বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

গল্প : #গোধূলি_বিকেল_এর_গল্প !!!

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Pantha Shahria (০ পয়েন্ট)

X গল্প : #গোধূলি_বিকেল_এর_গল্প !!! Writer : Pantha Shahria !!! - সোনাই মুড়ি... এই গ্রামটাতেই আমি থাকি.. বাপ, মা বহু কাল আগে আমাকে ত্যাগ করে চলে গেছে... জমিদারের অনেক কাছের মানুষ ছিলো আমার বাপ.. সেই সুবাদেই জমিদার বাড়িতেই আমি বড় হয়েছি.... এই বাড়িতে তেমন কোন কাজ নেই তবে কিছু হালকা পাতলা কাজ আছে। সেগুলোই টুকটাক করতে হয় আমাকে। আর তাঁর সাথে লেখাপড়া.. আমাদের গ্রামের নামটার মতো গ্রামটা ও বেশ সুন্দর, প্রকৃতির সুন্দরর্যের কোন কমতি নেই কোথাও......। - কীরে এই সাত সকাল বেলা কই যাস..। - কোথাও না দাদি... ঐ যে বড়মা কালকে বললো না.. সকালে পটল না আনলে নাকি ভাত নাই, তাই তো সকাল সকাল পটল আনতে যাচ্ছি । - তাই বলে এত সকালে যাবি। - দূর...আনলেই ঝামেলা শেষ.. আর কাজ রেখে আমার ঘুম হয় না। - আচ্ছা ঠিকআছে যা....। - হুমমমমমমমমমমমমম... ওহহহহহহ এই গ্রামের সহ কিছুই ভালো লাগে...তবে শুধু দেখতেই কাজ করতে আসলেই অবস্থা শেষ। - বড়মা.... ওহহহহ বড়মা এই নাও তোমার পটল... এখন কও দেখি এই গুলো দিয়ে কী হবে। - আরে বোকা... আজকে শহর থেকে, তোর বড় আব্বার ছোট ভাই আসবে... আর সাথে তাঁর বিদেশ থাকা মেয়েটা ও আসবে... তাঁরা আমাকে বলছে খেতের টাটকা সবজি দিয়ে রান্না করতে... বুঝলি। - হুমমমমমমম বুচ্ছি... আচ্ছা একটা কথা বলি। - আচ্ছা বল। - ঐ বিদেশি মেম সাহেবটা কেমন গো....। - আরে আমি দেখছি নাকি..আসলেই দেখতে পাবি...। - ওহহহহহহহহ.... আচ্ছা আমি তাইলে গেলাম....। - মানিক চাচা ও মানিক চাচা... বাড়িতে আছো নাকি....। - কী হইছে... এতো চিল্লাচিল্লি করছিস ক্যান। - আজকে ঝাক্কাস করে ঘোল বানাই বা... যাতে করে যে একবার খাবে সারাজীবন যেনো মুখে লেগে থাকে স্বাদটা। - হঠাৎ তোর ঘোল খেতে মন চাইলো ক্যান শুনি। - আরে না না আমি ক্যান খামু... ঐ যে আমাদের জমিদার দাদা আছে না... তার ছোট ছেলে আজকে শহর থেকে বাড়িতে আসবে... আর তাঁর একটা মেয়ে বিদেশে থাকে সে ও আসবে... আমাদের গ্রামে আসবে কত দূর থেকে... ক্লান্ত হয়ে যাবে না... তাই তো তোমার কাছে ঘোল নিতে আসছি....। এবার চটপট ঝাক্কাস হাঁড়িটা দিয়ে দাও দেখিনি...। - ওরে বাবা আস্তে আস্তে... ভালোটাই তো দিমু নাকি। - যদি এর মধ্যে দুই নম্বরি হয়... তাহলে তোমার সব ঘোলের হাঁড়ি ফাঁটামু। বাড়িতে আসতেই দেখি সবাই এসে গেছে.....। - চাচা জান একটু দাঁড়ান....। - মা কে এই ছেলে...। - আরে ঐ যে তোর মনে