বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ঘুরে ঘুরে রেশমপথে

"গ্রাম্য লোককথা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান নাসরুল্লাহ (০ পয়েন্ট)

X ঘুরে ঘুরে রেশমপথে নিউ জলপাইগুড়িতে নেমেই ঠান্ডা টের পেলাম। জ্যামজট রাস্তা পেরিয়ে, তিস্তাকে পাশে নিয়ে চলেছি। সিকিম সীমান্তে ঢুকতেই নিশ্চিন্ত। তোরনদ্বার পেরিয়ে চলেছি রেশমপথের সীমানায়। মাথার উপর ঘন নীল আকাশের হাতছানি। নীল আকাশের পাহাড়ে সবুজের ঠাসবুনট। সোনা রোডের মাদকতায় মুগ্ধ অরণ্য ও তার প্রকৃতি। প্রথম গন্তব্য সিলারিও গ্রাম। রেশি নদীকে পিছনে ফেলে যখন আরিতারে পৌঁছলাম তখন প্রায় বিকেল। হিমেল হাওয়ার সঙ্গে ভেসে আরিতারের লামপোখরি লেকের পাড়। ইচ্ছেপূরণের লেক। এখানকার প্রতিটি বাড়ীর বারান্দায় রঙিন ফুল আর অর্কিডের সমারোহ। এবার অগুণতি পাকদন্ডী বেয়ে অবশেষে রংলিতে হাজির হলাম। সচিত্র পরিচয়পত্র সহ প্রত্যেক সাওয়ারীর আলাদা পারমিট তৈরি। পায়ে পায়ে রংলির আশপাশটায় বেড়িয়ে পড়া। পাহাড়ের কোলে সাজিয়ে রাখা প্রকৃতির ঝুল বারান্দা। প্রতিটি বাড়ির কার্নিসে ফুলের বাহার। মেঘ বালিকারা পাহাড়ের গায়ে সেটে আছে। একদম পিকচার পোষ্টকার্ড। লিংথামের সৌন্দর্যও ভোলবার নয়। এখানকার খাদ্য তালিকায় থাকা 'বী' এর উল্লেখ না করলে আমার মত ভ্রমণ পিপাসুরা বঞ্চিত হবেন। কাঁচা টমোটোর মতো দেখতে ও ডুমুরের মত খেতে এই ঈষত তিক্ত সবজীটি এখানের নিজস্ব সবজী। পরেরদিন লিংথাম পেড়িয়ে আরও উপরে চলেছি। যত উপরে উঠছি, তত কনকনে ঠান্ডার সাঁড়াশি আক্রমণ। দেখতে দেখতে জুলুক পৌঁছলাম। ঝকঝকে আবহাওয়ায় মেঘের যোদ্ধারা টহল দিচ্ছে। মেঘের ফাঁকে সূর্যের উঁকিঝুঁকি। দেখতে দেখতে সন্ধা নামে। এবার দুরন্ত ঠান্ডায় চললাম থাম্বিতে। হাওয়ার দাপটে পথচলা দায়। সমস্ত শীতবস্ত্র ফুঁড়ে ঢুকছে বরফছোঁয়া ঠান্ডা। রাস্তা বাঁকের শেষে, জুলুক তখন অনেক নীচে। রেশম পথের সেই বিখ্যাৎ ‘হেয়ারপিন পয়েন্ট’। প্যানারমিক ফ্রেমে ৯২টি রাস্তার বাঁক একসঙ্গে। রাস্তার খাঁজে খাঁজে বরফের জমাট বাঁধা উচ্ছ্বাস। সামনের খাদটায় সাদা মেঘের সমুদ্র। মেঘবালিকারা গুটিসুটি মেরে, মুখ গুজে পড়ে আছে নদীশৃঙ্গরাজদের পায়ের তলায়। হাতের মুঠোয় যেন একটুকরো স্বর্গ। নীচে জুলুকের ছোট্ট গ্রাম। সব মিলিয়ে জনা ষাটেকের বাস। রাস্তার দু’পাশের বরফ খানিক্ষণ আগেই সেনাবাহিনীর জওয়ানরা পরিস্কার করে গিয়েছে। রাস্তার সীমানায় একটা লাল রঙের মন্দির। নীচে বাজার। হ্যাঁ এটাই দেশপ্রেমিক বাবা হরবচন সিং এর ‘ওল্ড বাবা মন্দির’। প্রচন্ড ঠান্ডায়, দাঁতে ঠকঠক ঠকাস। বাজারে ঢুকে ‘ফ্রি গরম কফি’র মজাটা তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করলাম। প্রায় ১৩ হাজার ফুট উঁচুতে বীর সেনানী হরবচন সিং-এর নানান বীরগাথা শুনতে শুনতে অবশেষে ইতিহাসের রেশমপথ বেয়ে বরফমোড়া জলাশয়ের সামনে। পবিত্র এই জলাশয়ের নাম বিধান চু। তারই পাশ থেকে পাহাড়ের গাঁ বেয়ে উঠে গিয়েছে বরফমাখা পাহাড়। ন্যাড়া পাহাড়ের পুরোটা তখনও বরফ ঢাকেনি। ঠিক যেন তাপ্পি মারা সাদা সোয়েটার পরা বিশালদেহী এক দৈত্য। পাশেই বরফমোড়া জেপেল লা পর্বত। ওপারেই তিব্বত। এপথেই ব্যবসায়ীরা রেশম ও সিল্ক নিয়ে আসতেন, তাই ‘সিল্ক রুট’, মানে ‘রেশম পথ’। বেশ কিছুদূর এগোলেই ‘কুপুপ গ্রাম’। এখন বরফমোড়া। সামনের ভ্যালিটাও বরফমোড়া। এপ্রিম-মে মাসে রঙিন পাহাড়ী ফুলের বিছানায় ঢেকে যায় গোটা উপত্যকা। এরপর ইতিহাসের রোমাঞ্চকর বরফমোড়া রেশমপথ বেয়ে কংক্রীটের কলকাতায় একরাশ মুগ্ধতাকে সঙ্গে নিয়ে ফিরে আসা।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৫৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ঘুরে ঘুরে রেশমপথে

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now