বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
গল্প পিচ্ছি বউঃ পর্ব~৮
ঢুলু ঢুলু চোখে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে
দেখি সকাল ১১ টা বেজে গেছে।
লাফ দিয়ে উঠলাম।
রাতের নেশার ভাব টা এখনো কিছুটা রয়ে গেছে।
খিদেও লেগেছে নেহাৎ কম না।
মিথু যে ঘুম দিয়েছে,
আজকে বিকেলের আগে উঠবে কি না সন্দেহ হচ্ছে।
তাকে ডাকলাম,
-মিথু
কোনো জবাব দিচ্ছে না,
-এই মিথু
-হু (ঘুমের মধ্যে)
-এগারো টা বেজে গেছে উঠবি না! -না।
নাহ, একে নিয়ে আর পারা যায় না,
তাই বাধ্য হয়ে বেড়িয়ে গেলাম! টেবিলে বসেছি,
তাকে ছাড়া খেতে মন সায় দিচ্ছে না।
তাই ওয়েটার কে রুমে নাস্তা পাঠাতে বলে চলে আসলাম,
এসে দেখি সে এখনো বেডে শুয়ে,
ব্রাশ খুঁজে নিয়ে তার কাছে গেলাম।
জোর করে বেড থেকে নামিয়ে এনেছি,
সে আমার ঘাড়ে মাথা দিয়ে কোনো মতে দাঁড়িয়ে আছে,
-অভ্র, ছাড় না! আমার খুব ঘুম পাচ্ছে।
-পরে ঘুমাস! এখন ফ্রেস হয়ে নে।
নাস্তা করতে হবে আমার খুব ক্ষুধা পেয়েছে।
কথাটি ম্যাজিকের মত কাজ করলো,
-তুই নাস্তা করিস নি?
-না! তাড়াতাড়ি ফ্রেস হয়ে আয়।
মিথু সাথে সাথে ওয়াশরুমে ঢুকে গেলো।
আমিও পশ্চাৎ পূর্বক বেডের উপর গিয়ে বসলাম,
অপেক্ষা করতে করতে মেজাজ গরম হয়ে যাচ্ছে,
-মিথু
-কি হয়েছে?
-এতো সময় লাগে?
-শাওয়ার নিয়ে বের হবো।
কিছু করার না দেখে বসে থাকলাম।
ফোন নিয়ে কিছুক্ষণ গুঁতোগুঁতি করলাম,
ভাল লাগছে না কি করা যায় ভাবতে ভাবতে একখানা চিঠি লিখতে বসে গেলাম।
কি লিখবো ভেবে পাচ্ছি না।
কিছু সময় পর,
মিথু টাওয়াল পরে ভেজা চুলে ওয়াশরুম থেকে বের হলো।
ওর চেহারা থেকে চোখ ফেরাতে পারছি না।
আচ্ছা, কোনো মনিষী কি বলেছিলো,
ভেজা চুলে মেয়েদের সব থেকে বেশি সুন্দর লাগে?
মনে পড়ছে না!
নিজেরই মনে হয় সাহিত্য শুরু
করতে হবে আমার পিচ্ছি বউ কে নিয়ে।
এসে একদম আমার পাশে বসলো,
ওর চুল থেকে মন মাতানো সুঘ্রাণ
আসতে শুরু করেছে,
-ঐ
ওর কথা শুনে বাস্তবে ফিরে আসলাম।
-হু বল!
-নাস্তা খাবি না?
-ও হ্যাঁ!
মিথু উঠে গিয়ে নাস্তা নিয়ে আসলো!
আবার আগের জায়গায় এসে বসলো,
-নাও!
এ কি, বউ আমার আজকে নিজেই খাইয়ে দিতে চাইছে?
বাহ
-এই শোন, আজকে বিকেলে ফ্লাইট!
তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নাও।
-কি? আমাদের না দশ দিনের ট্রিপ ছিলো?
-হ্যাঁ জানি! আমার ভাল লাগছে না!
যার সাথে গত ৬ বছর কোনো যোগাযোগ ছিল না,
আমি চাইছি না আবার তার মায়ার আবদ্ধ হতে।
অনেক কষ্টে নিজেকে সামলে নিয়েছি!
আমি ভাল থাকতে চাই!
তোকে নিয়ে অনেকটা পথ হাঁটতে চাই।
এর মাঝে নতুন করে কেউ কাটা হয়ে আসুক তা আমি চাই না।
-পারবি তো আমাকে আগলে রাখতে অভ্র?
কিছু বললাম না, শুধু তার দিকে তাকিয়ে মিষ্টি হাসি দিয়ে
বুকে জড়িয়ে নিলাম।..
যেহেতু ট্রিপ শেষ হবার আগেই বাড়িতে ফিরছি,
তাই আগেই বাড়িতে ফোন দিয়ে জানানো দরকার।
আম্মুকে ফোন দিলাম।
-হ্যালো আম্মু
-হ্যাঁ বাবা, বল
-আমরা ফিরছি আজকে! বিকেল ৫:৩০ টায় ফ্লাইট।
তাহলে আমাদের দেশের সময় ৪:৩০ টায় ফ্লাইটে উঠবো।
তুমি গাড়ি পাঠিয়ে দিতে বলে দিও
-সে কি?
তোদের না আরো কয়েকদিন পরে আসার কথা ছিলো??
-হ্যাঁ ছিল কিন্তু! ভাল লাগছে না মা
-মিথুর সাথে কিছু হয়েছে?