নাই, আমাদের বাড়িতেই থাকতো জামাল... তার ছেলে..। - ওহহহহহ সেই জামাল ভাইয়ের ছেলে.... তো এতো চিল্লাইতেছিলে কেনো। - না মানে চাচা... এই যে ধরেন ঘোল নিয়ে আসছি... অনেক দূরে থেকে আসছেন তো ক্লান্তি দূর হয়ে যাবে। - আরে বাহ্ তুমি কেমনে জানলে, আমি ঘোল ভালোবাসি.. .. । - না মানে দাদি একদিন বলছিলো। - আরে দাও দাও অনেকদিন ঘোল খাই নাই। - ও দাদি আমি তাহলে ভেতরে গেলাম। বড়মার কাছে রান্নাঘরে যেতেই দেখি.. এ যেনো ভুল করে নেমে আসা পরী। রান্নাঘরে বসে বড়মার সাথে গল্প করছে...। - কীরে দড়োজাই দাঁড়িয়ে থাকবি নাকি ভেতরে আসবি। - হুমমমমমমমম। - এই যে দেখ.... সকাল থেকে বলছিলি না বিদেশি মেম কেমন দেখতে.. এই যে এখন ভাল করে দেখে নে... নজর দিবা না যেন। - না মানে... আমি ঘোল নিয়ে আসছিলাম... ওনার জন্য অনেক দূর থেকে আসছে তো তাই। - ওহহহহহ তাই.. বাবার মুখে অনেক শুনছিলাম.. এটার ব্যাপারে.. কই দেখি দেখি। - এই যে ধরেন.... আমি এখন গেলাম। খুব সরম লাগছিলো, তাই চলে আসলাম।।হি হি হি।।। - আচ্ছা বড়মা.. ছেলেটা কে...। - ওর কথা আর বলিস না পুরোই একটা পাগল....ও বাবা মা মারা যাবার পরে তোর দাদা ওকে এখানেই রেখে দেই... ওর বাবা খুব ভালো একটা মানুষ ছিলো.. আমারদের জন্য অনেক কিছু করেছে। - আচ্ছা সেটা বলি নাই... নাম কী ওর। - ওহহহহহ.. ওর নাম হলো সাহরিয়া। বিকেলে চুপি চুপি বাহিরে যাচ্ছি... আসলে বাড়িতে মানুষ আসলে আমার একটু বেশিই সরম লাগে। - সাহরিয়া... এমন চোরের মতো কোথাই যাচ্ছিস। - কোথাও না বড়মা। - তাহলে এমন চোরের মতো কেনো.. আর হাতে ওইটা কী দেখা। - না মানে ঘুড়ি... নদীর পারে অনেক বাতাস বইছে তো... ঘুড়িটা উঁড়াই দিযে বসে থাকবো। - ঐ আপনি এত বড় হয়েছেন তবু ও বাচ্চদের মতে বুদ্ধিটা যায়নি হুমমমম। - এমনি তে খুব পটপট করিস এখন কিছু বল। - না... আমি আবার কী বলবো.. ঠিকিতো বলছে। - এবার ঘুড়িটা রেখে... তুবা কে নিয়ে গ্রামটা ঘুড়িয়ে দেখা। - ঠিকআছে.....। - এই যে সাহরিয়া... আপনি না খুব পটপট করেন.. এখন কথা কই গেলো। - আসলে মানে... একবার কথা বলতে লাগলে বলেই যাই, বলেই যাই তো। যদি কিছু মনে করেন তাই। - আরে না না আমি কিছু মনে করবো না। - আচ্ছা তাহলে তুমি করে বলি। - ঠিকআছে। - তোমার নাম কী? - ঐ তখন বড় মা বললো না তুবা। - ও হ্যা.... আর আমার নাম সাহরিয়া। - হুমমমম.. জানি। - এই যে ধান খেতের যেই আইল দেখছো... এখান থেকে ধরে ওই যেই দূরের গাছ গুলো দেখা যাচ্ছে... সব জমি তোমার দাদুর.... এখন ও আছে... তবে এখন অনেকেই চাষবাস করে খায়। - তুমি কেমনে জানলে...। - আরে আমি এখানেই থাকি জানবো না। - সাহরিয়া ওই যে আম গুলো