বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

গিরগিটি

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান আরমান হোসেন (০ পয়েন্ট)

X গিরগিটি .. .. -- আজও তুমি দেরি করে আসলে? তোমাকে আজ একটু তাড়াতাড়ি আসতে বলেছিলাম। ( তনিমা) -- কি করবো বলো? তুমি তো জানোই আমি ইচ্ছে করে দেরি করি না। জ্যামের কারনেই আমার মাঝে মাঝে দেরি হয়ে যায়। (আমি) -- ও আচ্ছা। -- তা মহারণী এবার বলুন কেন এতো জরুরি তলব? -- আসলে কথাটা অনেকদিন ধরেই বলতে চাচ্ছিলাম। কিন্তু কিভাবে বলবো বুঝতে পারছিলাম না। তুমি এই ব্যাপারটা কিভাবে নেবে তাই ভাবছি। -- এই তনিমা কি হয়েছে বলো। কোন সমস্য হয়েছে নাকি বাসায়? -- নাহ বাসায় কেন সমস্যা নেই। তবে..... -- তবে কি? -- আসলে আমার ব্র্যাকআপ দরকার। আমাদের এই সম্পর্কটা আমি আর রাখতে চাচ্ছি না। -- হা হা হা। এই সকালবেলা তুমি আমার সাথে মজা করার জন্য আমাকে এখানে ডেকেছো? -- না আরমান, আমি মজা করছি না। আমি সিরিয়াস। আমি আর এই সম্পর্ক রাখতে চাইনা। -- প্লীজ তনিমা এমনটা করোনা। আমার দোষটা কোথায় বলবে তো। যদি কোন ভুল করে থাকি প্লীজ ক্ষমা করে দাও। -- না আরমান তোমার কোন ভুল নেই। তবে আমি এই সম্পর্কের ইতি টেনে দিলাম। আজ থেকে আমরা কেউ কাউকে চিনিনা। আমাকে ভুলে যাও আরমান। ভাল থেকো, আশা করি তোমার জীবনে আমার থেকে ভাল কেউ আসবে। -- শোনো তনিমা, প্লীজ এমনটা করোনা। আমি তোমাকে ছাড়া থাকতে পারবোনা। .. তনিমা চলে গেছে। কিন্তু কেন সে এভাবে আমাকে মাঝপথে রেখে চলে গেল তা জানতে পারলাম না। বুকের বামপাশে একটা চিনচিনে ব্যাথা অনুভব করছি। এতদিনের ভালবাসার বন্ধন কি কেউ এভাবে ভেঙ্গে দিতে পারে? ভালবাসা কি এতটাই ঠুনকো? .. মাথাটা ব্যাথা করছে। বাসের হেলপারটা অনেকক্ষন ধরে ভাড়া চাচ্ছে। কিন্তু আমি পকেট থেকে টাকা বের করার শক্তি পাচ্ছিনা। মনে হচ্ছে আমার সমস্ত শক্তি কেউ নিংড়ে বের করে নিয়েছে। বহু কষ্টে নিজের দেহটাকে আমি আমার শোবার ঘরে নিয়ে এলাম। .. তনিমাকে আমি খুবই ভালবাসতাম। এখনো খুব ভালবাসি। কিন্তু সে কেন আমার সাথে এমনটা করলো বুঝতে পারছি না। কি অপরাধ ছিল আমার? বিছানায় পিঠ লাগাতেই দুচোখ বেয়ে পানি পড়তে লাগলো। এই কান্নাটা হয়তো রাস্তায় বেরিয়ে আসতো। কিন্তু শুধুমাত্র আমি পুরুষ বলেই এতক্ষন আটকাতে পেরেছি। কিন্তু এখন আর সহ্য করতে পারছি না। আজ হঠাৎ মনে পড়ে গেল সেদিনের কথা। .. আমি বসেছিলাম কলেজের বটগাছটার নিচে। হঠাৎ তনিমা এসে হাজির। -- এই আরমান তুমি এখানে কি করো? -- এইতো বসে আছি। তুমি কখন এলে? -- মাত্রই এলাম। জানো কাল রাতে আমি একটা সুন্দর স্বপ্ন দেখেছি। শুনবে কি দেখেছি? -- হুম বলো। -- দেখলাম আমাদের দুজনের