-ওর সাথে কি হবে? আসলে মা,
রিসোর্টের পাশেই ইহিতাদের বাসা।
আবিবের সাথে সেও এখানে থাকে।
দেখাও হয়েছে কয়েকবার, আমি চাচ্ছি না,
তার জন্য মিথুর সাথে আমার সম্পর্কের কোনো ভাঁটা পরুক।
তাই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
-আচ্ছা, যা ভাল বুঝিস কর।
-ঠিক আছে আম্মু! রাখি তাহলে দেখা হচ্ছে খুব দ্রুত।
ফোন রেখে দিলাম।
তাড়াতাড়ি এয়ারপোর্টে যেতে হবে, বোর্ডিং পাস নিয়ে সব
কমপ্লিট করতে বেশ খানিক টা সময় লাগবে।
তাই লাঞ্চ শেষ করে ৩টার মধ্যে বেড়িয়ে গেলাম।
সকল ব্যাগপত্র গাড়িতে তুলে রওনা দিয়েছি।
এখানকার রাস্তাঘাট অনেক টা উন্নত।
তাই বেশি সময় লাগবে না যেতে।
আনমনে বসে আছি, হঠাৎ মিথু বলল,
-অভ্র, তোর চিঠিটায় অবাক হয়ে গেলাম।
আমি তো ভুলেই গিয়েছিলাম।
ঠিক যেভাবে রুমে খাম বন্দি করে রেখেছিলাম
সেভাবেই আছে। সে খুলেও দেখেনি।
-এটা কোথায় পেলি?
-রুম থেকে বের হবার সময় দেখলাম টেবিলের উপর রেখেছিস।
ভাবলাম হয়তো কোনো জরুরী কিছু।
তাও আবার ইহিতার এপার্ট্মেন্টের ঠিকানায় তাই নিয়ে এলাম।
- না আনলেই ভাল হত।
মনে মনে বললাম,
-কিছু বললি?
-না! খুলেছিলি?
-নাহ!
-জানতে চাইবি না কি লেখা আছে।
-কি দরকার? কিছু কথা না হয় আমার অজানাই থাকলো।
আমি মাঝেমধ্যে ভেবে পাই না,
মেয়েটা এতো ভাক কেন?
আমার বিন্দু মাত্র ইচ্ছে ছিলনা চিঠিটা পোস্ট করার।
মিথুর জোরাজুরি তে মাঝ রাস্তায় গাড়ী থামিয়ে
পোস্ট বক্সে ফেলে আসলাম।
ভালোয় ভালোয় দেশের মাটিতে পা রেখেছি।
রাত হয়েছে অনেক টা।
এয়ারপোর্ট থেকে সকল ফর্মালিটি শেষ করে
বাইরে এসে দেখি গাড়ি হাজির! উঠে পরলাম।
শীতের তীব্রতা কিছুটা বেড়েছে মনে হচ্ছে।
গাড়িটি তার চূড়ান্ত বেগ তুলে ছুটে চলেছে।
হিম বাতাসে আমার গায়ের লোম দাঁড়িয়ে যাচ্ছে।
গ্লাস উঠিয়ে দিতে বললে মিথু বারণ করলো,
তাই আর উঠাতে পারলাম না।
তার নাকি ভাল লাগছে।
এই মেয়েকে মনে হয় আমি এক জীবনে বুঝে উঠতে পারবো না।
দেখতে দেখতে বাসার কাছাকাছি চলে আসলাম।
গাড়ি থেকে নেমে কলিং বেল দিতে আম্মু দরজস খুলে দিলো।
মিথু সাথে সাথে গিয়ে আম্মুকে সালাম করলো।
।
কোনো মেয়ে দেশের বাইরে থেকেও এত রীতিনীতি মানতে পারে
ওর অভ্যাস না দেখলে হয়তো আমি জানতে পারতাম না।
আম্মুও তাকে আদর করে দিলো।
আসলে তার ভালবাসার কোনো কমতি হবে না,
কারণ আমার পরিবারে আমিই একা সন্তান।
আর ছোট থেকে মিথুকে আম্মু খুব ভালবাসতো।
।
এখন আমার ভয় হচ্ছে, আম্মু আমাকে ভুলে না যায়....
রুমে এসে ডিরেক্ট বিছানায় শুয়ে পরেছি।
কেন জানি না মনে হচ্ছে,
দুনিয়ার সকল্ল ক্লান্তি আমার উপরে ভর করেছে।
আর সব থেকে বড় কথা হচ্ছে,
।
মিথুর সতিন দুঃখিত আমার কোলবালিশ সাত জনম পরে কাছে পেয়েছি। মিথু ঘরে এসেই শুরু করলো,
-অভ্র, ভালয় ভালয় কোলবালিশ আমার কাছে দিয়ে দে।
-দিবনা! কি করবি?
-দেখতে চাস?
-হু
সে গগন ফাটানো চিৎকার দিয়ে আম্মুকে ডাক দিলো,
-ফুপিইইইইইইইইইইইইই
আম্মাজান ও আমার রকেটের গতিতে আমার রুমে হাজির।
-কি মা, কি হলো তোদের?
-দেখো না ফুপি,
তোমার ছেলে আমার জায়গায় কোলবালিশ দিয়ে রেখেছে।
-অভ্র, দে কোলবালিশ দে, এক্ষুনি।
আমার ভুল হয়েছে, আগেই সরিয়ে রাখা উচিৎ ছিলো।
আম্মু যেহেতু বলেছে, না করার কোনো উপায় দেখছি না।
সুবোধ বালকের মতো দিয়ে দিলাম, হন হন করে আমার
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now