,
…..
এই বলে রাক্ষুসী টা চলে গেল,,
ও আসতে দেরি আছে তাই
আবার
ঘুমিয়ে গেলাম,,,মুখে পানির
ঝাপটা
পেয়ে ঘুম থেকে উঠলাম,
ভেবেছিলাম রাক্ষুসী টা মনে
হয় গায়ে পানি ঢেলে দিছে,,,তাই
চিল্লায়ে উঠলাম আরে আরে
করছো কি,,, ধূর ও,,,
কিছু ভাঙার শব্দে চোখ টা
খুললাম,,
দেখি মিথিলা রুদ্র মুর্তি
চোখে
আমার দিকে তাকিয়ে আছে,,,
আর নিচে চায়ের কাপ টা ভাঙা
এবার বুঝলাম মেয়েটার চুলের
পানি আমার মুখে পড়েছে আর
আমি
কিনা গায়ে পানি ঢেলেছে ভেবে
চিৎকার করলাম,,,হয়তো
হাতের ঢাক্কায় চায়ের কাপ টা
পড়ে গেছে এটা আমি কি
করলাম,,,
আসলে আমি কোন দিন
ভাবিনি রাক্ষুসী টা এভাবে
আমার
ঘুম ভাঙাবে ,,,, নাহ আর
চুপ করে থাকা ঠিক হবে নাহ,,,
সরি সরি জানু,,,আসলে আমি
ভেবেছি তুমি আমার গায়ে পানি
ঢেলে
দিছ তাই,,,এমন করলাম,,,
মেয়েটা কিছু বললো নাহ,,,
সোঝা উঠে চলে গেছে,,,যাই
হোক
তারাতারি উঠে ফ্রেস হয়ে
আসলাম,,দেখি নাস্তা দিচ্ছে
টেবিল
জামা কাপড় পড়ে টেবিলে
গেলাম।
খাবার যখন দিচ্ছিল তখন
দেখি হাত টা ফুলে
আছে,,,নিশ্চয়
তখন গরম চা হাতে পড়েছে,,,
আমি টেবিল থেকে উঠলাম,,,
আরে আরে না খেয়ে কই
যাচ্ছ???
_ দাড়াও আসছি,,,তুমি খাবার
দেও,,
আচ্ছা,,,
রুমে এসে ঔষুধ নিলাম,,,ডায়নিং
এ গিয়ে বললাম,,হাত টা দেও
তো,,,প্রথম বাম হাত
দিল,,আমি
বললাম আরে যেই হাত পুড়ে
গেছে
ওটা দেও,,,প্রথম দিতে চায়নি
কিন্তু আমিই জোর করে ঔষুধ
টা
লাগিয়ে দিলাম,,,
……
প্রায় অনেক দিন ধরে মিথিলা
কেমন জানি ব্যবহার
করছে,,অনেক
টা বাচ্ছাদের মত,,,আর একটু
অসুস্থ
ও দেখাচ্ছে,,,নিজে একা একা
ডাক্তারের কাছে গিয়েছে,,,কিছু
হয় নাই বলছে,,,কিন্তু আমার
মনে হচ্ছে সিরিয়াস কিছু
হয়েছে,,
অফিসের ব্যাস্ততায়
জিজ্ঞেস করব
করব বলেও আর করা হয় নাহ,,
একদিন বাসায় আসলাম,,দেখি
পাগলের মত কি জানি
খুজতেছে,,
আমি জিজ্ঞেস করলাম
আরে আরে এমন করে কি
খুজতেছো???
আচার খুজতেছি,,,
_ আচার দিয়ে কি করবা???
আচার মানুষ কি করে??