আছে পেরে দাও না। - এই না না... এইটা অন্য মানুষের গাছ.. আর কী মোটা দেখছো আমি উঠতে পারবো না... তোমার মতো হয়ে তাও কথা ছিলো। - কীইইইই... আজকেই বাড়িতে বলে দিবো সবাইকে হুমমমমমম। - আরে আমি তো খারাপ কিছু ভেঁবে বলি নাই... গাছটাতো অনেক মোটা। বাড়িতে বইলো না প্লিজ.. তাহলে সবাই আমাকে ঘাঁড় ধরে বের করে দিবে। - তাহলে যাও আম পেরে দাও। - ঠিকআছে... আচ্ছা যদি ডাল ভেঁঙ্গে পড়ে যাই। - উঠবা নাকি বলে দিবো....। - এই না না উঠছি তো.... কী মেয়ে রে বাবা....। আম পারতে পারতে সত্যিই ডাল ভেঁঙ্গে নিয়ে পড়ে গেলাম...। - ও মা গো পা দুইটা মনে হয় গেলো আমার...। আর ঐ দিকে মেয়েটা হেঁসেই চলেছে.. কোন দয়া মায়া নাই। এমন সময় গাছ ওয়ালা দিলো দৌড়ানি.. কোন রকমে নদীর পারে দৌড়ে চলে গেলাম.....। - হা হা হা.... সাহরিয়া তুমি না সত্যি খুব মজার... আমার লাইফে এমন কোনদিন মজা পাই নাই আর হাঁসি নাই। - হুমমমমম... তোমার তো হাঁসার সময়... আর আমি পা দুইটা নিয়ে মরছি... এবার চলো বাড়িতে যাবো। - ঐ আর একটু থাকি না....। - আর একটু থাকলে আমার পা দুইটা আর থাকবে না চলো। - ঠিকআছে চলো। বাড়িতে আসার পরে তো সব সময় ঐ কথা বলছে... আর হেঁসে হেঁসে একাকার... আর যাই হোক খারাপ লাগছিলো না... ঐ হাঁসিটাই সব কিছু ভুলিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিলো। পরেরদিন বিকেল বেলা..... । - সাহরিয়া দেখছো কত সুন্দর ফুল.. যাও এনে দাও। - এই মেয়ে তো দেখছি আমি হজম করে ফেল.....। - ঐ কী বললা...। - হি হি কিছু না... এই নাও ফুল। - বাহ্ খুব সুন্দর তো। - ফুল সব সময় খুব সুন্দর হয় পাগলি। - কীইইইই বললা আমি পাগলি...। - হায় হায় নাতো কে বলছে.. আমার না মুখ ফসকে বেড়িয়ে গেছি। - ঐ যে দেখো... কালো কালো ঐ গুলো কী? - ভুলে ও ঐ দিকে যেও না... ঐটা হলো মৌ চাক... সব গুলো মৌমাছি আছে....। - আমি নিবো ওইটা। - কীইইইই... ওখানে ছোট্ট একটা ঢিল দিলেই... আমাদের অবস্থা খারাপ করে ফেলবে। - তাহলে একটা ঢিল দাও। - আহারে বলে ও ফাইসা গেলাম..দেখি। তুবা একটু বোঝ.. সব গুলো কামড় দিয়ে শেষ করে দিবে। - তুমি দিবা নাকি বলো। - আচ্ছা... একটা ঢিল দিতেই সব গুলো ছুঁটে এলো... আর সেই জোরে দৌড়ানি দিছি... তুবা পাগলিটারে বাঁচাইতে গিয়ে আমি, দুইটা কামড় খাইছি। - হা হা হা... সাহরিয়া এই দিকের সব কিছু এমন দৌড়নি দেই কেনো। - তুমি হাঁসছো হুমমমমম... দেখো আমার অবস্থা কী করছে.. তোমাকে বাঁচাতে গিয়ে...। - সরি এ্যান্ড থ্যাংকস...। - তোমাই এই সরি আর থ্যাংকস দিয়ে কী আমার ব্যাথা ভালো হবে শুনি। - হঠাৎ একটা পাপ্পি দিলো...। - এইটা দিয়ে ভালো