বিয়ে হয়েছে। তারপর আমাদের একটা ফুটফুটে ছেলে বাবু হয়েছে। বাবুটা দেখতে একদম তোমার মতো। -- সত্যি আমার মতো? -- হুম সত্যি সত্যি তিন সত্যি। -- কিন্তু আমি তো তোমার মত মিষ্টি একটা মেয়ে চাই। -- না হবেনা। আমি তোমার মত একটা দুষ্টু ছেলে চাই। -- আচ্ছা তাহলে জমজ সন্তান হলে কেমন হবে? একটা ছেলে আর একটা মেয়ে? -- ওয়াও। এমন হলে অনেক ভাল হবে। একথা বলেই তনিমা আমার কাধে মাথা রেখেছিল। সেদিন নিজেকে পৃথীবির সবচেয়ে সুখি মানুষ মনে হয়েছিল। যে মেয়েটা কিছুদিন আগেও আমার সন্তানের মা হওয়ার স্বপ্ন দেখতো সে মেয়ে আজ আমাকে ছেড়ে চলে গেছে। ভাবতেই অবাক লাগছে। .. দুইদিন ঘর থেকে বের হয়নি। মনের সাথে সাথে শরীরটাও খারাপ হয়েছিল। মনেট সাথে শরীরের একটা অটুট বন্ধন আছে। যেমনটা ছিল আমার আর তনিমার মাঝে। ভার্সিটিতে যাচ্ছি। হয়তো সে আমাকে ছেড়ে গেছে। তাই বলে কি জীবনটাকে থামিয়ে দিতে হবে? নাহ কখনোই না। জীবনটা তার আপন গতিতে চলতে থাকবে। .. ক্যাম্পাসে গিয়ে জীবনের সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেলাম। তনিমা অন্য আরেকটা ছেলের হাত ধরে হাঁটছে আর হেসে হেসে কথা বলছে। এই দৃশ্য দেখে নিজেকে আর ধরে রাখতে পারলাম না। তনিমার সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। তারপর ওই ছেলেটার সামনেই তনিমাকে কষিয়ে দুটো চড় মারলাম। তনিমা মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে ছিল। তার চোখে আমি অপরাধবোধ দেখেছি। কিন্তু মেয়েরা ছলনাময়ী। তারা প্রতি মুহুর্তে গিরগিটির মত রং পরিবর্তন করতে থাকে। .. জীবনটা বিচিত্র, খুবই বিচিত্র। এখন নিজের মনটা হালকা লাগছে। হয়তো তনিমাকে চড় মারার ফল। বাসায় এসে হাত মুখ ধুয়ে খেতে বসলাম। -- ভাইয়া আমাকে একটা জিনিস কিনে দিবি? -- কি লাগবে তোর তানিয়া? -- ভাইয়া আমাকে একজোড়া সুন্দর দেখে কানের দুল কিনে দিবি? -- দিব তবে একটা শর্ত আছে। -- কি শর্ত ভাইয়া বল। -- আমার গালে একটা আদর দিবি? -- হি হি এই নে উম্মাহ। -- যা কালকেই তোর জন্য সুন্দর দেখে একজোড়া কানের দুল নিয়ে আসবো। তারপর বিকেলে আমি আর তুই একসাথে ঘুরতে যাবো। তুই যাবি? -- সত্যি বলছিস ভাইয়া? -- হ্যা বোন আমার সত্যি বলছি। তুই বিকেলে রেডি থাকিস। -- আচ্ছা ভাইয়া। আমি এখন পড়তে গেলাম। .. কি দরকার স্বার্থপর মেয়েদের ভালবাসায় জড়িয়ে? তারচেয়ে আমি বরং আমি আমার বোনটাকেই ভালবাসি। ওর ভালবাসা নিস্বার্থ। ও কখনোই গিরগিটির মত রং বদলাবে না। .. লেখক : আরমান হোসেন [ হাতের পাঁচ আঙ্গুল কিন্তু একসমান না ]


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ গিরগিটি

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now