_ খায়,,কিন্তু তোমাকে আগে
কখনো
খেতে দেখেনি,,,ইদানিং তুমি
খুব আচার খাচ্ছ,,,
হ্যা খাচ্ছি,,,আমার খুব খেতে
ইচ্ছে করছে প্লিজ এনে দেও
না,,,
_ আচ্ছা দিচ্ছি,,,যাও তুমি গিয়ে
বসো,,,
বাহিরে এসে আচার কিনে বাসায়
গেলাম,,,পাগলের মত আচার
গুলা
খেল,,রাতে ঘুমাচ্ছিলাম হঠাৎ
কান্না শুরু করলো,,,আমি
জিজ্ঞেস
করলাম আরে আরে কান্না
করছো কেন??? যা বললো
তাতে তো আমার
চোখ কপালে উঠে গেল,,,এই
ঠান্ডায়
নাকি সে আইস্ক্রিম খাবে তাও
এতো
রাতে,,,বুঝতেছি নাহ ওর এই
অদ্ভুত
ব্যবহারের কারন,,,নাহ কালকে
মাকে বলতেই হবে,,,খুব
সিরিয়েস কিছু হয়েছে হয়ত,,,এই
মাঝ
রাতে যেয়ে ওর জন্য
আইস্ক্রিম কিনে
আনলাম,,তাও তিন টা,,,
এক বসায় সব গুলো খেল,
আবার
বাচ্ছাদের মত ঘুমিয়ে পড়লো
এবার খুব টেনসেন হচ্ছে
হঠাৎ এমন বাচ্ছাদের মত কেন
ব্যাবহার করছে,,,সকালে ঘুম
থেকে
উঠে মা কে ফোন দিলাম
_ হ্যালো মা,,আসসালামু
আইলাইকুম,,,
হ্যা বাবা বল,,,এতো সকালে
ফোন দিলি যে??
_ মা তোমাকে কিছু বলার
আছে
হ্যা বল,,,
মাকে সব বললাম,,মা আজকেই
বাসায় চলে আসবে,,তাও
একেবারে
বুঝতেছি নাহ মা হঠাৎ চলে
আসার
কথা কেন বললো,,
রাতে মা-বাবা চলে আসলো,,,
মা মিথিলার খুব কেয়ার করছে,,
ওকে কোন কাজ করতে দিচ্ছে
নাহ
আমি কিছু জিজ্ঞেস করলে
তার
কোন উত্তর দিচ্ছে নাহ,,
প্রায়
মা মিথিলাকে নিয়ে ডাক্তারের
কাছে
যায়,,এবার আমি পুরো শিওর
ওর কিছু হয়েছে,,,খুব কান্না
পাচ্ছে
মা কিছুই বলছে নাহ,,,
….
মা এই মা কি হয়েছে বলবা??
তোমরা ওর সাথে এমন
ব্যাবহার
কেন করছো,,,মা ওর কিছু হয়
নাই তো??প্লিজ তোমরা
আমাকে
বলো আমি ভেঙে পড়বো নাহ
তাও বল প্লিজ ওর কি
হয়েছে???