হবে না। - হুমমমমমম... শুধু একটাই যথেষ্ট। - পাগল। - কেমন ঘোঁরের মধ্যে আছি তাঁরপর থেকে... সেদিন বাড়িতে চলে যাই... দিন আর রাত কী খালি ঐ পাপ্পিটার কথাই মনে পড়ছে.....। পরেরদিন বিকেলে.... ঐ নদীর পারে বসে আছি। - সাহরিয়া দেখছো পানি গুলো কত্ত সুন্দর...। - হুমমমমমমমমম... অনেক বাট তোমার থেকে একটু কম। - ওখানে একটা ঝাঁপ দিতে পারবা। - জানতাম এটাই বলবে.... দাঁড়াও তোমাকে দেখাচ্ছি মজা। হঠাৎ দৌড়ে গিয়ে দিলাম ঝাঁপ.. আর নিখোঁজ হয়ে গেলাম। এই দিকে তো তুবা আমাকে ডেকেই চলেছে..আর কাঁদছে.... প্রায় পাগলের মতো হয়ে গেছে.. হঠাৎ টুপ করে উপরে উঠে আসলাম...। - দৌড়ে এসে আমাকে জরিয়ে ধরলো..। - ঐ তুমি কী পাগল... আমি বললেই গিয়ে লাফ দিবা হুমমমমমম.. আমি না হয় একটা পাগলি...। - ওমা তুমি পাগলি জানতাম নাতো...। - চুপ ফাজিল। - এই দেখো তোমার ওতো গা ভিঁজে গেছি.... সবাই কী মনে করবে। - যা মনে করে করুক....। - আচ্ছা কালকে যেটা দিছিলা.. ওটা আজকে ও দিবা...। - শয়তান যাও ভাগো...। - দাও না....। - ওকে চোখ বন্ধ করো... যেই মুখটা মুখের কাছে আসলো... ওমনি অনুভব করলাম... পিছনে কেউ একটা লাথি দিছে... আর চোখটা ফক করে খুলে গেলো... দেখি কোল বালিশটা মুখের কাছে....। - হারামজাদা... তোর এই চুম্মাচুম্মির জন্য... আমার তিনটা কোলবালিস গেছে... বাড়ি থেকে এতো কোলবালিস চাই বলে, আমাকে সবাই সন্দেহ করে। - ভাই বন্ধুর জন্য এই টুকু সহ্য করবি না। - মেলা করছি আর পারমু না সালা হারামি....। তাই তো কই হঠাৎ করে আমার আবার এতো লজ্জা, আর এই জমিদার বাড়ি আইলো কই থেকে.... আহা কী ঝাক্কাস একটা পাগলি মেয়ের পাল্লাই পড়ছিলাম,, যাই হোক কী যে দেখতে ওহহহহহহহ...। সব ঝামেলার পড়ে একটা পাপ্পি ও কপালে জুটলো না দূর........ কী কমলার মতো গাল দুইটা ছিলোরে...। ওগো সুন্দরি তম তুমি কোন হানে... মোরে একটু বাস্তবে দেখা দাও।। সেদিন নাটোর রাজবাড়ি দেখতে গেছিলাম... আর আজকে শুয়েই এই ঘটনা...। - আবির ভাই আমার...কোলবালিস আর একটু দে না ....। - দূর হ সালা হারামি.... বিয়া করতে পারিস না, তাইলেই তো তোর এই নির্যাতন থেকে শত শত কোলবালিস মুক্তি পাইত। কোলবালিস এর উপরে যদি নির্যাতন মামলা থাকতো, তাহলে, আজ তোর শত বারের ও বেশি ফাঁসি হইতো। - ও কথা বলিস না ভাই... এই দেহ দিয়া তো খালি বউ চলবো .. বাচ্চা চালামু কেমনে.... সেই জন্যই তো বিয়াটা আটকাই আছে.. হি হি হি হি হি হি.....।।।। >>সমাপ্তThe End


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ গল্প : #গোধূলি_বিকেল_এর_গল্প !!!

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now