মা ওর কিছু হলে আমি বাচঁবো
নাহ
প্লিজ বলো নাহ।কান্না
করতে করতে
কথা গুলো বলছিলাম,,,আমার
চিৎকার
শুনে বাবা আর মিথিলা চলে
আসলো,,,মিথিলাও কান্না
করছে,,
মা ও কান্না করছে,,,
এবার মা বললো আরে আমার
বোকা ছেলে,,মিথিলার কিছু
হয় নাই,,,তুই বাবা হতে
চলেছিস,,বুদ্ধু
আমরা তোকে বলি নাই কারন
শিওর হতে চেয়েছি,,তারপর
তোকে
বলতে চেয়েছি,,আর আমরা
এখন
শিওর তুই বাবা হতে চলেছিস,,,
মায়ের মুখে কথাটা শুনে,,আমি
আর কিছু বলতে পারলাম নাহ,,,
হাসবো নাকি কান্না করবো
বুঝতেছি নাহ,,,বাবা মার
সামনেই
মিথিলাকে জড়িয়ে ধরলাম।
মেয়েটা লজ্জা পেয়ে সরে
গেল,,,
আর বাবা মাও রুমে চলে গেল,,,
এবার বললাম এই রাক্ষুসী তুমি
আমাকে বল নাই কেন আমি
আর
তুমি বাবা মা হতে চলেছি,,যাই
হোক এসব বলে এখন কোন
কাজ
নাই তুমি এই কয়দিন সম্পুন্য
রেস্ট
এ থাকবা বুঝলা?? আমার সব
কথা
শুনে চলবা,,,আচ্ছা আমার
কিন্তু
একটা ছোট রাক্ষুসী চাই
বুঝলা,,,
নাহ আমার একটা ছোট অভ্র
চাই
_ শুন,,আমি ওর বাবা আর
আমার
একটা ছোট রাক্ষুসী চাই,,
আমি ওর মা,,আর আমার একটা
ছোট অভ্র চাই,,,
_ আচ্ছা জগড়া করে লাভ নাই
যাই হোক,,তাতেই আমি খুশি
হুম,,
বন্ধুদের এই কথা যখন বলেছি
ওরা কেও বিশ্বাস-ই করে নাই
আমি,,,আমি বাবা হতে চলেছি,,,
তবে এই কয়দিন সবাই আমাকে
ভুলে গেল,,,রাক্ষুসী টার যত্ন
সবাই
করছে এমন কি
আবির,রবি,আতিফ
আমার সব বন্ধু,,,ও যা চায় তাই
এনে
দেয় ওরা মা ওর সব প্রিয়
খাবার রান্না করে খাওয়ায়,,,,
আমার প্রিয় খাবারের নাম ও
মনে
হয় এরা ভুলে গেছে
একদিন রাত্রে ঘুমাচ্ছিলাম
হঠাৎ
মিথিলা চিৎকার দিয়ে কান্না
করতে
লাগলো,,,ওর নাকি পেটে
ব্যাথা
করছে,,,,বাবা মা দ্রুত ওকে
হাসপাতালে নিয়ে গেল,,সব
বন্ধুরা
এই রাত্রে বেলা চলে
আসলো,,,
সবার মুখে এক রাশ
চিন্তা,,,কিছুক্ষন
পর ডাক্তার এসে বললো,,,
কংগ্রেস আপনি বাবা হয়েছেন
আর
আপনার একটা ফুট ফুটে
সুন্দর মেয়ে হয়েছে,,,,,
মা মেয়ে দুজন সম্পুন্য ঠিক
আছে
আমার মেয়ে হয়েছে,,,আমি
বিশ্বাস
করতে পারছি নাহ,,জীবনে মনে
হয়
এতো খুশি কখনো হই নাই,,,
মা-বাবা সবাই অনেক
খুশি,,,কেও
হাসি আর ধরে রাখতে পারছে
নাহ,,,
মা – বাবা ডাক্তারের সাথে
কথা
বলছে,,, আর বন্ধুরা আমাকে
নিয়ে
কি যে করছে বলে বুঝানো
যাবে নাহ,,,
এবার আমি রাক্ষুসী টার কাছে
গেলাম,,,হাসি মুখে আমার দিকে
তাকিয়ে আছে,,,বাচ্ছাটা পাশে
ঘুমিয়ে আছে,,,কি সুন্দর আমার
মেয়েটা
পুরো আমার মত ,,,
প্রথম ওকে ধন্যবাদ দিলাম
এতো
সুইট একটা মেয়ে আমাকে গিফট
দেওয়ার জন্য,,,তারপর
বললাম,,
_ দেখছো,,আমার মেয়েটা _
দেখছো,,আমার মেয়েটা পুরা
আমার মত হয়েছে
ইসস ও আমার মেয়ে আমার
মত
হয়েছে,,,
_ আমি বলছি আমার মত,,,
হাসপাতালেই জগড়া শুরু
করলাম।
মা এসে বললো আরে আরে কি
শুরু করলি,,তোরা,,,এত জগড়া
করছিস কেন,,,থাম,,আর
মিথিলা
দেখ কে এসেছে,,,তোমার বাবা
মা,,,
ওর বাবা মা এসেছে সবাই
অনেক
খুশি,,,,
……
ঘুমাচ্ছিলাম হঠাৎ কে যেন গায়ে
পানি ঢেলে দিল,,,আরে আরে
কে
গায়ে পানি ঢাললো???
_ এই যে আমি
ঢেলেছি,,,,অরিন,,,
তুমি ভুলে গেছ তাই নাহ,,,
ওহ আমার পিচ্ছি রাক্ষুসী
_ বাবাই ভাল হচ্ছে নাহ,,,তুমি
আমাকে রাতখুসী ডাকবা
নাহ,,তাহলে
আমি তোমার সাতে কথা
বলবো নাহ,
:হা হা হা,,, আচ্ছা ঠিক আছে
বাবাই অরিন কে আর রাক্ষুসী
ডাকবে নাহ,,,তাও
যেন রাগ করিস নাহ,,,আর আমি
কি ভুলে গেছি রে???
_ কিছুনা,,,
এবার তুমি উথো,,,অফিস যাবা
তো
আম্মু ডাকছে,,,
আচ্ছা উঠছি,,,
আজ আমার অরিন এর ৫ম
জন্ম
দিন,,,ও নিশ্চয় ভেবেছে আমি
ভুলে গেছি,,,কিন্তু আমি কি
আমার মিষ্টি রাক্ষুসী টার
জন্মদিন
ভুলতে পারি??অফিস থেকে
ফিরার
সময় অনেক গুলো গিফট নিয়ে
বাসায়
গেলাম,,,কলিং বেল চাপলাম,,,
মা এসে দরজা খুললো,,বাসায়
আমার সব বন্ধু,,মিথিলার বাবা
মা
ফ্রেন্ড সবাই এসেছে,,,সবাই
কে
দেখছি কিন্তু অরিন কে দেখছি
নাহ
মা কে জিজ্ঞাস
করলাম,,অরিন কই??
বললো রুমে আমার জন্য
অপেক্ষা করছে,,, আমি রুমে
একা একা গেলাম,,,,যেয়ে দেখি
মুখ
কালো করে বসে আছে,,,সরি
বললাম
শুনলো নাহ,,গিশুনলো নাহ,,গিফট
দিলাম,,তাও
নিলো নাহ,,লাষ্ট কানে ধরে
উঠবস
করলাম,,,এবার হেসে উঠলো
দেখি অনেকে হাসছে,,দরজার
পাশে দাড়িয়ে,,,আমাকে কানে
ধরতে
দেখে ,,,দ্রুত কান থেকে
হাত নামালাম,,,খুব আনন্দ
করলো
সবাই এই দিনটি তে,,,
সত্যি ওর ব্যাবহার পুরো
মিথিলার
মত,,,মায়ের মত আমাকে
নাকানি
চুবানি খাওয়ায়
প্রতিদিন কিন্তু
অরিন তার বাবাই কে খুব
ভালবাসে,,,
আর আমিও খুব ভালবাসি
আমার
সুইট মেয়ে অরিন কে,,,,
দেখতে দেখতে হয়তো একদিন
আমার এই মেয়ে টা অনেক
বড় হয়ে যাবে।…..
……
সমাপ্ত…….
(পরবর্তি গল্পটা আমি এই পর্যন্ত যতটা
গল্প দিয়েছি তার থেকে একেবারে আলাদা
একটা গল্প পাবেন ৷ গল্পটাতে থাকবে
রহস্য, হরর, রোমান্টিক, গোয়েন্দা ৷
গল্পটা হল 25 পর্বের ৷ প্রতিদিন 3-4
পর্ব করে পাবেন ৷ গল্পের নাম '
মিস্ট্রিয়াস ' )
!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!
!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now